এআই টুলস প্রযুক্তি ব্যবহারে সচেতনতা জরুরি


১০ জুন ২০২৬ ২১:২০

॥ মুন্সী আবু আহনাফ ॥
ধরুন, একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাত ১১টায় তার অ্যাসাইনমেন্ট লিখতে বসেছেন। বিষয় ‘বাংলাদেশের কৃষি অর্থনীতি’। কিন্তু পাঠ্যবইয়ে হাত না দিয়েই তিনি মুঠোফোন খুলে বসলেন একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ (টুলস) সফটওয়্যার। দুই মিনিটের মধ্যে সাজানো-গোছানো পাঁচ পাতার প্রবন্ধ তৈরি। পরের দিন সেটি জমা দিলেন শিক্ষকের কাছে। শিক্ষক বুঝতেও পারলেন না। এই দৃশ্য এখন বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় নিত্যদিনের ঘটনা। শুধু বিশ্ববিদ্যালয় নয়, অফিস-আদালত, সংবাদপত্র, বিজ্ঞাপনী সংস্থা; এমনকি মসজিদের খুতবার নোট তৈরিতেও এআই টুলসের ব্যবহার শুরু হয়েছে। ChatGPT, Gemini, Claude, Copilot-এই নামগুলো এখন অনেকের মুখে মুখে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সহজ করছে, নাকি ধীরে ধীরে আমাদের মেধা, নৈতিকতা ও স্বাধীন চিন্তার শক্তিকে নষ্ট করে দিচ্ছে? আজকের প্রযুক্তি বিষয়ক ফিচারে এই বিষয়গুলো আমরা জানার চেষ্টা করব।
এআই টুলস কী এবং কীভাবে কাজ করে? : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) হলো এমন একটি প্রযুক্তি, যা মানুষের মতো ভাবতে, লিখতে, বিশ্লেষণ করতে এবং সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এটি লাখকোটি বই, নিবন্ধ, ওয়েবসাইট ও তথ্য পড়ে নিজেই ‘শিক্ষিত’ হয়েছে? মানে তার মধ্যে এই তথ্যগুলো সফটওয়্যার আকারে সংযুক্ত করা হয়েছে। ব্যবহারকারী যা জানতে চান, মুহূর্তের মধ্যে সাজানো উত্তর দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপকরা বলেন, ‘এআই টুলস মূলত মানুষের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে চলে। এটি নিজে নতুন কিছু উদ্ভাবন করে না, বরং পুরনো জ্ঞানকে নতুনভাবে সাজিয়ে উপস্থাপন করে। তাই এটি হাতিয়ার হিসেবে দারুণ, কিন্তু চিন্তার বিকল্প হিসেবে বিপজ্জনক।’
উপকারের দিকগুলো : অস্বীকার করার উপায় নেই : এআই টুলসের উপকারিতা নিয়ে তর্ক করার সুযোগ কম। চিকিৎসাবিজ্ঞান থেকে শুরু করে কৃষি, শিক্ষা থেকে ব্যবসা, সংবাদমাধ্যম, অফিস প্রতিটি ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনছে।
চিকিৎসাক্ষেত্রে : এআই এখন ক্যান্সার শনাক্তকরণে মানুষের চেয়ে দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে কাজ করতে পারে। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই, সেখানে এআই-চালিত অ্যাপের মাধ্যমে রোগ নির্ণয় সম্ভব হচ্ছে।
শিক্ষাক্ষেত্রে : দুর্বল ইংরেজিভাষী শিক্ষার্থীরা এআই ব্যবহার করে জটিল বিষয় সহজ ভাষায় বুঝে নিতে পারছেন। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়তা তৈরি হচ্ছে।
কৃষিক্ষেত্রে : বাংলাদেশের কৃষকরা এআইয়ের মাধ্যমে আবহাওয়ার পূর্বাভাস, রোগবালাই শনাক্তকরণ এবং ফসলের দাম সম্পর্কে পরামর্শ পাচ্ছেন।
