সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ
১৪ আগস্ট ২০২৫ ১৫:০১
সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি মামলায় আন্তর্জাতিক আদালতের রায় ভারতের বিরুদ্ধে
সিন্ধু নদী সংক্রান্ত পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান বিরোধে আন্তর্জাতিক সালিশ আদালত (পার্মানেন্ট কোর্ট অব আরবিট্রেশন, পিসিএ) ভারতের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে। গত ৮ আগস্ট শুক্রবার হেগ শহরে অবস্থিত এ আদালত নির্দেশ দেয় যে, ভারতকে সিন্ধু নদের পানিবণ্টন চুক্তির শর্ত মেনে পানিপ্রবাহ বাধামুক্ত রাখতে হবে এবং চুক্তি লঙ্ঘন করে কোনো বাঁধ বা জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের অনুমতি নেই। পাকিস্তান এ রায়কে স্বাগত জানিয়েছে। গত ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পেহেলগামে এক জঙ্গি হামলায় ২৫ ভারতীয় এবং একজন নেপালি নিহত হন। এর প্রতিবাদে ভারত সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি স্থগিত করে। এর ফলে পাকিস্তানের সিন্ধু, চেনাব এবং ঝিলাম নদীগুলোর পানি প্রবাহ অনেকাংশে কমে যায়, যা দেশটির কৃষিক্ষেত্রে বড় ধাক্কা দেয়। স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার না করলে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করে এবং ৮ আগস্ট সেই মামলায় ভারতের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা হয়। আদালত বলেছে, চুক্তির মূল শর্তানুসারে সিন্ধু অববাহিকার পশ্চিমাঞ্চলীয় তিন নদী সিন্ধু, চেনাব এবং ঝিলাম যেখানে পাকিস্তানের ভূখণ্ডে প্রবাহিত, সেগুলোতে পানিপ্রবাহ বাধামুক্ত রাখতে হবে। এছাড়া ভারত যদি নদীতে বাঁধ বা কোনো জলবিদ্যুৎ প্রকল্প করতে চায়, তবে অবশ্যই চুক্তির শর্ত মেনে কাজ করতে হবে। আদালতের এ রায়ের পর পাকিস্তান সরকার সেটিকে স্বাগত জানিয়েছে, যেখানে তারা বলেছে, আন্তর্জাতিক সালিশ আদালত ভারতকে সিন্ধু নদীর পানি অবাধে প্রবাহিত করতে নির্দেশ দিয়েছে এবং বাঁধ নির্মাণের ক্ষেত্রে চুক্তির শর্ত মেনে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছে।
সিন্ধু পানি চুক্তি ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় ভারতের উজান থেকে পাকিস্তানের সিন্ধু অববাহিকায় প্রবাহিত নদীগুলোর পানিবণ্টনের জন্য স্বাক্ষরিত হয়। এর মাধ্যমে ভারত পূর্বাঞ্চলীয় তিন নদী (ইরাবতী, বিপাশা, শতদ্রু) এবং পাকিস্তান পশ্চিমাঞ্চলীয় তিন নদী (সিন্ধু, ঝিলাম, চেনাব) থেকে পানির ব্যবহার ও বণ্টনের নিয়ম নির্ধারণ করে। চুক্তিতে একতরফাভাবে স্থগিতাদেশ বা বাতিল করার সুযোগ নেই, বরং বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সুস্পষ্ট ব্যবস্থা রয়েছে। বর্তমানে সিন্ধু, ঝিলাম এবং চেনাব নদীগুলোর পানি পাকিস্তানের কৃষি ও শহুরে সেচ ব্যবস্থার জন্য অপরিহার্য। এ নদীগুলোর পানি ছাড়া পাকিস্তানের সেচ ব্যবস্থা কার্যকর রাখা প্রায় অসম্ভব। এ রায়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আদালত ভারতকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, সিন্ধু পানি চুক্তির প্রতি সম্মান দেখাতে হবে এবং একতরফাভাবে স্থগিতাদেশ আরোপ করা যাবে না। এটি দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান পানিবণ্টন বিরোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, এ রায় দুই দেশের মধ্যে পানির বিষয়ক সম্পর্কের উত্তেজনা কমাতে সহায়তা করবে। আনাদোলু এজেন্সি, দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।
‘ভোট চোর, গদি চোর’ স্লোগানে উত্তাল দিল্লি!
ভোটে কারচুপির অভিযোগে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের অভিমুখে বিরোধীদলীয় প্রায় ৩০০ এমপির বিক্ষোভ মিছিল ঘিরে নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গত ১১ আগস্ট সোমবার সকালের দিকে দেশটির বিরোধী দল কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা রাহুল গান্ধী নেতৃত্বাধীন এ বিক্ষোভ মিছিলে বাধা দিয়েছে পুলিশ। পরে রাহুল গান্ধী ও তার বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কয়েকজন বিরোধীদলীয় এমপিকে গ্রেপ্তার করেছে দিল্লি পুলিশ। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্তত দুজন এমপি চেতনা হারিয়ে পড়ে যান। পরে রাহুল গান্ধীসহ অন্যান্য এমপিরা তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসেন এবং গাড়িতে তুলে হাসপাতালের উদ্দেশে পাঠিয়ে দেন। দেশটির সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিল্লিতে সংসদ ভবন এলাকা থেকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন অভিমুখী বিক্ষোভ মিছিল মাঝপথে থামিয়ে দেয় পুলিশ। এ সময় বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বিরোধীদলীয় এমপি ও এসপি প্রধান অখিলেশ যাদবসহ কয়েকজন পুলিশের ব্যারিকেড টপকে সামনে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সরকারের বিরুদ্ধে ‘ভোট চোর, গদি চোরসহ’ বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি ও অবস্থান ধর্মঘটের মাঝেই তৃণমূল কংগ্রেসের দুই এমপি মহুয়া মৈত্র ও মিতালি বাগ অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এমপিরা পানি ও প্রাথমিক চিকিৎসার মাধ্যমে তাদের সুস্থ করার চেষ্টা করেন। পরে মিতালি বাগকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। দিল্লিতে এ বিক্ষোভে অংশ নেওয়া লোকসভার বিরোধীদলের নেতা রাহুল গান্ধী ও তার বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কয়েকজন এমপিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ও দলটির অন্যতম নেতা জয়রাম রমেশসহ আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইন্ডিয়া টুডে বলেছে, মিছিলটি সংসদ ভবনের কাছ থেকে শুরু হয়ে নির্বাচন কমিশনের সদরদপ্তর ‘নির্বাচন সদন’র দিকে যাচ্ছিল। এ সময় বিক্ষোভকারীদের হাতে ‘এসআইআর: গণতান্ত্রিক অধিকার চুরি’ এবং ‘ভোট চুরি’ লেখা পোস্টার দেখা যায়। তারা সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। মাঝপথে থামিয়ে দেওয়া হলে এমপিরা রাস্তায় বসে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেন। গ্রেপ্তারের পর রাহুল গান্ধী বলেন, এ লড়াই রাজনৈতিক নয়, সংবিধান রক্ষার জন্য। তিনি বলেন, সত্য পুরো দেশের সামনে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, জনগণের ভোটাধিকারের সুরক্ষার জন্য গণতান্ত্রিক অধিকার চুরির বিরুদ্ধে এ লড়াই চলবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিজেপির কাপুরুষোচিত একনায়কতন্ত্র আর চলবে না! ইন্ডিয়া টুডে।
জাতিসংঘের তিন-চতুর্থাংশ সদস্য ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের পক্ষে
জাতিসংঘের তিন-চতুর্থাংশ সদস্য রাষ্ট্র ইতোমধ্যে ফিলিস্তিনিকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার পরিকল্পনা করেছে। গত ১১ আগস্ট সোমবার অস্ট্রেলিয়া প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে, সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে স্বীকৃতি দেয়া হবে। প্যারিস থেকে এএফপি এ খবর জানায়। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলের ওপর ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের আক্রমণের পর থেকে গাজায় ইসরাইল-হামাস যুদ্ধ শুরু হয়। এর মাধ্যমে ফিলিস্তিনিরা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্রের দাবি বিশ্বব্যাপী চাপ পুনরুজ্জীবিত করেছে। এ পদক্ষেপ দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত একটি দৃষ্টিভঙ্গি ভেঙে দিয়েছে যে ফিলিস্তিনিরা কেবল ইসরাইলের সাথে আলোচনার মাধ্যমেই একটি রাষ্ট্রের মর্যাদা পেতে পারে। এএফপির এক হিসাব অনুসারে, জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্যের মধ্যে ফ্রান্স, কানাডা এবং ব্রিটেনসহ কমপক্ষে ১৪৫টি সদস্য দেশ এখন একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে বা স্বীকৃতি দেয়ার পরিকল্পনা করছে। হামাসের ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরে হামলার পর গাজায় ইসরাইলের অবিরাম হামলা ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের প্রতি সমর্থন বাড়িয়েছে। চারটি ক্যারিবিয়ান দেশ (জ্যামাইকা, ত্রিনিদাদ ও টোব্যাগো, বার্বাডোস এবং বাহামা) এবং আর্মেনিয়া ২০২৪ সালে এ ব্যাপারে কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। তিনটি ইইউ সদস্য রাষ্ট্রসহ চারটি (নরওয়ে, স্পেন, আয়ারল্যান্ড এবং স্লোভেনিয়া) ইউরোপীয় দেশও কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেয়।
সুইডেন ২০১৪ সালে কূটনৈতিক পদক্ষেপের পর ১০ বছরের মধ্যে এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রথম পদক্ষেপ, যার ফলে ইসরাইলের সাথে সম্পর্কের টানাপড়েন দেখা দেয়। পোল্যান্ড, বুলগেরিয়া এবং রোমানিয়ার মতো অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্র ইইউতে যোগদানের অনেক আগে থেকেই ১৯৮৮ সালে এ পদক্ষেপ নেয়। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ সোমবার বলেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের আগামী অধিবেশনে ফিলিস্তিনি জনগণের নিজস্ব রাষ্ট্রের অধিকারকে স্বীকৃতি দেবে।’ গত মাসে ফ্রান্স বলেছিল, তারা সেপ্টেম্বরে একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতে চায়। অন্যদিকে ব্রিটেন বলেছে, ইসরাইল গাজায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়াসহ ‘বস্তুগত পদক্ষেপ’ না নিলে তারাও একই কাজ করবে। কানাডাও সেপ্টেম্বরে একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়ার পরিকল্পনা করছে। কানাডা সেপ্টেম্বরে একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়ার পরিকল্পনা করছে। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, এটি একটি নাটকীয় নীতিগত পরিবর্তন যা ইসরাইল তাৎক্ষণিক প্রত্যাখ্যান করেছে। আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি প্রকাশ করতে পারে এমন অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে, মাল্টা, ফিনল্যান্ড ও পর্তুগালও এ সম্ভাবনা উত্থাপন করেছে। এএফপি।
মিয়ানমারের বন্দিশিবিরগুলোয় নির্যাতনের প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ
জাতিসংঘ সমর্থিত একটি স্বাধীন তদন্ত দল মিয়ানমারের বিভিন্ন বন্দিশিবিরগুলোয় গত এক বছরে সুনিয়ন্ত্রিত নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার ব্যাপক প্রমাণ পেয়েছে। নির্যাতনের ধরনগুলোর মধ্যে রয়েছে বৈদ্যুতিক শক, গলাকাটা, গণধর্ষণ ও যৌনাঙ্গ দাহসহ নানা অবর্ণনীয় বর্বরতা। গত মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক এ স্বাধীন তদন্ত দলটির সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানান দলের প্রধান নিকোলাস কোউমজিয়ান। প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মিয়ানমার ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকার থেকে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে গৃহযুদ্ধের কবলে পড়েছে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের ওপর নির্মম নিগ্রহের পর সামরিক শাসনের বিরোধীরা অস্ত্র হাতে নিয়েছেন এবং বর্তমানে দেশটির বৃহৎ অংশে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত দল নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের শনাক্তকরণে বেশ অগ্রগতি করেছে। এসব নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বন্দী ক্যাম্পগুলো অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার যোদ্ধা ও নিরীহ বেসামরিকদের নির্বিচারে হত্যা করেছে। এসব হত্যাকাণ্ডে সামরিক বাহিনী, সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং বিরোধী সংগঠনের সদস্যরা জড়িত।