লাবিবের সততা


১ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৫৫

॥ শারমিন নাহার ঝর্ণা ॥
যাত্রাবাড়ী শহরের ব্যস্ত রাস্তার সাথে জামিয়া ইসলামিয়া বাইতুন নূর মাদরাসা। প্রতিদিন সকালে এখানে ভিড় জমে ছোট্ট ছোট্ট মাদরাসার ছাত্র ও পথচারীদের পদচারণায়। সেই মাদরাসার ছাত্র লাবিব। সে খুব নম্র ও ভদ্র, পড়াশোনায় মনোযোগী এবং সবার প্রিয়। একদিন সকালবেলা মাদরাসার ক্লাস শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরই হঠাৎ করে হইচই শুরু হলো। লাবিবের সহপাঠী হাফেজ রায়হান দৌড়ে এসে কাঁপা কাঁপা গলায় বলল, আমার তিন হাজার টাকা হারিয়ে গেছে। আমি তো আমার পকেটের ভেতরেই রেখেছিলাম। কোথায় গেল? রায়হান টাকাগুলো দিয়েই আজ পরীক্ষার ফি আর কিছু প্রয়োজনীয় বই কিনবে বলে ঠিক করেছিল। তাই সে খুব ভয় আর দুশ্চিন্তায় কেঁদে ফেলে। শিক্ষকরা বিষয়টি শুনে ক্লাসের সবাইকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের কেউ কি টাকা দেখেছ বা পেয়েছ? ভুলবশত পেলেও জানিয়ে দেবে। এই টাকাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ রায়হানের কাছে। সবাই মাথা নেড়ে বলল পাইনি হুজুর। ক্লাসের ভেতর একটা ভারী নিস্তব্ধতা নেমে এলো। ঠিক সেই সময় ক্লাসের সামনের বেঞ্চে বসে থাকা লাবিবের হঠাৎ মনে পড়ে, কিছুক্ষণ আগে যখন সে সিঁড়ি দিয়ে নেমে ক্লাসে যাচ্ছিল, তখন সিঁড়িতে একটা খাম পড়ে থাকতে দেখে সে তুলে নেয়। ভেবেছিল পরে কারো কাছে জিজ্ঞেস করবে, কিন্তু এখন বুঝতে পারে খামটিতেই হয়তো রায়হানের টাকা ছিল। তখন সে খামটি খুলেই ভেতরে দেখে টাকা। লাবিব ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ায় আর বলে, হুজুর আমি একটা খাম পেয়েছিলাম। তখন খুলে দেখিনি। এখন খামটি খুলে দেখলাম এর মধ্যে টাকা। হয়তো এটা রায়হানের টাকাই হবে। হুজুর খামটি হাতে নিয়ে দেখলেন, সত্যিই ভেতরে তিন হাজার টাকা। রায়হান খামটা দেখে আনন্দে কেঁদে ফেলে। এটাই আমার টাকা। আলহামদুলিল্লাহ বলে সে লাবিবকে জড়িয়ে ধরে। হুজুর লাবিবের দিকে তাকিয়ে বললেন, মাশাআল্লাহ তুমি দারুণ কাজ করেছ লাবিব। সততা মানুষকে মহান করে তোলে। তুমি সবাইকে একটি শিক্ষা দিলে যে, পাওয়া জিনিস ফেরত দেওয়া সবচেয়ে বড় গুণ ও মহৎ কাজ। ক্লাসের সবাই মাশাআল্লাহ বলে ওঠে। লাবিব মুচকি মুচকি হাসে। সে কখনো ভাবেনি, এত ছোট একটি কাজে এত বড় প্রশংসা এনে দিতে পারে। সেদিন আসরের নামাজের পর মাদরাসার সকল ছাত্রদের একত্রিত করে প্রধান মুহতামিম ঘোষণা করলেন, আজ আমাদের মাদরাসার ছাত্র লাবিব একটি মহৎ কাজ করেছে। সে তার সততা দিয়ে প্রমাণ করেছে, ভালো মানুষ হতে বড় কিছু করতে হয় না, নিজেকে সর্বদা সৎপথে পরিচালিত করতে হয়। জীবনের সকল পরিস্থিতিতেই ন্যায় এবং সততা নিয়ে চলতে হয়। সব ছাত্র লাবিবকে এই মহৎ কাজের জন্য অভিনন্দন জানায়। রায়হান লাবিবকে জড়িয়ে ধরে বলল, তুই সত্যিই আমার ভালো বন্ধু। আজ তোর জন্যই আমার টাকা ফিরে পেলাম।
সন্ধ্যায় বাসায় ফেরার পথে লাবিব মনে মনে খুব ভালোলাগা অনুভব করে আর বুঝতে পারে- সততা শুধু অন্যকে খুশি করে না, নিজের মনকেও আলোকিত করে তোলে।