নাঙ্গলকোটে সড়কে ময়লার ভাগাড় দুর্ভোগে হাজারো মানুষ
৮ জুলাই ২০২৬ ১৮:৫৪
নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) সংবাদদাতা : কুমিল্লার নাঙ্গলকোট পৌর সদরের বাইপাস সড়কের লেভেলক্রসিংয়ের পাশে দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার ময়লা ফেলা হচ্ছে। পৌরসভার পরিচ্ছন্ন কর্মীরা প্রতিদিন ভ্যান ও ট্রাকে করে বাজার কুড়ানো আবর্জনা, ক্লিনিক, হাসপাতাল ও কসাইখানার দূষিত বর্জ্য, বাসাবাড়ির আবর্জনা এখানে রেখে যাচ্ছে। পরে কুকুর, শিয়াল, বিড়াল ও পাখিরা এই ভাগাড় থেকে ময়লা নিয়ে আশপাশে যত্রতত্র ফেলে রাখে। মাঝেমধ্যে আবর্জনাগুলোয় আগুন দেওয়ার ফলে বিষাক্ত ধোঁয়ায় এলাকা ছেয়ে যায়। ফলে বর্জ্যের পঁচা দুর্গন্ধে আশপাশের পরিবেশ চরম দূষিত হয়ে উঠেছে।
সড়কটি দীর্ঘদিন যাবত মেরামত না করায় একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়, বিষাক্ত হয়ে ওঠে। ভাগাড়ের পাশ দিয়ে উপজেলার প্রধান সড়ক, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল পথ, বসতবাড়ি, স্কুল, মসজিদ, হসপিটাল ও মাদরাসা থাকলেও দেখার যেন কেউ নেই। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার-হাজার মানুষ চলাচল করে। বৃষ্টির সময় ময়লা পানিতে সড়কে চলাচলকারীদের ময়লায় জামাকাপড় নষ্ট হয়ে যায়।
ব্যস্ততম এই সড়ক দিয়ে ২৪ ঘণ্টা শত শত মালবাহী ট্রাকসহ অসংখ্য ছোট বড় যানবাহন চলাচল করে। এছাড়া স্কুল ও কলেজগামী শিক্ষার্থীরা তাদের স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানে যাওয়া আসার পথে ভাগাড় থেকে ছড়ানো জীবণুুতে আক্রান্ত হয়ে ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগসহ নানান রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
নাঙ্গলকোট পৌরসভায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস। এই পৌরসভাটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও এখানে বসবাসরত নাগরিকরা প্রথম শ্রেণির নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হলেও পৌর করের জাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছেন পৌরবাসী। কোনো রকম মূল্যায়ন ছাড়াই গত ১০ বছরে পৌরকর বৃদ্ধি করা হয়েছে কয়েক গুণ। বাড়েনি পৌরসভার নাগরিক সুযোগ-সুবিধা। পৌরসভায় সেবা নিতে গেলে পদে পদে পৌরবাসীকে নাজেহাল হতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া পৌরসভার অধিকাংশ রাস্তার বেহাল দশা, ড্রেন এবং প্রায় সড়কে সড়কবাতি না থাকলেও কর আদায় করা হচ্ছে যথারীতি। এদিকে সড়কের প্রায় স্থানে ময়লার স্তূপে সয়লাব থাকে।
২০০২ সালে ৫ নম্বর নাঙ্গলকোট ইউনিয়নের ১৪টি গ্রাম ও মৌকরা ইউনিয়নের ৫টি গ্রামসহ মোট ১৯টি গ্রামকে ৯টি ওয়ার্ডে বিভক্ত করে নাঙ্গলকোট পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। ফলে নাঙ্গলকোট ইউনিয়নকে বিলুপ্ত করে পৌরসভার উত্তরের অংশ ৫ নম্বর মক্রবপুর ইউনিয়ন এবং পশ্চিমের অংশ ১২ নম্বর হেসাখাল ইউনিয়ন নামে দুটি আলাদা ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করা হয়।
পথচারী মাস্টার শহীদুল্লাহ্ মজুমদার স্বপন, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মাহবুবুল হক ও চালক আব্দুর রহিম বলেন, ময়লার ভাগাড়ের পাশ দিয়ে পার হতে হলে ৩০ থেকে ৪৫ সেকেন্ড দম বন্ধ করে পার হতে হয়। তখন আমাদের অনেক কষ্ট হয়। একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমে থাকে, পানিগুলো খুব বিষাক্ত হয়ে যায়। তখন পায়ে হেঁটে পার হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে।
নাঙ্গলকোট ইসলামিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, সব ধরনের বর্জ্য পরিবেশের সাথে সাথে জনস্বাস্থ্যে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। বর্জ্য অব্যবস্থাপনা বহু রোগের নীরব উৎস। বিভিন্ন নষ্ট খাদ্যের উচ্ছিষ্ট অংশ মাছি, মশা বংশবিস্তারের জন্য উত্তম স্থান। এতে ওই এলাকায় ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়া, ডায়রিয়া ছড়িয়ে পড়তে পারে। অন্যদিক বর্জ্য পোড়ানোর ফলে বিষাক্ত গ্যাস উৎপন্ন হয়ে হাঁপানি ও বিভিন্ন ফুসফুসের রোগের কারণ হতে পারে।
এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক আবু রায়হান বলেন, আবর্জনা ফেলার জন্য পৌরসভার জায়গা না থাকায় সড়কের ধারেই ফেলতে হচ্ছে। যেখানে ময়লা ফেলা হচ্ছে সেখানে বাউন্ডারি দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছি।