প্রাণঘাতী মাদক


২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:২০

॥ ওবায়েদ ইবনে গনি ॥
হারাম ও প্রাণঘাতী মাদক মানবসমাজ ও সভ্যতাকে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। মাদক ও নেশাদ্রব্য জাতির যুবশক্তি এবং আর্থিক সামর্থ্য ধ্বংস করে। বিশেষ করে মাদকাসক্তি চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসসহ বহু অপরাধের জন্ম দেয়। নেশা ও মাদক মানবসভ্যতার চরম শত্রু। এটা জীবন ও সম্ভাবনাকে নষ্ট করে, শান্তির পরিবারে অশান্তির আগুন প্রজ্জ্বলিত করে এবং সমাজে অনাচার ও অস্থিরতা সৃষ্টি করে। মানবজীবনে শান্তি ও মুক্তির জন্য প্রয়োজন প্রকৃতির অনুকূল আল্লাহর বিধান অনুসরণ করা। ঈমান মানে বিশ্বাস ও নিরাপত্তা এবং সমাজের কল্যাণে নিবেদিত হওয়া। ইসলামী শরিয়তের সব বিধান এ আলোকেই সুবিন্যস্ত।
ইসলামে মাদকসেবন নিষিদ্ধ। ইসলামে অন্য যেসব নিষিদ্ধ বা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত বিষয় রয়েছে, সেগুলো থেকে ব্যক্তি চাইলেই সহজে বিরত থাকতে পারে। অর্থাৎ ইচ্ছা করলে এসব অপরাধ থেকে সরে থাকা যায়। কিন্তু মাদক গ্রহণ এমন এক অপরাধ, যা নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকে না; বরং মাদকসেবী নিজেই মাদক বা নেশার নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। চাইলেই সেখান থেকে বেরিয়ে আসা যায় না। অর্থাৎ সে নেশাকে ছাড়তে চাইলেও নেশা তাকে সহজে ছাড়ে না বা ছাড়তে চায় না। ইসলামী শরিয়ার উদ্দেশ্য হলো পাঁচটি- জীবন রক্ষা, সম্পদ রক্ষা, জ্ঞান রক্ষা, বংশ রক্ষা, বিশ্বাস বা ধর্ম রক্ষা। হত্যার পরিবর্তে হত্যার বিধান রাখা হয়েছে জীবন সুরক্ষার জন্য। সেখানেও রয়েছে রক্তপণ দিয়ে নিহতের অভিভাবকের কাছ থেকে ক্ষমার সুযোগ। চুরির দায়ে হাত কাটার বিধান আছে সম্পদ সুরক্ষার জন্য। এখানেও রয়েছে অপেশাদার অভাবীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা ও ক্ষমার সুযোগ।
আর সব ধরনের মাদক বা নেশাদ্রব্য হারাম করা হয়েছে জ্ঞান বা বুদ্ধি-বিবেক সুরক্ষার জন্য। মাদক গ্রহণের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা রয়েছে। মাদকসেবন সম্পর্কে মহান আল্লাহ এরশাদ করেন, ‘মদ ও জুয়া সম্পর্কে তারা আপনাকে জিজ্ঞাসা করে। আপনি বলুন, এ দুটির মধ্যেই রয়েছে মস্তবড় গুনাহ এবং মানুষের জন্য উপকারিতাও রয়েছে। কিন্তু এগুলোর গুনাহ উপকারিতা অপেক্ষা অনেক বেশি।’ (সূূরা বাকারা : ২১৯)। এ আয়াতে মদ ও জুয়া সম্পর্কে সাহাবায়ে কেরামের প্রশ্ন এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে তার উত্তর দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত বর্তমানে মাদকের ছোবলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেভাবে রসাতলে যাচ্ছে, তা থেকে এ আয়াতের শাশ্বত আবেদনই আমাদের বাঁচাতে পারে।
