কক্সবাজার-২ আসনে সুবিধায় জামায়াত, কোন্দল বিএনপিতে
৩০ অক্টোবর ২০২৫ ১৮:১০
সরওয়ার কামাল. মহেশখালী (কক্সবাজার) : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ভোটারের মন জয় করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা। আছে দলীয় কোন্দলও। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মহেশখালীতে তিন গ্রুপ এবং কুতুবদিয়ায় দুই গ্রুপ অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জর্জরিত। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহেশখালী ও কুতুবদিয়া উপজেলায় কোনো বিভক্তি ও গ্রুপিং না থাকায় কাজ করছে একতাবদ্ধ ও সুশৃঙ্খলভাবে।
কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ. এইচ. এম হামিদুর রহমান আযাদ। প্রচার ও জনপ্রিয়তায় এগিয়ে রয়েছেন জামায়াতের এ কেন্দ্রীয় নেতা। জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা নিরলসভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিটি ঘরে ঘরে (হাউস ক্যাম্পেইন) করে আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান ও হামিদুর রহমান আযাদের সালাম পৌঁছে দিচ্ছেন। পাশাপাশি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোটপ্রার্থনা করছেন তারা।
ড. এ. এইচ. এম হামিদুর রহমান আযাদ ২০০৮ সালে মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ১ লাখ ৪ হাজার ২৭১ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ড. আনসারুল করিম নৌকা প্রতীকে ৮৬ হাজার ৯৪৪ ভোট পেয়েছিলেন।
মহেশখালীতে বিএনপি ৩ ভাগে বিভক্ত। দলটির একটি অংশ সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ ফরিদের নেতৃত্বে, একটি গ্রুপ কক্সবাজার জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এডভোকেট নুরুল আলমের নেতৃত্বে এবং অপর গ্রুপটি মহেশখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর ছিদ্দিকের নেতৃত্বে। তারা কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি আলাদা আলাদাভাবে পালন করেন। তাদের স্ব-স্ব পালিত কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে একে অপরকে নিয়ে বিষোদ্গার ও দলের দায়িত্ব পালন নিয়ে তিরস্কারও করছেন। ফলে বিএনপি সমর্থক ও ভোটাররা দিশেহারা হয়ে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীর দিকে ঝুঁকছে। একই আসনের অংশ কুতুবদিয়া উপজেলায়ও বিএনপি দুই ভাগে বিভক্ত জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী নেতৃত্বে একটি গ্রুপ এবং বিএনপি নেতা জালাল আহমদের নেতৃত্বে আরেকটি গ্রুপ। ফলে কুতুবদিয়ায়ও বিএনপি-সমর্থিত ভোটাররা জামায়াত-সমর্থিত প্রার্থীর দিকে ঝুঁকে পড়েছে।
কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে স্ব-স্ব উপজেলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মহেশখালী উপজেলায় ৩ ভাগে বিভক্ত ও কুতুবদিয়া উপজেলায় ২ ভাগে বিভক্ত। কিন্তু বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহেশখালী উপজেলায় কোনো বিভক্তি নাই ও কুতুবদিয়া উপজেলায়ও কোনো বিভক্তি নাই। সবাই ঐক্যবদ্ধ ও সুসংগঠিত। তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম, আচার-আচরণ, ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছুতেই ভোটার ও সাধারণ জনগণ সন্তুষ্ট। ফলে জামায়াত-সমর্থিত প্রার্থী হামিদুর রহমান আযাদের পক্ষে গণরায় হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, মহেশখালীতে মোট ভোটার ২ লাখ ৬৯ হাজার ৭২৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৪২ হাজার ৬৩৬ এবং নারী ভোটার ১ লাখ ২৭ হাজার ৯১ জন। অন্যদিকে কুতুবদিয়ায় মোট ১ লাখ ৩ হাজার ৩৮১ জন ভোটারের মধ্যে পুরুষ ৫৪ হাজার ৩২৯ ও নারী ৪৯ হাজার ৫২ জন ভোটার।
কক্সবাজার জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও মহেশখালী উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীর জাকের হোসাইন জানান, জামায়াতে ইসলামী একটি আদর্শিক সংগঠন এবং নেতাকর্মীরা সুসংগঠিত ও সংঘবদ্ধ। তারা দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোটপ্রার্থনা করে প্রতিটি বাড়িতে ক্যাম্পেইন করে যাচ্ছে। তাই জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী হামিদুর রহমান আযাদের অবস্থান অত্যন্ত ভালো।
মহেশখালী উপজেলা জামায়াত (দক্ষিণ) আমীর মাস্টার শামীম ইকবাল জানান, আমরা প্রতিটি বাড়িতে ক্যাম্পেইন করে যাচ্ছি। মহেশখালী-কুতুবদিয়ায় জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী হামিদুর রহমান আযাদের অবস্থান ভালো।
কুতুবদিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ আহমদ চৌধুরী জানান, আমরা শতভাগ আশাবাদী মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জয়ী হবে।