সিলেট বিভাগে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, পানিবন্দি লাখো মানুষ
১৫ জুলাই ২০২৬ ১৩:৪৮
সিলেট সংবাদদাতা : টানা বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেট বিভাগজুড়ে বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কাজনক অবনতি ঘটেছে। সুরমা, কুশিয়ারা, সারী ও লোভাছড়াসহ প্রধান প্রধান নদীর পানি বিভিন্ন পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল। গত ১৩ জুলাই সোমবার এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সিলেট, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের বিস্তীর্ণ গ্রামীণ জনপদ, রাস্তাঘাট এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। একইসাথে তলিয়ে গেছে শত শত হেক্টর আমন ধানের বীজতলা ও ফসলি জমি, যার ফলে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, ভারতের মেঘালয় ও আসাম রাজ্যে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় উজান থেকে ধেয়ে আসছে তীব্র পাহাড়ি ঢল। কানাইঘাট, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, জকিগঞ্জ, বিয়ানীবাজার এবং ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে সুরমা ও কুশিয়ারার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ঢলের পানিতে কানাইঘাট-সুরই সড়ক এবং গোয়াইনঘাট-রাধানগর সড়কসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় জেলা সদরের সাথে উপজেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, আকস্মিক বন্যায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন লাখো মানুষ। ঘরবাড়িতে পানি উঠে যাওয়ায় রান্নাবান্না ও গবাদিপশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন বানভাসিরা। বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে বন্যাকবলিত এলাকাগুলোয়। ডায়রিয়া ও চর্মরোগসহ পানিবাহিত নানা রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বন্যার পানি প্রবেশ করায় সিলেট জেলার শতাধিক প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে বেশকিছু আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। পানিবন্দি মানুষ গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছেন। তবে দুর্গত এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, এখন পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি ত্রাণসহায়তা পর্যাপ্ত নয়। প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোয় নৌকার অভাবে অনেকে আশ্রয়কেন্দ্রেও আসতে পারছেন না। জরুরি ভিত্তিতে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধ সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন বন্যাদুর্গত এলাকার জনপ্রতিনিধিরা।
সিলেট জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দকৃত চাল ও নগদ টাকা ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছানোর কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় টিলা ধসের আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নদীর বাঁধগুলোর ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে, যাতে ঢলের তোড়ে বাঁধ ভেঙে নতুন কোনো এলাকা প্লাবিত না হতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের ১৩ জুলাইয়ের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় সিলেট এবং ভারতের সীমান্ত এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে এই অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।