যেকোনো মূল্যে আমাদের গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে : ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান
২১ জুলাই ২০২৬ ১২:৪১
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে গত ২০ জুলাই সোমবার বিকেলে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের (আইডিইবি) মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে ১১ দলীয় ঐক্যের নারীদের অংশগ্রহণে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান এমপি
ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করে জুলাই সনদ করা হয়। এরপর গণভোট হলে প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ হ্যাঁ-এর পক্ষে রায় দিয়েছে। জুলাই সনদের সাথে প্রথম বেইমানি করেছে বিএনপি গণপরিষদের শপথ না নিয়ে। এর চেয়ে বড় প্রতারণা আর হতে পারে না। জুলাই শহীদদের সাথে বেইমানির জন্য আরেকটি আন্দোলন গড়ে তুলবো আমরা। যেকোনো মূল্যে আমাদের গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে গত ২০ জুলাই সোমবার বিকেলে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের (আইডিইবি) মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে ১১ দলীয় ঐক্যের নারীদের অংশগ্রহণে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান এমপি এ কথা বলেছেন। এ সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি মারজিয়া বেগম এমপি। আলোচনা সভার উদ্বোধন করেন শিশু শহীদ জাবির ইবরাহিমের মা রোকেয়া বেগম এমপি। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন জামায়াতের মহিলা বিভাগের প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি নাজমুন নাহার নিলু এমপি, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) ডা. মাহমুদা মিতু এমপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবা হাকিম এমপি, লেবার পার্টির যুগ্ম মহাসচিব সাবিনা ইয়াসমিন, জামায়াতের মহিলা বিভাগের পলিটিক্যাল সেক্রেটারি ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইট, বিডিপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যা এডভোকেট মাহবুবা আক্তার, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির উপদেষ্টা অধ্যাপিকা মোছাম্মাৎ কারিমা খাতুন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি আয়েশা সিদ্দিকা পারভীন, ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সাবিকুন্নাহার তামান্না, শহীদ শাহরিয়ারের স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা, শহীদ সোহেলের মা, গণবুদ্ধিজীবী সোসাইটির প্রেসিডেন্ট এডভোকেট তাসমিন রানা, জুলাই শহীদ নাজমুল কাজীর স্ত্রী মারিয়া সুলতানা প্রমুখ।
সরকারের উদ্দেশে ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান বলেন, জুলাই সনদ অবৈধ হলে এই সরকার অবৈধ, এই সরকারের সমস্ত মন্ত্রী অবৈধ। অবিলম্বে সংসদে যে সংবিধান সংশোধন কমিটি করেছেন- তা বাতিল করুন। সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করুন। আজ যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করা হয় তাহলে জুলাই শহীদদের সাথে বেইমানি করা হবে। এজন্য জুলাই সনদ আমরা বাস্তবায়ন করেই ছাড়বো।
জামায়াতের মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি সাইদা রুম্মান বলেন, চব্বিশের গণআন্দোলন একটি দ্রোহ, একটি বিপ্লব। যার ফলশ্রুতিতে এই সংসদ গঠিত হয়েছে, সরকার গঠিত হয়েছে। আজকের সংসদে জুলাই বিপ্লব, জুলাই সনদ নিয়ে টালবাহানা চলছে। যতদিন না জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবে, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হবে- ততদিন পর্যন্ত আমরা স্বাধীনতার স্বাদ ভোগ করতে পারবো না। আমাদের সেই স্বাধীনতা পেতে হলে, ধরে রাখতে হলে ইনসাফপূর্ণ রাষ্ট্র গড়তে হলে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আবার নেমে পড়তে হবে। আর কোনো নতুন ফ্যাসিস্টকে এই দেশে আমরা স্থান দেবো না।
এনসিপির জাতীয় নারী শক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, আমাদের জুলাই গণহত্যা, শাপলা গণহত্যা থেকে শুরু করে সব ত্যাগের মূল্য দিতে হবে। আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সরকার চাটুকারিতা করে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করছে না। যে সরকার ক্ষমতায় আছে সেটি গণবিচ্ছিন্ন সরকার। আমরা তরুণ প্রজন্ম ক্ষমতার হাতবদলের জন্য রাজপথে নামিনি। আমরা চাই না আর কোনো তরুণ স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে কথা বলতে গিয়ে জীবন দিক। সেই বাংলাদেশ আমরা চাই না। যারা নতুন বাংলাদেশর স্বপ্ন দেখেন তাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার বিকল্প নেই। সত্যিকার অর্থে যে দেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম, গণতান্ত্রিক মুক্তির আন্দোলন আমরা করেছিলাম, সেটি সফল হয়নি। আন্দোলন যদি ক্ষমতা পাওয়ার জন্য হয় তাহলে সেটি শহীদ ও আহতদের অপমান করা হবে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করে শহীদ ও জুলাইয়ের প্রতি সরকারের যে কমিটমেন্ট সেটি প্রমাণ করতে হবে।
জাতীয় নারী শক্তির সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা মিতু এমপি বলেন, আবু সাঈদ, মুগ্ধ সহ অনেক শহীদের নাম আমাদের স্মরণ থাকলেও আমরা অনেক সময় নারী শহীদদের নাম স্মরণ করতে ভুলে যাই। এটি বেদনাদায়ক। তাই নারী-পুরুষ সকল শহীদকে সমানভাবে স্মরণ ও শ্রদ্ধা করতে হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি মারজিয়া বেগম এমপি সভাপতির বক্তব্যে বলেন, জুলাই বিপ্লব কোনো সাধারণ আন্দোলন নয়, বরং এটি ছিল সামগ্রিক পরিবর্তনের ডাক এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ। তরুণ প্রজন্ম শিখিয়েছে কিভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হয়। জুলাই বিপ্লবের শহীদদের যদি সম্মান করতে চাই- তাহলে আমাদের জুলাই বিপ্লবের স্পিরিটকে ধারন করতে হবে। জুলাই বিপ্লব আমাদের নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখিয়েছে। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি। আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে ছাড়ব। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আমরা সংসদে ও রাজপথে ঐক্যবদ্ধ থাকবো।- প্রেস বিজ্ঞপ্তি
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান