পলাশের সোহান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত
৫ জুলাই ২০২৫ ০৮:৩৩
পলাশ (নরসিংদী) সংবাদদাতা : নরসিংদীর পলাশে ইছাখালি গ্রামের মৃত সোহরাবের একমাত্র ছেলে সোহান ও তার ভগ্নিপতি আক্রাম মিয়া দালালের প্রলোভনে ১৪ লাখ টাকার বিনিময়ে চকলেট কারখানায় কাজের কথা বলে রাশিয়ায় পাঠায় ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর ১০ জনের একটি দল। সেখানে সেন্টপিটার্সবাগ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর বিমানবন্দরেই আটকে রাখে ৪-৫ দিন এর আগে এক দিন পরই সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে শ্যালক ও ভগ্নিপতি দুজনকে নিয়ে যায় সেনা ক্যাম্পে। সেখানে নিয়ে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য দেওয়া হয়। সামরিক পোশাক নিতে না চাইলে দেওয়া হয় হত্যার হুমকি, এমনকি খাবার-দাবারও দেওয়া হতো না। এমন পরিস্থিতিতে বোন জামাই আক্রাম কৌশলে পালিয়ে গিয়ে ফোনে বাড়ি থেকে দেড় লাখ টাকা নিয়ে টিকেট কেটে ১৬ জানুয়ারি ২০২৫ বাড়িতে চলে আসে, এদিকে শ্যালক সোহানকেও পালিয়ে আসার পরামর্শ দিয়েছিল কিন্তু পেরে ওঠেনি। তারপর সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে রাশিয়ার সৈন্যদের সাথে সহযোদ্ধা হিসেবে রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেনে যুদ্ধের ময়দানে নামিয়ে দেয়। ৬ মাস পর ২১ জুন ২০২৫ সহযোদ্ধা জাফরের ফোন থেকে তার মার ফোনে ফোন করে বলে যে তার ছেলে সোহান আর বেঁচে নেই।
সরেজমিন ইছাখালী তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় শোকের মাতম। সোহান ইছাখালী মৃত সোহরাব মিয়ার ছেলে, পরিবারে তার মা নুরজাহান। স্ত্রী হাবিবা ও ১৬ মাসের ছেলে ফারহান রয়েছে।
ভাগ্যবদল করার জন্য ইউরোপ গিয়ে পরিবারের ভাগ্যবদল করতে চেয়ে ছিল সোহান, কিন্তু বিধাতার বিধান নির্মম পরিহাসে অন্ধকারে নিমজ্জিত হলো পরিবারটি।
তাদের এখন একটাই আকুতি প্রিয়জনের লাশটি দেশে আনতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করছেন। যাতে করে ছেলের মুখ খানি একনজর দেখে বাড়ির আঙিনায় কবরটি যেন অন্তত ১৬ মাসের ফারহানকে দেখাতে পারেন এই যে তোমার বাবার কবর।