সার্বভৌমত্ব বিনষ্টে ভারতীয় ও আওয়ামী অপচেষ্টা

সতর্ক বাংলাদেশ

জামশেদ মেহ্দী
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১২:৪৬

বাংলাদেশের সব মানুষই জানতেন, ভারত জুলাই-আগস্টের বিপ্লবকে মেনে নিতে পারেনি। এর প্রথম প্রমাণ পাওয়া যায় গত বছর সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে। ওই অধিবেশনে ভারতের সরকারপ্রধান হিসেবে নরেন্দ্র মোদি যেমন যোগদান করেছিলেন, তেমনি যোগদান করেছিলেন বাংলাদেশের সরকারপ্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ড. ইউনূস শুরুতে যথেষ্ট উদারতা দেখিয়েছিলেন। ভারত আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী। সেজন্য ড. ইউনূস ভারতের সাথে সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক রাখতে চেয়েছিলেন। তাই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের পূর্বাহ্নে বাংলাদেশ সরকার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি লিখেছিল, ড. ইউনূস নিউইয়র্কে জাতিসংঘ অধিবেশনের সাইডলাইনে নরেন্দ্র মোদির সাথে দেখা করতে চান। গভীর পরিতাপের বিষয়, ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঐ চিঠির কোনো জবাব দেয়নি। এরপর জাতিসংঘে ড. ইউনূস যোগদান করলেও নরেন্দ্র মোদি তার সাথে দেখা করেননি। এরপর ভারতের সাথে সদ্ভাব বজায় রাখার আর কোনো রাস্তা ছিল না।
ওপরে উল্লেখিত ঘটনার মাধ্যমে বোঝা গেল যে, ভারত সরকার ড. ইউনূসকে মেনে নিতে পারেনি। কিন্তু ভারতের সাধারণ মানুষের মনোভাব কী ছিল? যে মমতা ব্যানার্জিকে বাংলাদেশের মানুষ একসময় অগ্নিকন্যা মনে করতো, সেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও বাংলাদেশবিরোধী প্রোপাগান্ডায় প্রভাবিত হয়ে ড. ইউনূস সরকারবিরোধী অবস্থান গ্রহণ করেন। তিনি এতদূরও বলেন, বাংলাদেশে নাকি হিন্দু নির্যাতন চলছে। এজন্য তিনি বাংলাদেশে জাতিসংঘ বাহিনী পাঠানোর আবদার জানান। অন্যদিকে ভারতীয় মিডিয়া বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রীতিমতো মারমুখী ভূমিকা গ্রহণ করে। ‘দি ওয়াল’, ‘দি রিপাবলিক বাংলা’, ‘দি প্রিন্ট’, এমনকি ‘হিন্দুস্তান টাইমসের’ মতো প্রভাবশালী দৈনিকও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিষোদ্গারে শামিল হয়। তাদের রাগ, শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগকে কেন বাংলাদেশ থেকে তাড়ানো হলো।
ভাবতে অবাক লাগে যে, ভারত নিজেকে বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ বলে দাবি করে। অথচ তারা বাংলাদেশের সাড়ে ১৭ কোটি মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত গণঅভ্যুত্থানকে সমর্থন তো করেই না, বরং এ বিপ্লব বা অভ্যুত্থানকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বলে অনবরত প্রচার চালাতে থাকে।
যদি এতটুকুর মধ্যে ভারতীয়রা সীমাবদ্ধ থাকতো, তাহলে কথা ছিল না। কিন্তু দেখা গেল, তারা ড. ইউনূস তথা বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতা চালানোর জন্য শেখ হাসিনাকে প্রত্যক্ষভাবে মদদ দেওয়া শুরু করে। অতীতে শেখ হাসিনা ভারতে বসে বাংলাদেশে আত্মগোপনকারী আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ এবং বিদেশে অবস্থানকারী প্রবাসী বাংলাদেশিদের সাথে টেলিফোনে কথা বলেন। এসব তো শুধুমাত্র কুশল বিনিময় ছিল না। শেখ হাসিনা আমেরিকা, ইংল্যান্ড প্রভৃতি দেশের বাংলাদেশি প্রবাসী আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সাথে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তাদের বাংলাদেশবিরোধী প্রচারণা চালানোর উসকানি দেন। এসব কথা আপনারা বিগত ৬ মাস ধরে শুনে এসেছেন।
