সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ
৩ জুলাই ২০২৫ ১২:১৪
তুরস্কে তালেবান রাষ্ট্রদূত নিয়োগ, স্বীকৃতির পথে কূটনৈতিক কৌশল
আফগানিস্তানের তালেবান সরকার সম্প্রতি শেখ সানিউল্লাহ ফারাহমান্দকে তুরস্কে আফগান রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। তালেবান এ সিদ্ধান্তকে কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা একে এখনই স্বীকৃতির পর্যায়ে না নিয়ে একটি সীমিত ও প্রতীকী অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন। রাষ্ট্রদূতের পরিচয় অনুষ্ঠানে তালেবানের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি বলেন, ‘তুরস্কের সাথে আমাদের সম্পর্ক এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যার ভিত্তিতে কাজ শুরু করার জন্য আমরা এখানে একজন কূটনৈতিক রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করতে পারি।’ তিনি আরো দাবি করেন, এ সম্পর্ক স্বাভাবিক ও নিয়মিত হয়ে উঠেছে। তবে এখন পর্যন্ত তুরস্ক সরকার তালেবানের নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে কিনা, সে বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেয়নি।
নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত শেখ সানিউল্লাহ ফারাহমান্দের পূর্বের কোনো কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা না থাকলেও তিনি কুন্দুজ প্রদেশের উলেমা কাউন্সিলের প্রধান ছিলেন এবং তুর্কি বংশোদ্ভূত আফগান হিসেবে তার নিয়োগকে তালেবান সরকার প্রতীকী অন্তর্ভুক্তির বার্তা হিসেবে তুলে ধরছে। তালেবান সরকার যদিও ঘোষণা করেছিল যে তারা জাতিগত কোটাভিত্তিক সরকার পরিচালনা করে না, তথাপি এ নিয়োগ জাতিগত সংখ্যালঘুদের আশ্বস্ত করার একটি প্রচেষ্টা বলেই বিশ্লেষকরা মনে করছেন। অন্যদিকে তুরস্কের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক গুরুত্বের কারণে এ পদক্ষেপ তালেবানদের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। চার বছর ধরে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি না পাওয়া সরকারের জন্য আঙ্কারার মতো প্রভাবশালী দেশের উন্মুক্ততা তালেবানদের বৈশ্বিক মঞ্চে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। তালেবানের মতে, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান, চীন, রাশিয়া, ইরান, উজবেকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, কাজাখস্তান, মালয়েশিয়া ও নরওয়েসহ একাধিক দেশ ইতোমধ্যে তাদের কূটনীতিকদের গ্রহণ করেছে। ভারতও মুম্বাইয়ে আফগান কনস্যুলেট তালেবানের কাছে হস্তান্তরে সম্মত হয়েছে, যদিও নয়াদিল্লি এখনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি। আল-জাজিরা।
গাজায় নতুন করে ইসরাইলের বিমান হামলায় শত শত পরিবার বাস্তুচ্যুত
গাজায় নতুন করে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এ হামলার কারণে শত শত ফিলিস্তিনি পরিবার তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, উদ্ধারকর্মীরা পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করেছে। আহত বহু সাধারণ মানুষকে গাজা শহরের আল-আহলি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে। যুদ্ধবিরতির পর মার্চে আবারো গাজায় হামলা শুরু করে ইসরাইল। গাজা শহরের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ইসরাইলি বাহিনী শহরের ঘনবসতিপূর্ণ পূর্বাঞ্চলের বেশ কয়েকটি এলাকায়; বিশেষ করে শুজাইয়া, তুফাহ এবং জাইতুনসহ ঘনবসতিপূর্ণ পূর্বাঞ্চলে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, রাতের আকাশজুড়ে বিস্ফোরণের আলো, আতঙ্কিত হয়ে গাজার বাসিন্দাদের ছুটোছুটি করা, বিস্ফোরণের পর কোথাও কোথাও আগুনও জ্বলতে দেখা গেছে। গাজার জাইতুন এলাকায় একটি স্কুলে হামলার খবর পাওয়া গেছে। যেখানে বাস্তুচ্যুত অনেক পরিবার আশ্রয় নিয়েছিল। জাইতুন এলাকা থেকে সাত সন্তানের মা আবেয়ার তালবা বলেন, ‘সবকিছু ফেলে চলে আসা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।’ গালফ নিউজ।
