ইসি অংশীজনদের সাথে সংলাপ শুরু করেছে


২ অক্টোবর ২০২৫ ১২:২২

স্টাফ রিপোর্টার : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে তৎপরতা জোরদার করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইতোমধ্যে বেশকিছু কাজ এগিয়ে রেখেছে। আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ভোটগ্রহণকে টার্গেটে রেখে ইসি সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে নির্বাচনী সরঞ্জাম ক্রয় শুরু করেছে ইসি। সংস্থাটির দেওয়া তথ্যানুযায়ী, অন্তত ৭০ শতাংশ সরঞ্জামাদি ক্রয় করা হয়েছে। ইতোমধ্যে গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (আরপিও) সংশোধন করা হয়েছে। ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রবাসীদের ভোটার বানানোর কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। নির্বাচনী সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্বাচনের প্রতীকও নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন দেওয়ার বিষয়টিও চূড়ান্ত করা হয়েছে। যেকোনো সময় এর ঘোষণা আসবে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে নির্বাচনে অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপও শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। এছাড়া নির্বাচনী পর্যবেক্ষক সংস্থা নির্ধারণ, বিদেশি পর্যবেক্ষকদের নির্বাচন পর্যবেক্ষণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে যারা নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাতে চায় এবং ভোটে প্রযুক্তিসহ নানা ধরনের সহযোগিতা দিতে চায়, তাদের সঙ্গেও কমিশন বৈঠক করছে। অর্থাৎ আগামী ডিসেম্বরে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার লক্ষ্যে তার আগেই প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করতে চাচ্ছে নির্বাচন পরিচালনাকারী এ সংস্থাটি।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর সোমবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে ইইউয়ের প্রাক-নির্বাচনী বিশেষজ্ঞ দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি বৈঠক করে নির্বাচন কমিশন। ওই বৈঠকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে দেড়শ’ পর্যবেক্ষক পাঠানোর আগ্রহের কথা জানায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এজন্য ইইউ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্বাক্ষরের প্রস্তাব দিয়েছে তারা। বৈঠক শেষে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, “ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের একটা ডেলিগেশন আমাদের সাথে দেখা করে গেছেন। ওনারা এসেছিলেন একটা অ্যাসেসমেন্ট টিম আমাদের মূলত কয়েকটা জিনিসের ব্যাপারে ক্লারিফিকেশন চেয়েছেন। ক্লারিফিকেশনটা হচ্ছে যে, ওরা একটা এমওইউ করবেন আমাদের সাথে। ফরেন মিনিস্ট্রি আমাদের সাথে এবং ইইউ একটা ত্রিপাক্ষিক এমওইউ হবে। যে এমওইউর ধারাবাহিকতায় ওনাদের প্রতিনিধি দলরা আসবেন।
আমরা জানতে চেয়েছিলাম যে, মোটামুটিভাবে আপনাদের প্রতি দলের সদস্য সংখ্যা কত হবে? তো আমাদের যেটা ধারণা দিয়েছেন, সেটা হচ্ছে দেড়শ’র মতো। তফসিল ঘোষণার পর বিভিন্ন সময় আলাদা আলাদাভাবে ভাগ ইইউয়ের পর্যবেক্ষকরা দেশে আসবেন। গেজেট নোটিফিকেশন পাবলিকেশন পর্যন্ত তারা থাকতে চায়, আমরা কীভাবে রেজাল্ট পাবলিস করি এবং এই রেজাল্টের তথ্যগুলো আমাদের ওয়েবসাইটে থাকে কি না ইত্যাদি ইত্যাদি কথা হয়েছে।”
এদিকে একইদিন (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক। বৈঠকে গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ সংসদ নির্বাচন আয়োজনে ইসিকে যুক্তরাজ্যের সহায়তা করার কথা জানিয়েছেন তিনি। বলেছেন, আগামী বছরে নির্বাচনের ঘোষণাকে স্বাগত জানায় যুক্তরাজ্য। স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে যুক্তরাজ্য। পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়েও সহায়তা দিতেও আমরা প্রস্তুত। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে যা যা প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন, সেগুলোর অনেক কিছুই ‘এগিয়ে নেওয়া হয়েছে’ বলেও জানিয়েছেন সিইসি নাসির উদ্দিন। নাসির উদ্দিন বলেন, “আসন্ন ত্রয়োদশ নির্বাচন সামনে রেখে অনেক কাজ সম্পন্ন করেছি। তার মধ্যে বিশাল একটা ভোটার তালিকা তা বাড়ি বাড়ি গিয়ে শেষ করেছি। নারী ভোটার ব্যবধান কমিয়েছি। ৯টি আইন আমরা সংশোধন করছি। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যা যা প্রস্তুতি নেওয়ার অনেক কিছু এগিয়ে নিয়েছি।”