চৌগাছায় নির্বাচনের পর সহিংসতার অভিযোগ, একাধিক গ্রামে উত্তেজনা


১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:৪৯

জাহাঙ্গীর আলম, চৌগাছা (যশোর) : চৌগাছা উপজেলার সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়ভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কর্মীদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলার আরকান্দি গ্রামে এক ইমামকে শুক্রবার জুমার নামাজ পড়াতে বাধা দেওয়া হয়। স্থানীয়রা জানান, রাজনৈতিক মতভেদের জেরে তাকে মসজিদে প্রবেশ ও নামাজ পরিচালনা করতে দেওয়া হয়নি।
আন্দুলিয়া গ্রামে হামলায় দুজন নারী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের পরিবারের দাবি, নির্বাচনের পর রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ হিসেবে এ হামলা চালানো হয়েছে।
এছাড়া দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এক নির্বাচনী এজেন্টের বাড়িতে রাতের বেলায় ভাঙচুর ও হামলার অভিযোগ রয়েছে। এতে বাড়ির আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পরিবারটি আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। একই ধরনের ঘটনা খড়িঞ্চা, দানবাক্স ও বহিলাতা গ্রামেও ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এসব এলাকায় বাড়িঘর ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটে, যার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে বিএনপির স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। এদিকে বেরিয়ালি গ্রামে সাবেক সেনা কর্মকর্তা ওলিয়ার রহমানের বাড়িতেও ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে, বিএনপির কর্মীরা তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে দরজা-জানালা ও আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত করে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ে।