ধর্ম ও দল না দেখে প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায়দের আর্থিক সহায়তা দিতে হবে : এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি


৮ জুলাই ২০২৬ ১৯:২২

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কারণেই তো পরিবর্তন এসেছে। এজন্য বৈষম্য করা যাবে না। আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রে কে কোন ধর্মের বা কে কোন দলের সমর্থকÑ তা বিবেচনা না করে প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় মানুষের কাছেই সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
গত ৪ জুলাই শনিবার সন্ধ্যায় বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের ঝাড়ুয়ারহাটে অনুষ্ঠিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, আমি নির্বাচনের আগে একটি ওয়াদা করেছিÑ আমি যদি এমপি নির্বাচিত হই, সরকারের যে বরাদ্দগুলো পাব এবং অন্য যেখান থেকে আনতে পারব, তার একটি পাই হারামের টাকাও আমার পেটে ঢুকবে না, ইনশাআল্লাহ। আমার সচেতন মনে এখন পর্যন্ত এমন কিছু হয়নি।
তিনি বলেন, বিগত ৫৪ বছরে, কিংবা গত ১৬ বছরে যে কাজগুলো হয়নি, তা কি চার দিন বা চার মাসে করা সম্ভব? আমাকে একটু সময় দিন। আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।
তিনি আরও বলেন, আমরা কাজ না করে শুধু দোয়া করি। কাজ বাদ দিয়ে শুধু দোয়া করলে আল্লাহ তা কবুল করবেন না। সারা বছর শুধু দোয়া-দরুদ পড়লে আইন পরিবর্তন হয় না। ইসলাম কায়েম করতে হলে আমাদের আইন পরিবর্তন করতে হবে। আর আইন পরিবর্তন হয় সংসদে। সংসদে আমাদের শক্তি বাড়লে আমরা আইন পরিবর্তন করতে পারব।
দামোদরপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান লাবলুর সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা কামরুজ্জামান কবির, নায়েবে আমীর শাহ মুহাম্মদ রুস্তম আলী, সেক্রেটারি মাওলানা মিনহাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন বদরগঞ্জ উপজেলা শাখার সেক্রেটারি এম এ মতিন সরকার প্রমুখ।
এর আগে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার সয়ার ও আলমপুর ইউনিয়নের দায়িত্বশীল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন এটিএম আজহারুল ইসলাম।
নেতাকর্মীদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, আমরা নিজেদের স্বার্থের জন্য রাজনীতি করি না; মানুষের কল্যাণের জন্য রাজনীতি করি। আমরা যদি কাজেকর্মে তা প্রমাণ করতে পারি, তাহলে ইনশাআল্লাহ ময়দানই কথা বলবে।
তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছরে আমাদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হয়েছে। আমাদের শীর্ষ ১১ জন নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। অনেক নেতাকে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। আমাদের ওপর জুলুম, নির্যাতন ও অবিচার করা হয়েছে। নানা অপবাদ দেওয়া হয়েছে কিন্তু শেষ পর্যন্ত মানুষ সেসব অপপ্রচারে বিশ্বাস করেনি, বরং আমাদের ভোট দিয়ে সংসদে পাঠিয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা যদি দীনের পক্ষে কাজ করি এবং সততা ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকি, তাহলে আল্লাহ তায়াআলাই আমাদের পথ সহজ করে দেবেন, ইনশাআল্লাহ।
দায়িত্বশীল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তারাগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমীর এস এম আলমগীর হোসেন, রংপুর মহানগর শূরা সদস্য অধ্যাপক শাহ মুহাম্মদ নুর হোসাইন, তারাগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. ইয়াকুব আলীসহ স্থানীয় নেতারা। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।