মৌসুমে বাড়ছে চালের দাম পেঁয়াজ, ডিম ও ডালে স্বস্তি
১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:২৮
স্টাফ রিপোর্টার : দেশের বাজারে কিছু সবজির দাম কম থাকলেও এখনো অধিকাংশের মূল্য বেশি। এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে চালের দাম। হঠাৎ করে আকাশচুম্বী হওয়ার পেঁয়াজের দামও সহনশীল পর্যায়ে এসেছে। গবিরের আমিষখ্যাত ডিমের দামও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে। তবে বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে মাছ। মাছের দাম বেশি হওয়ায় অপেক্ষকৃত কম দামে ব্রয়লার মুরগি খাচ্ছে স্বল্প আয়ের মানুষ। এদিকে দেশের বাজারে সর্বত্র এলপি গ্যাসের সংকট দেখা দেওয়ায় হোটেল-রেস্তোরাঁয় খাবারের মূল্য বাড়িয়েছেন দোকানিরা। বাসাবাড়িতে গ্যাস সংকটের কারণে ঠিকমতো রান্না করতে পারছে না অনেক পরিবার। ডিলার থেকে শুরু করে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছেও পাওয়া যাচ্ছে না গ্যাস সিলিন্ডার। দু-এক জায়গায় পাওয়া গেলেও দাম নিচ্ছে তিনগুণ বেশি।
চালের দাম বেড়েছে কেজিতে ৫ টাকা পর্যন্ত : বেশ কিছুদিন স্থিতিশীল থাকলেও এখন দেশের বাজারে মিনিকেট ও নাজিরশাইল চালের দাম বেড়েছে কেজিতে ৫ টাকা পর্যন্ত। প্রতি কেজি মঞ্জুর ও সাগর ব্র্যান্ডের মিনিকেট চালের দাম ৩-৪ টাকা বেড়ে ৮৩-৮৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রশিদ মিনিকেটের দাম ৭২ টাকা থেকে বেড়ে ৭৫ টাকা, নন-ব্র্যান্ডের মিনিকেট ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় এবং দামি মিনিকেট মোজাম্মেলের দাম কেজিতে ১-২ টাকা বেড়ে ৮৫-৮৬ টাকা হয়েছে। একইভাবে বেড়েছে নাজিরশাইল চালের দামও। ধরনভেদে দেশি নাজিরশাইল চাল বিক্রি হয়েছে ৭২ থেকে ৮৫ টাকা কেজি দরে, যা সপ্তাহখানেক আগে ৩-৪ টাকা কম ছিল। আর আমদানি করা নাজিরশাইল চালের দাম কেজিতে ৩ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ৭৫ থেকে ৭৮ টাকা হয়েছে। খুচরা বিক্রেতারা বলেন, বাজারে আউশ, আমন ও নাজিরশাইল ধানের চাল আসতে শুরু করেছে। আর এক সপ্তাহের মধ্যে এসব চালের সরবরাহ বাড়বে। এ অবস্থায় বেশিরভাগ চালের দাম কমার কথা, কিন্তু উল্টো বেড়েছে।
বেশিরভাগ সবজির দাম এখনও চড়া : কাঁচামরিচের দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে বর্তমানে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, গত সপ্তাহে যা ছিল ১০০ টাকা। শসার দামও ১০-২০ টাকা বেড়ে কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়। ফুলকপি প্রতি পিস ৪০ টাকা ও বাঁধাকপি ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রতি পিসে ১০-১৫ টাকা বেশি। কেজিতে ১০-২০ টাকা বেড়ে শিম বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়, আর মূলা বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। টমেটোর দাম ২০-৩০ টাকা বেড়ে ৯০ থেকে ১০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। উচ্ছে ১০-১৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা কেজিতে।
ডিমের দাম না বাড়লেও বেড়েছে মুরগির
রাজধানীর বাজারগুলোয় খবর নিয়ে দেখা গেছে, ডিমের দাম না বাড়লেও বেড়েছে মুরগির। ডিম প্রতি ডজন ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাকিস্তানি মুরগির কেজি ২৬০ থেকে ২৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের তুলনায় ২০ টাকা বেশি। দেশি মুরগি প্রতি কেজি ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যেখানে আগের সপ্তাহে দাম ছিল প্রায় ৫৫০ টাকা। ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০-১৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকায়, যা আগে ছিল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা।
পেঁয়াজ ও ডালে মিলেছে স্বস্তি
কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে পেঁয়াজ ও ডালের দামে। দেশি পেঁয়াজ কেজিতে ৫ টাকা কমে ৪৫ টাকায় বিক্রি হলেও আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজের দাম অপরিবর্তিত ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুগডাল কেজিতে ২০ টাকা কমে বর্তমানে ১০০ টাকায় নেমেছে। বড় দানার মসুর ডাল ১০ টাকা কমে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে স্বস্তি বিরাজ করছে।