সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ
৭ আগস্ট ২০২৫ ১৪:০০
কানাডায় খালিস্তানি দূতাবাস!
নতুন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির শাসনামল থেকে কানাডায় খালিস্তানি স্বাধীনতাকামীদের কার্যকলাপ অব্যাহত রয়েছে। খালিস্তানি স্বাধীনতাকামী হরদীপ সিং নিজ্জরের সমর্থকরা সারেতে একটি ‘দূতাবাস’ স্থাপন করেছে বলে জানা যায়। খালিস্তানের সমর্থকরা এর নাম দিয়েছে ‘রিপাবলিক অব খালিস্তান’। এ ‘দূতাবাস’টি গুরুনানক শিখ গুরুদুয়ারার কমিউনিটি সেন্টারের একটি অংশে নির্মিত হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এ নবগঠিত ভবনের ওপর কড়া নজর রাখছে। কারণ এ পদক্ষেপটি ভারতে নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন শিখস ফর জাস্টিস (ঝঋঔ) কর্তৃক ঘোষিত শিখ গণভোটের আগেই সামনে এসেছে। এ প্রতীকী ‘দূতাবাস’ নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী হরদীপ সিং নিজ্জরকে প্রকাশ্যে সমর্থন করছে বলে জানা গিয়েছে। খালিস্তান আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্কিত এ ঘটনাবলী স্থানীয় এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। শিখস ফর জাস্টিস নামে সংগঠনকে নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার। ২০২৪ সালে কেন্দ্রীয় সরকার এ সংগঠনের ওপর নিষেধাজ্ঞা ৫ বছরের জন্য বাড়িয়ে দিয়েছিল। কাশ্মীরের মতো শিখস ফর জাস্টিস ভারতের দখল থেকে মুক্ত হতে চায়। সংগঠনটি ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। শিখস ফর জাস্টিস গুরপতবন্ত সিং পান্নু দ্বারা পরিচালিত হয়। পান্নু দীর্ঘদিন ধরে ভারতের অন্যায়ের প্রতিবাদ করা এবং ভারতের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়ার কথা বলে আসছেন।
উল্লেখ্য, জনপ্রিয় খালিস্তানি নেতা হরদীপ সিং নিজ্জরকে ২০২৩ সালের ১৮ জুন কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশের সারে শহরে হত্যা করে ভারতের ভাড়াটে খুনিরা। ৪৫ বছর বয়সী নিজ্জর কানাডায় শিখস ফর জাস্টিসের প্রধান ছিলেন। ২ বছর আগে ১৮ জুন হরদীপ সিং নিজ্জর গুরু নানক শিখ গুরুদুয়ারার পার্কিং লটে তার পিকআপ ট্রাক থেকে নামছিলেন। ঠিক তখনই দুজন মুখোশ পরা ব্যক্তি এসে হরদীপের ওপর হামলা চালিয়ে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত নিজ্জর ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ বিষয়টি নিয়ে ভারত ও কানাডার মধ্যে সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ মামলায় কানাডার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ভারত সরকারকে হত্যার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করেছিলেন। ট্রুডোর এ অভিযোগ ভারত প্রত্যাখ্যান করেছিল। পরে ২০২৪ সালের মে মাসে কানাডা পুলিশ খুন এবং ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তিন ভারতীয় নাগরিক করণ ব্রার, কমলপ্রীত সিং এবং করণপ্রীত সিংকে গ্রেফতার করে। মামলার শুনানি এখনো চলছে। এপি।
ইমরান খানের মুক্তি দাবিতে পাকিস্তানজুড়ে আন্দোলন অব্যাহত
পাকিস্তানে ইমরান খানের মুক্তি দাবিতে বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়ছে। রাওয়ালপিন্ডিতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। যেখানে বড় ধরনের সমাবেশ এবং বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অংশে পিটিআই (পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ) দলের নেতৃত্বে আন্দোলন শুরু হলেও সরকারের কঠোর পদক্ষেপ তার আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে। গত মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) থেকে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পিটিআই সর্বত্র বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেছে। ২০২৩ সালের এই দিনে ইমরান খান দুর্নীতির মামলায় কারাবন্দি হন। তাই এই দিনটিকে দল তাদের আন্দোলনের প্রতীকী সূচনা হিসেবে গ্রহণ করেছে। পিটিআই নেতারা