কানাডার ইকনার শিক্ষা শিবিরের মূল্যায়ন

বিশ্বের ইসলামী আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের দৃষ্টি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সংসদ কার্যক্রমের দিকে

সংবাদদাতা
৬ জুলাই ২০২৬ ১৪:২৭

(ডান থেকে) বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি হামিদ হোসাইন আজাদের সাথে প্রতিবেদক ফজল মুহাম্মদ

বিশ্বের ইসলামী আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের দৃষ্টি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সংসদ কার্যক্রমের দিকে। এ প্রসঙ্গে ইসলামিক সার্কেল অব নর্থ আমেরিকা (ICNA) সাবেক ফেডারেল প্রেসিডেন্ট ড. ইকবাল মাসুদ নদভী সাপ্তাহিক সোনার বাংলার টরেন্টো (কানাডা) প্রতিনিধি ফজল মুহাম্মদকে বলেছেন, তিনি নিয়মিত ঢাকার বিরোধী দলীয় নেতা ডাঃ শফিকুর রহমানের সংসদে দেওয়া বক্তব্যগুলো শুনেন। সোনার বাংলা প্রতিনিধি তার কাছে জানতে চান উনি উর্দু ভাষী বাংলা ভাষা বুঝেন কীভাবে? জবাবে উনি বললেন টেকনোলজি দিয়ে তরজমা করে নেই। বিগত ২৭শে জুনের ইকনার আয়োজনে কানাডার শিক্ষা শিবিরের এক ফাঁকে তিনি সোনার বাংলা প্রতিনিধি তাকে এ সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন।
উল্লেখ্য,ফজল মুহাম্মদ টরন্টো শহরের একটি এলাকার ইকনা কানাডা চ্যাপ্টারের সহসভাপতি ( ICNA Canada chapter’s vice president)। সংগত কারণেই তিনি ঐদিনের দিন ব্যাপী ইকনা শিক্ষা শিবিরে হাজির থেকে আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। তিনি কানাডাতে আছেন ছাব্বিশ বছর যাবৎ। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি দাওয়াতী সংগঠনে সক্রিয় আছেন।  শিক্ষা শিবিরের আগে অন্য একটি প্রোগ্রামে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি হামিদ হোসাইন আজাদ সম্প্রতি কানাডা সফরের সময় ইকনা কার্যালয় পরিদর্শন করেছেন। সে সময় তার সাথেও মতবিনিময় হয়েছে।

ফজল মুহাম্মদ এ শিক্ষা শিবির ও কানাডার ইকনার কার্যক্রম প্রসঙ্গে আরো জানিয়েছেন,‘এটা আল্লাহর মেহেরবানি। এইবারের ইকনা দিনব্যাপী শিক্ষাশিবিরে আমাকে একটি নতুন অধ্যায় নিয়ে হিমালয়ান বা ভারতীয় উপমহাদেশের কানাডা প্রবাসী ইসলামী আন্দোলনের নেতারা অনেক প্রশ্ন রেখেছেন। আর সেটা হলো বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল – বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেমন ভূমিকা পালন করছে এবং তাদের ভূমিকা কেমন হওয়া উচিত? আমি তো অবাক এই ভেবে পাকিস্তান আর হিন্দুস্তানের জমিয়তে তালাবা বা এসআইও সাবেক ছাত্র নেতারা খুব ভালভাবেই বাংলাদেশ জামায়াতের সংসদের ভূমিকা ও আচরণগুলো ইউটিউব তথা বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়ার বদৌলতে আগ্রহের সাথে ফলো করেন । আধুনিব প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজ নিজ ভাষায় অনুবাদ করে শুনেন এবং পর্যালোচনা করেন। বিগত ২৭শে জুনের ইকনা কানাডার শিক্ষা শিবিরে আগত ডেলিগেট ভাইয়েরা আমাকে যা বলেছেন তার সার সংক্ষেপ হলো – জামায়াতে ইসলামী ১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই প্রথম হিমালয়ান উপমহাদেশে প্রথম প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসেছে। জামায়াত একটি ইসলামী দল। এটি কোন সেক্যুলার তথা অন্য কোন জাতীয়তাবাদী দল নয়। অতএব বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে উপমহাদেশে অন্যন্য নজির স্থাপন করতে হবে। প্রধান বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতে দক্ষতা ও যোগ্যাতা স্বাক্ষর জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে। ভারতীয় উপমাহদেশর অন্যান্য ইসলামী দল ও তার নেতারা বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী থেকে অনেক কিছুই আশা করেছে। ইকনা কানাডার প্রবাসী নেতারা আমার কাছে উনাদের যে আবেগ তথা আকাংখা প্রকাশ করেছেন উহার সারাংশ এই যে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীকে বাংলাদেশসহ গোটা মুসলিম উম্মাহর কাছে যোগ্যতার দৃষ্টান্ত রাখতে হবে। মহিলা সংসদ সদস্যসহ জামায়াতে নব্বই জন সংসদ সদস্যের কথা, কাজ, আচরণ, বক্তব্যের বাচন ভংগী, শালীনতা, সরকারি দলের এম পিদের বেফাঁস কথার জবাবসহ মানুষের অধিকার রক্ষার প্রতিটি ইস্যুতে ইসলামী আদাব লেহাজ অনুসরণ করেই সংসদে ভূমিকা রাখতে হবে। জামায়াতের যেসব এম পিদের ব্যাপারে তাদের পরামর্শ হলো – জাতীয় সংসদে আরো দক্ষতার সাথে ভূমিকা পালন করতে উনাদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মশালা, প্রয়োজনে নিজের ব্যবস্থাপনায় ঘরোয়া পরিবেশে রিহার্সালের ব্যবস্থা করতে হবে। কে কোন বিষয়ে কথা বলবেন, তা আগে থেকে জাতীয় সংসদের নিজ দলের হুইপকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ নেওয়ার ওপর তারা গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

উল্লেখ্য, ইসলামিক সার্কেল অব নর্থ আমেরিকা (ICNA)- গোটা উত্তর আমেরিকার অন্যতম প্রধান একটি ইসলামী সংগঠনের নাম। এই সংগঠনটি ১৯৬৭ সালে আমেরিকার নিউ ইয়র্কে মাত্র সাতজন আমেরিকা প্রবাসী ছাত্র ইসলামের আলোকে ছড়িয়ে দেয়ার প্রত্যয়ে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেছেন। প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম নেতা ছিলেন তালাত সুলতান। প্রতিষ্ঠার পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ,কানাডা ও মেক্সিকোর মাটিতে দাওয়াতী কাজের মাধ্যমে সংগঠনটি যাত্রা শুরু।
ইতিহাসের মহাযাত্রায় এই ইকনা এখন কানাডা ও আমেরিকার বিভিন্ন শহরে মসজিদ ,মাদ্রাসাসহ অনেক সামাজিক চ্যারিটিমূলক কাজে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশ,হিন্দুস্তান, পাকিস্তান,আফগানিস্তান, আরাকান এবং শ্রীলংকা থেকে আসা ইসলামী সংগঠনের সাবেক ছাত্র নেতারা ইকনার ছায়াতলে সমবেত ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ইকনার জনশক্তি শতভাগ শিক্ষিত এবং বিভিন্ন উচ্চপদস্থ পেশায় জড়িত । এদের মাঝে আছেন বিভিন্ন ইউনিভার্সিটির প্রফেসর,ডাক্তার ইন্জিনিয়ার,উকিল,চার্টাড একাউন্টেট ও ব্যবসায়ী।
২০০৫ সাল থেকে ইকনা কানাডা আলাদা ভাবে স্বতন্র পরিসরে কানাডাতে কাজ করে যাচ্ছে। কানাডার মাটিতে দাওয়াতী কাজের পাশাপাশি প্রায় বত্রিশটি দেশে জরুরি ত্রাণ সহযোগিতাও করে থাকে। গত ২৭শে জুন ছিল ইকনা কানাডার CENTERAL TARBIAH অর্থাৎ শিক্ষা শিবির। ( কানাডার টরন্টো থেকে ফজল মুহাম্মদ প্রেরিত তথ্য অবলম্বনে সাপ্তাহিক সোনার বাংলা ডেস্ক)

 

আটাইশে জুন 2026 কানাডা।

ICNA কানাডার টরন্টো থেকে ফজল মুহাম্মদ বিরোধী দলীয় নেতা

সম্পর্কিত খবর