ড. ইউনূস একজন উদারনৈতিক চিন্তাধারার ব্যক্তি। তিনি বাক, ব্যক্তি ও মতামত প্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। তিনি একজন লিবারেল ডেমোক্র্যাট। তাই তিনি প্রথম কয়েক মাস বাংলাদেশের অভ্যন্তরে যারা গোলমাল করছে, তাদের বিরুদ্ধে যেমন কোনো পদক্ষেপ নেননি, তেমনি বিদেশে বসে হাসিনা যে সরকারবিরোধী তৎপরতা চালাচ্ছে, সে ব্যাপারে ভারতের কাছে আপত্তি জানালেও কোনো কঠোর ভূমিকা গ্রহণ করেননি। ড. ইউনূসের এ উদার গণতান্ত্রিক অবস্থানকে ভারত এবং আওয়ামী লীগ দুর্বলতা হিসেবে পরিগণিত করে। ভারতীয় মদদে উৎসাহিত হয়ে গত ৫ ফেব্রুয়ারি শেখ হাসিনা বাংলাদেশের ছাত্রসমাজের প্রতি ভাষণ দেওয়ার ঘোষণা দেন। শুধু তাই নয়, ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এ কর্মসূচির মধ্যে ১৬ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে হরতাল করারও ঘোষণা দেন।
এর আগে কতগুলো ঘটনা ঘটে, যেগুলো ছিল সুনিশ্চিতভাবে বাংলাদেশ সরকারকে উসকানি দেওয়া। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় আওয়ামী লীগের লিফলেট বিতরণের সময় এক কর্মীকে আটকের জেরে পুলিশের সঙ্গে দলীয় নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গত ২৬ জানুয়ারি রোববার সন্ধ্যার পর টুঙ্গিপাড়া উপজেলার খান সাহেব শেখ মোশাররফ হোসেন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে এ ঘটনায় পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ আটজন আহত হয়েছেন। এ সময় পুলিশের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলাকালে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে এক পুলিশ সদস্যকে ঘেরাও করে রাখে। পরে খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নেতা-কর্মীদের শান্ত করে ওই পুলিশ সদস্যকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান।
অপর একটি ঘটনায় পাবনার সুজানগর উপজেলায় পুলিশের গাড়ি থামিয়ে বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগের এক নেতাকে ছিনিয়ে নেয়। গত ২ ফেব্রুয়ারি রোববার বিকেলে উপজেলার মথুরাপুর স্কুল মাঠে এ ঘটনা ঘটে। ছিনিয়ে নেওয়া ওই আওয়ামী লীগ নেতার নাম আবদুল ওহাব। তিনি সুজানগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। তিনি মথুরাপুর স্কুল গেট এলাকার বাসিন্দা। জেলা শহরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় বিস্ফোরক আইনে করা একটি মামলার আসামি তিনি।
অপর আরেকটি ঘটনায় ফরিদপুরে ‘শেখ হাসিনাতেই আস্থা’ শিরোনামে লিফলেট বিতরণকালে একজনকে আটক করেছে সদরপুর থানা-পুলিশ। গত ২ ফেব্রুয়ারি রোববার সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে সদরপুর উপজেলার চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের জয় বাংলা বাজার এলাকা থেকে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাকে আটক করা হয়। আটক ওই ব্যক্তির নাম প্রিন্স চৌধুরী (৪২)। তিনি উপজেলার চরবিষ্ণপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ চরবিষ্ণুপুর গ্রামের বাসিন্দা।
এর আগে টুঙ্গিপাড়ায় সেনাবাহিনীর গাড়িতে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীরা হামলা করে। পত্রিকান্তরের খবর মোতাবেক তারা সেনাবাহিনীর গাড়িতে আগুনও ধরিয়ে দেয়। তারপরও ড. ইউনূস সরকার আওয়ামী লীগ ও অন্য সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বড় কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। ইউনূস সরকারের উদারতায় লাই পেয়ে সাবেক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের গাজীপুরের বাড়িতে ৭ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার রাতে ‘ডাকাত পড়েছে, যার যা আছে, তা নিয়েই এগিয়ে আসুন’- এমন মিথ্যা ঘোষণা দেওয়া হয় মসজিদের মাইকে। এরপরই বৈষমবিরোধী ছাত্র-জনতার ওপর সশস্ত্র হামলা চালায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও জাহাঙ্গীর বাহিনীর সন্ত্রাসীরা। এতে ১৪ জন আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে শনিবার দিনভর উত্তাল ছিল গাজীপুর।
এরই মধ্যে ৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের সড়কে দুর্বৃত্তদের গুলিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী মোবাশ্বির হোসাইন (২৬) নামে এক যুবক আহত হন। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। এ লক্ষ্যে গাজীপুরের আওয়ামী লীগের পলাতক সন্ত্রাসীরা বেশ কয়েকদিন ধরে গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে জড়ো হয়। এই ঘটনার পর ৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়েছে অপারেশন ডেভিল হান্ট। যৌথ বাহিনীর এ অভিযানের তৃতীয় দিন মঙ্গলবার ৬০৭ জনসহ মোট ২ হাজার ৭৭৫ জন গ্রেফতার হয়েছে। পুলিশ একথা জানিয়েছে।
ভারতীয় মদদপুষ্ট হয়ে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের এটি ছিল চরম ঔদ্ধত্য। এর দুই দিন আগে ভারতীয় রিপোর্ট মোতাবেক নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ বাংলাদেশের ছাত্রসমাজের উদ্দেশে গত ৫ ফেব্রুয়ারি শেখ হাসিনার ভাষণদানের ঘোষণা দেয়। এ ঘোষণা বাংলাদেশের ছাত্র ও জনতার মধ্যে জমে থাকা ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দেয়। গত ৯ ফেব্রুয়ারি রোববার স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গণি বলেন, বিপ্লবে যারা পরাজিত হয়, তারা যদি ফ্যাসিস্ট হয়, তাহলে বিজয়ী পক্ষ পরাজিতদের কোনো চিহ্ন রাখেন না। জার্মানি এবং ইতালিতে পরাজিত নাৎসি এবং ফ্যাসিস্টদের সবরকম চিহ্ন যথা বাড়িঘর, অফিস প্রভৃতি ধ্বংস করা হয়। এমনকি তাদের পরিধেয় বস্ত্রসহ অন্য কোনো চিহ্ন থাকলে সেগুলোও নিশ্চিহ্ন করা হয়। হিটলারের জন্ম কিন্তু জার্মানিতে নয়। তার জন্ম হয় অস্ট্রিয়ায়। অস্ট্রিয়ায় তার ঘরবাড়ি ও সহায়-সম্পদ সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে। শুধু সেখানে নয়, সমগ্র ইউরোপে ফ্যাসিবাদ ও নাৎসিবাদের কোনো চিহ্নই আর অবশিষ্ট রাখা হয়নি। বিগত ৭৫ বছর হলো নাৎসিবাদ ও ফ্যাসিবাদ সারা ইউরোপে শুধুমাত্র নিষিদ্ধই নয়, বরং আকার-ইঙ্গিতেও যারা নব্য নাৎসিবাদ ও ফ্যাসিবাদ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন, তাদেরও ফ্যাসিবাদবিরোধী আইনে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মতো সর্বোচ্চ দণ্ড দেওয়া হয়।
ভারত যে এসব ঘটনা জানে না, তেমন নয়। অথচ গত ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে শেখ মুজিব এবং শেখ পরিবার ও আওয়ামী লীগের চিহ্নসমূহ মুছে ফেলার জন্য ছাত্র-জনতা দেশব্যাপী যে অভিযান চালায়, তার বিরুদ্ধে ভারত সক্রিয়ভাবে অবস্থান গ্রহণ করেছে। এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে তথাকথিত গণতান্ত্রিক ভারতের নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ। ভারতীয় হস্তক্ষেপের কয়েকটি উদাহরণ নিচে তুলে ধরছি। ভারত সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শেখ মুজিবের ৩২ নম্বরের বাড়ি ধ্বংস করার বিরুদ্ধে যে তথাকথিত প্রতিবাদ জানিয়েছে, তা নিম্নরূপ: In response to media queries regarding destruction of the historic residence of Sheikh Mujibur Rehman, the Official Spokesperson, Shri Randhir Jaiswal said:
ÒIt is regrettable that the historic residence of Sheikh Mujibur Rehman, a symbol of the heroic resistance of the people of Bangladesh against the forces of occupation and oppression, was destroyed on February 5, 2025. All those who value the freedom struggle that nurtured Bangla identity and pride are aware of the importance of this residence for the national consciousness of Bangladesh. This act of vandalism should be strongly condemned.
