পণ্যমূল্যের আকাশছোঁয়া, দাম কিছুতেই কমছে না
২৩ অক্টোবর ২০২৫ ২০:৪৮
স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীসহ সারা দেশের বাজারে মাছের মূল্য আকাশছোঁয়া। আলু-পেঁপে ছাড়া একই অবস্থা প্রায় সব সবজির মূল্য। চালের মূল্য কয়েক মাস আগে বৃদ্ধির পর আর কমার কোনো খবর নেই। এর মধ্যে ভোজ্যতেলের মুল্য বাড়ানো হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভুগছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। দাম বাড়ার কারণে অনেক পরিবার এখন নিয়মিত মাছ-গোশত খাওয়া কমিয়ে দিচ্ছে। এর ফলে পুষ্টির ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। তবে ইতিবাচক খবর হচ্ছে বাসাবাড়িতে চুলা জ¦ালাতে অতি আবশ্যকীয় ১২ কেজি এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের মূল্য অব্যাহত কমছে।
বাজারে আলুর মূল্য কম। ১শ’ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে মানভেদে ৫ থেকে ৬ কেজি পর্যন্ত। অন্যসব সবজির মূল্যই বেশি। বাজারে শাকের সরবরাহ বাড়লেও দাম কমেনি। মুদিপণ্যের মূল্যও আগের চেয়ে বাড়তি। অর্থাৎ স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য বাজারে সস্তা কোনো ভালো খবর নেই। সবকিছুই তাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। সবকিছু মূল্য বাড়লেও বেতন বা আয় না বাড়ায় স্বল্প আয়ের মানুষ সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে।
রাজধানীর বাজারগুলোর খবর নিয়ে জানা যায়, গরুর গোশতের কেজি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা, ব্রয়লার মুরগির দাম ওঠানামা করলেও এখন ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কক ও সোনালি মুরগি কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। লাল ডিমের ডজন ১৪৫ টাকা। যা কিছুদিন আগে ছিল ১৩০ টাকা। রাজধানীর বাজারে চাষের রুই-কাতল মাছ ৩৫০ থেকে ৫৫০ টাকা, শিং মাছ ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, সিলভার কার্প-গ্রাস কার্প ২৮০ থেকে ৩৩০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, চাষের কই, তেলাপিয়া ও পাঙ্গাস ২৫০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা, বাইন, বাইলা মাছ ৭০০ থেকে ১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, পটোল, করলা, ঢেঁড়স ও ঝিঙা ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। মুলা ও চিচিংগার কেজি ৬০ টাকা, বেগুনের কেজি ১০০ থেকে ১২০টাকা, বরবটি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, শিম ২৪০ টাকা, নতুন ফুলকপি ১৮০টাকা, কাঁচামরিচ ১৬০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৫০ টাকা, পেঁপে ২৫ টাকা, মুখিকচু ৬০ টাকা, আলু প্রকারভেদে ২০ থেকে ২৫ টাকা, ৭০ টাকার পেঁয়াজ এখন ৮০ টাকা, আদা ১৪০ টাকা, রসুন মানভেদে ১২০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঢাকার বাজারে প্রতি কেজি বিআর-২৮ চাল ৬০ থেকে ৬২ টাকা, বিআর-৪৯ চাল ৬২ থেকে ৬৩ টাকা, স্বর্ণা ৫৮ থেকে ৬০ টাকা, কাটারিভোগ ৭২ থেকে ৭৫ টাকা, নাজিরশাইল ৮৫ থেকে ৮৬ টাকা এবং মিনিকেট চাল ৭৫ থেকে ৭৬ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
গত কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) মূল্য কমানো হচ্ছে। ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৯ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ২৪১ টাকা নির্ধারণ করেছে বিইআরসি। ফলে কিছুটা স্বস্তি হয়েছে। বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, অক্টোবর মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজির দাম ১ হাজার ২৭০ টাকা থেকে ২৯ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ২৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর সর্বশেষ সমন্বয় করা হয় এলপি গ্যাসের দাম। সে সময় সেপ্টেম্বর মাসের জন্য ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ২৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
ভোক্তাদের আক্ষেপ, কোনোভাবেই আয় আর ব্যয়ের সঙ্গে সঙ্গতি নেই। কোনো একটি পণ্যের মূল্য কমলে বেড়ে যায় অন্য পাঁচটির মূল্য। এ কারণে নির্ধারিত আয় নিয়ে সংসার চালানো সম্ভব হয় না।