ছড়া ও কবিতা


৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৪:৪২

ইয়া নবী (সা.)
মোহাম্মদ শামীম মিয়া

এই ধরণীর আঁধার কালো
তোমার নূরে পেলো আলো,
চাঁদ-সুরুজ ও গ্রহ-তারা
তোমার দরূদ পড়ে তারা।
পাখির গানে ফুলের ঘ্রাণে
শুনি তোমারই গুণগান,
নূরের ঝলকে এই ভূলোকে
সব মাখলুকাত পেলো প্রাণ।
খোদার প্রিয় হাবিব তুমি
সকল কিছুই সুন্দর-সেরা,
শাফায়াত চাই রোজ হাশরে
এই অধম পাপী মোরা।
হে নবী (সা.) জানাই তোমায়
মনের থেকে হাজার সালাম,
বুলবুলেরই কণ্ঠে আজও
শুনি তোমার মধুর গান।

আমার নবী
শাহীন খান

আমার নবী ধ্যানের ছবি
গাই গুণগান তার
তাকে হীনা জীবনখানা হবে
যে ছারখার!
মুসলমানের আত্মা তিনি
সত্য ন্যায়ের পথ
তাকে ছাড়া স্বর্গ তোমার
হবেই হবে বধ!
মহান প্রভুর দোস্ত তিনি নবীকুলের মণি
বড্ড ভালোবাসেন তাকে
আল্লাহ কাদের গণি।
তিনি হলেন ঝর্ণাধারা রবি ও চাঁদ তারা
পাখির কূজন ফুলের হাসি
বেলী গোলাপ চারা।
তোমার আমার পথপ্রদর্শক
মুহাম্মদ (সা.) তার নাম
তারই তরে দরূদ পড়ে
জানাই গো সালাম।

নবী আমার
মুহাম্মদ ইব্রাহিম বাহারী

দূর আরবের মরুর বুকে
আসলো নেমে নূরের রবি,
পিউ পাপিয়া গাইলো সুখে
নামলো ধরায় ধ্যানের ছবি।
কুল মাখলুকাত সেই আনন্দে
তৌহিদের গান মধুর তানে,
গাইলো সবাই সানন্দে
ভাসলো নূরের জোয়ার বানে।
দূরআশাদের স্বপ্নকুঁড়ি
ফুটলো মরুর জীর্ণ ঘরে,
রৌশনি তাঁর আকাশ ফুড়ি
নামলো মরুর বালুচরে।
নবীগণের সায়েদ তিনি
দোজাহানের ঐ সালতানাত,
শাফায়াতের নবী যিনি
সরালেন সব যে লাত মানাত
নবী আমার সাচ্চা দিলের
পাপী-তাপির যে কাণ্ডারি,
নূরের ঝর্ণা সালসাবিলের
তিনি দয়ার ভাণ্ডারি।

 

শরৎ এলো
নার্গিস আক্তার

শরৎ এলো ভুবন মাঝে
করে নতুন খেলা,
নীল আকাশে শুভ্র মেঘ
ধূসর রংয়ের ভেলা।
ধবধবে ওই আকাশ পটে
উড়ছে নানান পাখি ,
মুগ্ধ হয়ে চেয়ে থাকি
আমি হব পাখি।
জুঁই চামেলি, বকুল বেলী
নানান ফুলের মেলা,
নদী কূলে দোল খায় কাশবন
শুভ্র মেঘের ভেলা।
শাপলা ফুটে বিলে ঝিলে
পাপড়ি মেলে হাসে
বকেরা ছোঁ মেরে মাছ ধরে
হাঁসগুলো সব ভাসে।
মনটা শুধু কয়
আবুল খায়ের বুলবুল

মনটা শুধু কয় যে আমার
পাখির ডানায় উড়ি
গিরি নদী দূর পারাবার
হয়ে যেন ঘুড়ি।

মনটা আমার চায় যে শুধু
বৃষ্টি হয়ে ঝরি
নীল আকাশে দূর সীমানায়
যাই যে হয়ে পরি।

মনটা শুধু কয় যে আমার
পিষাই অত্যাচারী
মুষ্টি শাবল হাতগুলোকে
ভাঙতে যেন পারি।

মনটা শুধু কয় যে আমার
ভাঙি বাধার বাঁধ
তীব্র ঝড়ের আঘাত এনে
করাই আর্তনাদ।

মনটা শুধু কয় যে আমার
কাঁটা তুলি পথের
সব ঝামেলা দূর করে দেই
দেখাই কিছু সতের।

মনটা শুধু কয় যে আমার
ঘাড় ভেঙে দেই তাদের
আল্লাহর কথা বললে জানি
মন পুড়ে যায় যাদের।

মনটা শুধু কয় যে আমার
সন্ত্রাসীদের রুখি
অনিয়মের আখড়ায় যেন
দিই না যেন রূপী।

মনটা শুধু কয় যে আমার
সত্য বসাই হৃদে
নকল সকল দূর করে দেই
মিষ্টি ছড়াই পদে।

মনটা শুধু কয় যে আমার
সবাইর হয়ে থাকি
ভালোবাসার জগৎ গড়ে
বিশ্ব ভুবন আঁকি।

ভাদ্দুরে তাল
শেখ সালমান শাহী

ভাদ্দুরে তাল
কালোর কাল মধ্য লাল
মিজি তাই তুলে ছাল
দিই ঢেলে একটু জল।
দিয়েই ঝাঁকি
নিলে কাকি রয় না বাকি
দেখি এই আছে নাকি
হাতে করে উঁকি ঝুঁকি।

ভরলে হাঁড়ি
সাদা দাড়ি ধরতেই ছুড়ি
খেতে জ্বাল ধরি খড়ি
উনুন তুলে বারে নাড়ি।

 

শরতের দিন
সাইদুল ইসলাম সাইদ

শরৎ হলো শান্ত-কোমল
স্নিগ্ধ উদার মন,
হঠাৎ করে ক্রন্দনে রূপ
নয়তো সারাক্ষণ।
খালে-বিলে পদ্ম ফুটে
যেন প্রিয়ার মুখ,
শিশিরভেজা শিউলি ফুলে
অসাধারণ লুক।
মেঘপরীরা আকাশজুড়ে
আনন্দে ঐ ভাসে,
নদীর পাড়ে কাশফুলেরা
খিলখিলিয়ে হাসে।
শরৎকাল
আব্দুস সাত্তার সুমন

নাতিশীতোষ্ণ শরৎকাল
মনে জাগায় হালচাল
নীল আকাশ কখনো লাল
তীব্র গরমের পাকে তাল।

কাঠ গোলাপের সাদা মনন
ভাদরে ছোঁয়ায় মুগ্ধ চরণ
ঋতুরাজের রূপের ধরন
নবান্নের বর্ষবরণ।

কাশবনে আগুন জ্বলে
ফুলপরীরা রূপ মেলে
বর্ষার পানি টলমলে
মহুয়ার বনে শরৎ খেলে।

 

গাছ
নুরুল হুদা নুরী

গাছ আমাদের দিয়ে থাকে
নানান রকম ফল,
সে ফল খেলে মোদের গায়ে
বাড়ে অনেক বল।
গাছ আমাদের উপহার দেয়
কত্ত রঙের ফুল,
বৃক্ষ উজাড় করা মোদের
মারাত্মক এক ভুল।
গাছ আমাদের দিয়ে থাকে
খড় লাড়কি আর কাঠ,
গাছের কাঠে তৈরি করি
বাহারী সব খাট।
গাছের ডালে বসে পাখি
শোনায় মজার গান,
গাছ আমাদের অক্সিজেন দেয়
যাতে বাঁচে প্রাণ।
একটি আরজ করছি আমি
তাই তো সবার কাছ,
বাদলা দিনে লাগাবো ভাই
ফল আর বনজ গাছ।

 