ব্যবসায় : ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা বিনামূল্যে বা সামান্য খরচে বিপণন কৌশল, আইনি পরামর্শ এবং হিসাব-নিকাশের সহায়তা পাচ্ছেন, যা আগে শুধু বড় প্রতিষ্ঠানের সাধ্যের মধ্যে ছিল। ResearchGate গবেষকরা বলছেন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে এআই দক্ষতা বৃদ্ধি, উদ্ভাবন ও সেবার সুলভতা নিশ্চিত করছে।
অপকারের দিকগুলো : যে বিপদ দেখা যাচ্ছে না : এআই টুলস ব্যবহারের উপকারী, তবে এই আলোর পেছনে গভীর অন্ধকারও আছে। সেই অন্ধকার অনেকটাই নীরব এবং ধীরগতির। তাই চোখে পড়ে না সহজে। সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের এসবিএস বিজনেস স্কুলের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ঘন ঘন এআই টুলস ব্যবহার করেন তাদের সমালোচনামূলক চিন্তার দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এআইনির্ভরতা বেশি এবং তাদের মধ্যে স্বাধীন চিন্তার ক্ষমতাও কম। গবেষকরা আশঙ্কা করছেন, ২০৪০ সালের মধ্যে এআইয়ের কারণে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কর্মক্ষেত্র হুমকিতে পড়তে পারে। বাংলাদেশের পোশাকশিল্প, কল সেন্টার, ডাটা-এন্ট্রি কর্মী; এই পেশাগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতার অভাব দেখা দেবে, কারণ এআই যে কাজটি করছে সেটা সঠিক কিনা বোঝার মতো জ্ঞান বা ভুল ধরার মতো জ্ঞান থাকতে হবে। এআই ভুল তথ্যও সুন্দর করে সাজিয়ে পরিবেশন করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা এটিকে বলছেন ‘হ্যালুসিনেশন’। মানে এআই নিজেই মনগড়া তথ্য তৈরি করে ফেলে। কিন্তু ব্যবহারকারী বুঝতে পারেন না।
কতটুকু কাজে লাগবে, কতটুকু নয়? : এআই টুলস একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। ভালো কাজে লাগলে অসাধারণ ফল দেয়, আর অপব্যবহার হলে মারাত্মক ক্ষতি করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই ব্যবহার করা উচিত ‘সহকারী’ হিসেবে, ‘প্রতিস্থাপক’ হিসেবে নয়। যেখানে এআই কার্যকর পারে; তথ্য সংগ্রহ ও প্রাথমিক বিশ্লেষণে, পুনরাবৃত্তিমূলক কাজে সময় বাঁচাতে, ভাষান্তর ও সম্পাদনায় সহায়তা নিতে, প্রাথমিক গবেষণার রূপরেখা তৈরিতে এবং গণিত ও কোডিংয়ের সমস্যা সমাধানে। যেখানে এআই উচিত নয়; চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে, নৈতিক বিচারবোধ প্রয়োগে, সৃজনশীলতার মূল ধারণা তৈরিতে, পরীক্ষা-অ্যাসাইনমেন্টে নিজস্ব মতপ্রকাশে এবং সাংবাদিকতার মূল তদন্তকাজে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাহাবুল হক বলেন, ‘এআই ব্যবহার করুন চশমার মতো; দেখার জন্য সাহায্য নিন, কিন্তু নিজের চোখ বন্ধ করে ফেলবেন না।’
নৈতিকতার প্রশ্ন : এআই কি ‘হালাল’? : ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি থেকেও এআই ব্যবহারের নৈতিক প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামে জ্ঞান অর্জনকে ফরজ বলা হয়েছে। কিন্তু যখন কেউ এআইয়ের লেখাকে নিজের বলে চালিয়ে দেন, তখন সেটি কি ‘আমানতের খেয়ানত’ নয়?
বাংলাদেশের বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদরা বলেন, ‘প্রযুক্তি নিজে না হালাল, না হারাম। এর ব্যবহারই নির্ধারণ করে এটি জায়েজ না নাজায়েজ। যদি এআই দিয়ে মানুষের ক্ষতি করা হয়, মিথ্যা ছড়ানো হয়, বা অন্যের মেধাচুরি করা হয়; তাহলে সেটি অবশ্যই নৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য।’ সাধারণ নৈতিক মানদণ্ডেও বিষয়টি একই। যদি কেউ এআইয়ের লেখাকে নিজের বলে উপস্থাপন করেন, তাহলে এটি একটি প্রতারণা। পেশাদার সাংবাদিকতায়, একাডেমিক কাজে এবং সৃজনশীল সাহিত্যে ;সর্বত্রই স্বচ্ছতা অপরিহার্য।
এআইয়ের হুবহু লেখা ও ছবি প্রকাশ : বৈধ কতটুকু? : এটি এখন বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্নগুলোর একটি। লেখা ও প্রবন্ধের ক্ষেত্রে; এআইয়ের তৈরি লেখা সরাসরি নিজের নামে প্রকাশ করা বিশ্বের বেশিরভাগ একাডেমিক প্রতিষ্ঠান ও সংবাদমাধ্যম এখন অনুমতি দেয় না। কারণ এটি মেধাস্বত্ব ও বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্নকে জটিল করে। ছবি ও ভিডিওর ক্ষেত্রে; এটি আরও বিপজ্জনক। Scientific American তথ্য মতে, ২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিশ্বজুড়ে ৪৮৭টি ডিপফেক হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যা আগের প্রান্তিকের তুলনায় ৪১ শতাংশ বেশি; এতে মোট আর্থিক ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৩৪৭ মিলিয়ন ডলার। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন এআই আইনে (২০২৫) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি মিডিয়ায় সেটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। বাংলাদেশে এখনো এ ধরনের আইন নেই, কিন্তু ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় মিথ্যা তথ্য ছড়ানো শাস্তিযোগ্য। Science Direct তথ্য মতে, ডিপফেক ভিডিও; অর্থাৎ এআই দিয়ে তৈরি নকল ভিডিও; বিশেষত নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে অপব্যবহারের শিকার হচ্ছে। বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ডিপফেক এখন অত্যন্ত বিপজ্জনক হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে, যা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন থেকে শুরু করে ডিজিটাল পরিচয় চুরি পর্যন্ত ব্যাপক ক্ষতি করছে।
অপব্যবহার রোধের পথ কী? : বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু আইন দিয়ে এআইয়ের অপব্যবহার ঠেকানো যাবে না। প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ।
প্রথমত, সচেতনতা তৈরি করতে হবে। স্কুল-কলেজে এআই-সাক্ষরতা পাঠ্যক্রমে যুক্ত করতে হবে; কীভাবে ব্যবহার করতে হয় এবং কেন সীমা মানতে হয়, উভয়ই শেখাতে হবে।
দ্বিতীয়ত, প্রযুক্তিগত সমাধান দরকার। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো এখন এআই-শনাক্তকরণ সফটওয়্যার ব্যবহার করে সন্দেহজনক ডিপফেক কনটেন্ট চিহ্নিত করছে। বাংলাদেশের প্ল্যাটফর্মগুলোয়ও এই ব্যবস্থা আনা জরুরি।
তৃতীয়ত, আইন প্রণয়ন করতে হবে। ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে ডিপফেক সংক্রান্ত ঘটনা ২৫৭ শতাংশ বেড়েছে এবং শুধু ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকেই পুরো আগের বছরের তুলনায় ১৯ শতাংশ বেশি ঘটনা ঘটেছে; ফলে বিশ্বের বিভিন্ন সরকার এখন কার্যকর আইন প্রণয়নে তৎপর।