ইসলামের প্রথম যুগে জাহেলিয়াত আমলে মদপান স্বাভাবিক ব্যাপার ছিল। রাসূল (সা.) যখন হিজরত করে মদিনায় আগমন করেন, তখনো মদিনাবাসীর মধ্যে মদপান ও জুয়ার প্রথা প্রচলিত ছিল। সাধারণ মানুষ এ দুটি বস্তুর শুধু বাহ্যিক উপকারিতার প্রতি লক্ষ করেই এতে মত্ত ছিল। কিন্তু এগুলোর অন্তর্নিহিত অকল্যাণ সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণাই ছিল না। তবে আল্লাহর সৃষ্টিগত নিয়ম হচ্ছে, প্রতিটি জাতি ও প্রতিটি অঞ্চলে কিছু বুদ্ধিমান লোকও থাকেন- যারা বিবেক-বুদ্ধিকে অভ্যাসের ওপর স্থান দেন। যদি কোনো অভ্যাস বুদ্ধি বা যুক্তির পরিপন্থি হয়, তাহলে সে অভ্যাসের ধারে-কাছেও তারা যান না। এক্ষেত্রে মহানবী (সা.)-এর স্থান ছিল সবার ঊর্ধ্বে। কেননা যেসব বস্তু কোনোকালে হারাম হবে, এমন সব বস্তুর বিষয়ে তাঁর অন্তরে আগে থেকেই একটা সহজাত ঘৃণা ছিল। সাহাবাদের মধ্যেও কিছুসংখ্যক এমন ছিলেন- যারা হারাম হওয়ার আগেও মদপান তো দূরের কথা, তা স্পর্শও করেননি।
সাহাবী হযরত আনাস বিন মালিক (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের কিছু নিদর্শন হলো- ইলম লোপ পাবে, অজ্ঞানতার বিস্তার ঘটবে, মদপান ও মাদকের প্রসার ঘটবে, ব্যভিচার ছড়িয়ে পড়বে।’ (বুখারি)। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে মিরাজের রাতে বিভিন্ন অপরাধের শাস্তি দেখানো হয়েছে- ‘তিনি মদ, মাদক ও নেশাগ্রহণকারীদের শাস্তি দেখলেন। তারা জাহান্নামিদের শরীর থেকে নির্গত বিষাক্ত নোংরা পুঁজ পান করছে।’ (বুখারি ও মুসলিম)। ফিকহ তথা ইসলামী ব্যবহারিক বিধানমতে মাদক গ্রহণ হারাম হওয়ার পাশাপাশি তা অপবিত্রও। কোনো মুসলমানের মাদক ব্যবহার করা যেমন হারাম, অনুরূপভাবে তা সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণ করা এবং ক্রয়-বিক্রয় করা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।
মদিনায় পৌঁছার পর কয়েকজন সাহাবী মদের অকল্যাণগুলো অনুভব করেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে হযরত ওমর (রা.), হযরত মুয়ায ইবন জাবাল (রা.) ও কিছুসংখ্যক আনসার সাহাবী রাসূল (সা.)-এর দরবারে উপস্থিত হয়ে আরজ করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! মদ ও জুয়া মানুষের বুদ্ধি-বিবেচনাকে বিলুপ্ত করে দেয় এবং ধন-সম্পদও ধ্বংস করে দেয়; এ সম্পর্কে আপনার নির্দেশ কী? এ প্রশ্নের উত্তরেই ওই আয়াতটি নাজিল হয়। এটি হচ্ছে প্রথম আয়াত, যা মুসলমানদের মদ থেকে দূরে রাখার প্রথম নির্দেশনা। এতে বলা হয়েছে, মদ ও জুয়ায় যদিও বাহ্যিক দৃষ্টিতে কিছু উপকারিতা পরিলক্ষিত হয়; কিন্তু বাস্তবে এ দুটির মাধ্যমে অনেক বড় বড় গুনাহের পথ উন্মুক্ত হয়ে থাকে, যা এর উপকারিতার তুলনায় অনেক বেশি ক্ষতিকর ও ধ্বংসাত্মক। গুনাহ অর্থে এখানে সেসবও বোঝানো হয়েছে, যা গুনাহের কারণ হয়ে থাকে। যেমন মদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বড় দোষ হচ্ছে, তা মানুষের সবচেয়ে বড়গুণ ‘বুদ্ধি-বিবেচনা’কে বিলুপ্ত করে দেয়। কারণ বুদ্ধি এমন একটি গুণ, যা মানুষকে মন্দ, অশ্লীল কাজ থেকে বিরত রাখে। তা যখন বিলুপ্ত হয়ে যায়, তখন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জন্য যেকোনো গুনাহের পথই সুগম হয়ে যায়।