মেঘের পরী
হাফিয রেদওয়ান

মেঘের পরী উড়ে উড়ে
যাচ্ছো কোথা ভেসে?
ডানা মেলে হেসে হেসে
ছুটছো কোন দেশে।

কোন আকাশে পাড়ি জমাও
কালো ছদ্মবেশে,
নীলকে ছুঁইয়ে ঘেঁষে ঘেঁষে
কোন সে পরিবেশে।

মেঘের পরী ফিরো বাড়ি
দেশকে ভালোবেসে,
নিজের সুরের রেশে রেশে
চেনা আপন দেশে।

 

শরতের ডাক
আসাদুজ্জামান খান মুকুল

শিশিরভেজা ভোরে ঝরে পড়ে শিউলি,
তার সুবাসে জেগে ওঠে বাঁচার নিশ্বাস।
তটিনীর জলে ভেসে আসে মৃদু ঢেউ,
প্রতিটি তরঙ্গ ছুঁয়ে যায়
হৃদয়ের গোপন কোণায়।
কাশবনের বুক দুলে ওঠে হাওয়ায়,
এক অচেনা ডাক যেন মনকে স্পর্শ করে।
ধানক্ষেতে ছড়িয়ে পড়ে আলোর ঝিলিক।
মানুষের ক্লান্তি হারায় সেই দীপ্তিতে।
মুক্তোর ন্যায় শিশিরে ঝলমল
করে তৃণের ডগায়।
প্রতিটি কণায় জমে থাকে
ক্ষণিকের চিরন্তন গান।
পুকুরের জলে ভেসে ওঠে শালুকের পাপড়ি,
বাতাসের মৃদু ছোঁয়ায় জেগে ওঠে
জীবনের আভাস।

আকাশে মেঘে লুকানো নীলের গভীরতা,
প্রকৃতির মোহনীয়তায় জেগে
ওঠে অন্তরের প্রার্থনা।
শরৎ আসে, ভোরের আলোয় হৃদয়
ভরে যায় শান্তিতে,
মানব মন প্রশ্ন করে,
কে এই সৌন্দর্যের স্রষ্টা?

 

চড়ুই পাখি
সাদমান হাফিজ শুভ

চড়ুই পাখি! চড়ুই পাখি!
ঘরের কোণে থাকো,
রোজ প্রভাতে ঘুম ভেঙে দাও
চিরূপ-চিরূপ ডাকো।

ইচ্ছে হলেই ফুড়ুত করে
পালাও অচিনপুরে,
কটর-মটর শস্যদানা
চিবাও ঘুরে-ঘুরে।

আমার সাথে বন্ধু হবে?
দেবো তালের বড়া,
মা যে বানায় নিপুণ হাতে
মিষ্টি হবে কড়া।

আমার কাঁধে চুপটি করে
থাকবে তুমি বসে,
দুজন মিলে স্বাদের বড়া
খাব রসে-রসে।

এত্ত ডাকি সোহাগ ভরে
দাও না সাড়া তবু!
তোমার সাথে দিলাম আড়ি
ডাকব না আর কভু।

৩৬ জুলাই
জনি সিদ্দিক

স্বৈরাচারের বুকে কাঁপন
দেয় ধরিয়ে ছাত্র যখন
হকচকিয়ে বুলেট তখন
এদিক-সেদিক ছোটে,

বেলকনিতে ময়না পাখি
অবুঝ মনে দুইটা আঁখি
আকাশপানে চেয়ে থাকি
স্বপ্নগুলো মেলছিলো,

উপর থেকে ছুড়লে গুলি
উড়ায় দিলো মাথার খুলি
হারায় গেলো মুখের বুলি
কী সীমাহীন চোটে!

