৩ মাস সুন্দরবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ


৪ জুন ২০২৬ ১১:০৬

পাইকগাছা (খুলনা) সংবাদদাতা : সুন্দরবনের বনজসম্পদ, মৎস্য ও জলজ প্রাণীর নিরাপদ প্রজনন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং বন্য প্রাণীর সুরক্ষার লক্ষ্যে গত ১ জুন থেকে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত টানা তিন মাস সুন্দরবনে সব ধরনের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ সময়ে বনের অভ্যন্তরে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ, মধু সংগ্রহ এবং পর্যটকদের প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।
ইতোমধ্যে সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় বন বিভাগের পক্ষ থেকে মাইকিং করে এ নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞার এ দীর্ঘসময়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলে ও বনজীবীদের জন্য কোনো সরকারি প্রণোদনা বা খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থা না করায় চরম হতাশা ও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল হাজার হাজার জেলে, বাওয়ালী, মৌয়াল ও বনজীবী।
স্থানীয় জেলে ও বনজীবীদের দাবি, বছরের এ তিন মাস বন বন্ধ থাকায় তাদের আয়-রোজগারের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় অনেককে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে সংসার চালাতে হয় এবং মহাজনসহ বিভিন্ন এনজিওর কাছে ধারদেনায় জড়িয়ে পড়তে হয়। নিষেধাজ্ঞার সময়ে কোনো সরকারি সহায়তা না পাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েন তারা। মানবিক দিক বিবেচনা করে এ কর্মহীন সময়ে দ্রুত খাদ্য সহায়তা ও বিশেষ প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী বনজীবীরা।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জুন থেকে আগস্ট এ তিন মাস সুন্দরবনের মাছ, জলজ প্রাণী ও বিভিন্ন বন্য প্রাণীর প্রধান প্রজনন মৌসুম। এ সময় অধিকাংশ মাছ ও জলজ প্রাণী ডিম ছাড়ে। একই সঙ্গে বনের উদ্ভিদরাজির স্বাভাবিক পুনর্জন্ম (নতুন চারা গজানো) প্রক্রিয়াও চলতে থাকে। তাই বন ও বন্য প্রাণীর নিরাপদ বিচরণ এবং প্রজনন নিশ্চিত করতে প্রতি বছরের মতো এবারও তিন মাসের জন্য এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হচ্ছে।
নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে জেলে, মৌয়াল ও পর্যটকদের জন্য নতুন পাস (অনুমতিপত্র) দেওয়া ইতোমধ্যে বন্ধ করা হয়েছে এবং ১ জুনের আগেই সবাইকে বন এলাকা ত্যাগের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।