বৃষ্টি হলেই দুর্ভোগের কবলে খুলনা নগরী
১৫ জুলাই ২০২৬ ১৩:৪৬
খুলনা সংবাদদাতা : দুই সপ্তাহের টানা বৃষ্টিপাতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে খুলনা নগরীর জনজীবন। কোথাও কোথাও জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। যাতায়াত ব্যবস্থা, শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য গত সাড়ে পাঁচ বছরে প্রায় ৭৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে দুই শতাধিক ড্রেন নির্মাণ এবং সাতটি খাল খননের কাজ শেষ হয়েছে। এরপরও বৃষ্টি হলেই দুর্ভোগের অন্ত থাকে না নগরবাসীর। প্রশ্ন উঠেছেÑ এত কিছুর পরও কেন বৃষ্টি হলেই নগরী থৈথৈ হয়ে যায়।
খুলনা সিটি করপোরেশনের কনজারভেন্সি বিভাগের তথ্যানুযায়ী, নগরে ড্রেনের মোট দৈর্ঘ্য এক হাজার ১৬৫ কিলোমিটার। জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত অধিকাংশ ড্রেন ঢাকনাযুক্ত। কিন্তু এসব ড্রেন পরিষ্কারের কোনো স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা না থাকায় ম্যানুয়ালি পরিষ্কার করতে হয়। ফলে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। যার ফলে বৃষ্টি হলেই জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা, কাঁচা সড়ক কর্দমাক্ত হয়ে পড়া, যান চলাচলে বিঘ্ন এবং নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়িতে পানি ঢুকে দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। অনেক স্থানে দিনের পর দিন পানি না নামায় ঘরবন্দী হয়ে পড়ছেন নিম্নআয়ের মানুষ, সাধারণ শিক্ষার্থী ও পরীক্ষার্থীরা।
গত এক সপ্তাহ ধরে নগরীর শিববাড়ী, সোনাডাঙ্গা, নিরালা, রয়্যাল মোড়, দৌলতপুর, খালিশপুর, টুটপাড়া, ময়লাপোতা, বয়রা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় সড়কে হাঁটুপানি জমে থাকতে দেখা যায়। কোথাও কোথাও ড্রেন উপচে পানি রাস্তায় উঠে আসায় যানবাহন চলাচল ধীর হয়ে পড়ে। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে সবচেয়ে বেশি।
নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা জানান, টানা বৃষ্টিতে অনেক বাড়ির আঙিনায় এবং কোথাও কোথাও ঘরেও পানি ঢুকে পড়েছে। দীর্ঘসময় পানি জমে থাকায় রান্নাবান্না, শিশু ও বয়স্কদের চলাচল এবং নিত্যদিনের কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। অনেক পরিবার প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হতে পারছেন না।
ইজিবাইকচালক আজিজুর রহমান বলেন, ‘১০ দিন ধরে প্রায় প্রতিদিনই বৃষ্টি হচ্ছে। পানি জমে থাকায় গাড়ি চালাতে খুব ঝুঁকি হচ্ছে। ব্যাটারিতে পানি ঢুকলে বড় ক্ষতি হবে। যাত্রীও কমে গেছে, আয় অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে।’
ব্যাংকে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলচালক হোসাইন বলেন, ‘বৃষ্টি গরম কমিয়েছে ঠিকই, কিন্তু নগরীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে প্রতিদিনই পানি জমে থাকছে। আজও রয়্যাল মোড়ে দীর্ঘসময় আটকে ছিলাম। প্রতি বর্ষায় একই দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হয়।’
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের খুলনা আঞ্চলিক পরিদর্শন কেন্দ্রের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. মিজানুর রহমান সোনার বাংলাকে বলেন, ‘মৌসুমি বায়ু সক্রিয় রয়েছে। চলতি সপ্তাহজুড়ে ও খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও অতি ভারী বৃষ্টিও হতে পারে। ফলে নিম্নাঞ্চলে সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’