খিচুড়ি রহস্য


৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৭:৫৯

॥ তাহমিদুল্লাহ সারাসিনী ॥
(গত সংখ্যার পর)
দিনরাত অনবরত বেহিসেবে খাওয়ায় রাজপুত্রের পেট ঘিচুড়ির বসতিতে ভরে গিয়ে ফুলে একদম ঢোল হয়ে গেছে। সে ঠিকমতো নড়া-চড়াও করতে পারছে নাÑ যেই না একটু সে দাঁড়াতে যাবে অমনি ধপাস করে মেঝেতে পড়ে চিতপটাং। খুব দ্রুত অতি সন্তর্পণে তাকে ধরাধরি করে বিছানায় শোয়ানো হলো। রানি পাগলের মতো ছুটে এসে পুত্রের শিউরে বসে তার সেবা-যত্ন করতে লাগলো। গোটা একদিন বেহুঁশ থাকার পর সে কচি কিশলয়ের মতো কাঁপাতে কাঁপাতে চোখের পাতা খুললে রাজা এসে তার সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘হে প্রিয় বৎস আমার! লোভে পাপ আর পাপে হয় মৃত্যু সবারÑ হয়তো কারো দেহের, কারো আত্মার। সবসময় অল্পে তুষ্ট থাকার চেষ্টা করবে। ভবিষ্যতে যেন আর এরূপ কোনো ভুল না করতে দেখি।’
শাহজাদা হাতজোড় করে ফুকরিয়ে কেঁদে উঠে বলল, ‘বাবা, আমার ভুল হয়ে গেছে, আমাকে মাফ করে দাও। আমি এমন ভুল আর কখনো করবো না বলে প্রতিজ্ঞা করছি।’ রাজা পুত্রের মুখে পরম স্নেহ-মমতার আদরে চুমু খেলেন। কয়েকদিনের মধ্যেই শাহজাদা সুস্থ হয়ে উঠলে পরবর্তীতে সে প্রতি হপ্তাতে অন্তত একবার করে ঘিচুড়ি খেতে লাগলো। এ ঘটনার পর ঘিচুড়ি রাজপ্রাসাদের বাইরে তো বটেই, বরং অন্যান্য রাজ্যেও সুখ্যাত হয়ে ছড়িয়ে পড়তে লাগলো। এভাবে একদিন একদিন করে দিন, মাস, বছর, যুগ আর শতাব্দী পেরিয়ে অবিরাম গতিতে এগিয়ে যেতে থাকে সময়ের বিশাল জাহাজটা। পরিবর্তন আসে মানুষের ভাষায়, উচ্চারণে হয় তারতম্য- এরই মাঝে কোন ফাঁকে, কার আমলে, কার উচ্চারণের ভিত্তিতে যে ঘিচুড়ি রূপ নেয় খিচুড়িতে, তা নিঝুম রাতের গাঢ় অন্ধকারের মতো রহস্যই থেকে যায়।
ও, আর ঐ বুদ্ধিদীপ্ত কামার কি তার প্রাপ্য পুরস্কার পেয়েছে কিনা, তা সবার অগোচোরেই ধামাচাপা পড়ে গেছে। আশা করি পেয়েছে। আবার নাও পেতে পারে, স্পষ্ট নয়- ঠিক শীতের ঘন কুয়াশার মতো।
(সমাপ্ত)
লেখক : শিক্ষার্থী।