ওই আয়াতে পরিষ্কার ভাষায় মদকে হারাম করা হয়নি, বরং তা ক্ষতিকর মর্মে তার অনিষ্ট ও অকল্যাণ তুলে ধরা হয়েছে; যা অনেকটা পরামর্শের পর্যায়ে পড়ে। এতেও অনেক সাহাবী তা তাৎক্ষণিক পরিত্যাগ করেছেন। আমাদের যুবকদের মাদকের সর্বনাশা ছোবল থেকে উদ্ধারের প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে এর অপকারিতা সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি করা। একদিন হযরত আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) কয়েকজন সাহাবীকে দাওয়াত করে আহারের পর আগের প্রথা অনুযায়ী মদপানের ব্যবস্থা করলেন। এ অবস্থায় মাগরিবের নামাজের সময় হয়ে গেলে সবাই নামাজে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং একজন ইমামতির জন্য সামনে গিয়ে নামাজ পড়ালেন। কিন্তু নেশার প্রভাবে তিনি সূরা ‘কাফিরুন’ পাঠে ভুল করে বসলেন। তখনই দ্বিতীয় পর্যায়ে এ আয়াত নাজিল হলো, ‘হে ঈমানদারগণ! নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তোমরা নামাজের ধারে-কাছেও যেও না।’ (সূরা নিসা : ৪৩)।
এ আয়াতে শুধু নামাজের সময়ে নিষেধাজ্ঞা দ্বারা সাময়িক ‘হারাম’ বোঝা যাচ্ছে বটে; তবে অপরাপর সময়েও নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য কি না, তা স্পষ্ট নয়। যে কারণে সাধারণ বিবেক অনুযায়ী অন্যান্য সময়ে তা পান করার অনুমতি তখন পর্যন্ত বহাল থাকে। কিন্তু অনেক সাহাবা এ আয়াত নাজিল হওয়ার পর থেকেই মদপান সম্পূর্ণভাবে বর্জন করেন। তারা ভেবেছিলেন, যে বস্তু মানুষকে নামাজ থেকে বিরত রাখে, তাতে কোনো কল্যাণ থাকতে পারে না। যেহেতু নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নামাজ পড়তে নিষেধ করা হয়েছে, তাই এমন বস্তুর ধারে-কাছে যাওয়া উচিত নয়, যা মানুষকে নামাজ থেকে বঞ্চিত করে। মোটকথা, এ পর্যায়েও চূড়ান্ত, সুস্পষ্ট ও ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা বোঝা যাচ্ছিল না।
এরই মধ্যে আরো একটি ঘটনা সংঘটিত হয়ে যায়। হযরত আতবান ইবনে মালেক (রা.) কয়েকজন সাহাবাকে দাওয়াত করলেন, যাদের মধ্যে হযরত সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস (রা.)ও উপস্থিত ছিলেন। তারা খাওয়া-দাওয়ার পর আগের প্রথা অনুযায়ী মদপান ও নেশাগ্রস্ত অবস্থায় কবিতা প্রতিযোগিতা এবং নিজেদের বংশ ও পূর্বপুরুষদের অহংকারমূলক বর্ণনা শুরু করেন। সাদ আনসারদের দোষারোপ করেন এবং নিজেদের প্রশংসাকীর্তন করে একটি কবিতা আবৃত্তি করেন। ফলে একজন আনসার যুবক উত্তেজিত হয়ে উটের গণ্ডদেশের একটি হাড় সাদের মাথায় ছুড়ে মারেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
এরপর সাদ (রা.) রাসূল (সা.)-এর দরবারে ওই যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। তখন রাসূল (সা.) প্রার্থনা করেন, ‘হে আল্লাহ! মদ বিষয়ে আমাদের একটি পরিষ্কার বর্ণনা ও বিধান দান করুন!’ তখনই সূরা আল-মায়েদার দুটি আয়াত বিস্তারিত বিধানসহ নাজিল হয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! নিশ্চিত জেনো- মদ, জুয়া, পূজার বেদি এবং ভাগ্যনির্ধারণের জন্য তীর নিক্ষেপ- এসবই নিকৃষ্ট শয়তানি কাজ। কাজেই এসব থেকে সম্পূর্ণভাবে বিরত থাক; যাতে তোমরা মুক্তিলাভ ও কল্যাণ পেতে পার। শয়তান মদ ও জুয়ার দ্বারা তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক শত্রুতা-তিক্ততা সৃষ্টি করে থাকে এবং আল্লাহর স্মরণ আর নামাজ থেকে তোমাদের বিরত রাখে; তবুও কি তোমরা তা থেকে বিরত থাকবে না?’ (সূরা মায়েদা : ৯০-৯১)।
