খুলনা-৫ আসনের আটরা-গিলাতলা ইউনিয়নে দাঁড়িপাল্লার সমর্থকের বাড়ি পোড়াল বিএনপি-আ’লীগের সন্ত্রাসীরা


১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:৫২

খুলনা সংবাদদাতা : খুলনা-৫ আসনের (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) ১ নম্বর আটরা-গিলাতলা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মশিয়ালী গ্রামের আকুঞ্জি পাড়ার শোকর আকুঞ্জির বাড়িতে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ায় গত ১৪ ফেব্রুয়ারি শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সন্ত্রাসীরা এ ঘটনা ঘটায়। এ ঘটনার প্রতিবাদে গত রোববার বিকেলে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগুন দেখতে পেয়ে আমরা ছুটে আসি। সকলে মিলে পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি। এর মধ্যে শোকর আকুঞ্জির একটি কাঠের ঘর পুড়ে গেছে।
খানজাহান আলী থানা জামায়াতের আমীর সৈয়দ হাসান মাহামুদ টিটো ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, আটরা-গিলাতলা ইউনিয়নের প্রায় ৪০ হাজার ভোটের মধ্যে ধানের শীষ পেয়েছে ৯ হাজার ৫৫ ভোট আর দাঁড়িপাল্লা পেয়েছে ১৮ হাজার ৪৪২ ভোট। এ ইউনিয়নে ধানের শীষ ৯৩৮৭ ভোট কম পাওয়ায় এবং খুলনা-৫ আসনে ধানের শীষ বিজয়ী ঘোষণা করায় বিএনপি-আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা এলাকার দাঁড়িপাল্লার সমর্থকদের হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল। তারাই মূলত এ আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে।
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি কেরোসিনের বোতল উদ্ধার করেছে। তিনি আরও জানান, শোকর আকুঞ্জির বড় ছেলে রমজান আকুঞ্জি জামায়াতে ইসলামীর রুকন এবং ইউনিট সভাপতি আর ছোট ছেলে আব্দুর রাজ্জাক ছাত্রশিবিরের মশিয়ালি ওয়ার্ড সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
বৃদ্ধ শোকর আকুঞ্জি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমরা বুঝতে না পারলে গভীর ঘুমের মধ্যে আমরা শেষ হয়ে যেতাম। আপনারা এসে আমাদের কাউতে জীবিত পাইতেন না। সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে আমাদের শেষ করে দিতে চেয়েছিল। আল্লাহ তায়ালা আমাদের বাঁচিয়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবি করেন। তিনি এ ঘটনায় মামলা করবেন বলেও জানিয়েছেন।
খানজাহান আলী থানার উপপরিদর্শক রুবেল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্তরা মামলা করলে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ঘটনাা খবর পেয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল খুলনা-৫ আসনের ১১ দলীয় নির্বাচনীয় ঐক্য সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার, খুলনা জেলা আমীর মাওলানা এমরান হুসাইন, সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মইনুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের খুলনা জেলা সভাপতি ইউসুফ ফকির, খানজাহান আলী থানা জামায়াতে ইসলামীর আমীর সৈয়দ হাসান মাহামুদ টিটো, সেক্রেটারি গাজী মোর্শেদ মামুন ঘটনাস্থলে যান এবং তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।