অর্থাৎ শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক বাসভবন ধ্বংসের ব্যাপারে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে সরকারি মুখপাত্র শ্রী রণধির জায়সয়াল বলেন, ‘অধিকৃত বাহিনী ও তাদের নিপীড়নের বিরুদ্ধে বীরোচিত প্রতিরোধের প্রতীক শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ধ্বংসের ঘটনা দুঃখজনক। গত ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ (ছাত্র-জনতা) বাড়িটি গুড়িয়ে দেয়। যারাই স্বাধীনতা সংগ্রামকে গুরুত্ব দেয় এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও গৌরব লালন করে তারা বাংলাদেশের জাতীয় ঐক্যের ক্ষেত্রে বাড়িটির গুরুত্ব কত তা জানেন। আমরা নৈরাজ্যকর কাজের কঠোর নিন্দা জানাচ্ছি।’
৩২ নম্বরের বাড়ি ধূলিসাৎ করার পর হিন্দুস্তান টাইমস শেখ হাসিনার প্রতিক্রিয়া ফলাও করে প্রকাশ করেছে। প্রতিক্রিয়াটি নিম্নরূপ: Bangladesh has become a land of terrorists and fighters, says Sheikh Hasina after demolition of residence of Sheikh Mujibur Rahman. Ms Hasina said the people of Bangladesh will do justice for the demolition of the house.
শেখ মুজিবের বাসভবন ধ্বংসের পর শেখ হাসিা বলেন, অর্থাৎ ‘বাংলাদেশ সন্ত্রাসী ও যোদ্ধাদের দেশে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের জনগণ এ বাসভবন ধ্বংসের বিচার করবে।’
ভারতের বহুল প্রচারিত ইংরেজি দৈনিক ‘দি টেলিগ্রাফ’ ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ঘটনায় পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের হাত আবিষ্কার করেছে। টেলিগ্রাফ লিখেছে, ISI hand in attacks on Awami addresses’. Multiple sources in the Indian security establishment and an insider in the Bangladesh armed forces told this newspaper that the latest round of lawlessness- which began with a bulldozer march to Rahman’s 32- Dhanmundi home that Hasina had turned into a museum – was planned by the ISI.
