সাতক্ষীরায় সৌরভ ছড়াচ্ছে আমের মুকুল


৬ মার্চ ২০২৫ ১২:৪৪

সাতক্ষীরা সংবাদদাতা: ঋতুরাজ বসন্তের বার্তা নিয়ে সাতক্ষীরায় সৌরভ ছড়াচ্ছে আমের মুকুল। আমের মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণে এখনই ম-ম করতে শুরু করেছে চারদিক। শহর, গ্রাম সব জায়গাতেই সমানতালে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে স্বর্ণালী মুকুল। ঋতুবৈচিত্র্যে আমের শহর সাতক্ষীরার সবুজ প্রকৃতিও সেজেছে একইভাবে। বছরের নির্দিষ্ট এ সময়জুড়ে তাই চাষি তো বটেই, কমবেশি সব শ্রেণির মানুষেরও দৃষ্টি থাকে সবুজ পাতায় ঢাকা আমগাছের শাখা-প্রশাখায়। সদ্য মুকুল ফোটার এমন দৃশ্য এখন ইটপাথরের শহর থেকে শুরু করে বিস্তৃত সাতক্ষীরার গ্রামীণ জনপদেও। জেলার প্রায় সব এলাকায়ই এখন প্রচুর আমবাগান রয়েছে। বসন্তের শুরুতেই এসব বাগানে আমগাছ ভরে গেছে মুকুলে। সহজ চাষ পদ্ধতি ও তুলনামূলক কম পরিচর্যায় লাভজনক হওয়ায় প্রতিনিয়তই বাড়ছে সাতক্ষীরায় আমের চাষ। এ জেলার আমের সুনাম রয়েছে ইউরোপে। এবারও ইউরোপের বাজারে রপ্তানি হবে সাতক্ষীরার আম। গত ১০ বছর ধরে সাতক্ষীরা থেকে এ আম রপ্তানি হচ্ছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। বিশেষ করে ইতালিতে এ আমের কদর অনেক বেশি। ‘সাতক্ষীরা ব্র্যান্ড’ নামে পরিচিত সাতক্ষীরার রপ্তানিযোগ্য আম এবারও যাচ্ছে ইউরোপের দেশ ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন ও যুক্তরাজ্যে।
সাতক্ষীরায় উৎপাদিত আমের মধ্যে হিমসাগর, ল্যাংড়া, গোবিন্দভোগ, আম্রপালি, মল্লিকা, সিঁদুররাঙা, ফজলি, কাঁচামিঠা, বোম্বাই উল্লেখযোগ্য। সাতক্ষীরায় উৎপাদিত আম গুণে-মানে ও স্বাদে অনন্য। এছাড়া মাটি, আবহাওয়া ও পরিবেশগত কারণে এখানকার বাগানের আম অন্যান্য জেলার তুলনায় অনেক আগে পাকে।
সাতক্ষীরা সদরের ইটাগাছা গ্রামের কৃষক অজিত আলী বলেন, ১১ বিঘা জমিতে শতাধিক আমগাছ রয়েছে। এবার মাঘ মাসের প্রথম থেকেই আমগাছে মুকুল ধরা শুরু করে। কিছুদিনের মধ্যেই অধিকাংশ গাছে মুকুল ভরে যাবে বলে তিনি আশাবাদী। তিনি জানান, এবার কুয়াশা না হওয়ায় মুকুল নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে কাক্সিক্ষত আমের ফলনের লক্ষ্যে শুরু থেকেই গাছ ও মুকুলের পরিচর্যা করছেন তিনি।
তালা উপজেলার খলিষখালি এলাকার মুক্তাদির হোসেন লিমন বলেন, গাছে যে পরিমাণ মুকুল ধরেছে, তাতে মৌমাছি বসায় তাড়াতাড়ি গুটি ধরবে। গুটি যাতে ঝরে না যায়, সেজন্য গাছের গোড়ায় পানি দেয়ার পাশপাশি স্প্রে করা হচ্ছে হরমোন ও ডিডিটি। তার বাগানে হিমসাগর, ল্যাংড়া, গোপালভোগ আম গাছ রয়েছে। প্রাকৃতিক বিপর্যয় না হলে গত বারের তুলনায় ফলন বেশি হবে।
বাগান মালিকরা জানান, মুকুল আসার পর থেকেই তারা গাছের প্রাথমিক পরিচর্যা শুরু করেছেন। মুকুল রোগ-বালাইয়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ স্প্রে করছেন তারা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. সাইফুল ইসলাম জানান, এ বছর সাতক্ষীরায় ৪১২০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হচ্ছে। কম যায় না বাড়িতে বাড়িতে লাগানো গাছগুলো। সব মিলিয়ে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা প্রকাশ করছেন চাষিরা। ইতোমধ্যে এসব গাছে মুকুল আসা শুরু হয়েছে। বসন্তের শুরুতে কিছু গাছের মুকুল ফুটতে শুরু করেছে। ঘন কুয়াশা বেশিদিন স্থায়ী না হওয়ায় ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় যা মুকুল বের হবে প্রায় সবই টিকে যাবে। তবে আম রপ্তানির বিষয়ে তিনি জানান, রপ্তানির জন্য এখনো আমের বাগান নির্ধারণ করা হয়নি। পরবর্তী সভায় সব ঠিক হবে।