পেঁয়াজের দাম কমলেও চাল-ডাল ডিম ও সবজির মূল্যবৃদ্ধি
২১ আগস্ট ২০২৫ ১৪:৫৫
স্টাফ রিপোর্টার: দেশের বাজারে হঠাৎ বেড়ে যাওয়া নিত্যপ্রয়োজনীয় পেঁয়াজের মূল্য কমতে শুরু করেছে। ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির খবরে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে যাওয়া পেঁয়াজের মূল্য দুই দিনের ব্যবধানে কেজিতে কমেছে ১৫ টাকা। কয়েকদিনের মধ্যে আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে মাত্র দেড়শ’ টাকার কাঁচামরিচের মূল্য বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। সবজির দাম বৃদ্ধির পর আর কমার খবর নেই। মাছ-গোশতের সঙ্গে ডিমের মূল্যও বেশি। তবে আলুর মূল্য আগের মতোই রয়েছে। ঢাকার বাজারে খবর নিয়ে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
ঢাকার বাজারগুলোয় কচুরলতি, বরবটি, ঝিঙা, ধন্দুল, কাঁকরোলের মতো সবজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঢ্যাঁড়শ ৯০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, পটোল ৮০ টাকা, গোল বেগুন ১৪০ টাকা আর লম্বা বেগুন ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মিষ্টি কুমড়া কেজিপ্রতি ৬০ টাকা, যা ছিল মাত্র ২০ থেকে ২৫ টাকা, কচু ৬০ টাকা, শসা ৭০ টাকা, লাউ ৭০ টাকা, কাঁচাকলা প্রতি হালি ৪০ টাকা। টমেটোর দাম সর্বোচ্চ, কেজিপ্রতি ১৬০ টাকা। গাজর বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। কাঁচামরিচের দামও চড়া, কেজিপ্রতি ৩০০ টাকা। একমাত্র কাঁচা পেঁপেতেই কিছুটা স্বস্তি, কেজিপ্রতি ৩০ টাকা। কিছু সবজির মূল্য এর চেয়েও বেশি। এভাবে যদি সবজির দাম এত বেশি থাকে, তাহলে কীভাবে সংসার চলবে- এমন প্রশ্ন ভোক্তাদের।
দোকানে প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা হালি, ১৫০ টাকা ডজন। কোথাও এক ডজন নিলে ৫ টাকা কমে ১৪৫ টাকা রাখা হচ্ছে। দুই সপ্তাহ আগেও ডিমের দাম ১২০ টাকা ডজন ছিল, যা এখন ৩০ টাকা বেড়েছে। তারপরও ডিমের সরবরাহ ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে না।
বাজারে মসলার মূল্যও বেড়েছে। প্রতি ১০০ গ্রামে এলাচ আগে ৪০০ টাকা বিক্রি হলেও এখন সেটি ৫৪০ থেকে ৬০০ টাকায় উঠেছে। পাশাপাশি প্রতি কেজি আদার দাম ১৮০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২২০-২৫০ টাকা হয়েছে। অন্যদিকে চালের চড়া দামে নিম্নমুখী কোনো প্রবণতাই লক্ষ করা যাচ্ছে না। মাস দেড়েক ধরে উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে চাল। মোটা চালের দামই এখন ৬০ টাকার বেশি। মাঝারি মানের কিছু মিনিকেট ও নাজিরশাইল রয়েছে, যেটা শুধু ৬৫-৭০ টাকায় পাওয়া যায়। এছাড়া বাকি সব চাল সাধারণত ৭৫-৮৫ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। আর খুব ভালোমানের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের চালের দাম ৯০ থেকে ১০০ টাকা ছুঁইছুঁই করছে।
এত অস্বস্তির মধ্যেও সুখবর দিচ্ছে পেঁয়াজ। পেঁয়াজের বাজার কিছুদিন (দুই সপ্তাহ) ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর কমতে শুরু করেছে। ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির খবরে দুদিনের ব্যবধানে দিনাজপুরের হিলিতে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে কমেছে ১৫ থেকে ২০ টাকা। হিলি বাজারের খবর নিয়ে জানা গেছে, ১৫ আগস্টও প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৭৫ থেকে ৮০ টাকায়। গত ১৭ আগস্ট রোববার থেকে তা কমে বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়। এমন দাম কমায় খুশি সাধারণ ক্রেতারা। ক্রেতাদের ভাষ্য, দিন দিন সবকিছুর দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। এর মধ্যে হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির পর এখন আবার কমতে শুরু করায় ভালো লাগছে।
যথাযথ তদারকির অভাবেই বাজারে বিশৃঙ্খলা চলছে বলে মনে করে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। সংস্থাটির সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন গণমাধ্যমকে বলেন, কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। অথচ খুচরা পর্যায়ে দ্বিগুণ দাম আদায় হচ্ছে। এটা ন্যায্য ব্যবসা নয়, ডাকাতির মতো অবস্থা। ভ্যান থেকে শুরু করে করপোরেট সর্বস্তরেই বেশি দাম নেওয়া এখন সামাজিক সংক্রমণে পরিণত হয়েছে। এসব ঠেকাতে কঠোর কোনো উদ্যোগ নেই।