ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ

ওয়াশিংটনের কৌশলগত পিছুটান, সুসংহত রাজনৈতিক অবস্থান তেহরানের


৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:৫৩

॥ ফেরদৌস আহমদ ভূইয়া ॥
বিশ্বের একক পরাশক্তিধর দেশ যুক্তরাষ্ট্র খোঁড়া অজুহাতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সামরিক হামলা শুরু করে। কোনো ধরনের যুক্তি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের ওপর আকাশপথে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে। ইরান তার সর্বশক্তি দিয়ে মার্কিন এ সন্ত্রাসী হামলা প্রতিরোধ করে। শুরু হয় দুই বিপরিত শক্তির অসম লড়াই। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এ যুদ্ধের ছয় মাস পূর্ণ হয়েছে। এই সময়ে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও সামরিক সক্ষমতা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়লেও ওয়াশিংটনের ঘোষিত কোনো লক্ষ্যই অর্জিত হয়নি। অন্যদিকে এ যুদ্ধে ইরান টিকে থাকলেও বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও সামরিক মূল্য দিতে হয়েছে তেহরানকে। যুক্তরাষ্ট্রের এ হামলায় ইরানের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে তাদের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু। যুক্তরাষ্ট্রের এ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং দেশটির কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। তবে ইরান যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতার পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সৈন্য কমিয়ে আনছে। যুদ্ধে এটা হচ্ছে ওয়াশিংটনের কৌশলগত পিছুটান।
যুক্তরাষ্ট্রে টার্গেট ছিল ইরানের কোনো অঞ্চল দখলে নেয়া এবং বর্তমান শাসন ব্যবস্থা ও সরকার পরিবর্তন করা। কিন্তু টার্গেটের কোনোটাই অর্জন করতে পারেনি ওয়াশিংটন। এ অন্যায় যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র অতীতের মতো তার পশ্চিমা মিত্র দেশগুলোসহ এশিয়ার কোনো দেশেরই সমর্থন পায়নি। অনেক দেশ ও আইন বিশেষজ্ঞের মতে, জাতিসংঘের সনদ অনুযায়ী সরাসরি সশস্ত্র আক্রমণ ও আগাম হামলা চালানো আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়াই এই সামরিক হস্তক্ষেপ হয়েছে। এ হামলা আন্তর্জাতিক আইনের পুরোপুরি লঙ্ঘন। তাই বিশ্বের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোও ইরানে মার্কিন হামলাকে কোনোভাবেই সমর্থন দেয়নি। অপরদিকে ইরানের পাশে ছিল দুই পরাশক্তি চীন ও রাশিয়া। তাই ছয়মাসের যুদ্ধে ইরান টিকে থাকার পাশাপাশি বিশ্ব রাজনীতিতে তার রাজনৈতিক ও কৌশলগত অবস্থানকে আরো সুসংহত করেছে। তবে এ যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের ওলট-পালট ঘটেছে। বিশেষ করে তেলের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় পুরো বিশ্বেই জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে।
সামরিক অভিযান থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে ওয়াশিংটন
রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারাও নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুদ্ধের বড় ধরনের বিস্তার এড়িয়ে চলতে আগ্রহী। বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসন সরাসরি বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর পরিবর্তে অর্থনৈতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞাকে গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, নিষেধাজ্ঞা যত কঠোর হবে, ইরানও তত বেশি পাল্টা উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালীতে হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা এবং পাল্টা মার্কিন হামলার মধ্য দিয়ে সংঘাত আবারও তীব্র হয়েছে। সব মিলিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নের মূল বার্তা হলো— যুদ্ধের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও ইরানের নেতৃত্ব এখন আর দ্রুত সামরিক চাপে নতি স্বীকারের অবস্থানে নেই। বরং ক্ষয়ক্ষতি মেনে নিয়ে দীর্ঘ সংঘাতে যাওয়ার মানসিক ও সামরিক প্রস্তুতি তাদের রয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও গোলাবারুদের মজুদ, যুদ্ধের ব্যয়, জ্বালানির মূল্য এবং নভেম্বরের নির্বাচন সামনে রেখে নতুন করে হিসাব-নিকাশ করছে। ফলে ছয় মাস পেরিয়েও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের দ্রুত অবসানের সম্ভাবনা অনিশ্চিতই থেকে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরান যুদ্ধের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই সংঘাত বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে এক বড় ধরনের ওলট-পালট ঘটিয়েছে। এ যুদ্ধে উভয় পক্ষেরই ক্ষতি হয়েছে, লাভ হয়নি প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণকারী কোনো দেশেরই। তবে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কোনো কোনো দেশের অনেক সুবিধা ও প্রাপ্তি ঘটেছে। এ যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। উভয় রাষ্ট্রেরই কৌশলগত পরাজয় ও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রর লক্ষ্য ছিল ইরানে সরকার পরিবর্তন বা সম্পূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা, কিন্তু তাদের কোনো লক্ষ্যই অর্জিত হয়নি। উল্টো মার্কিনিদের ১১৫ থেকে ২১০ বিলিয়ন ডলারের মতো বিশাল অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে এবং বিশ্বমঞ্চে তাদের ‘সফট পাওয়ার’ বা কূটনৈতিক ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। বরং ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্টা আঘাতে ইসরাইল দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের একক সামরিক আধিপত্য চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
ইরানের মানবিক ও অবকাঠামোগত ক্ষতি
যুদ্ধের শুরুতেই মার্কিন ও ইসরাইলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে ইরানকে। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা নিহত হন। হামলায় দেশটির সামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং শত শত বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। শীর্ষপর্যায়ের নেতা ও সামরিক কমান্ডার ও নীতি-নির্ধারকদের হারানো তেহরানের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক ও সামরিক ধাক্কা। বরং টানা বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ, কমান্ড সেন্টার এবং গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু অবকাঠামোর মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্র নির্বিচারে ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে। এতে করে দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের একটি স্কুলে মার্কিন হামলায় বহু শিশু নিহত হয়।
আর্থিক সংকটে উপসাগরীয় ও ইউরোপীয় দেশসমূহ
যুদ্ধে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়ে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাসের বাজার অস্থির হয়ে ওঠে। ফলে ওপেকভুক্ত উপসাগরীয় দেশগুলো এবং ইউরোপ তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে। ইরান সফলভাবে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত করে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী পূর্ণ সমুদ্রসীমা নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত চাপে পড়েছে।
পরোক্ষ সুবিধাভোগী চীন ও রাশিয়া
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটে চীন নিজেকে একটি স্থিতিশীল ও দায়িত্বশীল দেশ হিসেবে বিশ্বমঞ্চে উপস্থাপন করার সুযোগ পেয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন মধ্যপ্রাচ্যে ব্যস্ত ও অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে, চীন তখন নিজের কৌশলগত অবস্থান আরও শক্ত করেছে। এছাড়া তারা ইরানের কাছ থেকে সস্তায় তেল কেনার ছায়া নেটওয়ার্ক সচল রাখতে পেরেছে। এই যুদ্ধ রাশিয়ার জন্য একটি বড় ভূরাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার ওপর থাকা বৈশ্বিক মনোযোগ ও সমালোচনা অনেকটাই মধ্যপ্রাচ্যের দিকে সরে গেছে। সেদিক থেকে রাশিয়াও পরোক্ষভাবে সুবিধা পেয়েছে।
রাজনৈতিকভাবে বিজয়ী ইরান
চরম ক্ষয়ক্ষতির পরও মার্কিন জোটের হামলা রুখে দিয়ে এবং টিকে থেকে ইরান রাজনৈতিকভাবে নিজেদের এক প্রকার বিজয়ী হিসেবে প্রমাণ করেছে। অভ্যন্তরীণভাবে তীব্র বিরোধিতার মুখে থাকা ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী এই যুদ্ধের পর জাতীয়তাবাদী আবেগকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরালো করতে সক্ষম হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের চরম সামরিক চাপের মুখেও ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা যেমন টিকে আছে, তেমনিভাবে শাসকগোষ্ঠীও সফলভাবে আছে। মধ্যপ্রাচ্যে যৌথ মার্কিন-ইসরাইলি অভিযানের পরও অস্তিত্ব বজায় রাখা এবং বৈশ্বিক চাপ সৃষ্টি করাকে ইরান কৌশলগত বিজয় হিসেবে দাবি করে আসছে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতকে সামরিক ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সরাসরি একপাক্ষিক জয় বা পরাজয় হিসেবে না দেখে কৌশলগত অচলাবস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য পরোক্ষ কৌশলগত ধাক্কা হিসেবে দেখছেন। যদিও সামরিক শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র বহুলাংশে এগিয়ে এবং ইরানের সামরিক অবকাঠামোর বড় ক্ষতি করতে সক্ষম হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত এবং প্রত্যাশিত কৌশলগত লক্ষ্যগুলো অর্জিত না হওয়ায় আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের এক ধরনের কৌশলগত সীমাবদ্ধতা বা আংশিক পরাজয় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাম্প্রতিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ছয় মাসের যুদ্ধ ইরানকে দুর্বল করার পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে আরও আত্মবিশ্বাসী করেছে। তেহরান এখন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের লক্ষ্যবস্তুতে হামলার সক্ষমতা এবং যুদ্ধের চাপ সহ্য করার সামর্থ্য সম্পর্কে আগের চেয়ে বেশি আত্মবিশ্বাসী। এমনকি কয়েক মাস ধরে সংঘাত অব্যাহত রাখার প্রস্তুতিও রয়েছে দেশটির। গত ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার প্রকাশিত মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এক মাস ধরে থেমে থাকা সংঘাতের অবসান ঘটেছে। চলতি সপ্তাহে দুই পক্ষ আবার পাল্টাপাল্টি হামলায় জড়িয়েছে। এতে পুরো অঞ্চল আবারও এক বিপজ্জনক ও দীর্ঘ মেয়াদে সামরিক অচলাবস্থায় পড়েছে।
মার্কিন বাহিনী গত ১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার ইরানে আবার হামলা চালায়। জবাবে তেহরান জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থে আঘাত হানে। ইরান পাল্টা হামলা চালালে ‘আরও কঠোর আঘাত’ করা হবে বলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন। তবে তেহরান সেই হুঁশিয়ারি তোয়াক্কা করেনি।
সর্বশেষ এ হামলার এক মাসের বেশি আগে দুই পক্ষ পরস্পরের ওপর নতুন করে ব্যাপক আক্রমণ চালায়। তবে সাম্প্রতিকতম হামলা ছিল বেশ সীমিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর মধ্য দিয়ে বোঝা যায়, কোনো পক্ষই এখন সর্বাত্মক যুদ্ধে জড়াতে আগ্রহী নয়।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের (আইসিজি) ইরানবিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক হামিদরেজা আজিজি সিএনএনের বেকি অ্যান্ডারসনকে বলেন, ‘কোনো পক্ষই সর্বাত্মক যুদ্ধে ফিরতে চায় না।’ তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে ইরানের বাধার সৃষ্টি ও দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ— উভয় পক্ষের জন্যই ক্রমেই অসহনীয় হয়ে উঠছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত চ্যালেঞ্জ ও পিছুটান
যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক ও পরোক্ষ লক্ষ্য ছিল ইরানে ক্ষমতা পরিবর্তন বা ইরানকে দুর্বল করা। কিন্তু ওয়াশিংটন তার কোনোটাই অর্জন করতে পারেনি। বরং ইরান তার বর্তমান শাসনব্যবস্থা ও সামরিক কাঠামো বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে তার আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর থেকে বিভিন্নমুখী চাপের সম্মুখীন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি এবং মিত্র দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত নিরাপত্তার ওপর ইরান বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পেরেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক প্রভাবকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। কূটনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের ময়দানে সামরিকভাবে পরাজিত না হলেও, তারা যেভাবে একটি দ্রুত ও স্পষ্ট কৌশলগত বিজয় অর্জন করতে চেয়েছিল, তা করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্য ও নিরাপত্তার হিসাব-নিকাশে এটি যুক্তরাষ্ট্রের একটি কৌশলগত ব্যাকফুট বা পিছুটান হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
সার্বিকভাবে যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে ইরান ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হলেও, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক লক্ষ্য ব্যর্থ করে টিকে থাকাকে বিশ্ব রাজনীতিতে একে ইরানের এক ধরনের কৌশলগত স্থিতিশীলতা বা প্রতিরোধ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সামরিক এবং কৌশলগত— দুই ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে এ যুদ্ধের ফলাফল ভিন্নভাবে বিশ্লেষণ করলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধে এককভাবে তেহরান বা ওয়াশিংটন কোনো পক্ষকেই সরাসরি বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা যায় না। তবে এককথায় বলা যায়, ইরান যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে ওয়াশিংটনের কৌশলগত পিছুটান, আন্তর্জাতিক বিশ্বে তেহরানের একটি সুসংহত রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি হয়েছে।
লেখক : বার্তা সম্পাদক, সাপ্তাহিক সোনার বাংলা।
ই-মেইল : ferdous.ab@gmail.com