সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ
২১ আগস্ট ২০২৫ ১৫:১১
অস্ট্রেলিয়ায় বেড়েছে ইসলামফোবিয়া
প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছে যে, ৮৫%-এর বেশি ইসলামফোবিয়া সংক্রান্ত ঘটনা অপ্রকাশিতই থেকে যায়। যে ঘটনাগুলো সরাসরি ভুক্তভোগীর মাধ্যমে রিপোর্ট করা হয়নি, কিন্তু মুসলিমবিরোধী বর্ণবাদের অংশ, যেমনÑ অনলাইনে ঘৃণামূলক মন্তব্য, মুসলিম সংস্থাগুলোয় পাঠানো ইমেইল, শত্রুতাপূর্ণ ফোন কল এবং ‘অমানবিক মিডিয়া ভাষ্য’-এর মতো ঘটনাও বেড়েছে। ভিক্টোরিয়া ইসলামিক কাউন্সিলের (আইসিভি) নতুন প্রতিবেদন অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ায় ইসলামফোবিয়া বৃদ্ধি পেয়েছে। আইসিভি সতর্ক করেছে যে, ভুক্তভোগীর প্রকৃত সংখ্যা সম্ভবত প্রকাশিত রিপোর্টের চেয়ে অনেক বেশি। গত ১৬ আগস্ট শনিবার মেলবোর্নে ইসলামফোবিয়া বিষয়ক তাদের প্রথম সম্মেলনের আয়োজন করে আইসিভি। সেখানে রাজনীতিবিদ, পুলিশ, ধর্মীয় নেতা এবং শিক্ষাবিদরা উপস্থিত ছিলেন। এ সম্মেলনে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছে যে, ৮৫%-এর বেশি ইসলামফোবিয়া সংক্রান্ত ঘটনা অপ্রকাশিতই থেকে যায়। কাউন্সিল ২০২১ সাল থেকে ইসলামফোবিয়ার শিকার হওয়া মানুষের কাছ থেকে ৯৬টি ব্যক্তিগত ঘটনার প্রতিবেদন পেয়েছে। এর মধ্যে ২৬টি প্রতিবেদন এসেছে কেবল চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত, অর্থাৎ মাত্র ছয় মাসে। বেশিরভাগ প্রতিবেদনে মৌখিক হয়রানি বা উপহাসের কথা বলা হয়েছে। এর পরেই রয়েছে কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য। কাউন্সিল আরো জানিয়েছে, যে ঘটনাগুলো সরাসরি ভুক্তভোগীর মাধ্যমে রিপোর্ট করা হয়নি, কিন্তু মুসলিমবিরোধী বর্ণবাদের অংশ, যেমনÑ অনলাইনে ঘৃণামূলক মন্তব্য, মুসলিম সংস্থাগুলোয় পাঠানো ইমেইল, শত্রুতাপূর্ণ ফোন কল এবং ‘অমানবিক মিডিয়া ভাষ্য’-এর মতো ঘটনাও বেড়েছে। জানুয়ারি থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত এমন ৩ হাজার ২৫৪টি ঘটনার কথা তারা জানিয়েছে। কাউন্সিল বলেছে, অনেক মুসলিম ইসলামফোবিয়ার শিকার হওয়ার পরও রিপোর্ট করেন না। কারণ তাদের ভয় থাকে যে, এসব অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে নেয়া হবে না। এছাড়া পুলিশ এবং সরকারি সংস্থাগুলোর প্রতিও তাদের এক ধরনের অবিশ্বাস রয়েছে। আইসিভির মতে, প্রতিবেদন না করার কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে সমস্যার ব্যাপকতা অস্বীকার করা সহজ হয়ে যায়। এর অর্থ হলো অনেক ভুক্তভোগী তাদের প্রাপ্য সমর্থন, স্বীকৃতি বা বিচার পান না। ‘অ্যাকশন অ্যাগেইনস্ট ইসলামফোবিয়া’ নামের একটি উদ্যোগ অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইমামস কাউন্সিল (এএনআইসি) দ্বারা পরিচালিত হবে। এটি ইসলামফোবিয়ার শিকার ব্যক্তিদের জন্য একটি সহায়তা হটলাইন এবং কেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমকে অর্থায়ন করবে, যাতে কর্তৃপক্ষ এবং সম্প্রদায়ের কাছে এ ধরনের আচরণ সম্পর্কে আরো ভালো তথ্য থাকে। এএনআইসির প্রেসিডেন্ট ইমাম শাদি আলসুলেইমান এর আগে গার্ডিয়ান অস্ট্রেলিয়াকে বলেছিলেন যে, মুসলিমবিরোধী ঘৃণা বেড়েছে। যার কারণে অনেকেই দৈনন্দিন ধর্মীয় কাজ, যেমন মসজিদে নামাজ পড়া বা হিজাব পরে বাইরে যেতে উদ্বিগ্ন বোধ করছেন। দ্য গার্ডিয়ান।
ভারতের ইতিহাস থেকে মুসলিম ঐতিহ্য মুছে ফেলার প্রচেষ্টা জোরদার
নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপি-নেতৃত্বাধীন হিন্দুত্ববাদী সরকার ভারতের ইতিহাস থেকে মুসলিম ব্যক্তিত্ব এবং তাদের সাংস্কৃতিক, বৌদ্ধিক এবং সাহিত্যিক অবদান মুছে ফেলতে পদ্ধতিগত প্রচারণা জোরদার করছে। সর্বশেষ পদক্ষেপে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বিখ্যাত দার্শনিক ও কবি আল্লামা মুহাম্মদ ইকবালের কবিতা পাঠ্যক্রম থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আল্লামা ইকবালের ‘সারে জাহা সে আচ্ছা হিন্দুস্তান হামারা’ গানটি উপমহাদেশজুড়ে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে আসছে। এখন সেই মাটিতেই তাকে ‘ভারতবিরোধী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে যেখানে তিনি একসময় এ গানটি উচ্চারণ করেছিলেন। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য যোগেশ সিং দাবি করেছেন, আল্লামা ইকবাল ১৯১০ সালে বিখ্যাত সঙ্গীতটি লিখেছিলেন কিন্তু পরে তার দৃষ্টিভঙ্গি ভারতবিরোধী হয়ে ওঠে। যার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় তার রচনাগুলি পাঠ্যক্রম থেকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিতর্কিত পদক্ষেপটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্ডিপেন্ডেন্স অ্যান্ড পার্টিশন স্টাডিজ সেন্টার আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে ঘোষণা করা হয়। সেন্টারটি ভারত ও পাকিস্তান বিভাগের ইতিহাস এবং পরিণতি নিয়ে আলোচনা করে থাকে। মোদি সরকারের হিন্দুত্ববাদী আদর্শের প্রতিফলন ঘটিয়ে সিং বলেন, যেহেতু সঙ্গীতটি লেখার পরে আল্লামা ইকবালের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তিত হয়ে গেছে, তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমগুলিতে তার রচনাগুলি অন্তর্ভুক্ত করা আর উচিত নয়।
তবে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি রয়ে গেছে: বর্তমান সরকারের বর্ণনার সাথে আদর্শিক পার্থক্যের কারণে কি একজন বিশিষ্ট চিন্তাবিদদের সাহিত্যকর্ম একাডেমিক শিক্ষা থেকে মুছে ফেলা উচিত? এ পদক্ষেপ কি তরুণ প্রজন্মকে মানসিকভাবে বশীভূত করার এবং ইতিহাস সম্পর্কে তাদের ধারণা পুনর্গঠন করার ইচ্ছাকৃত প্রচেষ্টা নয়? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাঠ্যক্রম থেকে আল্লামা ইকবালকে বাদ দেওয়া কেবল একটি প্রতীকী পদক্ষেপ নয়, বরং ভারতের মুসলমানদের বৌদ্ধিক ও সাংস্কৃতিক অবদানকে ধীরে ধীরে মুছে ফেলার একটি বৃহত্তর কৌশলের অংশ। শিক্ষা থেকে এ ধরনের কণ্ঠস্বর মুছে ফেলা কোনো একাডেমিক সিদ্ধান্ত নয় বরং রাজনৈতিকভাবে অনুপ্রাণিত আদর্শিক বর্জনের একটি কাজ। এ পদক্ষেপ কেবল ইকবালের কবিতাকেই লক্ষ করে নেওয়া হয় নাই, বরং ভারতের পরিচয়কে রূপদানকারী একটি বৈচিত্র্যময় চিন্তাভাবনা, একটি জাতি এবং একটি সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ইতিহাসের মূল বিষয়কেও টার্গেট করা হয়েছে। কেএমসি।
ইসরাইল ইচ্ছাকৃতভাবে ফিলিস্তিনিদের অনাহারে রাখছে : অ্যামনেস্টি
আন্তর্জাতিক বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি গত সোমবার (১৮ আগস্ট) অভিযোগ করে বলেছে, ইসরাইল ইচ্ছাকৃতভাবে গাজার ফিলিস্তিনিদের অনাহারে রাখছে। ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় চলমান ইসরাইলি আগ্রাসনে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের চিকিৎসা প্রদানকারী চিকিৎসা কর্মীদের উদ্ধৃতি করে অ্যামনেস্টি এ অভিযোগ জানিয়েছে। জেরুসালেম থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি খবর জানিয়েছে, ইসরাইল গাজা উপত্যকায় সাহায্যের অনুমোদন কঠোরভাবে সীমিত করেছে। গত ২২ মাস ধরে চলা যুদ্ধে ইচ্ছাকৃত গাজাবাসীদের অনাহারে রাখার দাবি বার বার প্রত্যাখ্যান করেছে। এএফপির পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে, ইসরাইলের সামরিক ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অ্যামনেস্টির অনুসন্ধানের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। সংস্থার প্রতিবেদন অনুসারে, ইসরাইল অধিকৃত গাজা উপত্যকায় ইচ্ছাকৃতভাবে অনাহারে রাখার জন্য অভিযান চালাচ্ছে, যা ফিলিস্তিনিদের স্বাস্থ্য, কল্যাণ এবং সামাজিক কাঠামোকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করছে। বাসস।
ভারতে স্বাধীনতা দিবসের নাটকে মুসলিম মেয়েদের সন্ত্রাসী হিসেবে উপস্থাপন
ভারতের গুজরাটের ভাবনগরে দেশটির ঐক্য ও গর্বের দিনটিকে মুসলমানদের জন্য অপমানের দিনে পরিণত করল উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা। গত ১৫ আগস্ট কুম্ভরওয়াড়া স্কুলে দেশটির স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে মঞ্চস্থ একটি নাটকে বোরকা পরা মুসলিম তরুণীদের সন্ত্রাসী হিসেবে চিত্রিত করা হয়। মঞ্চ নাটকের একটি ভিডিও প্রকাশ পাওয়ার পর ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে প্রদর্শিত নাটকটিতে বোরকা পরা মেয়েদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার চিত্র তুলে ধরা হয়। সমালোচকরা এ ঘটনাকে মুসলিমদের অপমানিত ও কোণঠাসা করা এবং দেশপ্রেমের আড়ালে ইসলামভীতি ছড়িয়ে দেওয়ার ইচ্ছাকৃত প্রচেষ্টা বলে নিন্দা জানিয়েছেন। স্থানীয় কর্মী শহীদ খান বলেন, ‘এটি কোনো নাটক নয়, এটি বিষ। স্বাধীনতা দিবসে যখন আমাদের ভ্রাতৃত্ব এবং সাম্যের কথা বলা উচিত তখন তারা মুসলমানদের অপমান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে দেশব্যাপী ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। নাগরিক এবং সম্প্রদায়ের নেতারা বলছেন, নাটকটি প্রকাশ্যে ঘৃণা উৎসাহিত করার ক্রমবর্ধমান পরিবেশকে প্রতিফলিত করেছে। ‘মুসলিম মেয়েদের সন্ত্রাসী হিসেবে সাজিয়ে তোলা কোনো দুর্ঘটনা নয়Ñ এটি সমাজকে বিভক্ত করার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা,’ বলেন ফাতিমা বানো নামে একজন অভিভাবক।
স্কুল প্রশাসন এবং শিক্ষকদের নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে যারা এ ধরনের অনুষ্ঠানের অনুমতি দিয়েছেন। সামাজিক গোষ্ঠীগুলো বলছেন, সম্প্রীতি এবং শিক্ষার জন্য তৈরি শ্রেণিকক্ষগুলোকে ঘৃণার মঞ্চে পরিণত করা হচ্ছে। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক ইকবাল আনসারি সতর্ক করে বলেছেন, ‘পাঠ্যপুস্তকে ইতিমধ্যেই পক্ষপাত দেখানো হচ্ছে এবং এখন স্কুলগুলোয় মুসলিমদের সন্ত্রাসী বলে নাটক মঞ্চস্থ করা হচ্ছে, তখন পরবর্তী প্রজন্ম কী বিশ্বাস করবে?’ গুজরাটের মুসলমানদের জন্য এ ঘটনাটি নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতিকে আরও গভীর করে তোলে। অ্যাক্টিভিস্টরা অভিযোগ করেছেন, কর্তৃপক্ষের নীরবতা এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করে। “রাস্তা থেকে শ্রেণিকক্ষ পর্যন্ত মুসলমানদের সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। দ্বৈত মান কেন? অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত হিন্দুকে ‘অপরাধী’ বলা হয় আর মুসলিম অভিযুক্তকে বলা হয় সন্ত্রাসী,” বলেন আইনজীবী নাসিম আহমেদ। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে, কিন্তু এখনও কোনো পুলিশের পক্ষ থেকে বিবৃতি জারি করা হয়নি। মুসলিম সংগঠনগুলো অভিযোগ দায়ের করার এবং জবাবদিহি দাবি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ছাত্রনেতা আসলাম পাঠান বলেন, ‘এটি গান্ধীর গুজরাট নয়। যে রাষ্ট্র বিশ্বকে শান্তির বার্তা দিয়েছে, তারা এখন মুসলিম মেয়েদের সন্ত্রাসী হিসেবে উপস্থাপন করছে। এটি স্বাধীনতার ধারণারই অপমান।’ মুসলিম মিরর।
অত্যাধুনিক চীনা সাবমেরিন পাকিস্তানের হাতে
সমুদ্রে পাকিস্তানের শক্তি বাড়াতে ঘনিষ্ঠ মিত্র চীন নতুন এক উন্নত সাবমেরিন হস্তান্তর করেছে। আটটি হ্যাংগর-শ্রেণির সাবমেরিনের মধ্যে তৃতীয়টি গত ১৪ আগস্ট বৃহস্পতিবার চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তান নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। চলতি বছরের মার্চেও সাবমেরিন সরবরাহ করেছিল বেইজিং। গত রোববার (১৭ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে ইন্ডিয়া ডট কম। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি পাকিস্তানের জন্য একটি বড় কৌশলগত অর্জন বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ আধুনিক অস্ত্র ও উন্নত সেন্সরযুক্ত এসব সাবমেরিন ভারত মহাসাগরে শক্তির ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে পাকিস্তান নৌবাহিনী আশা করছে। পাকিস্তানের ডেপুটি চিফ অব নেভাল স্টাফ (প্রজেক্ট-২) ভাইস অ্যাডমিরাল আবদুল সামাদ বলেছেন, হ্যাংগর-শ্রেণির সাবমেরিনের অত্যাধুনিক অস্ত্র ও সেন্সর আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য টিকিয়ে রাখতে সহায়ক হবে এবং সামুদ্রিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে। চীনের রাষ্ট্রীয় দৈনিক গ্লোবাল টাইমস জানিয়েছে, এ সাবমেরিনের বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে পানির নিচে যুদ্ধক্ষমতা, সর্বাঙ্গীণ সেন্সর সিস্টেম, উৎকৃষ্ট স্টেলথ প্রযুক্তি, উচ্চ গতিশীলতা, দীর্ঘসময় টিকে থাকার ক্ষমতা এবং ভয়ংকর অগ্নিশক্তি। এসব সাবমেরিনে এয়ার-ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রপালশন (এআইপি) প্রযুক্তি যুক্ত থাকতে পারে। তবে পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেনি। উল্লেখ্য, ভারতের নৌবাহিনীর হাতে এ মুহূর্তে এআইপি প্রযুক্তিসম্পন্ন সাবমেরিন নেই। যদিও দেশটির হাতে দুটি পারমাণবিকচালিত সাবমেরিন রয়েছে। ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) নিজস্ব এআইপি প্রযুক্তি তৈরি করেছে, যা ভবিষ্যতে কালভারি-শ্রেণির সাবমেরিনে স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। চীনের সহায়তায় পাকিস্তান এর আগে চারটি আধুনিক যুদ্ধজাহাজও সংগ্রহ করেছে। এর পাশাপাশি দেশটির নৌবাহিনী শক্তিশালী করতে বেলুচিস্তানের গওয়াদর বন্দর ও ভারত মহাসাগরে বেইজিংয়ের উপস্থিতি দ্রুত বাড়ছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিপ্রি) এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সামরিক সরঞ্জামের ৮১ শতাংশই চীন থেকে সরবরাহ করা হয়েছে। গত কয়েক বছরে পাকিস্তান চীনের কাছ থেকে রিজওয়ান নামের প্রথম স্পাইশিপ, ৬০০-এর বেশি ভিটি-৪ ব্যাটল ট্যাঙ্ক, এবং ৩৬টি জে-১০সিই ৪.৫ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান অর্ডার করেছে। ২০২২ সালে চীন প্রথম জে-১০সিই বহুমুখী যুদ্ধবিমান পাকিস্তানকে সরবরাহ করে। এর আগে দুই দেশ যৌথভাবে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান তৈরি করেছিল, যা ভারতবিরোধী সাম্প্রতিক সংঘাতে পাকিস্তান ব্যবহার করেছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ভারতীয় প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের হাতে চীনা সাবমেরিন সরবরাহ হওয়া ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নয়াদিল্লির জন্য একটি বড় কৌশলগত উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। গ্লোবাল টাইমস।
