বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য ও স্থানীয় সরকারে দলীয় প্রশাসক নিয়োগ ফ্যাসিবাদ পুনঃপ্রতিষ্ঠার নামান্তর: ইসলামী ছাত্রশিবির

সোনার বাংলা অনলাইন
২০ মার্চ ২০২৬ ১২:১০

ছাত্রশিবির

সম্প্রতি দেশের ৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় বিবেচনায় উপাচার্য নিয়োগ এবং ১১টি সিটি কর্পোরেশনসহ ৪২টি জেলা পরিষদে যোগ্যতার পরিবর্তে রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্তকে ফ্যাসিবাদ পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রথম ধাপ বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। ১৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এক যৌথ বিবৃতিতে এ মন্তব্য করেন।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, “আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, দেশের ৭টি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধা ও যোগ্যতাকে উপেক্ষা করে রাজনৈতিক বিবেচনায় উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) এমন একজনকে পুনরায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যিনি জুলাই-পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের তীব্র বিরোধিতার মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। যার প্রশ্রয়ে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের রক্ত ঝরেছে, তাকে পুনরায় আসীন করা শিক্ষার্থী ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে স্পষ্ট প্রতারণা। একইভাবে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও উপাচার্যসহ অন্যান্য নিয়োগের ক্ষেত্রে সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এই বিতর্কিত নিয়োগ উচ্চশিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট করবে এবং সরকার দলীয় ছাত্রসংগঠনের আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ তৈরি করবে বলে শিক্ষার্থীরা আশঙ্কা করছে।”

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, “একই ধারায় স্থানীয় সরকার কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে বিগত নির্বাচনে পরাজিত ও মনোনয়ন-প্রত্যাশীসহ দলীয় ব্যক্তিদের সমঝোতার ভিত্তিতে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথকে বাধাগ্রস্ত করার প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা সচল ও কার্যকর রাখতে হলে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কোনো বিকল্প নেই। দলীয় সুবিধা অর্জনের লক্ষ্যে এভাবে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া সম্পূর্ণভাবে গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী এবং এটি মূলত বিগত স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের পদাঙ্ক অনুসরণেরই নামান্তর।”

নেতৃবৃন্দ আরও উল্লেখ করেন, “ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণের মাধ্যমে যে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করেছিল, বর্তমান সরকারও মাত্র এক মাসের ব্যবধানে সেই একই পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিচ্ছে। যেখানে জেলা ও সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকদের সাথে শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড গভীরভাবে সম্পৃক্ত, সেখানে নিরপেক্ষ ও দক্ষ ব্যক্তির পরিবর্তে দলীয় লোকদের নিয়োগ দেওয়ায় জনমনে বৈষম্য ও হয়রানির নতুন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জনআকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় ব্যক্তিদের এই অনুপ্রবেশ ফ্যাসিবাদ পুনঃপ্রতিষ্ঠারই নামান্তর, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

নেতৃবৃন্দ বলেন, “একটি বৈষম্যহীন, জবাবদিহিতামূলক ও ন্যায়-ইনসাফপূর্ণ রাষ্ট্র গঠনে প্রতিটি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। বিশেষ করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিতর্কিত উপাচার্য নিয়োগ এবং স্থানীয় সরকারে দলীয় প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করার জন্য আমরা সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানাচ্ছি। ছাত্র-জনতার বিপ্লবের চেতনাকে সমুন্নত রেখে একটি ন্যায়বিচারভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকার সচেষ্ট হবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”প্রেস বিজ্ঞপ্তি,তারিখ : ১৯ মার্চ ২০২৬

ইসলামী ছাত্রশিবির

কবি ফররুখ আহমদের অভিমান
১৫ অক্টোবর ২০২৬ ১২:১৭

একটি কাগজের গল্প
১৫ অক্টোবর ২০২৬ ১২:১৩

সম্পর্কিত খবর