নতুন দিনের স্বপ্ন এঁকে
আমজনতা বীরের বেশে
বুক চিতিয়ে মুচকি হেসে
জীবন নিয়ে খেলছিল।

বীর জনতার খুন ঝরিয়ে
স্বাধীন হলো বেশ
জুলাই মানে অকুতোভয়
নতুন বাংলাদেশ॥

 

সূর্য হয়ে
মেছবাহ উদ্দিন মারুফ

মেঘ তাড়ালে সন্ধ্যা হাসে
সন্ধ্যা গেলে রাত-
রাতের শেষে ঘোর কুয়াশা
গিলে খায় প্রভাত!

আঠার মতো লেগে আছে
অমানিশার কালো,
কোনোভাবে পাচ্ছে না দেশ
আলোকের নাগাল।

প্রতিজ্ঞা নাও হবে জাতির
সুখের উছিলা’
সূর্যে হয়ে দেবে তুমি
অন্ধকারকে ঘা।

অস্ত যেতে দিয়ে যাবে
চাঁদকে আলো ধার-
সুখ আনন্দে থাকে যেন
থামে হাহাকার।

বৃষ্টি
মো. হায়দার আলি শান্ত

মেঘেরো কষ্ট আছে
মেঘেরো বেদনা আছে
সে কখনো গাহে
বিরহ বেদনার গান।
সে কখনো গাহে
স্বর্গীয় প্রেমের গান
কষ্ট আর বেদনা
মহাভারী হলে
অনুতাপে বজ্র ঘটায়
কেঁদে অশ্রু ঝরায়।
রিমঝিম বরষা
ঝরে আসে ভুবনে।
অশ্রু ধারা দেখে
আমরা বলি বৃষ্টি
বৃষ্টি বৃষ্টি বৃষ্টি।
কত বেদনাবিধুর
মুষলধারায় ঝরে
মহাক্রন্দন গান।

নামধারী বীর
কুলসুম বিবি

ভুলে গেছে জীবনের আছে কত রং
দুনিয়াটা খেলাঘর সেজে আছে সং
হার রোজ অভিনয় ভুল পথে হেঁটে
সরু গলি খুঁজে যায় চলে পদ চেটে।

মানুষের রূপ ধরে করে বদ কাজ
সমাজের চোখে যেন সেই মহারাজ
লেবাসের আড়ে রাখে যত দৈন্যতা
দম্ভের পদতলে পিষে মানবতা।

বিদ্বেষ পুষে রাখে শোধ নিবে বলে
কত জনে ছাই হয় রোষানলে জ্বলে
হীনকাজ করে তারা উঁচু করে শির
এ যুগে তাদেরকেই বলা হয় বীর।

আষাঢ়ের ফুলের ছোঁয়া
মোহাম্মদ আলীম-আল-রাজী

বৃষ্টিতে নেমেছে আষাঢ় ভোরে,
জেগেছে ফুলেরা আপন ঘোরে।
বেলিফুল হাসে স্নিগ্ধ বাতাসে,
বৃষ্টি তার গায়ে ধীরে ধীরে আসে।
চামেলি দোলে খোলা ডালে,
সুগন্ধি ছড়ায় চারদিকে।
কদমে মেখেছে মেঘের জল,
ঝরেছে ভালোবাসার দল।
নাগেশ্বর কাঁদে সাদা গন্ধে,
বুকজুড়ে রেখেছে স্নেহবন্ধে।
জারুলের ডালে নীল রঙ ঝরে,
আকাশের ছায়া পাতায় পড়ে।
কৃষ্ণচূড়া দূরে থেমে গেছে,
বৃষ্টির গানে মন হেরে বসে।
হিজলও কাঁপে পাতায় পাতায়,
বিষাদের স্বর পাতা ছড়ায়।
মাধবীলতা দেয় প্রেমপত্র,
ভিজে যায় তাতে প্রাণের রত্ন।
রাধাচূড়াও নীরব বসে,
ঝরছে গল্প তার রঙের খোঁজে।
আষাঢ় মানেই ফুলের বর্ষা,
ভিজে যায় মন, প্রাণ দেয় দর্শা।
এই ফুলেরা চুপে কথা কয়,
প্রেমের ভাষায় হৃদয় ভস্ময়।