এর দ্বারা মদ তথা মাদক ও নেশাদ্রব্যকে সম্পূর্ণরূপে হারাম করা হয়েছে। আমাদের জেনারেল শিক্ষিতরা মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলেন, যদি এ সম্পর্কে শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি এবং তা হারাম হওয়ার বিষয়টি পেশ করা হয়, তাহলে সমাজ থেকে সর্বনাশা এ পাপটি উচ্ছেদে ধর্মীয় আবেগ দারুণভাবে সাহায্য করবে। মহান আল্লাহর নির্দেশাবলির প্রকৃত রহস্য ও তাৎপর্য তিনিই ভালো জানেন। তবে শরিয়তের নির্দেশগুলোর প্রতি গভীরভাবে লক্ষ করলে বোঝা যায়, ইসলামী শরিয়ত কোনো বিষয়ে কোনো হুকুম প্রদান করতে গিয়ে মানুষের আবেগ-অনুভূতির প্রতি বিশেষভাবে লক্ষ রেখেছে; যাতে মানুষ সেগুলোর অনুসরণ করতে গিয়ে বিশেষ কষ্টের সম্মুখীন না হয়। আল কুরআনেও রয়েছে, ‘আল্লাহ তায়ালা কোনো মানুষকেই এমন আদেশ দেন না, যা তার শক্তি ও সামর্থ্যরে ঊর্ধ্বে।’ (সূরা বাকারা : ২৮৬)। এ দয়া ও রহস্যের দাবি ছিল, ইসলামী শরিয়তেও মাদক হারাম করার ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমিক ব্যবস্থা গ্রহণ। আর এটাই যৌক্তিক ও বৈজ্ঞানিক পন্থা।
একইভাবে তৃতীয় ও চূড়ান্ত পর্যায়ে কঠোরভাবে হারাম ঘোষণার পর নিষিদ্ধতার আইনকানুন শক্তভাবে জারি করাও বিজ্ঞতারই পরিচায়ক। এজন্য রাসূল (সা.) মদ তথা মাদক ও নেশাদ্রব্য সম্পর্কে কঠোর শাস্তির ভয় প্রদর্শন করেছেন। তিনি এরশাদ করেন, ‘সব ধরনের অপকর্ম ও অশ্লীলতার জন্মদাতা হচ্ছে মদ। এটা পান করে মানুষ নিকৃষ্টতর পাপে লিপ্ত হয়ে যেতে পারে।’ অপর হাদিসে এসেছে, ‘মদ ও ঈমান একত্র হতে পারে না।’ (নাসাঈ)। হযরত আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, মহানবী (সা.) মদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখে এমন দশ শ্রেণির লোকের প্রতি লানত করেছেন- ১. যে লোক মদের (মাদক) নির্যাস বের করে, ২. যে তা প্রস্তুত করে, ৩. যে পান করে, ৩. যে পান করায়, ৪. আমদানিকারক, ৫. যার জন্য আমদানি করা হয়, ৬. বিক্রেতা, ৭. ক্রেতা, ৯. সরবরাহকারী ও ১০. এর লভ্যাংশ ভোগকারী। (তিরমিযী : ১২৯৫)।
অতএব বিশ্বশান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার জন্য সর্বস্তরে মাদক তথা নেশাদ্রব্য পরিহার করতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন ও পারিবারিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণ শুধু আইনি ও সামাজিক বিষয় নয়, বরং এটি ঈমান এবং আমলের সঙ্গে সম্পর্কিত খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। হে আল্লাহ! ভয়ঙ্কর মাদক ও নেশাদ্রব্যের ছোবল থেকে আমাদের পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র তথা বিশ্বকে হেফাজত করুন। আমীন। লেখক : সাংবাদিক।