১১ দলের ময়মনসিংহ বিভাগীয় সমাবেশ

বিএনপির নেতৃত্বের ব্যর্থতায় ১৫ বছর এদেশের যুবকরা প্রাণ দিয়েছে -মামুনুল হক


১ জুলাই ২০২৬ ২০:২৮

কিছু গুপ্ত উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ারিং করে বিরোধীদলের প্রার্থীদের হারিয়ে দিয়েছে -গোলাম পরওয়ার
স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, বাংলার মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য যেকোনো কঠিন পথ অবলম্বন করতে আমরা কুণ্ঠিত হবো না। আমরা আমাদের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য নয়, এদেশের মানুষের সম্মান এবং গৌরব রক্ষা করার জন্য দাবি নিয়ে আমরা ঘুরছি।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ দ্বিতীয় গণতন্ত্র গঠন করবার জন্য ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবীদের নেতৃত্বে আন্দোলন করলো। জুলাই বিপ্লবীরা ঘোষণা করলো ১৯৪৭, ১৯৭১ আর ২০২৪-এর আন্দোলনের ভিত্তিতে আগামীর বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। বাংলাদেশের মানুষ চেয়েছিল তাদের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশের মানুষ চেয়েছিল বৈষম্যের বিলোপ হবে। বাংলাদেশের মানুষ চেয়েছিল ফ্যাসিবাদ চিরতরে বিতাড়িত হবে এবং ফ্যাসিবাদের দুয়ার বন্ধ হয়ে যাবে।
মামুনুল হক আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ বিগত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই দিনে তারা জুলাই বিপ্লবের আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে গণভোটে হ্যাঁ ব্যালটে ভোট দিয়েছিল। গণভোটে হ্যাঁ প্রায় ৭০ শতাংশ ভোট পেয়ে ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে অন্তর্বর্তীকালীন
সরকারে ঘাপটি মেরে বসে থাকা বিএনপির কিছু চাটুকার আর গোলাম রাতের অন্ধকারে চুক্তি করে অন্তহীন প্রতারণার মাধ্যমে জুলাই সনদকে কলঙ্কিত করে দিয়েছে।
গত ২৭ জুন শনিবার বিকেলে নগরীর রেলওয়ে কৃষ্ণচূড়া চত্বরে ১১ দলীয় ঐক্যের ময়মনসিংহ বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আল্লামা মামুনুল হক বলেন, বিগত পনেরো বছর পর্যন্ত বিএনপির নেতৃত্বের ব্যর্থতার ফল হিসেবে এদেশে যুবকরা প্রাণ দিয়েছে। এদেশের মানুষ জীবন দিয়েছে, রক্ত দিয়েছে ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে, রক্ত দিয়েছে আল্লামা সাঈদীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসির রায় দেয়ায়। রক্ত দিয়েছে ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে। রক্তের সাগর পেরিয়ে ২০২৪ সালের ৩৬ জুলাই (৫ আগস্ট) বাংলার মানুষ নতুন করে স্বাধীনতার সূর্য ছিনিয়ে এনেছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এই মহাসমাবেশের প্রধান দাবি গণভোটের গণরায়কে কার্যকর করতে হবে। দ্বিতীয় বলেছি আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশের প্রতিদিনের নিত্যদিনের জীবন প্রবাহের জন্য জনদুর্ভোগ, অশান্তি বাড়ছে, এই দুর্ভোগকে দূর করতে হবে।
বিএনপির উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, আপনারা নির্বাচিত হয়ে যেভাবেই হোক ক্ষমতায় এসে গেছেন। ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করেছেন, ফলাফল ম্যানিপুলেশন করেছেন। বিএনপির অভ্যন্তরে লুকানো কিছু গুপ্ত উপদেষ্টা ছিল, যারা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে বিরোধীদলের অনেক নেতাকে ইচ্ছে করে হারিয়ে দিয়েছে। তা না হলে আমরা ১১ দল ১৮০-এর মতো আসন পেতে যাচ্ছিলাম। ফলাফল ঘোষণা হচ্ছিল কিছুক্ষণ পর সকল মিডিয়ায় ফলাফল ঘোষণা বন্ধ করে দেয়া হলো। রহস্যজনকভাবে ফলাফল ম্যানিপুলেশন করে আমাদের বিরোধীদলে ঠেলে দেয়া হলো। সরকারের একজন উপদেষ্টা তো পরবর্তীকালে স্বীকারই করেছেন। জামায়াতে ইসলামীকে উদ্দেশ করে বলেছেন- আমরা এই দলকে মেইনস্ট্রিমে আসতে দিইনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, আমরা ১১ দলীয় ঐক্য নির্বাচনের পর থেকেই গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছি। আমরা এই দেশের জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে প্রায় যে ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিয়েছিলেন সেই জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে, তাদের দাবি আদায়ের জন্য সবাই একত্রিত হয়েছি। গণভোট অস্বীকার করে এদেশের জনগণের সাথে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে তারা সরকার চালিয়ে যাচ্ছেন। শুধুমাত্র আমাদের জনগণের গণভোটের রায়ের সাথে যে প্রতারণা করেছে তা না, তারা দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রেও বারবার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ময়মনসিংহ অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মো. শাহাবুদ্দিনের সভাপতিত্বে বিভাগীয় সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ নেজামী ইসলাম পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আবু তাহের খান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম ভূঁইয়া, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হেদায়েতুল্লাহ হাদী, নেত্রকোনা-৫ আসনের এমপি মাসুম মোস্তফা, শেরপুর-১ আসনের এমপি হাফেজ রাশেদুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ময়মনসিংহ শাখার সভাপতি ও ময়মনসিংহ-২ আসনের এমপি মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ, ময়মনসিংহ-৬ আসনের এমপি অধ্যক্ষ কামরুল হাসান মিলন, ময়মনসিংহ জেলা জামায়াতের আমীর মো. আব্দুল করিমসহ ১১ দলীয় ঐক্যের জাতীয় ও স্থানীয় নেতারা।