অর্থাৎ আওয়ামী লীগের ঠিকানায় হামলায় আইএসআই’র হাত রয়েছে। ভারতের বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা এবং বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ভেতরকার একটি সূত্র টেলিফোনে একথা জানিয়েছেন। তারা জানায়, আইএসআই’র পরিকল্পনায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বুলডোজার মিছিলের মাধ্যমে এ ধ্বংসের অভিযান শুরু করা হয়। ভবনটিকে হাসিনা জাদুঘরে পরিণত করেছিলেন।
ভারতীয়দের শেখ মুজিবকে নিয়ে এ মাতমে অনেকে শরিক হয়েছেন। এ ব্যাপারে বাংলাদেশে এক সময়ের ভারতীয় রাষ্ট্রদূত এবং পরবর্তীতে ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন, শেখ মুজিবের বাড়ি হলো স্বাধীনতার দুর্গ। এখানে বসেই পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে রণকৌশল প্রণয়ন করা হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের কাছে এ বাড়িটি একটি তীর্থস্থানের মতো।
যে শেখ মুজিবকে নিয়ে ভারত সরকার যে মাতম শুরু করেছে, সেই শেখ মুজিব সম্পর্কে বাংলাদেশের বর্ষীয়ান বুদ্ধিজীবী বদরুদ্দীন উমর যা বলেছেন সেটি দেখুন।
“শেখ মুজিবুর রহমান দুর্নীতি দমনমন্ত্রী হয়েও খুবই অশোভনভাবে স্বয়ং দুর্নীতিতে মদদ দিয়েছিলেন এবং সংক্ষিপ্ততম সময়ের মধ্যে যথেষ্ট অর্থ-সম্পদ রোজগার করেছিলেন। অচিরেই তিনি ধানমন্ডি আবাসিক এলাকায় একটা বড় বাড়ি তৈরি করেছিলেন এবং সেটা আদতে দুর্নীতির এক স্মারক।” [বদরুদ্দীন উমর, বাংলাদেশের অভ্যুদয়, ১ম খণ্ড, পূর্ব পাকিস্তানের ইতিহাস ১৯৪৭-১৯৫৮ (২০২২) পেইজ ৩৮১]।
এ ধরনের আরো ডকুমেন্ট আমাদের হাতে আছে। ভারত যে সমগ্র প্রশাসন নিয়ে ড. ইউনূসের সরকার উৎখাতে নেমে পড়েছে, তার আরেকটি জ¦লন্ত উদাহরণ হলো তাদের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র ত্রিবেদীর বক্তব্য। জেনারেল ত্রিবেদী বলেন, ‘বাংলাদেশ ভারতের কাছে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ ভারতীয় সেনাবাহিনীর বার্ষিক সম্মেলনে ইন্ডিয়া টুডে নামক প্রসিদ্ধ ম্যাগাজিনের প্রতিনিধি বাংলাদেশ-ভারতের বর্তমান সম্পর্ক জানতে চান। জবাবে জেনারেল ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশ আমাদের প্রতিবেশী। দেশটির ছোট্ট একটি অংশ ছাড়া পুরো সীমান্তজুড়ে রয়েছে ভারত। তিনি বলেন, এমন কিছু করা উচিত নয়- যাতে আমাদের সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়ন কেমনভাবে হতে পারে, তেমন প্রশ্নের উত্তরে জেনারেল ত্রিবেদী দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, ঐ ধরনের স্বাভাবিক সম্পর্ক কেবলমাত্র নির্বাচিত সরকারের সাথেই হতে পারে। বর্তমানে বাংলাদেশে যে সরকার রয়েছে, তাদের সময়ে নয়। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের সাথে তার নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের প্রাক্কালে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সাথে তার যোগাযোগ হয়েছিল। সব শেষে গত বছরের ২৪ নভেম্বর ভিডিও কনফারেন্সে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সাথে তার যোগাযোগ হয়েছিল বলেও জেনারেল উপেন্দ্র ত্রিবেদী জানান। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের সেনাপ্রধানের সাথে তার নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে।
ওপরে যেসব তথ্য-প্রমাণ হাজির করা হলো, তারপর আর ভারতের সাথে কোনোরূপ উদারতা দেখানো সম্ভব নয়। তাই বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচার এবং তার প্রধান পৃষ্ঠপোষক ভারতীয় আগ্রাসনকে মোকাবিলা করার জন্য ড. ইউনূস সরকার অবশেষে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ নামক যে অভিযান শুরু করেছে সেটি অত্যন্ত সঠিক এবং সময়োপযোগী। বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের বৃহত্তর স্বার্থে দল-মত নির্বিশেষে সাড়ে ১৭ কোটি মানুষের কর্তব্য হলো ড. ইউনূসের পেছনে শিলা অটল কাঠিন্য নিয়ে দাঁড়িয়ে যাওয়া। কারণ ভারত এবার তার ঘোমটা খুলে ফেলেছে। হাজার হাজার মানুষের রক্তে যার হাত রঞ্জিত, সেই হাসিনাকে আরো অধিক রক্ত ঝরিয়ে হলেও ক্ষমতায় আনতে ভারত বদ্ধপরিকর। সুতরাং বাংলাদেশের মানুষ হুঁশিয়ার।