চতুর্থত, নৈতিক মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সংবাদমাধ্যম, বিশ্ববিদ্যালয় ও পেশাদার সংগঠনগুলোকে তাদের নিজস্ব এআই-ব্যবহারনীতি ঘোষণা করতে হবে।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জ্ঞান বাড়বে, নাকি কমবে?: এটাই এই সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এর উত্তর নির্ভর করবে আমরা এআই কীভাবে ব্যবহার করি তার ওপর। একদিকে আশার কথা হলো, এআই ব্যবহার করে একজন শিক্ষার্থী এখন মুহূর্তের মধ্যে বিশ্বের যেকোনো তথ্য পাচ্ছেন। গবেষণার পরিধি বিস্তৃত হচ্ছে। ভাষার বাধা কমছে। কিন্তু অন্যদিকে গবেষণা বলছে, এআই ব্যবহার যত বাড়ে, মানুষের নিজস্ব বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা তত কমে। মানুষ কঠিন কাজ এআইয়ের ওপর ছেড়ে দেয়; বিশেষজ্ঞরা এটিকে ‘কগনিটিভ অফলোডিং’ বলছেন। এই প্রবণতাই সবচেয়ে বিপজ্জনক। ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, ‘আমার শিক্ষার্থীরা এখন প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ না করে সরাসরি ফোনে এআই খোলে। পরীক্ষায় মোবাইল না থাকলে তারা কিছুই লিখতে পারে না। এটি ভয়াবহ।’
অন্যদিকে একজন তরুণ উদ্যোক্তা বললেন, ‘এআই না থাকলে আমার ব্যবসার প্রতিটি কাজে মাসের পর মাস সময় লাগত। এখন আমি সেই সময় বাঁচিয়ে নতুন ধারণা নিয়ে ভাবি।’ দুটি অভিজ্ঞতাই সত্য, কিন্তু দুটি ভিন্ন পরিণতির দিকে নিয়ে যায়।
এআই কি মানুষকে অলস ও জ্ঞানহীন করে দেবে? : ইতিহাসে প্রতিটি নতুন প্রযুক্তিকে নিয়েই এই প্রশ্ন উঠেছে। ছাপাখানা আবিষ্কার হলে অনেকে বলেছিলেন মানুষ আর মুখস্থ করবে না। ক্যালকুলেটর আসলে বলা হয়েছিল গণিত শেখার প্রয়োজন শেষ। কিন্তু প্রতিটি প্রযুক্তিই মানুষকে নতুন ধরনের দক্ষতা অর্জনে বাধ্য করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২৫ সালের জরিপে দেখা যায়, ৫০ শতাংশ আমেরিকান এআইয়ের বিস্তার নিয়ে উত্তেজিত হওয়ার চেয়ে উদ্বিগ্ন এবং ৫৭ শতাংশ মনে করেন এআইয়ের সামাজিক ঝুঁকি অনেক বেশি। তবে ঝুঁকি আছে বলেই প্রযুক্তি বর্জন সমাধান নয়। গবেষকরা বলছেন, এআই মোকাবিলায় প্রয়োজন সক্রিয় নীতি প্রণয়ন এবং নৈতিক কাঠামো; যাতে ক্ষতি কমিয়ে সর্বোচ্চ সুবিধা পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে দুই ধরনের মানুষ থাকবে; যারা এআই দিয়ে কাজ করবেন এবং যারা এআইয়ের কাজ করবেন। প্রথম দলে থাকতে হলে নিজের মৌলিক চিন্তা ও সৃজনশীলতাকে শানিত রাখতে হবে।
বাংলাদেশের জন্য বিশেষ পরামর্শ : বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কিছু বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এআই ব্যবহারের স্পষ্ট নীতিনির্ধারণ করতে হবে। কোথায় ব্যবহার করা যাবে, কোথায় নয়; টি ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের জানাতে হবে। সংবাদমাধ্যমে এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট প্রকাশের আগে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা সাংবাদিকতার নৈতিকতার দাবি। সরকারের পক্ষ থেকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে যুগোপযোগী করে এআইনির্ভর অপরাধ ও ডিপফেকের বিরুদ্ধে স্পষ্ট বিধান যোগ করতে হবে। পরিবারের পক্ষ থেকে সন্তানকে এআই চেনাতে হবে, কিন্তু একই সঙ্গে বই পড়া, নিজে ভাবা ও লেখার অভ্যাস যাতে নষ্ট না হয়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।
পরিশেষে এআই টুলস হাতিয়ার নাকি মালিক? এআই টুলস একটি তীক্ষè ছুরির মতো। চিকিৎসক সার্জনের হাতে এটি মানুষ বাঁচায়, খুনির হাতে মানুষ মারে। প্রযুক্তি নিজে নিরপেক্ষ, কিন্তু তার ব্যবহার নিরপেক্ষ নয়। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কি এআইয়ের হাতিয়ার হবে, নাকি এআইকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে? এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে আজকের শিক্ষাব্যবস্থা, অভিভাবক, নীতিনির্ধারক ও সমাজের ওপর। এআইয়ের যুগে টিকে থাকার সবচেয়ে বড় যোগ্যতা হবে মানবিক বুদ্ধি ও নৈতিক সাহস; যা কোনো যন্ত্র কখনো দিতে পারবে না। তাই এআই ব্যবহার করুন, কিন্তু মনে রাখুন; যন্ত্র সহায়ক হতে পারে, সৃষ্টিকর্তা হতে পারে না। সৃষ্টিশীলতা, বিবেক ও মানবিক অনুভূতি; এই তিনটি জিনিস এখনো একমাত্র মানুষেরই সম্পদ।
লেখক : বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক ফিচার রিপোর্টার।