গণভোটে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সরকারের হ্যাঁ, ইসির না

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহার করে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অপতৎপরতার অভিযোগ


৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:২৮

স্টাফ রিপোর্টার : সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গণভোটের প্রচার চালাতে আইনগত কোনো বাধা না থাকলেও নির্বাচন কমিশন (ইসি) এতে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে। কমিশন কেন, কার স্বার্থে গণভোটে সচেতনতার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে, তা নিয়েও মানুষের মনে প্রশ্ন দানা বেঁধেছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষ গণভোটে অভ্যস্ত ছিলেন না বিশেষ করে একই দিন গণভোট ও জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতা দেশের কারোরই নেই। সেক্ষেত্রে সরকারি গণভোটে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রচারের উদ্যোগ নেয়। সরকারি কর্মকর্তারা কাউকে হ্যাঁ বা না ভোট দেওয়ার জন্য বলার উদ্যোগ নেয়নি। বরং গণভোটে কীভাবে দেবে, কী কী বিষয় মাথায় রেখে এ ভোট দিতে হবে, এ ভোট দেওয়ার পদ্ধতিটা কী হবে, সে বিষয়ে সচেতনতার উদ্যোগ নেয় সরকার। কিন্তু কমিশন এতে আপত্তি জানায়। ফলে কমিশনের মতলব নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্দেহ সংশয় সৃষ্টি হয়েছে।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে প্রচার চালাতে সরকারি কর্মকর্তাদের সামনে কোনো আইনগত বাধা নেই বলে সাফ জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী এবং গণভোট বিষয়ক প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক প্রফেসর আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, জুলাইয়ে যারা রক্ত দিয়েছেন, যাদের বেওয়ারিশ লাশ এখনো খুঁজে ফিরছেন, তাদের স্বজনরা, তারা শুধু মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন। সেই অধিকার প্রতিষ্ঠার পথে একটি বড় ধাপ এই গণভোট। বিদ্যমান সংবিধান, আরপিও, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫ কিংবা এই গণভোট সংক্রান্ত অধ্যাদেশের কোথাও বলা নেই যে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা ইতিবাচক পরিবর্তনের পক্ষে কথা বলতে পারবেন না। প্রচারে আইনগত বাধা আছেÑ এমন কোনো রেফারেন্স কেউ দেখাতে পারবে না। যারা এ বিষয়ে বাধা আছে বলে প্রচার করছে, তারা ভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তারা নৈতিকভাবে গণভোটের পক্ষে প্রচার করতে পারেন কিনাÑ এমন প্রশ্ন যারা তুলছেন তাদের উদ্দেশে আলী রীয়াজ পালটা প্রশ্ন রাখেন, ‘আপনারা কোন নৈতিকতার কথা বলছেন, যে নৈতিকতা তাজা তরুণদের রক্তকে, তাদের আত্মদানকে অস্বীকার করে?’
এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন বলেছেন, নির্বাচন কমিশন তার নিরপেক্ষতা হারিয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহার করে নির্বাচন প্রভাবিত করা এবং ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের একটা অপতৎপরতা কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি। গত ৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। মনিরা শারমিন বলেন, আমরা দেখছি ৫ আগস্ট-পরবর্তী বাংলাদেশে এ ধরনের নির্বাচন প্রভাবিত করা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে এবং যেখানে স্বাধীন-সার্বভৌম প্রতিষ্ঠান হিসেবে, স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইলেকশন কমিশনের একটা বড় ভূমিকা রাখার কথা, সেটি কিন্তু তারা রাখছে না। তারা একটি দলের হয়ে কাজ করছে। পুলিশ-প্রশাসনও একটি দলের হয়ে কাজ করছে। তাহলে আলটিমেটলি আমরা কী দেখছি সামনে? তার মানে একটি দলকে নির্বাচিত করার জন্য অলরেডি রাষ্ট্রীয় সব প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে কাজ করছে। আমি বলতে চাই যে, মিডিয়াও এর বাইরে না। আমরা দেখছি যে, মিডিয়া নগ্নভাবে একটি দলকে সাপোর্ট করছে এবং মিডিয়ার সিইও এবং মিডিয়ায় একদম উচ্চপদস্থ সব জায়গায় কিন্তু দখল হয়ে গেছে একটি দলের।
তিনি বলেন, আমরা শুনলাম একটি জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলছেন যে, বিএনপি সরকার গঠন করলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হবে। দেখেন ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হলো, কিন্তু আমরা পত্রপত্রিকা থেকে আবার জানলাম যে ব্যাংকগুলোর কাছে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন পরিচালক। তার (পরিচালক) ব্যক্তিগত চাহিদাপত্রের ভিত্তিতেই এ পরিচালক কিন্তু এই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত যে কৃষিঋণ, এ তথ্যটি সে চেয়েছে। এনসিপি নেত্রী আরও বলেন, আমরা দেখছি যে, নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবহৃত হচ্ছে। এ তথ্য চাওয়া এবং এ তথ্য নিয়ে একটি দলকে সহযোগিতা করা, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এটি তো আসলে কোনোভাবেই কোনো নির্বাচনী আচরণবিধি বলেন বা একটা দেশের নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য এটি কোনোভাবে একটা ভালো বার্তা দেয় না। তিনি আরও বলেন, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে কেউ পার পাবে না এবং এটি নিয়ে আমাদের এনসিপি এবং ১১ দলীয় জোট কঠোরভাবে দেখছি। আমরা এটি নিয়ে রাজপথে আন্দোলন করবো এবং আমরা কিন্তু নির্বাচন পর্যন্ত আমরা খুব ধৈর্য সহকারে বিষয়গুলো দেখছি।