প্রতিবেশী দেশগুলোয় ইসরাইলি গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে ইরান
ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে আগ্রাসন চালাতে প্রতিবেশী দেশগুলোর মাটি ব্যবহার করার জন্য ইসরাইলি যেকোনো গতিবিধির ওপর নিবিড় নজর রাখছে তেহরান। গত ৩০ জুন সোমবার সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের উদ্দেশে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ইরান সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রতিবেদন, গোয়েন্দা তথ্য এবং জল্পনা-কল্পনা সম্পর্কে অবহিত করেছে। বাঘাই আরও বলেন, ব্যতিক্রম ছাড়াই সব প্রতিবেশী দেশ আমাদের আশ্বস্ত করেছে যে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক কর্মকাণ্ডের জন্য ইহুদিবাদী সরকারকে তাদের স্থান বা ভূখণ্ডের অপব্যবহার করতে দেবে না। খবর প্রেস টিভির। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলো সুপ্রতিবেশী নীতি এবং আন্তর্জাতিক আইন-উভয় কাঠামোর আওতায় অবশ্যই তাদের কর্তব্য এবং প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে সচেতন।
বাঘাই আরও বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে কোনো দেশের তৃতীয় দেশের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ কর্মকাণ্ডের জন্য অন্য দেশকে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট সব দেশ ইরানের বিরুদ্ধে তাদের ভূখণ্ডের অপব্যবহারের প্রতিবেদনগুলোকে ‘স্পষ্টভাবে এবং দৃঢ়ভাবে’ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং তেহরানকে আশ্বস্ত করেছে যে, তারা ভবিষ্যতে কখনো এ ধরনের অনুমতি দেবে না। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জোর দিয়ে বলেন, বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। অন্যদিকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এবং নিরাপত্তা ও সামরিক কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে প্রতিবেদনগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ প্রতিবেদনগুলো গুরুত্ব সহকারে পর্যবেণ করছে বলে জানান তিনি। মেহর নিউজ।
ব্রিটেনে কনসার্টে ফিলিস্তিনের পক্ষে স্লোগান
ব্রিটেনের বার্ষিক সঙ্গীত উৎসব ‘গ্লাস্টনবেরি ফেস্টিভ্যাল’ এ বছরও অত্যন্ত জাকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এবারের ফেস্টিভ্যালের আলোচিত বিষয়Ñ অনুষ্ঠান চলাকালীন ফিলিস্তিনের পক্ষে স্লোগান দিয়েছেন গায়কেরা। গত শনিবার (২৮ জুন) যুক্তরাজ্যের সামারসেট অঞ্চলের পিল্টন নামের ছোট্ট একটি গ্রামে ফেস্টিভ্যালটি অনুষ্ঠিত হয়। অন্তত দুই লাখ শ্রোতার উপস্থিতিতে সেখানেই এ চাঞ্চল্যকর ব্যাপারটি ঘটে। এতে পারফর্ম করে আয়াল্যান্ডের র্যাপ সঙ্গীত গ্রুপ নিক্যাপ। নিক্যাপের শিল্পীরাই সঙ্গীতের মাঝে ফিলিস্তিনের পক্ষে স্লোগান তোলেন। গ্রুপটির এক সদস্য এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমরা আমাদের উপার্জন কম করতেও প্রস্তুত। কিন্তু ইতিহাসের সঠিক দিকটায় থাকা উচিত।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আমাদের আওয়াজ উঁচু করব, তাইলে ফিলিস্তিনের পক্ষে অন্য সঙ্গীত গ্রুপও তাদের আওয়াজ তুলবে।’ এ সময় প্রখ্যাত র্যাপ গায়ক বব ভাইলান ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ এবং ‘ডেথ ডেথ আইডিএফ’- এর মতো ফিলিস্তিনিদের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এপি ও জিও নিউজ।
