আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি

খুলনায় দেড় বছরে ৫০ হত্যাকাণ্ড


১০ জুন ২০২৬ ২১:৩২

এস এ মুকুল, খুলনা : গত দেড় বছরে খুলনা নগরীতে ৫০টি হত্যাকাণ্ড হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবারগুলো এখনো পায়নি যথাযথ প্রতিকার। সময় গড়িয়ে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণের শতদিন পার হলেও পাল্টেনি চিত্র। বরং অবনতির চিত্রই দেখছে নগরবাসী। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জোরদার তৎপরতা না থাকায় উদ্বেগ কাটছে না নগরবাসীর।
এমন পরিস্থিতিতে খুলনা মহানগরী ও জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিনে দিনে অবনতির দিকে যাচ্ছে। পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে হতাশা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হচ্ছে। তবে পুলিশের দাবি, পুলিশ, র‌্যাব ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু হত্যা, ছিনতাই, মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিক ঘটনায় উদ্বেগও কাটেছে না নগরবাসীর। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মহল থেকে খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করার দাবি উঠছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, নগরী ও জেলার গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযান, পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেফতার এবং অপরাধ দমনে নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অতীতে কেএমপির বিভিন্ন অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার ও হাজার হাজার আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে সরকারি প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
খুলনা অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে মাদক ব্যবসা, আধিপত্য বিস্তার ও পারিবারিক বিরোধের জেরে বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী। এতে দেখা যায়, বিগত প্রায় দেড় বছরে মহানগরীতে অন্তত ৫০টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যা খুলনাকে আতঙ্কের নগরীতে পরিণত করেছে।
গত ৩০ মে শনিবার সোনাডাঙ্গা থানার দারুস আমান এলাকায় একই পরিবারের তিনজনকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়।
নির্মম এ ঘটনায় নিহত হন ষাটোর্ধ্ব বেবি বেগম, তার সাত বছর বয়সী নাতি মুস্তাকিম এবং নাতনি শামীম। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আরও কয়েকটি আলোচিত হত্যাকাণ্ড, সন্ত্রাসী হামলা ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নগর সেক্রেটারি এডভোকেট জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল বলেন, প্রকাশ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রশাসনের আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়াছেন জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত।
খুলনার পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেন, নগর এলাকায় বিশেষ নজরদারি এবং অপরাধ প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
খুলনার নাগরিক নেতা বাবুল হাওলাদার বলেন, শুধু অভিযান নয়, মাদক, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের মূল উৎস চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে কমিউনিটি পুলিশিং, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।