ছয়টি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার ভিডিও আছে: পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ভারতের অন্তত ছয়টি যুদ্ধবিমান গুলি করে নামিয়েছে পাকিস্তানের সেনা। দীর্ঘদিন ধরেই এ দাবি করে আসছে তারা। এবার সে দেশের মন্ত্রী মহসিন নাকভি জানালেন, ছয়টি যুদ্ধবিমান ধ্বংসের ভিডিও তাদের কাছে আছে। হত ১৭ আগস্ট রোববার লাহোরে একটি সেমিনারে যোগ দিয়েছিলেন নাকভি। গত মে মাসে ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে যে সেনা সংঘাত হয়েছিল, সেমিনারে সেই প্রসঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী। ভারতের পরিকল্পনা সম্বন্ধে তারা আগে থেকেই অবগত ছিলেন জানিয়ে নাকভির বলেন, ‘আমাদের গোয়েন্দারা খুব ভালো কাজ করেছেন। তাদের প্রশংসা করা উচিত। ভারত কীভাবে কী করতে পারে, আগে থেকেই আমরা তা জানতে পেরেছিলাম।’ এরপর তিনি বলেন, ‘রেডার তথ্য থেকে আমরা নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলাম যে, ভারতের যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে। কিন্তু পাকিস্তান সেটা প্রথমেই ঘোষণা করে দেয়নি। স্পষ্ট প্রমাণের জন্য অপেক্ষা করা হয়েছিল। ছয়টি বিমান ধ্বংস হওয়ার ভিডিও ফুটেজ আমরা হাতে পেয়েছি। বিমানগুলিকে গুলি করে নামানো হয়েছিল।’ উল্লেখ্য, পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতে যে ভারতের যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে, তা মেনে নিয়েছিলেন ভারতের সেনা সর্বাধিনায়ক জেনারেল অনিল চৌহানই। তবে কতগুলো বিমান, সেই সংখ্যা তিনি স্পষ্ট করেননি। ডন।
নতুন হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন প্রদর্শন চীনের
সপ্তাহান্তে রাজধানী বেইজিংয়ে আয়োজিত মহড়ায় বেশকিছু নতুন ও অত্যাধুনিক অস্ত্র প্রদর্শন করেছে চীন। এর মধ্যে মধ্যে ছিল হাইপারসনিক জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং ভূমিতে বহণযোগ্য একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। অনলাইনে প্রচারিত ছবি এবং ভিডিওগুলোয় পিপলস লিবারেশন আর্মির কিছু সর্বশেষ অস্ত্র প্রকাশ পেয়েছে, যা আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য সামরিক কুচকাওয়াজের দ্বিতীয় মহড়ার সময় বাসিন্দারা দেখেছিলেন। ছবি এবং ফুটেজে দেখা যায়, পানির নিচে ব্যবহারযোগ্য ড্রোন, একটি বিশাল লেজার অস্ত্র, ড্রোনের একটি বহর এবং সয়ংক্রিয় স্থল যানবাহন। পাশাপাশি পরবর্তী প্রজন্মের ট্যাঙ্ক এবং সাঁজোয়া যানও দেখানো হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির ৮০তম বার্ষিকী উদযাপনের জন্য আগামী ৩ সেপ্টেম্বর চীনের রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সামরিক কুচকাওয়াজের প্রস্তুতি পুরোদমে চলছে।
শনিবার সন্ধ্যা থেকে রবিবার ভোর পর্যন্ত তিয়ানানমেন স্কয়ারের কাছে অনুষ্ঠিত এ মহড়ায় প্রায় ৪০,০০০ কর্মী অংশগ্রহণ করেছিলেন- বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজের সময় প্রদর্শিত হবে এমন বেশিরভাগ সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। এটি আগের সপ্তাহান্তে একটি ছোট মহড়ার পরে করা হয়েছিল। ছবিতে দেখা অস্ত্রগুলোর মধ্যে ওয়াইজে সিরিজের নতুন জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রও ছিল। তারা ওয়াইজে-১৫ ক্ষেপণাস্ত্র এবং হাইপারসনিক বলে মনে হওয়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র দেখিয়েছে: ওয়াইজে-১৭, ওয়াইজে-১৯ এবং ওয়াইজে-২০। ওয়াইজে-১৭-তে একটি স্বতন্ত্র হাইপারসনিক গ্লাইড যান রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে যা ডিএফ-১৭-এর মতো, যা চীনের প্রথম এইচজিভি ক্ষেপণাস্ত্র। ইতোমধ্যে ওয়াইজে-১৯-তে দৃশ্যমান একটি এয়ার ইনলেট এবং রাশিয়ান জিরকন হাইপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সাথে এর মিল ইঙ্গিত দেয় যে এটি একটি এয়ার-ব্রেথিং স্ক্র্যামজেট দ্বারা চালিত একটি এইচসিভি ক্ষেপণাস্ত্রও। এবং এইচজিভি-২০-এর বাইকোনিক অ্যারোডাইনামিক কনফিগারেশন এটিকে একটি ম্যানুভারেবল রি-এন্ট্রি যান হিসাবে নির্দেশ করে। এসসিএমপি।
পানি সংকটের ভুক্তভোগী আফগান নারীরা
আফগানিস্তানে পানির অভাব একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হিসেবে দানা বেঁধেছে। বিশেষত নারীরা এ সংকটের সবচেয়ে বেশি শিকার হচ্ছেন। প্রত্যন্ত গ্রামগুলোয় তারা প্রতিদিন বহু দূর গিয়ে পানি সংগ্রহ করেন, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনকে আরও কঠিন করে তোলে। এ সমস্যা আরও গভীর হয়েছে তালেবান শাসনের পর। আফগান নারীদের চলাচল, শিক্ষা ও কাজের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ফলে পানি সংগ্রহসহ গৃহস্থালির কাজের দায়িত্ব নেয়ার প্রক্রিয়া আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সতর্ক করে জানিয়েছে, আফগানরা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে পানি সংকটে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ বিষয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, মধ্য বামিয়ান প্রদেশের কাভরিয়া অঞ্চলের গ্রামের নারীরা গাধার সঙ্গে হলুদ প্লাস্টিকের জেরি ক্যান বেঁধে প্রতিদিন ধুলোময় গিরিখাতে পানি আনেন। প্রায় ৩০ জনের বসবাসের জন্য পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা নেই এবং স্বাস্থ্যকর টয়লেটও নেই। ২৬ বছর বয়সী মাসুমা দারওয়েশি বলেন, ‘প্রতিদিন পরিষ্কার করার বা গোসল করার জন্য পর্যাপ্ত পানি নেই। আমাদের স্বাস্থ্যকর টয়লেটও নেই।’
দারওয়েশিরে অবস্থিত একটি গ্রামের স্কুল শিক্ষিকা শুকরিয়া আত্তায়ে জানিয়েছেন, রান্না করা, থালা-বাসন পরিষ্কার করা, পানি আনা, কাপড় ধোয়া, বাচ্চাদের যত্ন নেওয়া এবং গোসল করানো সবই নারীদের দায়িত্ব। আফগান পরিবারগুলোয় নারীরাই শিশু, অসুস্থ ও বয়স্কদের দেখাশোনা করে, পরিবারের জন্য পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজও করে থাকেন। এ পরিস্থিতি দেখিয়ে দিচ্ছে যে, আফগান নারীরা শুধু পরিবার নয়, পুরো সমাজকে সচল রাখার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন, কিন্তু প্রাকৃতিক সংকট এবং সামাজিক বিধিনিষেধ তাদের জীবনকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে।
নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করল মিয়ানমারের সামরিক জান্তা
মিয়ানমার আবারও বড় এক রাজনৈতিক মোড়ের মুখে দাঁড়িয়ে। দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ, সেনা দমন-পীড়ন এবং গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনের মাঝেই দেশটির জান্তা সরকার জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে। তবে এ নির্বাচনের আয়োজনকে আন্তর্জাতিক মহল ‘প্রহসন’ বলে আখ্যা দিয়েছে। জনগণ ও বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে। জরুরি অবস্থা প্রত্যাহারের মাত্র ১৭ দিন পরেই মিয়ানমারে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে সেনাশাসিত জান্তা সরকার। দেশটির ইউনিয়ন ইলেকশন কমিশনের বিবৃতি অনুযায়ী, প্রথম ধাপের ভোট শুরু হবে আগামী ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে। তবে দ্বিতীয় ধাপের তারিখ পরে জানানো হবে। জান্তার দাবি, এ নির্বাচন চলমান সংঘাত নিরসন ও স্থিতিশীলতার পথ খুলে দিতে পারে। এ কারণে তারা অস্ত্র সমর্পণকারী বিদ্রোহীদের নগদ পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, নির্বাচনের প্রথম ধাপ শুরু হবে ২৮ ডিসেম্বর থেকে। যদিও দেশজুড়ে তীব্র গৃহযুদ্ধ চলছে এবং সেনাদের নিয়ন্ত্রণ এখনো অনেক জায়গায় দুর্বল। বিশেষ করে গণতন্ত্রপন্থী গেরিলা গোষ্ঠী ও বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র সংগঠন এখনো দেশের বহু এলাকা নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে এসব অঞ্চলে ভোট ঠেকানো হবে।