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের আটক কেন্দ্রগুলোয় লাঠি দিয়ে মারধর, চালানো, বৈদ্যুতিক শক দেয়া, গলাকাটা, গণধর্ষণ, যৌনাঙ্গ দাহসহ অন্যান্য যৌন সহিংসতার ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। নিকোলাস কোউমজিয়ান বলেন, ‘আমাদের প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, মিয়ানমারে বর্বরতার মাত্রা ও ঘনত্ব বাড়ছে। আমরা প্রত্যাশা করি শিগগিরই এ অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। আমরা চোখ দেখা ও অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করেছি, যা মিয়ানমারের বন্দী ক্যাম্পগুলোয় নির্যাতনের প্রমাণে যথেষ্ট।’ তদন্ত দল দেশটির রাখাইন রাজ্যের সংঘর্ষ ও নির্যাতনের বিষয়ে নতুন অনুসন্ধান শুরু করেছে, যেখানে বর্তমানে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও বিরোধী আরাকান আর্মির মধ্যে লড়াই চলছে। ২০১৭ সালে প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল। গত বছর রাখাইনের সংঘর্ষ বৃদ্ধির কারণে আরো প্রায় ৭০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। ২০১৮ সালে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের অধীনে প্রতিষ্ঠিত ‘মিয়ানমার স্বাধীন অনুসন্ধান যন্ত্র’ মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করে আসছে। এই দল আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ও জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গা সংক্রান্ত মামলার প্রমাণাদি সরবরাহ করেছে। আল জাজিরা।
ওয়াশিংটন ডিসিতে ‘জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে ‘অপরাধ দমনে জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর ফলে এখন সরাসরি ওয়াশিংটনের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব নিতে পারবে বিচার বিভাগ। শহরটিতে ন্যাশনাল গার্ডও মোতায়েন করা হবে বলে ঘোষণা করেছেন তিনি। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেন্টাগন জানিয়েছে, এরই মধ্যে ৮০০ সেনা প্রস্তুত করে রেখেছে তারা, যাদের মধ্যে ১০০ থেকে ২০০ জন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সাহায্য করবে। ট্রাম্পের এমন ঘোষণায় ব্যাপক ক্ষুব্ধ রাজধানীর বাসিন্দারা। হোয়াইট হাউসের কাছে জড়ো হয়ে ট্রাম্পকে দুয়োধ্বনি দেন বিক্ষোভকারীরা। কেয়া চ্যাটার্জি নামে ফ্রি ডিসি নামের এক সংগঠনের পরিচালক বলেন, ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্ত শুধু বাসিন্দাদের অধিকারের ওপর আঘাত নয়, বরং এটি একটি বড় ধরনের বাড়াবাড়ি। তার মতে, এটি ‘স্বৈরাচারী আচরণ’ ছাড়া আর কিছুই নয়। ১৮১০ সালে যখন কংগ্রেস ম্যারিল্যান্ড ও ভার্জিনিয়ার জমি নিয়ে ওয়াশিংটন ডিসি প্রতিষ্ঠা করে, তখন থেকেই এখানকার বাসিন্দাদের অধিকার নিয়ে বিতর্ক চলছে। শহরটি কখনোই পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা পায়নি। এটি সরাসরি ফেডারেল সরকারের অধীনে থাকে। শহরটি একসময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ সংখ্যাগরিষ্ঠ শহর ছিল। নাগরিক অধিকার নেতা রেভারেন্ড আল শার্পটন বলেন, ট্রাম্পের এ পদক্ষেপ ‘ন্যায়বিচার ও নাগরিক অধিকারের ওপর চূড়ান্ত আঘাত’। তার মতে, ট্রাম্প শুধুমাত্র নিজের সুবিধার জন্য এ কাজটি করেছেন। জেফ্রি এপস্টেইন বিতর্ক থেকে মানুষের মনোযোগ সরাতেই এমন পদক্ষেপ নিলেন ট্রাম্প।
অন্যদিকে ওয়াশিংটনেরর মেয়র মুরিয়েল বাউজার বলেছেন, ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা ‘অস্বস্তিকর’ হলেও এমন ঘটনা আগে ঘটেনি তা নয়। তিনি বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমাদের গণতন্ত্রের অধিকার কতটা দুর্বল, তা আমরা জানি। এ কারণেই আমি এবং আমার আগে অনেকেই পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদার জন্য লড়াই করেছি।’ ট্রাম্প তার ‘জরুরি অবস্থা’ ঘোষণার পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, স্থানীয় সরকার আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। এখানকার অপরাধের হার ফেডারেল কার্যক্রমের জন্য অসহনীয় ঝুঁকি তৈরি করছে। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ‘কুখ্যাত গ্যাং, মাদক ব্যবসায়ী ও অপরাধী চক্রের হাত থেকে রাজধানীকে বাঁচাতে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।’ ওয়াশিংটনের অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রায়ান শ্যাল্ব এ পদক্ষেপকে ‘অপ্রয়োজনীয় এবং বেআইনি’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ায় কোনো জরুরি অবস্থা ঘোষণার মতো কোনো অপরাধ নেই।’ পুলিশের তথ্যানুযায়ী, রাজধানীতে অপরাধের হার জাতীয় গড়ের চেয়ে বেশি হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোয় তা অনেক কমেছে। প্রথমে ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে ওয়াশিংটন ডিসিতে সহিংস অপরাধের সংখ্যা ৩৫ শতাংশ কমেছে। এরপর ২০২৫ সালের (চলতি বছরের) প্রথম ছয় মাসে, ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় অপরাধের সংখ্যা আরও ২৬ শতাংশ কমেছে। অর্থাৎ দুই বছরের ধারাবাহিক পতনে সহিংস অপরাধের হার এখন ৩০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে আছে। আল-জাজিরা।
পুলিশের সামনে মুসলিম চালককে পিটিয়ে ও পাথর ছুড়ে হত্যা করল উগ্র হিন্দুরা
ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের শাহজাহানপুরে গরু বহনের সন্দেহে একজন মুসলিম ট্রাকচালককে নির্মমভাবে পিটিয়ে ও পাথর ছুড়ে হত্যা করেছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী জনতা। আশ্চর্যজনকভাবে পুলিশ কর্মকর্তাদের সামনেই এ নৃশংস হামলা চালানো হয়। কিন্তু তারা নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করে। ফলে উচ্ছৃঙ্খল জনতা ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং চালককে পাথর ছুড়ে মারে। ঘটনাটি ঘটে শাহজাহানপুরের কালান থানার বাদাউন রোডের পাটনা দেবকালী এলাকায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কানওয়ার যাত্রা মিছিলের সময় কানওয়ারিয়ারা গরু বহনের সন্দেহে একটি দুর্গন্ধযুক্ত ট্রাক থামিয়ে দেয়। গাড়িটি পরীক্ষা করার পর তারা পশুর চামড়া খুঁজে পেয়েছে বলে দাবি করে। কোনো তদন্ত ছাড়াই তাৎক্ষণিক চামড়াগুলো গরুর দেহাবশেষ ভেবে উগ্র হিন্দুরা চালকের ওপর সহিংস আক্রমণ চালায়। তারা ভুক্তভোগীকে নির্মমভাবে মারধর করে। পুলিশ পৌঁছালেও তারা তাকে রক্ষা করার চেষ্টা করে নাই এবং উগ্রবাদীদের নিয়ন্ত্রণে দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়। পরিবর্তে পুলিশ ভুক্তভোগীকে হেফাজতে নেয় এবং উগ্রবাদীরা তাদের উপস্থিতিতেই ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয়। কেএমসি।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কোনো হস্তক্ষেপের চেষ্টা না করায় এবং জনতা থেকে পাথর বর্ষণ অব্যাহত থাকায় গাড়িটি ছাই হয়ে যায়।
মানবাধিকার পর্যবেক্ষক এবং সম্প্রদায়ের নেতারা পুলিশের পদক্ষেপ না নেওয়ার নিন্দা জানিয়েছেন। তারা জানান, ভারতে প্রায়ই গো-রক্ষা আইনের অজুহাতে প্রায়শই মুসলমানদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়। একজন স্থানীয় মুসলিম নেতা বলেছেন, ‘এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং একটি বিরক্তিকর প্রবণতার অংশ যেখানে প্রমাণ ছাড়াই মুসলমানদের হয়রানি করা হয় এবং শাস্তি দেওয়া হয়। অন্ধ ঘৃণা এবং সন্দেহের কারণে ট্রাক চালক তার জীবন হারিয়েছেন। পুলিশকে তাদের নীরবতার জন্য জবাবদিহি করতে হবে।’ আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘আমরা পুলিশকে কাছে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি কিন্তু চালককে আক্রমণ করার সময় তারা কিছুই করেনি। এই ধরনের নিষ্ক্রিয়তা উগ্র জনতাকে আইন ভাঙতে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয় ছড়িয়ে দিতে উৎসাহিত করে।’ এ ঘটনা আবারও মুসলমানদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। তারা নিজেদের অরক্ষিত বোধ করছেন। অনেকেই ধর্মীয় কারণে নিরীহ মানুষকে নির্যাতনের হাতিয়ার হিসেবে গরু রক্ষা আইনের অপব্যবহার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এ মর্মান্তিক ঘটনা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিরপেক্ষতা এবং মব জাস্টিসের ক্রমবর্ধমান সংস্কৃতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। কেএমসি।
বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মিকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত যুক্তরাষ্ট্রের
পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বেলুচিস্তানের বিচ্ছিন্নতাকামী সংগঠন বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এবং এর সামরিক শাখা মাজিদ ব্রিগেডকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত সোমবার (১১ আগস্ট) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, সংগঠনটি ২০২৪ সালে করাচি বিমানবন্দর ও গোয়াদর বন্দর কর্তৃপক্ষ কমপ্লেক্সের কাছে আত্মঘাতী বোমা হামলা এবং ২০২৫ সালের মার্চ মাসে কোয়েটা থেকে পেশোয়ারগামী জাফর এক্সপ্রেস ট্রেন আটকের দায় স্বীকার করেছে। ওই হামলায় ৩১ জন বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছিল এবং ৩০০ জনেরও বেশি যাত্রীকে বন্দী করা হয়েছিল। পররাষ্ট্র দফতর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘আজকের পররাষ্ট্র দফতরের গৃহীত পদক্ষেপ সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। আমাদের সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে সন্ত্রাসী তকমা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি সন্ত্রাসী কার্যকলাপের প্রতি সমর্থন কমানোর একটি কার্যকর উপায়।’
যুক্তরাষ্ট্র বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মিকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করায় গোষ্ঠীটি আর্থিক সহায়তা ও অন্যান্য সাহায্য পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধার মুখে পড়বে। দেশটি প্রথম ২০১৯ সালে সংগঠনটিকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে ঘোষণা করে। পাকিস্তান ও যুক্তরাজ্যেও একে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাকিস্তান ভারতকে এ সংগঠনের পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ করেছে। তবে ভারত এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বেলুচিস্তান ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে সহিংসতায় জর্জরিত। বিচ্ছিন্নতাবাদীরা দাবি করে, ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের শেষে এটিকে জোরপূর্বক পাকিস্তানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। আনাদোলু এজেন্সি।
সহিংসতা উসকে দেয়ার দায়ে চাদের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ২০ বছরের কারাদণ্ড
মধ্য আফ্রিকার দেশ চাদে সহিংসতা ছড়িয়ে দেয়ার উদ্দেশে বর্ণবাদী এবং অন্য সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি বিদ্বেষমূলক বার্তা প্রচারের দায়ে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান বিরোধীদলীয় নেতা সুচেস মাসরাকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। গত শনিবার (৯ আগস্ট) চাদের রাজধানী এন’জামেনার একটি আদালতে রায় ঘোষণার পর বাদীর আইনজীবী কাদজিলেম্বে ফ্রান্সিস সাংবাদিকদের বলেছেন, মাসরা তার সাজার বিরুদ্ধে আপিল করবেন। শুধুমাত্র তার সুনাম ক্ষুণ্ন করার জন্য এবং অপমান করার জন্য এমনটা করা হয়েছে বলে দাবি করেন ফ্রান্সিস। সুচেস মাসরা গত বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ট্রান্সফরমারস পার্টির প্রধান এবং চাদের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাহামত দেবির একজন কট্টর সমালোচক। মে মাসে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমে লোগোন অক্সিডেন্টালে পশুপালক ও কৃষকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের জেরে মারসাসহ ৬৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ আনা হয়েছিল। তাদের অধিকাংশই একই নাগামবায়ে জাতিগত সম্প্রদায়ের। ওই সংঘর্ষে ৩৫ জন নিহত এবং আরো ছয়জন আহত হয়েছিলেন। তবে মাসরা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ঘৃণামূলক বক্তব্য, বিদেশিদের প্রতি ঘৃণা এবং গণহত্যার প্ররোচনা দেয়া। গত শনিবার আদালত ছেড়ে যাওয়ার আগে নিজের সমর্থকদের উদ্দেশে দেয়া বার্তায় মার্সা তাদের ‘মনোবল দৃঢ় রাখতে’ বলেছেন। দিনের শেষে সমর্থকদের ‘বিশেষ বার্তা’ দেয়ার কথা রয়েছে তার। আল জাজিরা।
যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার মহড়ার বিরুদ্ধে ‘প্রতিশোধের’ হুঁশিয়ারি উত্তর কোরিয়ার
উত্তর কোরিয়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আসন্ন যৌথ সামরিক মহড়া থেকে উসকানিমূলক কোনো ঘটনা ঘটলে উত্তর কোরিয়া তার ‘দৃঢ় প্রতিশোধ’ নেবে। গত ১১ আগস্ট সোমবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দেশটির প্রতিরক্ষা প্রধান এ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সিউল থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র আগামী ১৮ থেকে ২১ আগস্ট পর্যন্ত পারমাণবিক অস্ত্রধারী উত্তর কোরিয়াকে নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে তাদের বার্ষিক উলচি ফ্রিডম শিল্ড মহড়া পরিচালনা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ঠিক এমন একসময় এ সতর্কীকরণ এসেছে। ১৯৫০ সালে প্রতিবেশী দেশটিতে আক্রমণের মাধ্যমে যুদ্ধের সূত্রপাতকারী উত্তর কোরিয়া সবসময়ই যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়ায় ক্ষুব্ধ এবং এগুলোকে আক্রমণের মহড়া হিসেবে নিন্দা করে আসছে। কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি কর্তৃক প্রকাশিত এক বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়ার প্রতিরক্ষা প্রধান নো কোয়াং চোল বলেছেন, ‘আত্মরক্ষার অধিকারের স্তরে ডিপিআরকে-র সশস্ত্র বাহিনী পূর্ণাঙ্গ এবং দৃঢ় প্রতিপক্ষ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে যুদ্ধ মহড়া মোকাবেলা করবে’।
দক্ষিণ কোরিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ সৈন্য মোতায়েন করে এবং মিত্ররা নিয়মিতভাবে যৌথ মহড়া পরিচালনা করে যা তারা প্রতিরক্ষামূলক প্রকৃতির বলে বর্ণনা করে। সিউল এবং পিয়ংইয়ং সম্প্রতি সম্পর্কের অবনতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। উভয় পক্ষ সীমান্তে প্রচারণা লাউডস্পিকার সরিয়ে নিয়েছে। সিউল জানিয়েছে, সিউলের নতুন প্রশাসন নিজস্ব লাউডস্পিকার ভেঙে দেয়ার কয়েকদিন পর উত্তর কোরিয়ার সেনারা সীমান্তে অস্থির শব্দ ছড়ানোয় জন্য ব্যবহৃত প্রোপাগান্ডা লাউডস্পিকারগুলো ভেঙে ফেলা শুরু করেছে। জুন মাসে সিউলের সামরিক বাহিনী জানায়, পিয়ংইয়ংয়ের সাথে উত্তেজনা কমাতে প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং নির্বাচিত হওয়ার পর দুই দেশ ইতোমধ্যেই অসামরিকীকরণ অঞ্চলে প্রচারণা সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের আমলে দুই কোরিয়ার মধ্যে সম্পর্ক বছরের পর বছর ধরে সবচেয়ে খারাপ পর্যায়ে ছিল। সিউল পিয়ংইয়ংয়ের প্রতি কঠোর অবস্থান নিয়েছে, যা রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকে মস্কোর আরো ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এএফপি।
স্পেনে দাবানলে হাজারো মানুষ ঘরছাড়া
স্পেনে দাবানলে গত মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) একজনের প্রাণহানি হয়েছে এবং হাজারো মানুষ প্রাণে বাঁচতে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। প্রচণ্ড তাপদাহের মধ্যে ঝড়ো হাওয়ায় দেশটিতে দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। মাদ্রিদ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা জানান, সোমবার রাজধানী মাদ্রিদের উত্তরে ধনী আবাসিক এলাকা ত্রেস কান্তোসে ঘণ্টায় ৭০ কিলোমিটার গতিতে দাবানল ছড়িয়ে পড়লে এক ব্যক্তি মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ তার মৃত্যু হয়। চলমান তাপপ্রবাহে স্পেনে এই প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। মাদ্রিদের আঞ্চলিক সরকারের প্রধান ইসাবেল দিয়াজ আয়ুসো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া বার্তায় এ মৃত্যুর ঘটনায় গভীরভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন। ত্রেস কান্তোস থেকে হাজারো বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
মাদ্রিদের আঞ্চলিক পরিবেশ প্রধান কার্লোস নোভিলো সাংবাদিকদের জানান, মাত্র ৪০ মিনিটে আগুন ছয় কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। গত মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তারা জানান, ত্রেস কান্তোসের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। আন্দালুসিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় তারিফার জনপ্রিয় সৈকত এলাকার আশপাশের হোটেল ও ঘরবাড়ি থেকে প্রায় দুই হাজার মানুষকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। মাসের শুরুতেও একই এলাকায় দাবানল দেখা দিয়েছিল। আন্দালুসিয়ার আঞ্চলিক সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্তোনিও সানজ বলেন, আমরা শেষ মুহূর্তে আবাসিক এলাকা রক্ষা করতে পেরেছি। উদ্ধারকাজে সহায়তাকারী একজন পুলিশ সদস্য একটি গাড়ির ধাক্কায় আহত হয়েছেন। এএফপি।
গণহত্যাকারী ইসরাইলের সঙ্গে মিশরের ৩৫ বিলিয়ন ডলারের গ্যাস চুক্তি
ফিলিস্তিনের গাজায় নির্মম গণহত্যার বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে যখন ইসরাইলের সাথে অস্ত্র ও বাণিজ্য বাতিলের দাবি উঠছে, ঠিক এ সময় তেলআবিবের সাথে বড় বাণিজ্যচুক্তি করলো মিশর। মিশর ইসরাইলের সাথে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের এক রেকর্ড গ্যাস চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রপ্তানি চুক্তি। এর ফলে লেভায়াথান সমুদ্রতলীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে ২০৪০ সাল পর্যন্ত ১৩০ বিলিয়ন ঘনমিটার (বিসিএম) গ্যাস মিশরে রপ্তানি করা হবে। ইসরাইলি জ্বালানি কোম্পানি নিউমেড গত ৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার এ চুক্তির ঘোষণা দেয়। কোম্পানিটি লেভায়াথান গ্যাসক্ষেত্রের ৪৫.৩৪ শতাংশ মালিক। ২০১৮ সালে হওয়া আগের চুক্তির তুলনায় এটি প্রায় তিনগুণ বড়। সেই চুক্তি অনুযায়ী বছরে ৪.৫ বিসিএম গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল, যা গাজায় ইসরাইলের হামলার পর একাধিকবার বন্ধ হয়েছিল। নতুন চুক্তি কার্যকর হলে মিশরের জ্বালানি নির্ভরতা আরও বাড়বে, কারণ গত তিন বছরে দেশটির নিজস্ব গ্যাস উৎপাদন ধসে পড়েছে। দেশটিতে বিদ্যুৎ সংকট তীব্র হওয়ায় গ্রীষ্মকালে লোডশেডিং বাড়ছে। ঘাটতি পূরণে মিশর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি বাড়িয়েছে ২০২৫ সালে যার খরচ ১৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বর্তমানে ইসরাইল মিশরের মোট গ্যাস চাহিদার ১৫-২০ শতাংশ সরবরাহ করে। তবে স্থানীয় গণমাধ্যম ‘মাদা মাসর’ জানিয়েছে, নতুন চুক্তিতে মিশর প্রতি বিসিএম গ্যাসের জন্য প্রায় ৩৫ মিলিয়ন ডলার বেশি দেবে, যা আগের তুলনায় ১৪.৮ শতাংশ বেশি। চুক্তি কার্যকর নির্ভর করবে নতুন পাইপলাইন ও রপ্তানি অবকাঠামো নির্মাণের ওপর। প্রথম ধাপে ২০২৬ সালের শুরুর দিকে ২০ বিসিএম গ্যাস সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা, তবে গাজায় ইসরাইলি হামলার কারণে অবকাঠামো প্রকল্প স্থগিত রয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে ১১০ বিসিএম গ্যাস সরবরাহের জন্য ইসরাইল-মিশর সীমান্তে নতুন স্থল পাইপলাইন তৈরি করতে হবে, যা এখনো শুরু হয়নি। চুক্তি ঘোষণার মধ্যেই মিশরের অভ্যন্তরে গাজা অবরোধে কায়রোর তথাকথিত ভূমিকা নিয়ে জনঅসন্তোষ বাড়ছে। ইসরাইলি অবরোধে প্রায় ২০০ ফিলিস্তিনি অনাহারে মারা যাওয়ার খবর প্রকাশের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। গত জুলাইয়ে কায়রোয় পুলিশ স্টেশনে হামলা ও ইউরোপের বিভিন্ন রাজধানীতে মিশরীয় দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ হয়েছে রাফাহ ক্রসিং বন্ধের প্রতিবাদে। তবে প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি এসব অভিযোগ ‘অযৌক্তিক’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং গাজায় ইসরাইলের গণহত্যায় মিশরের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন। মিডল ইস্ট আই।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান