গাইবান্ধার ৫ আসনেই বিএনপির কোন্দল জয়ে আশাবাদী জামায়াতের প্রার্থীরা
৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৪:২৪
জোবায়ের আলী, গাইবান্ধা : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সাথে সাথেই জেলার পাঁচটি আসনে প্রচারণা জমে উঠেছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র উত্তোলন ও জমা দিয়েছেন। নির্বাচনী প্রচার ও জনসম্পৃক্ততায় ক্লিন ইমেজ নিয়ে ইতোমধ্যে জনগণের আস্থায় এসেছে জামায়াতের প্রার্থীরা। একইভাবে পাঁচটি আসনেই বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে মিছিল মিটিং মানববন্ধন করে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি করছে খোদ দলীয় কর্মীরা। জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে দলীয় ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট ৪৫ জন প্রার্থী গত সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এর মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ৩৬ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ৯ জন। পাঁচটি আসনে মোট ৬০ জন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেও শেষ পর্যন্ত ১৫ জন তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেননি।
গাইবান্ধা-১ আসনে ১৩ জন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেও জমা দিয়েছেন ১০ জন, গাইবান্ধা-২ আসনে ৯ জনের মধ্যে জমা দিয়েছেন ৮ জন, গাইবান্ধা-৩ আসনে ১০ জন, গাইবান্ধা-৪ আসনে ১০ জন ফরম সংগ্রহ করলেও জমা দিয়েছেন ৬ জন এবং গাইবান্ধা-৫ আসনে ১৮ জন ফরম সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন ১১ জন প্রার্থী।
মনোনয়ন জমাদানকে কেন্দ্র করে কিছু দলে শৃঙ্খলা ভঙ্গের ঘটনাও ঘটেছে। সে দিক থেকে জামায়াতের প্রার্থীরা তাদের সুবিধাজনক অবস্থানে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন এবং ভোটারদের মন জয়ে বিভিন্ন কৌশল গ্রহণ করছেন। সভা সমাবেশ, উঠান বৈঠক, সামাজিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে নিজের উপস্থিতি ইতোমধ্যে শক্তিশালী করেছে। চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় জেলার ৫টি আসনেই দ্বিমুখী লড়াই হবে বলে ধারণা করছেন সাধারণ মানুষ। আসনগুলোর অতীত রাজনৈতিক ঘটনাগুলো এবং প্রার্থীদের অবস্থান পর্যালোচনা করলে আগামী নির্বাচনের সম্ভাব্য ফলাফলের ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
গাইবান্ধা-১ ( সুন্দরগঞ্জ) : এ আসনে অনেক আগ থেকেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন সাবেক ছাত্রনেতা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক মাজেদুর রহমান। তিনি প্রত্যন্ত অঞ্চলের ভোটারদের সাথে মিশে গেছেন। এ আসনটি জামায়াতের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতের তৎকালীন গাইবান্ধা জেলা আমীর তুখোড় ছাত্র নেতা শহীদ মাওলানা আব্দুল আজিজ বিপুল ভোটে এখানে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ফলত অভ্যুত্থানের পর সৃষ্ট রাজনৈতিক বাস্তবতায় অধ্যাপক মাজেদের বিরোধীপক্ষ তেমন সুবিধা করতে পারবে না বলে দাবি দলটির নেতাদের। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার ভোট ছাড়াই তাদের প্রার্থী বরাবর এখানে জয়ী হয়ে এসেছিল। জাতীয় পার্টির এক সময়ে ঘাঁটিও ছিল এরশাদের কারণে কিন্তু বর্তমানে সম্পূর্ণ বিপরীত। এরশাদের মৃত্যুতে এবং জাতীয় পার্টিতে একাধিক গ্রুপিং থাকায় এবং কোন্দল থাকায় সেরকম আর ইমেজ নেই। আর শামীম হায়দার পাটোয়ারীর জনসমর্থনও শূন্যের কোটায় চলে গেছে। সুন্দরগঞ্জ আসনে আওয়ামী লীগের ত্রাস সৃষ্টিকারী সন্ত্রাসী মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন তার বিভিন্ন ধরনের অপকর্মের এবং কুকর্মের কারণে এলাকায় ব্যাপক তোপের এর মুখে পড়েন এমনকি শেষ পর্যন্ত তাকে দুষ্কৃতকারীদের হাতে খুন হতে হয়েছে।
অপরদিকে এ আসনে বিএনপি থেকে যাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে একেবারে নতুন অপরিচিত মুখ। ডা. জিয়াউর রহমানকে। এলাকার জনগণ তাকে কোনোদিন দেখেওনি। তাছাড়া তিনি এলাকায়ও আসেননি। বিএনপির মধ্যে এখানে দ্বিধাবিভক্তি তো আছেই, অনেকেই তাকে মেনে নিতেও পারছে না। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. জিয়াউর রহমান বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর রাজপথে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটিয়েছি। এ আসনে মানুষের উন্নয়নে আমি নিবিড়ভাবে কাজ করে যাব।’ এছাড়া এ আসনে জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী ও মাহফুজুল হক সরকার, বাসদের পরমানন্দ দাস, ইসলামী আন্দোলনের রমযান আলী, এলডিপির শরিফুল ইসলাম এবং আমজনতার কাওছার আজম হান্নু মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনায়ন জমা দিয়েছেন মোছা. ছালমা আক্তার ও মোস্তফা মহসিন।
গাইবান্ধা-২ (সদর) : এ আসনে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে জোরেশোরে। জেলা সদর হওয়ায় এ আসনটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল। বিএনপি এ আসন থেকে ধানের শীর্ষ প্রতীক তুলে দিয়েছেন শ্রমিক নেতা ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির গ্রাম সরকার বিষয়ক সম্পাদক আনিসুজ্জামান খান বাবুর হাতে। এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে দ্বিমুখী। অর্থাৎ বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে জোর প্রতিযোগিতা হবে।
জেলা সদরের আসনটি বিএনপি ও জামায়াত দুই দলের কাছেই গুরুত্ব পাচ্ছে। এ কারণে প্রভাবশালী নেতাদের প্রার্থী করেছে দুই দলই। বিএনপি প্রার্থী আনিসুজ্জামান খান বলেন, ‘গত তিনটি নির্বাচনে মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। এ কারণে এবার গণসংযোগের সময় প্রচুর সাড়া পাচ্ছি। ঐক্যবদ্ধভাবে নেতা-কর্মীরা ধানের শীষের পক্ষে কাজ করছেন।’
জামায়াত প্রার্থী হিসেবে দলের জেলা শাখার আমীর ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল করিম সরকারকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন থেকে তিনি এলাকায় পরিচিত। এমনকি তার গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরে। তিনি লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবেও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলেও শুধু পোস্টারে ছবি দেখে জনগণ তাকে বিপুল ভোটে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছিলেন। তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে চেয়ারে ভালোভাবে বসতে পারেননি। মামলার পর মামলা দিয়ে তাকে কয়েকবার হাসিনা সরকার জেলে পাঠিয়েছিলেন যে কারণে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে জনগণের সেবা সেভাবে করতে পারেননি। বর্তমানে সেই সুবাদে তার আগের কর্মকাণ্ড এবং একজন সৎ নিবেদিত নেতা হিসেবে গাইবান্ধা জনগণের কাছে সবচেয়ে বেশি পরিচিত। তিনি বলেন, ‘আমি ইউপি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান থাকাকালে অনেক উন্নয়ন করেছি। বিগত সরকারের আমলে বিনা দোষে ২৬ মাস কারাভোগ করেছি। এতে আমার ও দলের প্রতি মানুষের আস্থা বেড়েছে। আগামী নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। আমি কাউকে প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করি না।’
এ আসনে বিএনপি জামায়াতসহ ৮ জন দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। জাতীয় পার্টির আব্দুর রশিদ সরকার, কমিউনিস্ট পার্টির মিহির কুমার ঘোষ, বাসদের আহসানুল হক, খেলাফত মজলিসের এ কে এম গোলাম আযম, জনতার দলের শাহেদুর রহমান এবং ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ আব্দুল মাজেদ মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।
গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী-সাদুল্লাপুর) : এ আসনে মোট ১০ জনের মধ্যে ৮ জন দলীয় ও ২ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিককে দলীয় প্রার্থী করা হয়েছে। এখানেও বিএনপির মধ্যে দ্বিধাবিভক্তি রয়েছে। এমনকি ডাক্তার সাদিকের বিরুদ্ধে এ উপজেলায় একাধিকবার মিছিল মিটিং ও মানববন্ধন পর্যন্ত করা হয়েছে। তাকে অনেকেই মেনে নিতে পারছেন না। বিএনপির এমন অবস্থায় সুবিধায় রয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী দলের জেলা শাখার কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম লেবু। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছিল সে কারণে মিথ্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও দেয়া হয়েছিল তাকে। কিন্তু হাইকোর্টের আপিলের রায়ে নিরপরাধ হিসেবে বেকসুর খালাস পেয়ে বর্তমানে দুটি উপজেলায় চষে বেড়াচ্ছেন। এমনকি জনগণের মন জয় করে ফেলেছেন। বিএনপির সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক বলেন, ‘চিকিৎসক হওয়ার সুবাদে দুই উপজেলায় আমার প্রচুর জনপ্রিয়তা আছে। এছাড়া দলীয় নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে আমার পক্ষে কাজ করছেন। বিজয়ের ব্যাপারে আমি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী।’
এ আসনে এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) নাজমুল হাসানও প্রচার চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আমি এ আসনে আমার দলের একক মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলাম। আশা করি, দল মনোনয়নও দেবে। ছাত্র-জনতার নতুন দল নিয়ে মানুষের মধ্যে আগ্রহের সৃষ্টি হচ্ছে। যেখানেই গণসংযোগ করছি বেশ সাড়া পাচ্ছি।’
এ আসনে জাতীয় পার্টির মইনুর রাব্বি চৌধুরী, গণঅধিকার পরিষদের সুরুজ মিয়া, সিপিবির আব্দুল্লাহ আদিল, ইনসানিয়াত বিপ্লবি বাংলাদেশের মোছাদ্দিকুর, জনতার দলের মনজুরুল হক এবং ইসলামী আন্দোলনের এটিএম আওলাদ হোসাইন মনোনয়ন জমা দিয়েছেনন। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন এস এম খাদেমুল ইসলাম খুদি ও আজিজার রহমান।
গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) : এখানে বিএনপির প্রয়াত সংসদ সদস্য আবদুল মোত্তালিব আকন্দের ছেলে শামীম কাওছার লিংকনকে দলীয় প্রার্থী করা হয়েছে। তবে তার প্রার্থিতা বাতিল করার দাবিতে লাগাতার আন্দোলন এখনো অব্যাহত আছে। তাকে কেউ মেনে নিতে চাচ্ছে না, তার বিরুদ্ধে চালিয়ে যাচ্ছেন আন্দোলন। বিএনপির একটি শক্ত গ্রুপ এ আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। একাধিক একাধিক গ্রুপিং থাকায় এবং দলের মধ্যে কোন্দল; এমনকি লিংকনের জনসমর্থন কম থাকায় জামায়াতের প্রার্থী সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। শুধু তাই নয় লিংকন তার পিতার ভাবমূর্তি ও জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পারেনি সে কারণে জনগণের মধ্যে দিন দিন জনসমর্থন কমে যাচ্ছে। জামায়াতের প্রার্থী সাবেক জেলা আমীর বিশিষ্ট চিকিৎসক গাইবান্ধা রাবেয়া ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিংহোমের পরিচালক ডা. আব্দুল রহিম সরকার বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। তিনি মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গোটা এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন এবং ভোটারদের সমর্থনে এগিয়ে আছেন। এ নির্বাচনী এলাকার একটি পৌরসভা ও উপজেলার ১৭ ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সভা সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন তিনি।
জামায়াত প্রার্থী জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর, কেন্দ্রীয় টিম সদস্য ডা. মো. আবদুর রহিম বলেন, ‘এর আগেও আমি চারদলীয় জোটের প্রার্থী ছিলাম, অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলাম। আশাবাদী এ বারের নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হব।’
এ আসনে ৫ জন দলীয় ও ১ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। অন্য প্রার্থীরা হলেনÑ জাতীয় পার্টির কাজী মো. মশিউর রহমান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আতিয়ারুল রহমান এবং ইসলামী আন্দোলনের সৈয়দ তৌহিদুল ইসলাম তুহিন। স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রউফ আকন্দ।
গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি-সাঘাটা) : এ আসনে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপির নেতাকর্মীরা কোণঠাসা হয়েছিলেন। এরপরও আন্দোলন-সংগ্রামে বিএনপির সক্রিয় ভূমিকা ছিল। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এ আসনে বিএনপি বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। সরকার পরিবর্তনের পর নিজেদের মধ্যে কোন্দল ও কাদা ছোড়াছুড়িতে জড়িয়েছে দলটির নেতাকর্মীরা।
এ আসনে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ব্যবসায়ী ফারুক আলম সরকার দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন জেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সহসভাপতি নাহিদুজ্জামান নিশাদ। এছাড়া বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আলীও নমিনেশন পেপার তুলেছেন। এখানে এরশাদের আমলে জাতীয় পার্টির এক সময়ে পরিচিত ছিল সেটা এখন আর নেই। তবু জাতীয় পার্টির সাবেক উপজেলার চেয়ারম্যান এএইচএম গোলাম শহীদ রঞ্জু স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। তাছাড়া বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে এডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া ডেপুটি স্পিকার সহ সরকারের উচ্চপর্যায়ে থাকার পরও এলাকার তেমন কোনো উন্নয়ন করেননি, সেজন্য আওয়ামী লীগের প্রতি ও মানুষ অনেকটাই অনীহা। সব দিক থেকে জামায়াতের প্রার্থী জেলার সিনিয়র নায়েবে আমীর বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেছ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। তিনি সৎ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এলাকায় ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। ইতোমধ্যে তিনি সকলের মন জয় করে ফেলেছেন প্রতিদিন তিনি দুটি উপজেলা পত্যন্ত অঞ্চলে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তিনি বলেন বিগত ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার জামায়াতের ওপর যে হামলা মামলা জুলুম নির্যাতন করেছেন সে কারণে জনগণ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এছাড়া ইতোপূর্বে জনগণ তাদের মনোনীত ব্যক্তিকে ভোট দিতে পারেনি, সেজন্যই এখন আমার প্রতি জনগণ ঝুঁকে পড়েছে। আমি আশাবাদী আগামী নির্বাচনে আমি জয়ী হবো এবং এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করব, ইনশাআল্লাহ।
বিএনপির প্রার্থী ফারুক আলম বলেন, ‘নাহিদুজ্জামানের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তার প্রার্থিতা আমার নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলবে না।’
তবে নাহিদুজ্জামান নিশাদ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমি দলীয় প্রার্থী হওয়ার আশায় প্রচার চালাচ্ছি। যদিও এ আসনে প্রাথমিকভাবে দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। জনপ্রিয়তা ও সাধারণ মানুষের চাওয়াকে বিবেচনা করে দল আমাকে দলীয় প্রার্থী করার বিষয়ে একবার চূড়ান্ত বিবেচনায় নেবে বলে আমি আশাবাদী।’
এ আসনে প্রচারে এনসিপির মাহমুদ মোত্তাকিম মণ্ডল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুফতি ইউসুফ কাসেমী প্রার্থী হতে পারেন।
এ আসনে ১১ জন মনোনয়ন দাখিল করেছেন। এর মধ্যে ৭ জন দলীয় ও ৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। অন্য প্রার্থীরা হলেনÑ ইসলামী আন্দোলনের আজিজুল ইসলাম, সমাজতান্ত্রিক মার্কসবাদী দলের রাহেলা খাতুন, কমিউনিস্ট পার্টির শ্রী নির্মল রবিদাস এবং গণঅধিকার পরিষদের সামিউল ইসলাম। সুজাউদৌলা সাজু ও হাসান মেহেদী বিদ্যুৎ।
জেলার সাতটি উপজেলা ও চারটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত পাঁচটি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২১ লাখ ৯০ হাজার ৪০০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১০ লাখ ৮২ হাজার ৪০১ জন, নারী ভোটার ১১ লাখ ৭৯ হাজার ৬৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৩৬ জন। জেলায় মোট ভোটকেন্দ্র ৬৭৫টি এবং ভোটকক্ষ রয়েছে ৪ হাজার ১০১টি।