ঢাকার প্রতি দিল্লির দাদাগিরি থামেনি
১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৫:৩৩
সোনার বাংলা রিপোর্ট : ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের পারদ আরেক ধাপ নিচে নামল। শুধু বাংলাদেশ নয়, কোনো প্রতিবেশীর সাথেই সুসম্পর্ক নেই দেশটির। এশিয়ার এ অঞ্চলে দাদাগারি করতে গিয়ে প্রতিবেশী প্রতিটি দেশের সাথেই ভারতের সম্পর্ক অহিনকুল। অর্থাৎ ‘অহিনকুল’ বলতে সাপ (অহি) ও বেজির (নকুল) মধ্যকার চিরন্তন ও তীব্র শত্রুতাকে বোঝানো হয়। তবে আওয়ামী লীগের শাসনামলে এ সম্পর্ক পরিণত হয় মধুমালতির মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে। কোনো পর্দা থাকে না। বাংলাদেশের সর্বস্ব লুটে নিতে পারে। সম্পর্কের এ ধারা রক্ষা করতে গেলে স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে তখন আর কেউ বিবেচনা করে না। তাই তো অধিকাংশ দেশের ভিসা পেতে ঢাকা থেকে ছুটতে হয় নয়াদিল্লি। কিন্তু ৩৬ জুলাই বিপ্লবের পর মধুমালতি সম্পর্ক আবার অহিনকুল পর্যায়ে নেমেছে। সেই সম্পর্কের পারদ বিভিন্ন ঘটনায় প্রায় প্রতিদিনই নিচে নামছে। পতিত জঙ্গি ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে বিনা ভোটে ক্ষমতায় রাখার ভারতের সব অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। গণহত্যার দায়ে তার ফাঁসির রায় দিয়েছেন আদালত। কিন্তু ভারত তাকে ফেরত পাঠাচ্ছে না। অথচ বন্দিবিনিময় চুক্তি আছে। জঙ্গি কার্যক্রমে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতা-কর্মী ভারতের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থেকে বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতা চালাচ্ছে। খুন করে ভারতে আশ্রয় নিচ্ছে। সর্বশেষ গত ১২ ডিসেম্বর শুক্রবার ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করা দুই খুনি ভারতে আশ্রয় নিয়েছেÑ এমন খবর প্রকাশের পর ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করায় এ পারদ আরো এক ধাপ নিচে নামল। এদিকে গত ১৭ ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম হামিদুল্লাহকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তলব করেছে।
ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক নিয়ে সরব ভারতীয় মিডিয়াগুলো। টেলিগ্রাফ লিখেছে, শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক টানাপড়েন বাড়ছে। ঢাকা উদ্বেগ জানিয়ে প্রত্যর্পণ দাবি করেছে। আর নয়াদিল্লি অভিযোগ অস্বীকার করে শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। বাংলাদেশের অভিযোগ, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত তার ভূখণ্ড থেকে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে, যেখানে তিনি তার সমর্থকদের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল করার আহ্বান জানাচ্ছেন।
এর আগে টাইমস অব ইন্ডিয়ার অন্য একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেশ কিছুদিন শিথিল থাকার পর ফের বাড়ছে ঢাকা-দিল্লির কূটনৈতিক টানাপড়েন। ভারতে অবস্থান করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্যের পর ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনারকে তলব করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শেখ হাসিনার ‘বানোয়াট ও উসকানিমূলক’ মন্তব্যের জন্য আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায় ঢাকা। ভারতে পালিয়া যাওয়ার পর ফেসবুক লাইভে একটি বক্তৃতা দিয়েছেন হাসিনা। সেই বক্তৃতায় তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ‘মৃতদেহের ওপর দিয়ে হেঁটে’ ক্ষমতা দখল করার জন্য অভিযুক্ত করেছেন। ভারতে অবস্থানকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য কোনো চ্যানেলের মাধ্যমে শেখ হাসিনার ‘মিথ্যা ও উসকানিমূলক’ বিবৃতি বন্ধ করতে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমঝোতার ভিত্তিতে ভারতকে অবিলম্বে ও যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, প্রতিবেশী বদলানো যায় না। তাই আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য প্রতিবেশীর সাথে সুসম্পর্কের ওপর জোর দেন। কিন্তু কথায় আছে কিছু মানুষ, যারা পায়ে পারা দিয়ে ঝগড়া করে। কোনো প্রতিবেশী দেশের শাসক কিংবা পররাষ্ট্রনীতি যদি হয় সেই বদ স্বভাবের তাহলে শান্তি রক্ষা করা কঠিন। ভারত বাংলাদেশের তেমনই এক প্রতিবেশী বলে মনে করেন পর্যবেক্ষকরা। তাদের এ বিশ্লেষণ যে অমূলক নয়, এ সত্য উঠে এসেছে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম নিউজ উইক প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউয়ের প্রতিবেদনে। এ প্রতিবেদনে বিশ্বের সবচেয়ে ঘৃণিত প্রতিবেশী দেশের তালিকার শীর্ষ দশে আছে ভারতের নাম। তালিকার সবচেয়ে ঘৃণিত দেশগুলোর মধ্যে দশম অবস্থানে রয়েছে ভারত। এমন একটি কুপ্রতিবেশীর সাথে সম্পর্কোন্নয়নে সরকারের শক্তিশালী কূটনৈতিক তৎপরতা সাথে সাথে মিত্রদের সাথে নিয়ে জোর পদক্ষেপ নেওয়ার বিকল্প নেই।