যুদ্ধে পরাজিত হয়ে মোদির রাজনীতির দিন শেষ হয়ে গেছে: পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার বৈঠকে ভারত তাদের যুক্তি উপস্থাপনের সুযোগ পায়নি। গত সোমবার (৩০ জুন) ডেইলি জং জানিয়েছে, সম্প্রতি ইসলামাবাদে জিও নিউজের সাথে আলাপকালে পাকিস্তানি প্রতিরক্ষামন্ত্রী এ দাবি করেন। এ সময় তিনি আরো বলেন, (যুদ্ধে) পাকিস্তানের অবস্থান সঠিক ছিল, যা সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার বৈঠকে স্বীকৃতি পেয়েছে। খাজা আসিফ বলেন, কোনো পক্ষই সিন্ধু চুক্তি বাতিল করতে পারবে না। আসলে যুদ্ধে পাকিস্তানের কাছে হেরে নিজের ইজ্জত বাঁচাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অনবরত মিথ্যা বলে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, যুদ্ধে পরাজিত হয়ে মোদির রাজনীতির দিন শেষ হয়ে গেছে। পাকিস্তানি প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, সিন্ধু চুক্তির বিষয়ে তৃতীয়পক্ষ আদালত যে রায় দিয়েছে, তা স্পষ্ট। রায়ে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, ভারত কিংবা পাকিস্তান- কেউ একতরফাভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। খাজা আসিফ বলেন, এ বিষয়ে দুই দেশ নিজেদের মতো করে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না, যা মূল চুক্তির ওপর সরাসরি কোনো প্রভাব ফেলে। ডেইলি জং।
ভারতের আগ্রাসনের জবাবে যুদ্ধসাজে পাকিস্তান
দক্ষিণ এশিয়ায় সামরিক উত্তেজনা যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে অস্ত্র প্রতিযোগিতা। আর এ প্রতিযোগিতার কেন্দ্রে রয়েছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী- ভারত ও পাকিস্তান। ভারতের বিপুল সামরিক শক্তি ও আধিপত্যবাদী অবস্থানের কারণে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে প্রতিরক্ষা বাজেটে রেকর্ড বরাদ্দ দিয়েছে পাকিস্তান। গত এক দশকে ভারতের সামরিক বাজেট কয়েকগুণ বেড়েছে। দেশটি এখন বিশ্বের শীর্ষ অস্ত্র আমদানিকারী। পরমাণু অস্ত্র, ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, রাফাল যুদ্ধবিমান ও চন্দ্রাভিযান সব মিলিয়ে ভারতের শক্তির মহড়া দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোকে আশঙ্কিত করে তুলেছে। বিশেষ করে কাশ্মীর ইস্যুতে একতরফা সিদ্ধান্ত এবং সীমান্তে আগ্রাসন পাকিস্তানের জন্য সরাসরি হুমকিস্বরূপ। এ পটভূমিতেই পাকিস্তান সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীন থেকে সর্বাধুনিক জেএফ-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধবিমান কেনার। ভারতের সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখতে হলে ইসলামাবাদের কাছে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি ছাড়া বিকল্প নেই এমনটাই মনে করছে দেশটির নীতিনির্ধারকরা।
একদিকে যখন প্রতিরক্ষা খাতে বাজেট বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই লক্ষ কোটি রুপি, তখন অন্যদিকে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির মাত্র ০.৮ শতাংশ। বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের চাপ ও আঞ্চলিক সামরিক অসাম্য পাকিস্তানকে বাধ্য করছে প্রতিরক্ষা খাতে অগ্রাধিকার দিতে। ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়ন খাতগুলো উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে দেশটি আরও বড় মানবসম্পদ সংকটে পড়বে। শাহবাজ শরিফ সরকার ঘোষণা দিয়েছিল, ২০২৯ সালের মধ্যে জিডিপির ৪ শতাংশ শিক্ষায় ব্যয় করা হবে। কিন্তু অর্থনৈতিক দুর্দশা, ঋণের চাপ এবং ভারতের সঙ্গে সামরিক প্রতিযোগিতা সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তানের বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, শুধু প্রতিরক্ষা নয়Ñ ভারতের মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নিজেদের অবস্থান জোরদার করাও জরুরি। ভারতের ‘আঞ্চলিক নেতৃত্ব’ দাবি এবং হিন্দুত্ববাদী সরকার যেভাবে সীমান্তবর্তী দেশগুলোয় উত্তেজনা ছড়াচ্ছে, তা বিশ্ব সম্প্রদায়ের নজরে আনা দরকার। ডন।
গ্রীষ্মের প্রথম তাপদাহে নাকাল ইউরোপ
উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্ম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাপদাহে ঘেমে একাকার ইউরোপের মানুষ। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হতে থাকা এ মহাদেশের তাপমাত্রা ক্রমেই রেকর্ড ছাড়িয়ে ‘লাল সংকেতে’ পৌঁছাচ্ছে। মার্সেইতে থেকে এএফপি জানায়, ইতালির রাজধানী রোমে তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ওঠবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এতে হাজার হাজার পর্যটক ও ক্যাথলিক তীর্থযাত্রীরা একটু স্বস্তির খোঁজে নগরীর আড়াই হাজারের বেশি উন্মুক্ত পানির ঝর্ণার কাছে ভিড় জমাতে দেখা গেছে। ফ্রান্সের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মার্সেইতে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁইছুঁই করায় কর্তৃপক্ষ নগরবাসীদের জন্য পাবলিক সুইমিংপুল বিনামূল্যে খুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। পর্তুগালের দুই-তৃতীয়াংশ এলাকাজুড়ে গত ২৯ জুন রোববার চরম তাপদাহ ও বনাঞ্চলে অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কায় উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। রাজধানী লিসবনে তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১০৮ ফারেনহাইট) পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে।
ভেনিসে ইতালির এক শিক্ষার্থী স্রিয়ানে মিনা বলেন, গরম নিয়ে আমি বেশি ভাবি না। তবে প্রচুর পানি পান করি এবং কখনো রোদে স্থির হয়ে দাঁড়াই না। কারণ এতে সানস্ট্রোক হয়। স্পেনে বিগত কয়েক বছর ধরে প্রাণঘাতী দাবানলে দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে গত ২৯ জুন রোববার থেকে অধিকাংশ এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা বহুদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন, জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহার বিশ্বব্যাপী উষ্ণতা বাড়াচ্ছে, যার মারাত্মক প্রভাব পড়ছে পরিবেশের ওপর। এর সরাসরি ফল ইউরোপে দিন দিন বেড়ে চলা প্রচণ্ড গ্রীষ্মকালীন তাপদাহ। ইউরোপে দিন দিন উষ্ণতা রেকর্ড পরিমাণে বাড়ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপারনিকাস জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানায়, ২০২৫ সালের মার্চ ছিল ইউরোপের ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঘূর্ণিঝড়, খরা, বন্যা ও তাপদাহসহ নানা চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়ে উঠছে বলে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন। কারো কারো মতে, ২০২৪ সাল ছিল ইউরোপের ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ বছর। এর প্রভাবে বৈশ্বিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ছিল ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি। এএফপি।
চীনে ২০টি নতুন ভাইরাস শনাক্ত
মহামারি-পরবর্তী বিশ্বে নতুন ভাইরাস নিয়ে মানুষের উদ্বেগ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি। এমন এক সময়ে চীনে ফের নতুন ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার খবর বিজ্ঞানীদের মাঝে সতর্কতা বাড়িয়েছে। সম্প্রতি চীনের ইউনান প্রদেশে বাদুড়ের শরীর থেকে ২০টি নতুন ভাইরাসের সন্ধান পাওয়া গেছে, যার মধ্যে অন্তত দুটি মারাত্মক ভাইরাস হেন্দ্রা ও নিপাহ-র ঘনিষ্ঠ জেনেটিক আত্মীয়। এ গবেষণাটি পরিচালিত হয় ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে। বিজ্ঞানীরা ইউনান প্রদেশের ১৪২টি বাদুড়ের কিডনি (বৃক্ক) থেকে সংগৃহীত নমুনার ওপর জেনেটিক বিশ্লেষণ চালিয়ে ভাইরাসগুলোর অস্তিত্ব শনাক্ত করেন। গবেষণাটি সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী চখঙঝ চধঃযড়মবহং-এ প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণার মূল উদ্দেশ্য ছিল বাদুড়-ভিত্তিক ভাইরাস সংক্রমণের উৎস ও ভবিষ্যতের সম্ভাব্য মহামারীর ঝুঁকি নির্ধারণ করা।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, বাদুড়ের দেহ থেকে নতুনভাবে শনাক্ত ২০টি ভাইরাসের মধ্যে কয়েকটি আগে কখনো দেখা যায়নি। এর মধ্যে দুটি ভাইরাস জিনগতভাবে মারাত্মক হেন্দ্রা ও নিপাহ ভাইরাসের ঘনিষ্ঠ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এ ভাইরাসগুলোর কয়েকটি বাদুড়ের কিডনিতে পাওয়া গেছেÑ যা বিশেষভাবে উদ্বেগের কারণ। কারণ কিডনির মাধ্যমেই মূত্র তৈরি হয়। ফলে আক্রান্ত বাদুড় যদি ফলের বাগান বা পানির উৎসের কাছে মূত্র ত্যাগ করে, তাহলে সেই ফল বা পানি ভাইরাসে দূষিত হতে পারে। এ দূষিত খাবার বা পানি গ্রহণ করলে মানুষের শরীরে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, বাদুড়ের শরীরে ভাইরাস ছাড়াও কিছু ব্যাকটেরিয়া এবং এক ধরনের নতুন পরজীবীও পাওয়া গেছেÑ যেগুলো পূর্বে বিজ্ঞানীদের অজানা ছিল। এসব সংক্রামক জীবের উপস্থিতি মানবদেহে সংক্রমণের নতুন পথ উন্মুক্ত করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে গবেষকরা এটাও বলছেন, আপাতত এ ভাইরাসগুলো নিয়ে সরাসরি আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। কারণ এখন পর্যন্ত সেগুলোর সংক্রমণ ক্ষমতা মানবদেহে কতটা তাৎপর্যপূর্ণ, তা স্পষ্ট নয়। তবে সতর্কতা ও প্রস্তুতির কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে হেন্দ্রা ও নিপাহ ভাইরাসের মতো ভাইরাস অতীতে প্রাণঘাতী প্রভাব ফেলেছে, তাই এগুলোর জেনেটিক ঘনিষ্ঠদের প্রতি সতর্ক নজর রাখা জরুরি। এনডিটিভি।
সুদানে স্বর্ণখনি ধসে ৫০ জন নিহত
উত্তর আফ্রিকার যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ সুদানের পূর্বাঞ্চলে হাওয়াইদ মরুভূমি এলাকায় একটি ঐতিহ্যবাহী সোনার খনির আংশিক ধসে অন্তত ৫০ জন খনি শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও সাতজন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে সুদানের দৈনিক আল রাকোবা জানিয়েছে, গত ২৯ জুন রোববার সকালের দিকে খনির একটি অংশে বিপুল পরিমাণে পাথও ও বালি ধসে পড়ে। এতে সেখানে কর্মরত শ্রমিকরা আটকা পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর খনির অন্যান্য অংশের শ্রমিক এবং স্থানীয় লোকজনের তৎপরতায় ঘটনাস্থল থেকে কয়েক জনকে উদ্ধার করা হয়। এরপর আসে উদ্ধারকারী বাহিনী। তবে তাদের কাছে ভারী যন্ত্রপাতি না থাকায় ধ্বংস্তূপে আটকা পড়া সবাইকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। যারা আটকা পড়েছেন, তাদের সবাই নিহত বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং এ সংখ্যা অন্তত ৫০ জন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খনিটিতে শ্রমিকদের নিরাপত্তার জন্য কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি এবং ২ মাস আগেও খনিটিতে একবার ধস নেমেছিল। তবে সেবার কেউ নিহত হননি। সুদান বিশ্বের বৃহত্তম স্বর্ণ রপ্তানিকারী দেশ। দেশটির বিভিন্ন খনিতে স্বর্ণের মজুদও বিপুল। তবে অধিকাংশ খনিতে শ্রমিকদের নিরপত্তা নিশ্চিতে ন্যূনতম ব্যবস্থা না থাকা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুদানের সরকারের ব্যাপক সমালোচনা আছে। আনাদলু এজেন্সি।
মালয়েশিয়ায় সৌদি হজমন্ত্রী আল-রাবিয়া ‘বর্ষসেরা ব্যক্তিত্ব’ হিসেবে মনোনীত
