ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে নিষিদ্ধ আ’লীগের মিছিল
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৬:২৫
স্টাফ রিপোর্টার : কোনো ঘোষিত কর্মসূচি নেই। তবুও প্রতিদিনই দেশের কোনো না কোনো স্থানে মিছিল ও বিক্ষোভ দেখাচ্ছে কার্যক্রম ‘নিষিদ্ধ’ হওয়া ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’ ও তার অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনগুলো। শুধু যে আওয়ামী লীগ মিছিল করছে তাই নয়, মিছিল থেকে আটকদের পুলিশের কাছ থেকে জঙ্গি কায়দায় ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটাচ্ছে দলটির সন্ত্রাসীরা। খুব বেশি আগের কথা নয়, ১৬ আগস্ট মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর শ্যামলীর শিশু মেলার মোড় থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা একটি ঝটিকা মিছিল বের করে আগারগাঁওয়ের দিকে যাওয়া শুরু করলে পুলিশ সেখান থেকে ৫-৬ জনকে ধরে ফেলে। এরপর পেছন থেকে আওয়ামী লীগের আরেকটি দল ২৫ থেকে ৩০টি মোটরসাইকেলে করে এসে কয়েকটি ককটেল ফাটিয়ে পুলিশের কাছ থেকে আটকদের টেনেহিঁচড়ে ‘ছাড়িয়ে নিয়ে যায়’। এমন ঘটনা ২০২৪ সালে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর রাজধানীতে এই প্রথম।
গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের শক্ত অবস্থান থাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষনেতাদের ওপর হামলার সাহস দেখিয়েছে হাসিনার অনুসারীরা। কিন্তু ঢাকায় নিষিদ্ধ এই সংগঠনের নেতাকর্মীরা যখন পুলিশের কাছ থেকে আটক নেতাকর্মীদের ছিনিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা দেখায়, তখন বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে বেশ ভাবনার জন্ম দেয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব পালন নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়। ১৬ সেপ্টেম্বর যখন মিছিল থেকে আটক কয়েকজনকে ‘ককটেল ফাটিয়ে ছিনিয়ে নেওয়া’ হয়েছে তখন কারোই বুঝতে বাকি থাকে না যে আওয়ামী লীগ কতটা পরিকল্পিতভাবে ‘ব্যাকআপ টিম’ তৈরি করেছে। গত বছরের জুলাই আগস্টে গণহত্যা চালিয়ে ক্ষমতায় থাকার সব চেষ্টা ব্যর্থ করতে জীবন দিতে যাওয়া তরুণদের মধ্যে সবাই এখনো হাসপাতাল ছাড়তে পারেননি। এখনো অনেকের চিকিৎসা শেষ হয়নি। কিন্তু স্বৈরাচার এখনই মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।
বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সম্পর্কের দূরত্ব বৃদ্ধি হওয়ায় ও একটি প্রতিবেশি দেশের আশকারায়ই আওয়ামী লীগ শহীদের রক্তের দাগ না শুকাতেই হিংস্র হয়ে উঠছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোয় প্রতিদিনই বিপ্লবিদের হুমকি দিয়ে আসছে আওয়ামী লীগের এক্টিভিস্টরা। আর রাজপথে মিছিল প্রায় প্রতিদিনই বের করছে তারা। গত ১৫ সেপ্টেম্বরও দিনে-দুপুরে মতিঝিলের দিলকুশা এলাকায় আওয়ামী লীগ মিছিল করে। ওই মিছিল থেকে পুলিশ কাউকে ধরেনি। আওয়ামী লীগের কয়েকজনকে আটকে পুলিশে দেয় স্থানীয় বিএনপি কর্মীরা। এর প্রতিবাদে ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে ফের মতিঝিল শাপলা চত্বরে মিছিল করেছে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।
এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে আগারগাঁও বাংলাদেশ বেতারের সামনে থেকে আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা একটি বড় মিছিল বের করেন। প্রায় হাজারসংখ্যক মানুষ এতে অংশ নেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, ব্যানার-ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে মিছিলকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে এগিয়ে যান। মিছিলটি বাংলাদেশ বেতারের সামনে থেকে শুরু হয়ে আগারগাঁও মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় ‘শেখ হাসিনা’, ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘শেখ হাসিনা আসবে, রাজপথ কাঁপবে’ ইত্যাদি বিভিন্ন স্লোগান দেয় তারা। কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও রাজধানীতে আওয়ামী লীগ এত বড় আকারের মিছিল করেছে। ওই মিছিলের একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ভিডিওতে দেখা যায়, মিছিলের পাশ দিয়েই চলে যাচ্ছে পুলিশের গাড়ি, তবে মিছিল থামানোর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যে এবং ফ্যাসিবাদীদের নিষিদ্ধ করার বিকল্প নেই বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।