শুধু ফুটপাত নয়, হকারদের দখলে রাজধানীর মূল সড়কও
৮ জুলাই ২০২৬ ২০:৩১
স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানী ঢাকার ফুটপাত হকারদের দখলে। এই দখল থেকে ফুটপাত উদ্ধারে বিভিন্ন সময় উদ্যোগ নেয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এতে ফল আসে না। ক্ষমতাসীন দল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিতরা মিলেমিশে এই ফুটপাত ভাড়া দেন হকারদের কাছে। আইন ও নিয়ম মানতে যারা বাধ্য করার কথা, তারাই যখন এসব চক্রের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন, তখন পরিস্থিতি যা হওয়ার তাই হয়েছে। হকারমুক্ত ফুটপাত চান রাজধানীর সব মানুষ। কিন্তু রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্র মতিঝিলের শাপলা চত্বরে গেলে যে কেউ দেখতে পারেন, সেখানে শুধু ফুটপাত দখল হয়নি- মূল সড়কের তিন ভাগের এক ভাগই হকারদের দখলে রয়েছে। সেখানে মানুষ হাঁটতে পারছেন না, স্বাভাবিকভাবে চলছে না গণপরিবহন। আরও ভয়াবহ অবস্থা রাজধানীর গুলিস্তান, নিউমার্কেট, ফার্মগেট, মিরপুর ১ নম্বর, ১০ নম্বর ও উত্তরার বেশকিছু এলাকা। মিরপুর ১ নম্বর এবং নিউমার্কেট ও গুলিস্তানের অবস্থা হচ্ছে ফুটপাত নয়, মূল সড়কই ৫০ শতাংশ দখলে হকারদের। কারা এই হকারদের কাছ থেকে দৈনিক ভিত্তিতে টাকা নিচ্ছে, এই টাকা কার কার পকেটে যাচ্ছে সবই কর্তাব্যক্তিদের জানা আছে। কিন্তু একটি পরিচ্ছন্ন নগরে গড়ে তোলার অঙ্গীকারদাতারা এদের পাকড়াও করছেন না, শাস্তির আওতায় আনছেন না।
গুলিস্তান, নিউমার্কেট, মিরপুরসহ রাজধানীর ব্যস্ততম অনেক শহরের ফুটপাত ও মূল সড়ক হকারের দখলের পাশাপাশি সড়কে করা হচ্ছে গাড়ি পার্কিং। তাই ফুটপাতে হাঁটতে পারছে না পথচারী, বাধ্য হচ্ছে সড়কে নামতে। গুলিস্তানের একটি সড়ক হকারদের জন্য নির্ধারণ করেছিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। সেখানে এখন গাড়ি পার্কিং করা হচ্ছে। আশপাশের ফুটপাত দখল করে দোকান বসানো হয়েছে। ফলে সংকুচিত হয়েছে পথচারীদের চলাচলের জায়গা। একই অবস্থা বায়তুল মোকাররম, নিউমার্কেট কিংবা মিরপুর এলাকায়। উচ্ছেদ ও হকার ব্যবস্থাপনার কোনো উদ্যোগই নেওয়া হয়নি।
রাজধানীর খিলক্ষেতে রেলওয়ের সরকারি জমি, রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে অস্থায়ী দোকানপাট বসিয়ে চাঁদা তুলছে প্রভাবশালী একটি গ্রুপ। তারা মৌসুমি আমের আড়ত বসানো ও গণশৌচাগার নিয়ন্ত্রণসহ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা তুলছে। এমনকি ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকদেরও চাঁদা দিতে হয়। এসব অপকর্মের অভিযোগ উঠেছে খিলক্ষেত থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমান মসি ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। তারা একটি সিন্ডিকেট তৈরি করে নানা অপকর্ম চালাচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই সরকারি জায়গা দখল করেছে ওই সিন্ডিকেট। তাদের অন্যতম সহযোগী স্থানীয় ‘মামুন বাহিনীর’ সদস্যরা। এই বাহিনীকে ব্যবহার করে তারা এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছে।
এদিকে রাজধানীর মিরপুর-গাবতলী সড়কের দারুসসালাম রোড এলাকায় প্রধান সড়কের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ দখল করে গড়ে উঠেছে অবৈধ বাজার। সিটি করপোরেশনের কোনো অনুমোদন ছাড়াই চলছে এই কার্যক্রম। ফলে মাত্র একটি লেন দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত তৈরি হচ্ছে তীব্র যানজট ও চরম ভোগান্তি। খবর নিয়ে জানা যায়, এখানে তিন লেনের সড়কের দুই লেনই দোকানপাটের দখলে চলে গেছে। পাশের ফুটপাতও দখল হয়ে আছে। ফলে মাত্র একটি লেন ব্যবহার করে কোনোভাবে চলাচল করছে যানবাহন ও পথচারীরা। এর ফলেই তৈরি হচ্ছে তীব্র যানজট ও চরম দুর্ভোগ। দারুসসালাম রোড এলাকায় সড়ক দখল করে গড়ে ওঠা এই বাজার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা। বাসচালক ও শ্রমিকরা জানান, বাজারটা একদম রাস্তার মাঝখানে চলে আসে, যার কারণে বাসগুলো চলতে অনেক সমস্যা হয়। গাড়ি ঠিকভাবে ঢোকানো যায় না। আধাঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা জ্যামে বসে থাকতে হয়। পথচারীরাও একই অভিযোগ করেন। তারা জানান, রাস্তায় জ্যাম তৈরি হয়, এতে চলাচলে অনেক দেরি হয়। স্কুলে বাচ্চা নিয়ে যাওয়া-আসা করতে সমস্যা হয়। রিকশা চলাচলের সময় একটার সঙ্গে আরেকটার ধাক্কা লাগে। এতে পুরো এলাকা অচল হয়ে পড়ে এবং চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।