সুষ্ঠু-সুন্দর ভোট উপহারে তৎপর ইসি


১৬ জানুয়ারি ২০২৫ ১৮:৪৯

# জাতিসংঘের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক
# নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রস্তুতে কঠোর
স্টাফ রিপোর্টার : নিরপেক্ষ ও সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনে তৎপর নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইতোমধ্যে নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশনা দিয়ে রেখেছে ইসি। সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের কাজ তদারকিও করছে কমিশন। নির্বাচন কমিশনাররা বিভিন্ন জেলায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও নির্দেশনা দিচ্ছেন। নির্বাচন কখন হবে, সেটি এখনো রাজনৈতিকভাবে চূড়ান্ত না হলেও কমিশন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দেয়া সম্ভাব্য সময়সীমা মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছে। দেশি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা এবং প্রতিষ্ঠানের বৈঠকও শুরু করেছে ইসি। এছাড়া অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে বৈঠক করে পরামর্শ নেবে কমিশন।
ঢাকায় সফররত জাতিসংঘের ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে গত ১৪ জানুয়ারি মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করতে নির্বাচন কমিশনের সামনে কী কী চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তা জানতে চেয়েছে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন কী ধরনের সহায়তা চায়, তা-ও জানতে চেয়েছে জাতিসংঘের প্রতিনিধিদল। এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা তাদের জানিয়েছেন, নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে। নির্বাচনব্যবস্থায় সংস্কারের ওপর নির্ভর করছে সামনে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ আসছে। ওই বৈঠকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনে জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) আওতায় ইসি যেসব কারিগরি ও অন্যান্য সহায়তা চেয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রথমে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দীন, পরে সিইসি ও চার নির্বাচন কমিশনার এবং ইসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করে জাতিসংঘ প্রতিনিধি দল। পরে তারা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যান। সফররত ওই প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গোয়েন লুইস উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকের পর নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দেয়া উইন্ডোর (সময়ের) ভেতর আমরা জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ইউএনডিপির কাছে কমিশনের সহায়তা চাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এ সহায়তার মধ্যে রয়েছে হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার সংক্রান্ত প্রযুক্তি, সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ ও যোগাযোগ উপকরণের উন্নয়নের মতো কিছু বিষয়। প্রতিনিধিদলটি এসব প্রয়োজনীয়তা পর্যালোচনা করতেই (বাংলাদেশে) এসেছে। তিনি আরও বলেন, তারা আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন, অন্য অংশীজনদের সঙ্গেও কথা বলবেন। এরপর ১০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনের বিষয়ে একটি প্রস্তাব তারা আমাদের সামনে উপস্থাপন করবেন। অপরদিকে গোয়েন লুইস বলেন, জাতিসংঘ কারিগরি সহায়তা দেয়ার আগেই নির্বাচন কমিশন জাতিসংঘকে চিঠি দিয়ে সহায়তা চেয়েছে। ফলে এ ব্যাপারে আমাদের প্রয়োজনীয়তা নিরূপণ করা দরকার।
ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ খুব সতর্কতার সঙ্গে এবং নির্ভুলভাবে করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা রয়েছে কমিশনের। গত ১৩ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ‘ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়ার চ্যালেঞ্জ এবং চ্যালেঞ্জ উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালায় বলেন, ‘আসুন, আমরা সবাই মিলে এ জাতিকে একটা ভালো ভোটার তালিকা উপহার দেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে দেখতে গিয়ে তাদের দেশপ্রেমের কমিটমেন্ট দেখে আমরা অভিভূত। তারা আমাদের বলেছে, আপনারা নির্বাচন কমিশনার হয়ে আসছেন, আমরা খুশি। কিন্তু ভালো ভোট যদি উপহার দিতে না পারেন, আপনাদেরও আমরা ছাড়ব না, তারা এটা আমাদের সরাসরি বলেছে। তারা নির্ভেজাল গণতন্ত্র চায়। ভালো নির্বাচন না হলে তারা আবারও আন্দোলনে নামবে বলেও আমাদের জানিয়ে দিয়েছে। তাই শত প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েও জাতির স্বার্থে একটি সুষ্ঠু-সুন্দর নির্বাচন উপহার দেয়ার জন্য কাজ করতে হবে। আমি আশা করি, সবাই সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করলে একটি সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দেয়া সম্ভব হবে।’
নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়ার চ্যালেঞ্জ একটাই, সেটা হলো মনকে ঠিক করা। উদ্দেশ্য মহৎ থাকলে চ্যালেঞ্জ কোনো কিছু না। ১ শতাংশ ত্রুটিও যদি নির্বাচন কমিশনের থাকে, সেটি থাকা উচিত নয়। জনগণের থাকতে পারে, বুঝে হোক না বুঝে হোক, বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নেয়ার জন্য হোকÑ এটা তারা করবেই। দালালমুক্ত করা এটা কোনো কঠিন কাজ নয়। সাবধান করে দিচ্ছি, এটি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে, আমাদের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করতে হবে।’
আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘এনআইডি নিয়ে বিগত দিনে অনেক বদনাম আছে। তাই আমাদের সতর্কতার সঙ্গে নির্ভুল ভোটার লিস্ট করতে হবে। জাতিকে ভালো ও নির্ভেজাল ভোটার তালিকা উপহার দেয়ার জন্য নির্বাচন কমিশন কাজ করে যাচ্ছে।’ ৩৫ লাখ নতুন ভোটার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘ভালো একটি নির্বাচন করার জন্য আমাদের যা যা করা দরকার, আমাদের তাই করতে হবে।