মালয়েশিয়ার বাদশাহ ইব্রাহিম বিন ইসকান্দার সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রী ড. তৌফিক আল-রাবিয়াকে সম্মানজনক হিজরা ব্যক্তিত্বের বর্ষসেরা পুরস্কার প্রদান করেছেন। এ আন্তর্জাতিক পুরস্কার, যা ‘নবীর হিজরা পুরস্কার’ নামেও পরিচিত। হজ ও ওমরাহ অভিজ্ঞতা বৃদ্ধিতে সৌদি আরবের অগ্রণী ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ প্রদান করা হয়েছে। সৌদি গেজেট ‘একটি সুনাগরিক ভিত্তিক জাতি গঠন’ প্রতিপাদ্য নিয়ে বাদশাহ ইব্রাহিম বিন ইসকান্দারের পৃষ্ঠপোষকতায় ১৪৪৭ হিজরী নববর্ষ উদযাপনের জন্য কুয়ালালামপুরে একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে এ সম্মান প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানটি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী ড. মোহাম্মদ নাঈম বিন হাজি মোখতারের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়। বার্ষিক পুরস্কারটি দুই ব্যক্তিকে স্বীকৃতি দেয়, একজন মালয়েশিয়ান এবং একজন আন্তর্জাতিক, যাদের অবদান তাদের সম্প্রদায়ের ওপর, বিশেষ করে ইসলামী মূল্যবোধ প্রচার এবং মুসলিম জাতির সেবায় উল্লেখযোগ্য এবং ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। হজ ও ওমরাহ পরিষেবা আধুনিকীকরণ এবং বিশ্বব্যাপী হজযাত্রীদের সামগ্রিক অভিজ্ঞতা বৃদ্ধিতে রাজ্যের রূপান্তরমূলক প্রচেষ্টার জন্য ড. আল-রাবিয়াকে সম্মানিত করা হয়েছে। এ পুরস্কারটি মালয়েশিয়ার অন্যতম বিশিষ্ট জাতীয় সম্মান এবং ঐতিহ্যগতভাবে নবীর হিজরতের বার্ষিকীর সাথে একত্রে প্রদান করা হয়। সৌদি গেজেট।
ইউক্রেনের অস্ত্র উৎপাদন কারখানাগুলোয় রাশিয়ার বড় হামলা
ইউক্রেনের অস্ত্র উৎপাদন কারখানাগুলো লক্ষ করে গত ২৯ জুন রোববার রাতভর ব্যাপক হামলা চালিয়েছে রুশ সেনাবাহিনী। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে এ তথ্য। গত ৩০ জুন সোমবার এক বিবৃতিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের অস্ত্র উৎপাদন ও তেল পরিশোধন কারখানাগুলোকে লক্ষ করে গত ২৯ জুন রোববার রাতভর শব্দের চেয়ে দ্রুতগতি সম্পন্ন কিঞ্জহাল ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিস্ফোরকবাহী ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে। কতসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে, তা বলা হয়নি রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে। তেমনি এসব নিক্ষেপের ফলে ক্ষয়ক্ষতি কী পরিমাণ হয়েছে, তাও উল্লেখ করা হয়নি। তবে এক বিবৃতিতে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, রোববার রাতভর ২০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র এবং অন্তত ৪০টি বিস্ফোরক ড্রোন সামরিক বাহিনীর এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমকে ফাঁকি দিয়ে ইউক্রেনে প্রবেশ করেছে।
তবে হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখ করেনি ইউক্রেনের সেনাবাহিনীও। পশ্চিম ইউক্রেনের দ্রোহোবিচ শহরের সেনাবাহিনীর শীর্ষ কমান্ডার স্টেফান কুলিনায়াক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করা এক বার্তায় বলেছেন, রুশ হামলায় একটি সামরিক কারখানায় আগুন ধরা ছাড়া আর কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক বেশি। ২০১৫ সালে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে স্বাক্ষরিত মিনস্ক চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে ইউক্রেনের স্বীকৃতি প্রদান না করা, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্যপদের জন্য ইউক্রেনের তদবির প্রভৃতি নানা ইস্যুতে কয়েক বছর টানাপড়েন চলার পর ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে অভিযান শুরু করে রুশ বাহিনী। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন এ অভিযানের নির্দেশ দিয়েছিলেন। আরটি।
ভয়াবহ মাদক গাজায় মার্কিন-ইসরাইলি ত্রাণে
