ঐক্যের সুবর্ণরেখা জাতির মনে আশা জাগিয়েছে
৭ আগস্ট ২০২৫ ১৪:০৪
জুলাই বিপ্লবের এক বছর পূর্তি উদযাপন হলো জাতীয় ঐক্য-সংহতি দৃঢ় করার শপথে। আওয়ামী প্রতিবিপ্লবীদের জঙ্গি প্রশিক্ষণের গোপন খবর প্রকাশ দেশের গোয়েন্দা বিভাগের একটি বড় সাফল্য। অন্তর্বর্তী সরকারের অতি উদারতা এবং ৩৬ জুলাই বিপ্লবের পরও পুরনো সংবিধান বহাল রাখার খেসারত এ জাতিকে প্রতি পদে পদে দিতে হচ্ছে। এ সংবিধান বহাল থাকার কারণেই আওয়ামী প্রতিবিপ্লবীরা অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘ক্ষমতা দখলকারী,’ অভ্যুত্থানে শহীদদের ‘সন্ত্রাসী’ বলার ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে। ফ্যাসিবাদের আইকন স্বাধীনতার নামে বিভিন্ন গোপন চুক্তির মাধ্যমে দেশকে ভারতের করদরাজ্যে পরিণত করার খলনায়কদের ‘মহান’ করে জাতির সামনে উপস্থাপনের দুঃসাহস দেখাচ্ছে বিনা বিচারে রেহাই পাওয়া ফ্যাসিস্টের দোসররা। এখনো বিভিন্ন সরকারি অফিস; এমনকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকও মাথার ওপর ফ্যাসিস্টের জনকের ছবি ঝুলিয়ে রেখে জুলাই বিপ্লবকে চ্যালেঞ্জ করার দুঃসাহস দেখাচ্ছে। সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ পদে চাকরিরত অবস্থায় দীর্ঘকালীন ছুটির আড়ালে আওয়ামী জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, সরকার উৎখাতে গেরিলা যুদ্ধের ঘোষণা দিচ্ছে।
বুদ্ধিজীবী সুশীল, মানবাধিকার কর্মী ইত্যাদি লেবেল লাগিয়ে জঙ্গিদের রক্ষা করতে মানবাধিকারের বুলি শোনাচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকার কোন পথে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে- এমন অবান্তর প্রশ্ন তুলে আরেকটা ‘এক -এগারো’র দুঃস্বপ্ন দেখছে।
তবে আশার কথা, দেশের রাজনীতির মূল শক্তি বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির মতো দলগুলোর সামনে ষড়যন্ত্রকারীদের নীলনকশা আর গোপন নেই। তারা এ কঠিন সময় মোকাবিলা করে সঠিক পথেই এগিয়ে যাচ্ছে। নিজের মধ্যে রাজনৈতিক সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠায় তারা পরস্পরের প্রতি হৃদ্যতা ও ভালোবাসার সম্পর্কোন্নয়নে প্রতিদিন নতুন নতুন মাত্রা যোগ করছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের অসুস্থতার খবরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারমম্যান তারেক রহমান এবং মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একটি জাতীয় দৈনিকের সাথে সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ফ্যাসিস্টমুক্ত বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ধারার বিকাশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী দুঃশাসনের সময় জনগণ ভুলেই গিয়েছিলো যে বিরোধীদলকে সম্মান করা, শীর্ষনেতাদের মর্যাদা রক্ষা করা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ। হাসিনার অন্ধকার রাজনৈতিক ধারার অবসানের পর সৌহার্দ্যের এ সুবর্ণরেখা জাতির মনে আশা জাগিয়েছে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের মনে নেমে এসেছে হতাশার কালো ছায়া।
আমরা মনে করি, জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলোর এ ঐক্য অটুট থাকলে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ কেন- তাদের আশ্রয়দাতা দেশও পারবে না আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, উন্নয়ন ও অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করতে। বিপ্লবের ফলাফল ষোলো আনা ঘরে তুলতে ফ্যাসিস্টদের তৈরি সংবিধান ছুড়ে ফেলে দিতে হবে। সরকারের ভেতরের ও বাইরের ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজের বের করে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। যারা সরাসরি ষড়যন্ত্রে জড়িত নয়, কিন্তু ফ্যাসিস্ট-সমর্থক, তাদের বোঝাতে হবে ফ্যাসিস্ট শক্তি কোনোদিন স্বাধীনতার পক্ষের হতে পারে না। আওয়ামী লীগ ১৯৭১-এ ক্ষমতা দখলের পরপরই- ১. ইনসাফ (সম্পদের ন্যায়সংগত বণ্টন অর্থে সাম্য), ২. মানবিক মর্যাদা, ৩. সামাজিক ন্যায়বিচার- এ তিন মূলনীতিকে হত্যা করেছে। ১৯৭৩ সালে দেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যালট বাক্স ছিনতাই এবং ১৯৭৫-এর ২৫ জানুয়ারি গণতন্ত্র হত্যাকারী দল আওয়ামী লীগ। তারপর ২০০৮ থেকে ২০২৪-এর বিপ্লব-পূর্ববর্তী সময়ের দুঃশাসন এবং ক্ষমতা উদ্ধারের জন্য বর্তমান জঙ্গি তৎপরতার পরও যারা আওয়ামী অপশক্তিকে ফ্যাসিস্ট না ভাববে, তারাও একই গোত্রেরÑ এতে কোনো সন্দেহ নেই।
তাই আমরা আশা করি, দেশের গণতান্ত্রিক ধারার রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে নিজের মধ্যে সৌহার্দ্যরে এ ধারা অব্যাহত রাখবে। ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ ও জনগণের কল্যাণে রাজনীতির এক নবদিগন্ত উন্মোচন করবে।