মৃত্যুর ফাঁদে রোহিঙ্গাদের বাস, কক্সবাজারে পাহাড় ধসে ১৪ মৃত্যু


৮ জুলাই ২০২৬ ১৯:২৪

রোহিঙ্গাদের মৃত্যুর দায় মিয়ানমারের জান্তা সরকারের : জামায়াত

স্টাফ রিপোর্টার : প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা টানা ভারী বৃষ্টিপাতে পাহাড় ধসে পার্বত্যাঞ্চলে প্রায়ই প্রাণহানি ঘটে। তবুও জীবন চালিয়ে নিতে ওই এলাকা ছাড়তে পারেন না অনেক অধিবাসী। তবে আশঙ্কার দিক হলো এসব অঞ্চলে বাংলাদেশিরা কিছুটা নিরাপদ দূরত্বে বাস করলেও অনিরাপদ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা তথা পাহাড়ের একদম পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে ঝুপড়িতে বাস করছে লাখ লাখ রোহিঙ্গা। যারা মিয়ানমারের জান্তা সরকারের হত্যাযজ্ঞ থেকে বাঁচতে আশ্রয় নিয়েছেন বাংলাদেশের এসব দুর্যোগপ্রবণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে, যাকে বলা যায় মৃত্যু ফাঁদও।
গত ৫ জুলাই রোববার দিবাগত রাতে টানা বৃষ্টির ফলে পৃথক পাহাড় ধসের ঘটনায় কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে নারী-শিশুসহ অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়। উখিয়ার বালুখালী, কুতুপালং ও জামশিয়া আশ্রয়শিবিরে এসব পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এছাড়া কক্সবাজার পৌরসভার ছাত্তারের ঘোনা এলাকায় পাহাড় ধসে আরও এক বাংলাদেশির মৃত্যু হয়। এবং গত ৮ জুলাই রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ৫ মাদরাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। এ নিয়ে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা গণমাধ্যমকে বলেন, উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে বসতঘরের ওপর পাহাড় ধসে মাটি এসে কামাল হোসাইনের বাসা চাপা পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা উদ্ধার তৎপরতা চালায়।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। অতিবর্ষণে আবারও পাহাড় ধসের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে আরও দুই দিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকার আভাস জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। অতিভারী বর্ষণে ইতোমধ্যে প্লাবিত হচ্ছে জেলা ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিম্নাঞ্চল ও সমতল।
বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন এলাকায় থাকা লাখো মানুষ উৎকণ্ঠায় দিনপার করছেন। প্রতি বছরই পাহাড় ধসে ঘটছে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি, তবুও শুষ্ক মৌসুমে নিরাপদ আশ্রয় গড়ার তাগিদ থাকে না। ঝুঁকিতে প্রাণহানি এড়াতে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে পরামর্শ দিচ্ছেন জেলা ও উপজেলা প্রশাসন।
এদিকে পাহাড় ধসের ঘটনায় শোক প্রকাশ ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মৃত্যুর জন্য মিয়ানমারের জান্তা সরকারকে দায়ী করে বিবৃতি দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে দলটি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দ্রুত ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মানবাধিকার গোষ্ঠীর দৃঢ় ও কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেছে। গত ৬ জুলাই সোমবার দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ারের দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মিয়ানমারের জান্তা সরকারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নিপীড়নমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে তারা পালিয়ে বাংলাদেশের পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে শরণার্থী হিসেবে বসবাস করতে বাধ্য হয়েছে। এসব রোহিঙ্গার মৃত্যুর দায় মিয়ানমারের জান্তা সরকারের ওপরও বর্তায়। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করার জন্য আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মানবাধিকার সংগঠনসমূহের প্রতি দৃঢ় ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগে এতগুলো মানুষের প্রাণহানি অপূরণীয় ক্ষতি। এই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আর্থিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য আমি সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে কক্সবাজারসহ দেশের পার্বত্য জেলাসমূহে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাসকারী বাসিন্দাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দুর্যোগপূর্ব সতর্কতা জারি ও তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’