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সহায়তায় পরিচালিত ত্রাণ সংস্থা গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের (জিএইচএফ) বিতরণ করা আটার ব্যাগে শক্তিশালী মাদক অক্সিকোডন বড়ি পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস এ ঘটনাকে ‘জঘন্য অপরাধ’ আখ্যা দিয়েছে ও এর মাধ্যমে ফিলিস্তিনি জাতিকে ভেতর থেকে ধ্বংস করে দেওয়ার পরিকল্পনার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। এক বিবৃতিতে গাজা কর্তৃপক্ষ বলে, আমরা এখন পর্যন্ত অন্তত চারজন নাগরিকের সাক্ষ্য রেকর্ড করেছি, যারা বিতরণকৃত আটার বস্তায় এ বড়িগুলো খুঁজে পেয়েছেন। তারা সতর্ক করে বলেন, সম্ভাবনা আছে যে, এ মাদকদ্রব্যগুলো আটার মধ্যে গুঁড়া বা দ্রবীভূত করে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। অক্সিকোডন একটি শক্তিশালী ওপিওয়েড ওষুধ, যা সাধারণত ক্যানসারের মতো দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র ব্যথা কমাতে ব্যবহৃত হয়। তবে এটি অত্যন্ত নেশার প্রবণতা সৃষ্টি করে ও অনিয়ন্ত্রিত সেবনে শ্বাস-প্রশ্বাসের জটিলতা, বিভ্রম ও এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে। বিষয়টি প্রথম আলোচনায় আসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কিছু ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর, যেখানে দেখা যায়Ñ আটার ব্যাগের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসছে ছোট ছোট সাদা বড়ি। গাজার ফার্মাসিস্ট ওমর হামাদ বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড জাতিগত নিধনের সবচেয়ে নিকৃষ্ট রূপ। তিনি মনে করেন, এটি একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কৌশল, যার লক্ষ্য ফিলিস্তিনিদের ধ্বংস করে দেওয়া। ফিলিস্তিনি চিকিৎসক খালিল মাজেন আবু নাদা ফেসবুকে লিখেছেন, এ মাদক আমাদের সামাজিক চেতনা ধ্বংসের হাতিয়ার। তিনি এ ঘটনাকে একটি সুপরিকল্পিত মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ হিসেবে অভিহিত করেন। গাজার মিডিয়া অফিস এ ঘটনায় ইসরাইলকে সম্পূর্ণভাবে দায়ী করছে। তাদের দাবি, ইসরাইল অবরোধের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এসব পদার্থকে সাহায্যের আড়ালে গাজায় পাঠাচ্ছে। এদিকে এ অভিযোগ ঘিরে আবারও বিতর্কে পড়েছে জিএইচএফ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এ বিতরণ সংস্থা গাজায় খাদ্য সহায়তা সরবরাহ করছে। সংস্থাটির বিরুদ্ধে মানবাধিকার সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করে আসছে। মাত্র কয়েকদিন আগেই ১৫টি মানবাধিকার ও আইন বিষয়ক সংগঠন এক যৌথ বিবৃতিতে জিএইচএফের কার্যক্রম স্থগিত করার আহ্বান জানায়। তারা সংস্থাটিকে ‘আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোকে অকার্যকর করে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার কাজে সহায়তা করার’ অভিযোগ তোলে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধ, মানববিরোধী অপরাধ বা জাতিগত নিধনের পর্যায়ে পড়ে বলেও উল্লেখ করা হয়। আরও ভয়াবহ বিষয় হলো, জিএইচএফ পরিচালিত সহায়তা পয়েন্টগুলোয় গত এক মাসে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৫১৬ ফিলিস্তিনি। ইসরাইলি দৈনিক হারেৎজ জানায়, সেখানে দায়িত্বরত সেনারা নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের লক্ষ করে গুলি চালানোর কথা স্বীকার করেছেন। মিডল ইস্ট আই।
৮ ভারতীয় জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে শ্রীলঙ্কা
শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী রামেশ্বরমের ৮ জন ভারতীয় জেলেকে অবৈধভাবে শ্রীলঙ্কার নৌসীমায় মাছ ধরার অভিযোগে আটক ও একটি ট্রলার জব্দ করেছে। জানা গেছে, আটক জেলেদের শ্রীলঙ্কার তালাইমান্নার নৌবাহিনীর ঘাঁটিতে নেওয়া হচ্ছে। ভারতের মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ২৮ জুন শনিবার ৪৬৬টি নৌকার জন্য অনুমোদন টোকেন ইস্যু করা হয়েছিল। ভারকোডু, মন্দপম ও রামেশ্বরম এলাকা থেকে জেলেরা সমুদ্রে যান। আটকের খবরে এলাকায় জেলেদের পরিবারে আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এক জেলে বলেন, মাত্র ১৫ জুন দুই মাসের বার্ষিক নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে। এটা আমাদের জেলেদের মাত্র চতুর্থ সমুদ্রযাত্রা। অথচ মিথ্যা অভিযোগে শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী আমাদের লোকদের ধরে নিয়ে গেলো। জেলেদের সংগঠনের নেতা জে. আর. যীশু রাজা বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে গভীরভাবে আলোচনা করতে হবে এবং স্থায়ী সমাধান আনতে হবে। আন্দোলনে আমরা ক্লান্ত, মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। অ্যান্টনি নামে এক যান্ত্রিক ট্রলারের চালক জানান, সম্প্রতি শ্রীলঙ্কা সরকার চড়া জরিমানা আরোপ করছে এবং পুনরাবৃত্তির নামে জেলেও পাঠাচ্ছে। অথচ এই অঞ্চলের জেলেরা ঐতিহাসিকভাবে পক প্রণালীতে মাছ ধরেই জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। তিনি বলেন, এসব ঘটনা আমাদের বিপাকে ফেলছে। ঋণের বোঝা বাড়ছে। আর সরকার যদি চুপ করে থাকে, তাহলে হয়তো কাজ বন্ধ করে বসে থাকা ছাড়া উপায় থাকবে না। দ্য হিন্দু।
থাইল্যান্ডে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ
থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রার পদত্যাগের দাবিতে গত শনিবার (২৮ জুন) দেশটির রাজধানী ব্যাংককে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। প্রতিবেশী দেশ কম্বোডিয়ার সাথে সীমান্ত বিরোধ নিয়ে থাই প্রধানমন্ত্রীর একটি ফোনালাপ ফাঁসের পর সেখানে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যেই নানা সংকটে চাপে থাকা পেতংতার্নের জোট সরকার ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা আরো বেড়েছে। দেশটিতে ২০২৩ সালে ফিউ থাই দল ক্ষমতা গ্রহণের পর এটাই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ। ভারী বর্ষণের মধ্যেই হাজার হাজার মানুষ থাই প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে রাস্তায় নামেন। ৩৮ বছর বয়সী পেতংতার্ন আগামী মাসে সম্ভাব্য অনাস্থা ভোটের আগে একটি স্থবির অর্থনীতি চাঙা করতে এবং একটি দুর্বল জোট সরকারের ঐক্য টিকিয়ে রাখার জন্য লড়াই করছেন। বিক্ষোভের অন্যতম নেতা পার্নথেপ পোরপংপান বলেন, ‘তার সরে দাঁড়ানো উচিত। কারণ তিনিই সমস্যার মূল।’ তিনি আরো বলেন, থাইল্যান্ডের অনেকেই মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী ও তার প্রভাবশালী বাবা থাকসিন সিনাওয়াত্রাকে কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেন নিজের স্বার্থে ব্যবহার করছেন।
গত মে মাসে সীমান্তের একটি বিতর্কিত অঞ্চল নিয়ে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সেনাদের সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে সর্বশেষ বিরোধ শুরু হয়। এরই মধ্যে থাই প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্নের কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের সাথে একটি ফোনালাপ ফাঁস হলে পরিস্থিতির অবনতি হয়। ওই ফোনালাপে পেতংতার্ন থাইল্যান্ডের এক সেনা কর্মকর্তার সমালোচনা করেন এবং হুন সেনের প্রতি অতিমাত্রায় নমনীয় আচরণ করেন বলে জনগণের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়। এর জেরে থাই জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলো পেতংতার্নকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানায়। থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে দেশটির সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরেই ব্যাপক প্রভাব বজায় রেখে আসছে। ফলে সেখানে সেনাবাহিনীর প্রকাশ্যে সমালোচনার সুযোগ নেই বললেই চলে। ফোনালাপটি ফাঁস হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন দুঃখ প্রকাশ করেন। ফাঁস হওয়া ফোন কলের ঘটনায় সাংবিধানিক আদালত এবং একটি জাতীয় দুর্নীতি বিরোধী সংস্থার কাছে সিনেটরদের একটি অংশ আবেদন করার পর, পেতংতার্ন বিচার বিভাগীয় তদন্তের মুখোমুখি হন। উভয় সংস্থার সিদ্ধান্তই তাকে অপসারণের দিকে পরিচালিত করতে পারে। রয়টার্স।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান