আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি
১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৬:০৬
স্টাফ রিপোর্টার : দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে সরকার। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদির ওপর প্রকাশ্যে গুলি চালানোর ঘটনার পর দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে। গত ১৩ ডিসেম্বর শনিবার সরকারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ড’ দ্বিতীয় দফায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে অভিযান পরিচালনা করছে। অপারেশন ডেভিল হান্টের মধ্যেও রাজধানীতে প্রকাশে ছুরিকাঘাতে মানুষ হত্যার ঘটনা ঘটছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ কমেনি।
গত ১৬ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী কাজলা নয়ানগর এলাকায় ছুরিকাঘাতে ফারুক (১৮) নামে এক কিশোরকে খুন করা হয়েছে। তিনি পেশায় টাইলস মিস্ত্রি ছিলেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঘাতকরা ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। গত ১৫ ডিসেম্বর সোমবার রাত পৌনে ৯টায় রাজধানীর দক্ষিণখানে আশকোনার নদ্দাপাড়া তালতলা এলাকায় শাহজাহান ডিলার নামে এক ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। তিনি ইন্টারনেট সংযোগ ও ভূমি ব্যবসায়ী ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েকজন দুর্বৃত্ত ব্যবসায়ী শাহজাহানকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। চাপাতির কোপের আঘাতে তার মাথার খুলি থেকে মগজ বেরিয়ে যায়। এক পর্যায়ে সড়কে লুটিয়ে পড়ে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। রাজধানীতে ১৫ ও ১৬ ডিসেম্বর এ দুই দিনে দুজনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। একই সময় সরকারের অপরেশন ডেভিল হান্টও চলছিল। এর আগে পূর্ব শত্রুতার জেরে রাজধানীর লালবাগে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয় মো. হোসেন নামের এক যুবককে। রাজধানীর মোহাম্মদপুরে গৃহকর্মীর হাতে হত্যার শিকার হন মা ও মেয়ে।
এদিকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও ফ্যাসিস্টদের দমনে গত ১৩ ডিসেম্বর শনিবার সন্ধ্যা থেকে দেশজুড়ে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ নামে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে যৌথবাহিনী। ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত গত চার দিনে এ অভিযানে দুই হাজার ৪৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে ১২টি।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গত ১৩ ডিসেম্বর শনিবার আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোর কমিটির সভায় জাতীয় নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করাসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ফ্যাসিস্টদের দমনে এ অভিযান শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়। সে অনুযায়ী ওইদিন রাত থেকে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ও সেনাবাহিনী অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২ নামের বিশেষ অভিযান শুরু করে। ১৬ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানান, এই অভিযানে দুই হাজার ৪৩৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২ অভিযানে গ্রেফতার করা হয়েছে ৮২৩ জনকে। এ সময় তিনটি এলজি, একটি দেশীয় ওয়ান শ্যুটারগান, ৮ রাউন্ড রাইফেলের গুলি, ৪ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ৩ রাউন্ড কার্তুজ ও দুটি বার্মিচ চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।