একটি ব্রিজের অভাবে অর্ধশত গ্রামের মানুষের ভোগান্তি
২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৬:০০
মিনাজুল ইসলাম, বগুড়া: মাত্র একটি ব্রিজের অভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার অর্ধশত গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ। কোনোমতে বাঁশের ব্রিজের ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়েই পারাপার হচ্ছেন তারা। দীর্ঘদিন ধরে একটি ব্রিজের দাবি জানিয়ে জনপ্রতিনিধি ও সরকারি দফতরের অফিসে ধরনা দিয়েও কোনো সুফল পাননি ভুক্তভোগীরা। উপজেলার হলিদাবগা বাঙালি নদীর বাঁশের ব্রিজের ওপর দিয়ে অর্ধশত গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করেন। এছাড়া ওই এলাকার কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে প্রায় ১৪-১৫ কিলোমিটার ঘুরে হাট-বাজারে নিয়ে যেতে হয়। শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যেতে বাড়তি অর্থ এবং সময় ব্যয় করতে হয়। প্রয়োজনের তাগিদে স্থানীয়রাই ৩০০ মিটার বাঁশের ব্রিজ তৈরি করে কোনোরকমে যাতায়াতের ব্যবস্থা করে নিয়েছেন। দীর্ঘদিনের দাবিকৃত এ বাঁশের ব্রিজ দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করলেও আজও সুনজর পড়েনি এলজিইডি কর্তৃপক্ষের। ফলে লক্ষাধিক মানুষের সেতুবন্ধন অধরাই রয়ে গেছে।
অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য নজরুল ইসলাম জানান, সরকারের কোনো পদক্ষেপ না থাকায় এলাকার মানুষের প্রচেষ্টায় নিজেরাই ৩০০ মিটার বাঁশের ব্রিজ করা হয়েছে। এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ব্রিজ নির্মাণের। ব্রিজ নির্মাণ করা হলে শিক্ষার পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও লক্ষাধিক মানুষের দুর্ভোগ কমবে বলে জানান স্থানীয়রা।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী বলেন, ব্রিজটি হলে একদিকে বগুড়া শহরের সঙ্গে এ অঞ্চলের মানুষের দূরত্ব কমবে; অন্যদিকে লাখ লাখ টাকা গাড়ি ভাড়া বেঁচে যাবে। এছাড়া হাজার হাজার মণ সবজি রপ্তানি করে লাভবান হবে চরাঞ্চলের মানুষ। নতুন এক দ্বার উন্মোচন হবে এ অঞ্চলের মানুষের।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্বীকৃতি প্রামাণিক বলেন, ব্রিজটি হওয়া অতি জরুরি। ইতোমধ্যে উপজেলা প্রকৌশলীর মাধ্যমে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এছাড়া বিষয়টি নিয়ে এলজিআরডিসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। সবার প্রচেষ্টায় ব্রিজটি হলে এ অঞ্চলের মানুষের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন হবে।