রামবুটান চাষে বাজিমাত মাদরাসা শিক্ষক আব্দুর রশিদের


১০ জুন ২০২৬ ২১:২৭

নরসিংদী সংবাদদাতা : শখের বশে শুরু করেছিলেন বিদেশি ফল রামবুটান চাষ। সেই শখই আজ এনে দিয়েছে সাফল্য ও আর্থিক সচ্ছলতা। নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার সাধারচর ইউনিয়নের মাধবদী গ্রামের মাদরাসা শিক্ষক মাওলানা আব্দুর রশিদ এখন রামবুটান থেকে বছরে আয় করছেন প্রায় ৮ লাখ টাকা।
কৃষিতে সফলতা অর্জনে শুধু পরিশ্রম নয়, প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা ও উদ্ভাবনী চিন্তারÑ এমনটাই প্রমাণ করেছেন তিনি। ইউটিউবে রামবুটান চাষ সম্পর্কে ধারণা নিয়ে ২০১৫ সালে পরীক্ষামূলকভাবে বাগান শুরু করেন আব্দুর রশিদ। দীর্ঘ পাঁচ বছর পরিচর্যার পর গাছে ফল আসতে শুরু করে। বর্তমানে তার ৬৫ শতাংশ জমির বাগান থেকেই এ বছর ৮ লাখ টাকার বেশি রামবুটান বিক্রির আশা করছেন তিনি। সব মিলিয়ে প্রায় ১৭০ শতাংশ জমিতে গড়ে তুলেছেন রামবুটানের বাগান।
রামবুটান দেখতে অনেকটা লিচুর মতো হলেও এর খোসা লোমশ এবং স্বাদ ভিন্নধর্মী। সাধারণত মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ায় এ ফলের চাষ বেশি হয়ে থাকে। তবে বাংলাদেশেও দিন দিন এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। বাজারে প্রতি কেজি রামবুটান ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়। দেশের পাশাপাশি বিদেশেও রয়েছে এ ফলের ব্যাপক চাহিদা।
আব্দুর রশিদ জানান, শুরুতে অনেকেই তার এই উদ্যোগকে অবাস্তব মনে করেছিলেন। কিন্তু ধৈর্য ও নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে এখন তিনি সফল উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। শুধু ফল বিক্রি নয়, নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য তিনি কয়েক হাজার রামবুটানের চারা উৎপাদনও করেছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমার বাগানের বীজ থেকে উৎপাদিত চারা নিয়ে নতুন উদ্যোক্তারা বাগান তৈরি করলে তারাও লাভবান হবেন। দেশে বিদেশি ফল চাষের সম্ভাবনা অনেক বেশি।’
স্থানীয় কৃষকরাও তার সাফল্যে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন। অনেকেই এখন রামবুটান চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন বলে জানা গেছে।