জানিয়েছেন, বিক্ষোভ চলবে যতক্ষণ না বর্তমান সরকার উৎখাত হয় এবং তারা তাদের অধিকার আদায় করবে। পিটিআই নেতা আসাদ কায়সার বলেন, দলের প্রাদেশিক ইউনিটগুলোকে মিছিল, গণসচেতনতা কর্মসূচি এবং প্রতিবাদ চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, পাঞ্জাব ও কাশ্মীর অঞ্চলে নেতাকর্মীদের ওপর ইতোমধ্যেই পুলিশি হয়রানি শুরু হয়েছে। রাওয়ালপিন্ডিতে জেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে সব ধরনের সমাবেশ, অবস্থান এবং চারজনের বেশি মানুষের সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে, যা আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। পিটিআই পাঞ্জাব মিডিয়া সেলের প্রধান শায়ান বশির জানান, সাম্প্রতিক দিনগুলোয় প্রায় ২০০টি অভিযান চালানো হয়েছে এবং অনেক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরপর শর্তসাপেক্ষে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে। পিটিআই লাহোর ও আদিয়ালা জেলের বাইরে বড় কর্মসূচি ঘোষণা করেছে এবং পাঞ্জাবজুড়ে ব্যাপক মিছিল ও র্যালির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পিটিআই নেতা ও সিনেটর আলি জাফর বলেন, ইমরান খান আদালতের মাধ্যমে মুক্তি পেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, সরকার ও ক্ষমতাসীন মহল ইমরান খান ও তার স্ত্রীর ওপর চাপ প্রয়োগ করছে যাতে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়া যায়। যদিও ইমরান খান সংলাপের দরজা বন্ধ করে দিয়েছেন, রাজনীতিতে সিদ্ধান্ত বদলাতে সময় লাগে না বলেও তিনি জানান। অন্যদিকে পাঞ্জাবের তথ্যমন্ত্রী আজমা বোখারী পিটিআইয়ের বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, পিটিআই এখন আর একটি রাজনৈতিক দল নয়, বরং একটি ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠী, যারা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে আঘাত করতে চায়। তিনি উল্লেখ করেন, একসময় যারা ‘বাস্তব স্বাধীনতা’ চেয়েছিল, এখন তাদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে কোটি কোটি ডলারের বিজ্ঞাপন দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ৫ আগস্ট কাশ্মীরিদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশের সময় এ বিক্ষোভ অত্যন্ত দুর্ভিসন্ধিমূলক এবং দুঃখজনক। দ্য ডন।
ওবামা প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্তে নামছে মার্কিন বিচার বিভাগ
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে এক পুরনো ইস্যু ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে রাশিয়ার কথিত হস্তক্ষেপ। এবার সেই ঘটনা নিয়ে ওবামা প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন বিচার বিভাগ। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, এ তদন্তের মাধ্যমে ‘রাশিয়াগেট’ ষড়যন্ত্রের পেছনের প্রকৃত উদ্দেশ্য প্রকাশ পাবে। সিবিএস নিউজের বরাতে জানা গেছে, ২০২৫ সালের আগস্টের শুরুতে মার্কিন বিচার বিভাগ নির্দেশ দিয়েছে একটি গ্র্যান্ড জুরি গঠনের, যার মাধ্যমে তদন্ত শুরু হবে। এ তদন্তের লক্ষ্য হচ্ছে, ওবামা প্রশাসনের কতিপয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ যাচাই করা যাঁরা ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, ‘রাশিয়ার হস্তক্ষেপের ভুয়া তথ্য তৈরি করে’ নির্বাচনকে প্রভাবিত করার অভিযোগ এনেছিলেন। বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাবেক গোয়েন্দা প্রধানের সুপারিশের ভিত্তিতে এ তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছেন যে, রাশিয়াগেট ছিল একটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। তাঁর ভাষায়, ডেমোক্র্যাটরা ইচ্ছাকৃতভাবে এমন তথ্য তৈরি করেছিল, যা ট্রাম্প এবং রাশিয়ার মধ্যে গোপন যোগসাজশ প্রমাণ করতে পারে। এ অভিযোগ ঘিরেই এবার সরাসরি ওবামা প্রশাসনের ওপর তদন্তের তীর ছোড়া হয়েছে। সিবিএস নিউজ।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান