অক্টোবরে প্রাণহানি ৮০
৬ নভেম্বর ২০২৫ ২০:২৬
স্টাফ রিপোর্টার : দিন যাচ্ছে আর অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে ডেঙ্গু। এডিস মশা মারতে যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণে কামড় খেয়ে আক্রান্ত হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। প্রতিদিনই আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন শতসহস্র রোগী। গত ২ ও ৩ নভেম্বর গড়ে পাঁচজন করে ডেঙ্গু রোগী মারা গেছেন। গত ৩ নভেম্বর সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এ বছর সব মিলিয়ে ২৮৮ জনের মৃত্যু ঘটিয়েছে ডেঙ্গু। আর হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭২ হাজার ৮২২ জন। হাসপাতালে ভর্তি হয়নি এমন রোগী ও মৃত্যুর কোনো পরিসংখ্যান নেই কারো কাছেই।
বিশেষজ্ঞারা বলছেন, দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যু দুটিই বাড়ছে। গতবারের মতো এবারও ডেঙ্গু ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা অস্বাভাবিক। হাসপাতালে আসা ব্যক্তিদের তথ্যও অনেক। অনেকে ঘরে বসে ডেঙ্গুর চিকিৎসা নিচ্ছেন। ফলে তাদের তথ্য উঠে আসছে না স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু বুলেটিনে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুমের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৬১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩৭৪, মার্চে ৩৩৬, এপ্রিলে ৭০১, মে মাসে ১ হাজার ৭৭৩, জুনে ৫ হাজার ৯৫১, জুলাইয়ে ১০ হাজার ৬৮৪, আগস্টে ১০ হাজার ৪৯৬, সেপ্টেম্বরে ১৫ হাজার ৮৬৬ এবং অক্টোবরে ২২ হাজার ৫২০ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
গত অক্টোবর মাসে সর্বোচ্চ ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে ডেঙ্গুতে। এ নভেম্বর কোনো মৃত্য না থাকলেও আক্রান্ত হয়ে ৬৫১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে দুই ও তিন নভেম্বর দুই দিনে গড়ে পাঁচজন করে ১০ জন মানুষ মারা গেছেন। এ বছরের সেপ্টেম্বরে ৭৬ জনের প্রাণ কেড়েছে ডেঙ্গু। এর আগে আগস্টে ৩৯, জুলাইয়ে ৪১, জুনে ১৯, মে মাসে তিন, এপ্রিলে সাত, ফেব্রুয়ারিতে তিন ও জানুয়ারিতে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে ডেঙ্গুতে। মার্চ মাসে কেউ মারা যায়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়হীনতাও ডেঙ্গু বিস্তারে ভূমিকা পালন করছে। নগরায়ণের নীতি ও রূপরেখায় এবং নগর পরিচালনায় জনস্বাস্থ্যের দিকটি আমাদের দেশে অত্যন্ত অবহেলিত। যেকোনো মশাবাহিত রোগের উৎপত্তি সাধারণত শহরকেন্দ্রিক, কারণ শহরের জনবহুল, ঘিঞ্জি, অপরিষ্কার পরিবেশ মশা জন্মানো ও দ্রুত রোগ সংক্রমণের জন্য আদর্শ। ডেঙ্গু রোধেও তাই জনস্বাস্থ্যমুখী নগর-পরিকল্পনা ও পরিচালনা পদ্ধতি থাকা চাই। তাছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার কিংবা সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের ভূমিকা মোটেও আশাপ্রদ নয়। এলাকা বা মহল্লাভিত্তিক পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করা, বাসার ছাদ, বাড়ির আশপাশ, দুই বাড়ির সীমানায় নোংরা জায়গাগুলো পরিষ্কার করার কোনো কার্যক্রম নেই। অথচ উল্লিখিত সব স্থান, সেপটিক ট্যাংক, ঢাকা জলাধার বা নর্দমার মশার বংশ নাশ ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন না হলে ডেঙ্গুতে মৃত্যুমিছিল আটকানো অসম্ভব। সুতরাং জনগণ ও সিটি করপোরেশন উভয়েরই সমানভাবে ভূমিকা রাখা দরকার।