২০২১ সালে সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত নেত্রী অং সান সু চির সরকারকে উৎখাত করে জান্তা ক্ষমতায় আসে। এরপর থেকেই মিয়ানমার অবিরাম সংঘাতে নিমজ্জিত। এ পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং প্রায় ৩৫ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। নির্বাচন ঘিরে জনগণের আশঙ্কা, এটি গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার বদলে জান্তার শাসনকে নতুন করে বৈধতা দেওয়ার হাতিয়ার হয়ে দাঁড়াতে পারে। এদিকে বড় রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি)-এর নেত্রী অং সান সু চি এখনো কারাগারে আছেন। অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত বহু সংসদ সদস্য নির্বাচনে অংশ না নিয়ে সরাসরি বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন। জাতিসংঘের এক বিশেষজ্ঞও নির্বাচনী আয়োজনকে ‘প্রতারণা’ বলে উল্লেখ করে বলেছেন, এর মাধ্যমে মূলত সামরিক শাসনকে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
আবারও আল-আকসায় ইহুদিদের জোরপূর্বক প্রবেশ
পবিত্র আল-আকসা মসজিদ মুসলিম বিশ্বের তৃতীয় সর্বাধিক সম্মানিত স্থান। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই এ স্থানটি বর্বর ইসরাইলি দখলদারিত্ব ও আগ্রাসনের কারণে বারবার আঘাতের মুখে পড়ছে। আবারও অবৈধ ইসরাইলি বসতকারীরা দখলীকৃত পূর্ব জেরুসালেমে অবস্থিত এ মসজিদ কমপ্লেক্সে প্রবেশ করে ধর্মীয় উসকানিমূলক আচরণ করেছে। গত সোমবার (১৮ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু। সোমবার সকালে স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, একদল অবৈধ ইসরাইলি বসতকারী আল-আকসা মসজিদে প্রবেশ করে। তারা সেখানে ‘তালমুদিক রীতিনীতি’ পালন করে। পুরো ঘটনার সময় তাদের সুরক্ষা দেয় ইসরাইলি সেনারা। কেন এমন ঘটনা ঘটছে এর পেছনে আছে দীর্ঘদিনের দাবি ও দখলদারিত্ব। ইহুদি সম্প্রদায় ঐতিহাসিকভাবে এই স্থানকে ‘টেম্পল মাউন্ট’ বলে মনে করে এবং দাবি করে যে প্রাচীন কালে এখানে দুটি ইহুদি মন্দির ছিল। ফলে মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই স্থানটি প্রায়ই ইসরাইলি বসতকারীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।
ফিলিস্তিনি সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফার তথ্যানুযায়ী, সোমবার সকালে ডজনের বেশি অবৈধ বসতকারী আল-আকসা প্রাঙ্গণে ঢুকে পড়ে। তারা সেখানে ধর্মীয় আচার সম্পাদন করে, যাকে স্থানীয় সূত্রে ‘তালমুদিক রীতি’ বলা হয়েছে। পুরো সময় জুড়ে ইসরাইলি সেনারা তাদের ঘিরে রাখে এবং সুরক্ষা দেয়। আল-আকসা মসজিদ মুসলিমদের জন্য মক্কা ও মদিনার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পবিত্র স্থান। কিন্তু ইহুদি বসতকারীরা এটিকে নিজেদের ঐতিহাসিক দাবি প্রতিষ্ঠার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছে। আল-আকসা যেখানে অবস্থিত, সেই পূর্ব জেরুসালেম ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় ইসরায়েল দখল করে নেয়। পরবর্তীতে ১৯৮০ সালে তারা পুরো জেরুসালেমকে নিজেদের সঙ্গে একীভূত করার ঘোষণা দেয়। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনো পর্যন্ত এই দখল ও সংযুক্তিকরণকে স্বীকৃতি দেয়নি। আনাদোলু এজেন্সি।
ভারতের বিহারে শুরু হলো রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে ‘ভোটার অধিকার যাত্রা’
ভারতের বিহার রাজ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি শুরু করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি ১,৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘ভোটার অধিকার যাত্রা’-র মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকা ভ্রমণ করবেন। এ যাত্রার লক্ষ্য হলো ভোটারের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং বিরোধী জোট ইন্ডিয়া ব্লকের দাবি অনুযায়ী ‘ভোট চুরি’ প্রতিরোধে জনমত গঠন করা। গত ১৭ আগস্ট রোববার সাসারাম থেকে যাত্রা শুরু হয়। এটি ১৬ দিনের কর্মসূচি এবং আগামী ১ সেপ্টেম্বর পাটনায় এক বিশাল জনসভা দিয়ে শেষ হবে। রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কংগ্রেসের প্রধান মল্লিকার্জুন খাড়গে, রাষ্ট্রীয় জনতা দলের নেতা লালু প্রসাদ যাদব ও তেজস্বী যাদবও উপস্থিত থাকবেন। এ যাত্রা বিহারের ২০টিরও বেশি জেলায় পৌঁছে ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধি করবে। সমাবেশে রাহুল গান্ধী বলেন, এটি আমাদের সংবিধান রক্ষার লড়াই। তিনি নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করে অভিযোগ করেন, বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) মাধ্যমে ভোটার তালিকা পরিবর্তন করে বিহারে ‘ভোট চুরি’ করার ষড়যন্ত্র চলছে।
তিনি আরও বলেন, সারা দেশে বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে ভোটারদের অধিকার হরণ করা হচ্ছে। রাহুল দাবি করেন, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ভোটের ক্ষমতা রক্ষা করা তাদের মূল উদ্দেশ্য। রাহুল গান্ধী আরও উল্লেখ করেছেন, মহারাষ্ট্রের জরিপ ও নির্বাচনের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে, যেখানে নতুন ভোটার যুক্ত করা হয়েছে, সেখানে বিজেপি জয়লাভ করেছে। তাই বিহারে এ ধরনের পরিবর্তন রোধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইতোমধ্যেই রাহুল ও তার জোট অংশীদাররা ভোটার তালিকা সংশোধনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবাদ করছেন। চলতি বছরের শেষ দিকে বিহারে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। রাহুলের ‘ভোটার অধিকার যাত্রা’ এ নির্বাচনের আগে জনগণকে সচেতন করার এবং ভোটাধিকার সংরক্ষণের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এনডিটিভি।
সার্বিয়ায় সরকারবিরোধী আন্দোলন তীব্র রূপ নিয়েছে
ইউরোপের দেশ সার্বিয়ায় টানা কয়েক মাস ধরে চলা সরকারবিরোধী আন্দোলন এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সরকারবিরোধী কণ্ঠ রোধ করতে পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করছে। এর জেরে ক্ষোভ আরও ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। গত শনিবার (১৬ আগস্ট) রাজধানী বেলগ্রেডে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারগ্যাস ব্যবহার করে। একইসঙ্গে ভ্যালিয়েভো শহরে ক্ষমতাসীন দল সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি (এসএনএস)-এর কার্যালয়ে হামলা চালায় বিক্ষোভকারীরা। তারা কার্যালয়ে পাথর ছোড়ে, জানালা ভাঙচুর করে এবং বাজি ও ফ্লেয়ার নিক্ষেপ করে। বেশ কয়েক মাস ধরে আন্দোলন চললেও সম্প্রতি পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ আন্দোলনকে সহিংস করে তুলেছে। এতদিন এ আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ছিল, কিন্তু গত ১৩ আগস্ট বুধবার রাতে সংঘর্ষে রূপ নিলে অন্তত ২৭ জন পুলিশ সদস্য ও প্রায় ৮০ জন সাধারণ নাগরিক আহত হন। এ ঘটনায় অন্তত ৪৭ জনকে আটক করে পুলিশ। এর পর থেকেই আন্দোলনের তীব্রতা দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। সরকারবিরোধী এ বিক্ষোভ এখন শুধু রাজধানী নয়, বিভিন্ন শহরেও ছড়িয়ে পড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী, তবে এতে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান।