সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ
১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৫:০০
মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে ধরা খেল ভারত-ইসরাইলি গণমাধ্যম
সিডনির বন্ডি বিচে বন্দুক হামলার ঘটনার পর দ্রুত মিথ্যা তথ্য এবং বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে ভারত এবং ইসরাইল-সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলো। অস্ট্রেলিয়ান ফাইন্যান্সিয়াল রিভিউয়ের (এএফআর) এক প্রতিবেদনে ইসলামবিদ্বেষী দেশ-দুটির এ অপতথ্য ক্যাম্পেইন ধরা পড়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্ল্যাটফর্ম এবং সামাজিক মাধ্যমগুলোয় হামলাকারী এবং হস্তক্ষেপকারী নায়ক সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেয় এসব সংবাদমাধ্যম। এএফআরের প্রতিবেদন মতে, বন্ডি বিচে বন্দুক হামলার পর দ্রুত ভুল তথ্য ছড়াতে শুরু করে ভারতীয় ও ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম। প্রথম দিকে একজন বন্দুকধারীকে নিরস্ত্র করা নায়ক হিসেবে এডওয়ার্ড ক্র্যাবট্রি নামে এক সম্পূর্ণ কাল্পনিক ব্যক্তির মনগড়া গল্প ছড়ানো হয়েছিল। আসলে যিনি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হামলাকারীদের মোকাবিলা করেছিলেন, তিনি হলেন সাদারল্যান্ড শায়ারের বাসিন্দা আহমেদ আল আহমেদ। ঘটনার সময় সাহসী এ মুসলিম যুবক দুবার গুলিবিদ্ধ হন। অন্যদিকে এ ভুল তথ্য প্রচারে প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও যুক্ত ছিলেন। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রাথমিকভাবে ভুল বিবরণ পুনরাবৃত্তি করেন। ভুলভাবে একজন ইহুদি পথচারীকে নায়ক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, মনগড়া গল্প দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার এ ঘটনা এআই-নির্ভর কনটেন্টের বিপদ এবং সতর্ক যাচাইকরণের প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরছে। এএফআরের প্রতিবেদনে আরও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, সিডনিতে বসবাসকারী পাকিস্তানি নাগরিক নাভিদ আকরামের প্রত্যক্ষদর্শী বিবরণকে ভারতীয় এবং ইসরাইলি-সংশ্লিষ্ট মিডিয়াগুলো একাধিক প্রতিবেদনে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ বিকৃত করার এ প্রচেষ্টা জনমতকে প্রভাবিত করা এবং সত্যকে আড়াল করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ। বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেছেন, যাচাই করা তথ্যের চেয়ে মিথ্যা তথ্য অনেক দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুল তথ্য বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান ক্রুগার উল্লেখ করেছেন, ‘যদি প্রচুর সত্য তথ্য না থাকে, তবে সেই শূন্যস্থান সহজলভ্য যেকোনো কিছু দিয়েই পূরণ করা হবে এবং প্রায়ই প্রাথমিক তথ্যগুলি খুবই নিম্নমানের হয়।’ অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইনস্টিটিউটের নাথান রুসার আরও বলেন, ‘যদি কিছু বিশ্বাসযোগ্য হয়, তবে সেই বিবরণ বাস্তবতার চেয়ে অনেক দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।’ এএফআর।
বিবিসির বিরুদ্ধে ট্রাম্পের ১০ বিলিয়ন ডলারের মামলা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) ব্রিটেনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সম্প্রচারমাধ্যম বিবিসির বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছেন। ক্যাপিটল হিলসে সমর্থকদের হামলার নির্দেশ দিচ্ছেন- এমন একটি এডিটেড ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে এ মামলা করা হয়েছে। মামলার দুটি অভিযোগের প্রতিটির জন্য তিনি পাঁচ বিলিয়ন ডলার করে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। ট্রাম্পের অভিযোগ, বিবিসি তার ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির একটি বক্তৃতার কিছু অংশ ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে। বক্তব্যের একটি অংশে তিনি তার সমর্থকদের ক্যাপিটলে মিছিল করতে বলেছিলেন এবং অন্য অংশে ‘প্রচণ্ডভাবে লড়াই’ করতে বলেছিলেন। ট্রাম্পের দাবি, তিনি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের আহ্বান জানিয়েছিলেন, কিন্তু এ অংশটি প্রতিবেদন থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। বিবিসি ট্রাম্পের কাছে ক্ষমা চেয়েছিল। তারা ভুল স্বীকার করে বলেছিল, বিভিন্ন ক্লিপ এডিট করে প্রতিবেদনটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল, এতে মনে হয়েছে ক্যাপিটাল হিলসে হামলার জন্য সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তবে এ বিষয়ে মামলা করার কোনো আইনি ভিত্তি নেই বলে জানায় বিবিসি। বিবিসি সব টিভি দর্শকদের জন্য একটি বাধ্যতামূলক লাইসেন্স ফি-এর মাধ্যমে অর্থায়ন করে, যা যুক্তরাজ্যের আইনজীবীদের মতে ট্রাম্পকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। প্রতিবেদনটি ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগ মুহূর্তে প্রকাশ করেছিল বিবিসি। এটি তাদের ‘প্যানারোমা’ ডকুমেন্টারিতে প্রকাশ করা হয়েছিল। এ ঘটনার জেরে বিবিসির বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ দুই কর্মকর্তা পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। ট্রাম্পের আইনজীবী বলেন, এ প্রতিবেদনের কারণে ট্রাম্পের মানহানি ও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এদিকে ওই ভিডিও প্রতিবেদনটি যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশ করা হয়নি। ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হন সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটাল হিলসে হামলা চালায় ট্রাম্পের সমর্থকরা। এ হামলায় উসকানি দেয়ার জন্য ট্রাম্পকে দায়ী করা হয়, কিন্তু তিনি এটি প্রত্যাখ্যান করেন। এসময় বিবিসি ওই ভিডিও প্রতিবেদন করে। সিএনএন।
সার্বদের হাতে বসনিয়ার মুসলিম গণহত্যার তিন দশক
বসনিয়া-হার্জেগোভিনায় ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার তিন দশক পার হলেও জাতিগত নির্মূলের ক্ষত আজও নাগরিকদের তাড়া করে ফিরছে। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত চলা ওই যুদ্ধে প্রায় এক লাখ মানুষ নিহত হয় এবং দুই কোটিরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। নিহতদের দুই-তৃতীয়াংশ বসনিয়ার মুসলিম ছিলেন। সাবেক যুগোস্লাভিয়ার ভাঙনের প্রেক্ষাপটে জাতীয়তাবাদী উত্তেজনা ও প্রতিদ্বন্দ্বী পরিকল্পনার ফলে যুদ্ধের সূচনা হয়। সংঘাত চূড়ান্ত রূপ নেয় ১৯৯৫ সালের স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যায়। এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে সংঘটিত সবচেয়ে ভয়াবহ গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃত। ১৯৯২ সালের ১ মার্চ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় অনুষ্ঠিত গণভোটে অংশগ্রহণকারী ভোটারের ৯৯ শতাংশ স্বাধীনতার পক্ষে রায় দেন। তবে বসনিয়ান সার্ব জনগোষ্ঠী ভোট বর্জন করে এবং আলাদা প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলে। ১৯৯২ সালের এপ্রিলে ইউরোপীয় কমিউনিটি বসনিয়াকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার পরপরই বসনিয়ান সার্ব বাহিনী বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালায়। একই মাসে রাজধানী সারায়েভো অবরোধের মুখে পড়ে, যা প্রায় ৪৩ মাস স্থায়ী হয়। এ অবরোধে প্রায় ১১ হাজার মানুষ নিহত হন, যাদের মধ্যে এক হাজারের বেশি শিশু। যুদ্ধ চলাকালে সংঘটিত সহিংসতায় প্রায় ১ লাখ ৪ হাজার মানুষ নিহত হন, বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক। নিহতদের দুই-তৃতীয়াংশ বসনিয়ার মুসলিম ছিলেন। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় হিসাব অনুযায়ী, তৎকালীন জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি, প্রায় ২২ লাখ মানুষ শরণার্থী বা অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হন। এদের বড় একটি অংশ আজও নিজ ভূমিতে ফিরে আসতে পারেননি। ১৯৯৫ সালের জুলাইয়ে জাতিসংঘ ঘোষিত ‘নিরাপদ এলাকা’ স্রেব্রেনিৎসায় বসনিয়ান সার্ব বাহিনী হামলা চালায়। কয়েকদিনের মধ্যে ৮ হাজারের বেশি বসনিয়াক পুরুষ ও কিশোরকে হত্যা করা হয় এবং মরদেহ গণকবর দেওয়া হয়। নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের জোরপূর্বক এলাকা থেকে বিতাড়িত করা হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও আন্তর্জাতিক বিচার আদালত এই হত্যাকাণ্ডকে আনুষ্ঠানিকভাবে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। স্রেব্রেনিৎসা হত্যাকাণ্ডের পর ন্যাটো বিমান হামলা জোরদার করে এবং ১৯৯৫ সালের নভেম্বরে ডেটন শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটায়। যুদ্ধাপরাধের বিচার করতে জাতিসংঘ ১৯৯৩ সালে গঠন করে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল (আইসিটিওয়াই)। এতে ১৬১ জন অভিযুক্ত হন এবং ৯০ জন দোষী সাব্যস্ত হন। বসনিয়ান সার্ব নেতা রাদোভান কারাদজিচ ও সেনাপ্রধান রাতকো ম্লাদিচ দুজনই গণহত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। বসনিয়া-হার্জেগোভিনার এ ইতিহাস আজও স্মরণ করিয়ে দেয় জাতিগত বিভাজন ও মানবিক দুর্যোগের ভয়াবহতা, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে রয়ে গেছে। আল-জাজিরা।
সৌদি যুবরাজের সঙ্গে সুদান সেনাপ্রধানের বৈঠক
সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান রিয়াদের আল-ইয়ামামাহ প্রাসাদে সুদানের সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। গত ১৫ ডিসেম্বর সোমবার সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) এ তথ্য জানায়। এসপিএর প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠকে সুদানের সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিতের প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মুসাঈদ বিন মোহাম্মদ আল-আইবান, অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-জাদান এবং সুদানে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আলি হাসান জাফার। এদিকে আলাদাভাবে আফ্রিকার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত মাসাদ বোলুস সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে প্রিন্স খালিদ বলেন, ‘বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং সাম্প্রতিক উন্নয়ন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি পারস্পরিক আগ্রহের অন্যান্য বিষয়ও আলোচনায় এসেছে।’ নিজের পোস্টে মার্কিন দূত বোলুস প্রিন্স খালিদকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এ আলোচনা ছিল ‘ফলপ্রসূ ও ভবিষ্যৎমুখী’, যা আঞ্চলিক সংঘাত নিরসন এবং মিত্রদের মধ্যে অভিন্ন অগ্রাধিকারের অগ্রগতিতে সহায়ক হয়েছে। কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সৌদি আরব সফরের সময় বোলুস সুদানের সেনাপ্রধান আল-বুরহানের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন। তবে আল-আরাবিয়া ইংলিশ এ তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদান সেনাবাহিনী ও র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ লড়াই দেশটিতে তীব্র মানবিক সংকট সৃষ্টি করেছে এবং বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। সৌদি আরব সুদানের সংকট নিরসনে সক্রিয় কূটনৈতিক ভূমিকা পালন করছে। এর মধ্যে শান্তি আলোচনায় সহায়তা ও মানবিক সহায়তা প্রদান অন্তর্ভুক্ত, পাশাপাশি সংঘাতের অবসান ও স্থিতিশীলতায় প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্যে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এসপিএ।
মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপি সর্বকালের সর্বনিম্নে
আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে চরম চাপের মুখে আরও দুর্বল হলো রুপি। মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপির দর নেমে এসেছে সর্বকালের সর্বনিম্ন পর্যায়ে, যেখানে এক ডলারের বিনিময়ে রুপির মূল্য দাঁড়িয়েছে ৯০.৫৮। বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী ডলার, সুদের হারের চাপ এবং বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাওয়ার প্রভাবেই রুপির এ ধারাবাহিক পতন। পাশাপাশি জ্বালানি আমদানির উচ্চ ব্যয় ও চলতি হিসাব ঘাটতিও মুদ্রার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। রুপির দরপতনের ফলে আমদানি ব্যয় আরো বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে। বিশেষ করে জ্বালানি, ভোজ্যতেল ও শিল্পের কাঁচামালের দাম বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। অন্যদিকে রফতানিকারকরা স্বল্পমেয়াদে কিছুটা লাভবান হলেও সামগ্রিকভাবে অর্থনীতির জন্য এ মুদ্রা অবমূল্যায়ন উদ্বেগজনক বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ ও নীতিগত পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছে বাজার। টাইমস অব ইন্ডিয়া।
কৃষ্ণসাগর নিয়ে রাশিয়া-ইউক্রেনকে এরদোগানের সতর্কবার্তা
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান গত শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সতর্ক করে বলেছেন, কৃষ্ণসাগর যেন রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে ‘সংঘাতের এলাকা’তে পরিণত না হয়। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় একাধিক হামলার পর তিনি এ সতর্কবার্তা দিলেন। এরদোগান সাংবাদিকদের বলেন, ‘কৃষ্ণসাগরকে সংঘাতের এলাকা হিসেবে দেখা উচিত নয়। এটি রাশিয়া বা ইউক্রেনের কারও জন্যই লাভজনক হবে না। কৃষ্ণসাগরে সবার নিরাপদ নৌযাত্রা প্রয়োজন।’ ১২ ডিসেম্বর (শুক্রবার) ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাশিয়ার একটি বিমান হামলায় ইউক্রেনের কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল ওডেসার একটি বন্দরে তুরস্কের মালিকানাধীন একটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তুর্কমেনিস্তানে একটি শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সাথে এরদোগান ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি উত্থাপন করার কয়েক ঘণ্টা পরই এ হামলার ঘটনা ঘটে। এরদোগানের দফতরের বরাতে জানানো হয়, পুতিনের সাথে সরাসরি আলোচনায় তিনি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে বন্দর ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলার বিষয়ে একটি সীমিত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান। এরদোগান জানান, ‘পুতিনের সাথে তার আলোচনার মূল বিষয় ছিল যুদ্ধ ও শান্তি প্রচেষ্টা।’ তিনি আরো বলেন, এ বিষয়ে তুরস্কের অবস্থান কী, অন্য সব পক্ষের মতো পুতিনও তা খুব ভালোভাবেই জানেন। এরদোগান বলেন, পুতিনের সাথে এ বৈঠকের পর আমরা আশা করছি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট (ডোনাল্ড) ট্রাম্পের সাথেও শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ পাব। এরদোগান বলেন, শান্তি খুব দূরে নয়, আমরা তা দেখতে পাচ্ছি। যুদ্ধকালীন মস্কো ও কিয়েভ-উভয়ের সাথেই সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করা তুরস্ক বসফরাস প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করে, যা ইউক্রেনীয় শস্য ও রুশ তেল ভূমধ্যসাগরে পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। গত কয়েক সপ্তাহে কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি তেলবাহী জাহাজও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে, যার কিছু ছিল ড্রোন হামলা, এর দায় স্বীকার করেছে কিয়েভ। এসব হামলার পর আঙ্কারা তীব্র সমালোচনা করে এবং রাশিয়া ও ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূতদের তলব করে। এএফপি।
ইসরাইলি ‘হেরন মার্ক টু’ ড্রোন কিনছে ভারত
‘অপারেশন সিঁদুর’-এ দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। জরুরি ক্রয়ের মাধ্যমে ইসরাইলের থেকে আরো ‘হেরন মার্ক টু’ ড্রোন কিনছে ভারত। গত ২৩ বছরে অন্তত ১৪ বার দুর্ঘটনার মুখে পড়ে ইহুদিদের তৈরি এ পাইলটবিহীন যান। কিন্তু তারপরেও ‘হেরন’-এর ওপর এ দেশের বাহিনীর অগাধ বিশ্বাস এতটুকু টোল খায়নি। উল্টো স্থল এবং বিমান বাহিনীর পাশাপাশি এবার সংশ্লিষ্ট মানববিহীন উড়ুক্কু যানটিকে বহরে শামিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় নৌসেনা। ‘হেরন’-এর ওপর এ-হেন ভরসার নেপথ্যে অবশ্য রয়েছে একাধিক কারণ। চলতি বছরের নভেম্বরে রাজস্থানের জৈসলমেরে জরুরি অবতরণ করে ভারতীয় সেনাদের একটি ‘হেরন’ ড্রোন। প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে সংশ্লিষ্ট পাইলটবিহীন যানটিকে নামিয়ে আনে বাহিনী। গত এপ্রিলে জম্মুর সতয়ারী বিমানঘাঁটির একটি টাওয়ারে ধাক্কা লেগে ধ্বংস হয় ওই ইসরাইলি মানববিহীন যান। তাতে গুরুতর আহত হন নায়েক পদমর্যাদার সুরিন্দর পাল নামের এক সেনাকর্মী। সংশ্লিষ্ট ড্রোনটি পরিচালনা করছিল স্থলবাহিনী। এ ঘটনার তদন্তেও প্রযুক্তিগত ত্রুটির দিকটা সামনে এসেছিল। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বাহিনীর হাতে থাকা ‘হেরন’ ড্রোনের অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে ভারতীয় ভূখণ্ডের মধ্যে। তবে ২০১৭ সালে ‘প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা’ বা এলএসি (লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল) পেরিয়ে তিব্বতের দিকে চলে যায় একটি ইসরাইলি যান। গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশনের সাথে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। ২০২৪ সাল পর্যন্ত দুর্ঘটনায় মোট ১২টি ‘হেরন’ হারায় এ দেশের ফৌজ, যার জন্য মূলত মানব-ত্রুটি এবং ইঞ্জিনের ব্যর্থতাকে দায়ী করা হয়েছে।
সাবেক সেনাকর্তাদের দাবি, বেশ কয়েকবার দুর্ঘটনার মুখে পড়লেও ‘হেরন’-এর সাফল্যের হার ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ। কঠিন ‘অপারেশন’-এ কখনোই ব্যর্থ হয়নি এ ইসরাইলি পাইলটবিহীন যান। উল্টো ওই ধরনের পরিস্থিতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অত্যাধুনিক ‘এমকিউ-৯ রিপার’ ড্রোনের মতো পারফরম্যান্স করেছে ইহুদিদের মানববিহীন উড়ুক্কু বিমান। দামের নিরিখে যা আমেরিকার তৈরি যানটির চেয়ে অনেক বেশি সস্তা। আগামী দিনে ‘হেরন’কে ঘরের মাটিতে তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে নয়াদিল্লির। বিশেষজ্ঞদের কথায়, ‘হেরন মার্ক টু’র ব্যাপক উৎপাদন আত্মঘাতী বা ফার্স্ট পার্সন ভিউ (এফপিভি) ড্রোনের তুলনায় অনেক বেশি। যদিও লড়াকু জেটের নিরিখে ইসরাইলি পাইলটবিহীন যানটি বেশ সস্তা। ফৌজের শীর্ষকর্তারা জানিয়েছেন, ‘হেরন’-এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো একে যুদ্ধবিমানের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায়। যেকোনো পরিবেশে এবং আবহাওয়ায় দিব্যি মানিয়ে নেয়ার ক্ষমতা রয়েছে ইহুদিদের তৈরি এ সামরিক ড্রোনের। গুপ্তচরবৃত্তি এবং হামলা, দু’ধরনের অভিযানেই যোগ দিতে পারে ‘হেরন মার্ক টু’। গত সেপ্টেম্বরে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর তিন শাখা ইসরাইলের থেকে ‘হেরন’ ড্রোনের নতুন সংস্করণ কিনতে চলেছে বলে খবর প্রকাশ্যে আসে। এবারের পাইলটবিহীন যানগুলো ট্যাঙ্কবিধ্বংসী গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র ‘স্পাইক-এনএলওএস’-এ (নন লাইন অব সাইট) সজ্জিত থাকবে বলে জানিয়েছে ফৌজ। ‘প্রজেক্ট চিতা’ নামের যৌথ পরিকল্পনায় এগুলোকে তৈরি করতে চাইছে নয়াদিল্লি। নতুন ‘হেরন’ ড্রোনগুলোয় আরও উন্নত গোয়েন্দা নজরদারি সরঞ্জাম থাকবে বলে জানা গেছে। সূত্রের খবর, জরুরি ভিত্তিতে ‘হেরন মার্ক টু’ কিনতে ইসরাইলের সাথে ৩০০ কোটি টাকার চুক্তি করতে পারে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে মোট কতগুলো ড্রোন তিন বাহিনীর বহরে শামিল হবে, তা অবশ্য স্পষ্ট নয়। তবে ইহুদিদের তৈরি পাইলটবিহীন যানটির নতুন যে সংস্করণ আসছে, তার টানা ৩০ ঘণ্টা ওড়ার সক্ষমতা রয়েছে। ঘাঁটি থেকে বহু দূরে গিয়ে প্রায় ৪৫ হাজার ফুট ওপর থেকে ভূপৃষ্ঠের বিস্তীর্ণ এলাকার স্পষ্ট ছবি পাঠাতে পারবে ওই ‘হেরন মার্ক টু’, যার নির্মাণকারী সংস্থা হলো ‘ইসরাইলি অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ। আনন্দবাজার পত্রিকা।
চিকিৎসা ও গবেষণায় ইরানের নতুন পারমাণবিক সাফল্য
ইরান পরমাণু বিজ্ঞানে নতুন তিনটি বড় সাফল্য প্রকাশ করেছে। চিকিৎসা ও গবেষণার ক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য এ উদ্ভাবনগুলোর পাশাপাশি দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করেছে জাতীয় পারমাণবিক নেটওয়ার্ক। এ অর্জনগুলো ইরানের পারমাণবিক গবেষণা ও চিকিৎসা বিজ্ঞান খাতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গত ১৫ ডিসেম্বর সোমবার তেহরান আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব অর্জনের কথা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ এবং ইরান পারমাণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ এসলামী। অনুষ্ঠানে পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণা ইনস্টিটিউট তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবন উপস্থাপন করে। এ উদ্ভাবনের মধ্যে রয়েছে গ্যালিয়াম-৬৮ নামের একটি ডায়াগনস্টিক রেডিওফার্মাসিউটিক্যাল, যা মূলত মেটাস্ট্যাটিক মেলানোমা শনাক্তে ব্যবহৃত হবে। এছাড়া রয়েছে লুটেটিয়াম-১৭৭, একটি থেরাপিউটিক রেডিওফার্মাসিউটিক্যাল, যা ক্যানসার চিকিৎসায় কার্যকর। তৃতীয় উদ্ভাবনটি হলো হাড়ের ব্যথা চিকিৎসার জন্য একটি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় (অটোমেটেড) চিকিৎসা যন্ত্র। অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয় ইরানের জাতীয় পারমাণবিক নেটওয়ার্ক। সরকার জানিয়েছে, এ নেটওয়ার্কের লক্ষ্য দেশটির পারমাণবিক গবেষণার সক্ষমতা বাড়ানো এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। পারমাণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ এসলামি জানান, উদ্ভাবন ও গবেষণার ধারণাকে দ্রুত বাস্তব পণ্যে রূপান্তর করাই সংস্থার একমাত্র অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, ২০২৩ সালে একই প্রদর্শনীতে ইরান ৫০টি রেডিওফার্মাসিউটিক্যাল উৎপাদনের ঘোষণা দিয়েছিল। বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০টিতে এবং আরও ২০টি রেডিওফার্মাসিউটিক্যাল গবেষণাধীন পর্যায়ে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ অগ্রগতি ইরানের চিকিৎসা বিজ্ঞান ও পারমাণবিক গবেষণার সক্ষমতাকে আরও সুসংহত করবে এবং আন্তর্জাতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেশটির প্রযুক্তিগত অবস্থান শক্তিশালী করবে। মেহের নিউজ এজেন্সি।
জনসম্মুখে মুসলিম নারীর হিজাব টেনে খুলে ফেললেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী
ভারতের বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হিন্দুত্ববাদী নীতিশ কুমারের একটি বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সম্প্রতি পাটনায় মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে আয়োজিত একটি সরকারি অনুষ্ঠানে নীতিশ কুমার একজন মুসলিম নারী ডাক্তারের হিজাব টেনে সরিয়ে দেওয়ায় তুমুল সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে নবনিযুক্ত আয়ুষ (এওয়াইইউএস এইচ) ডাক্তারদের নিয়োগপত্র বিতরণের সময়। ডা. নুসরত পারভীন নামের ওই নারী চিকিৎসক মুখ্যমন্ত্রীর হাত থেকে তাঁর নিয়োগপত্র নেওয়ার জন্য মঞ্চে আসেন। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, নিয়োগপত্র হস্তান্তরের পর নীতিশ কুমার নারী ডাক্তারের মাথার স্কার্ফ বা হিজাবের দিকে ইঙ্গিত করেন এবং তা সরিয়ে দিতে বলেন। ডাক্তার সঙ্গে সঙ্গে সাড়া না দেওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী নিজেই এগিয়ে গিয়ে তার হিজাব টেনে সরিয়ে দেন। এ সময় নারী চিকিৎসককে দৃশ্যত অস্বস্তিতে ও বিব্রত অবস্থায় দেখা যায়। উপস্থিত কয়েকজনকে হাসতেও দেখা যায়। এ ঘটনার ভিডিও দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায় এবং তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। বিরোধীদলগুলো মুখ্যমন্ত্রীর এ আচরণের তীব্র নিন্দা করেছে। ঘটনাটিকে ‘ঘৃণ্য’ এবং ‘লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়ে কংগ্রেস দল নীতিশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেছে। কংগ্রেস তাদের বিবৃতিতে জানায়, ‘রাজ্যের সর্বোচ্চ পদে থাকা একজন ব্যক্তি যদি জনসমক্ষে এমন জঘন্য আচরণ করেন, তবে বিহারে নারীরা কতটা নিরাপদ, তা সহজেই অনুমেয়। এই নিন্দনীয় কাজের জন্য নীতিশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত। এ ধরনের অসদাচরণ ক্ষমার অযোগ্য।’ এছাড়া রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আর জেডি) সহ অন্যান্য বিরোধী নেতারাও মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করে অভিযোগ করেছেন যে তিনি নারীর ব্যক্তিগত এবং ধর্মীয় মর্যাদাকে অপমান করেছেন। বিতর্কিত এ ঘটনাটি রাজ্যের নারীদের নিরাপত্তা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। যদিও নীতিশ কুমারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি। সিয়াসত ডেইলি।
পাকিস্তানের প্রখ্যাত পীর জুলফিকার নকশবন্দীর ইন্তেকাল
পাকিস্তানের প্রখ্যাত পীর মাওলানা জুলফিকার আলী নকশবন্দী রহ. ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গত রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে লাহোরে তিনি ইন্তেকাল করেন। হজরতের খলিফা মাওলানা মাসুমুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেন। পীর জুলফিকার আহমদ নকশবন্দী ১৯৫৩ সালের ১ এপ্রিল পাকিস্তানের ঝং জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি নকশবন্দি তরিকার একজন প্রভাবশালী সুফি সাধক ছিলেন। দেওবন্দি আলমেদের সাথে তার সম্পর্ক ছিল গভীর। তিনি ইসলামি আধ্যাত্মিকতা ও আত্মশুদ্ধির ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী পরিচিত ছিলেন। তিনি ঝাং শহরে ‘জামিয়া মাহাদুল ফকির আল-ইসলামি’ প্রতিষ্ঠা ও পৃষ্ঠপোষকতা করেন। প্রতিষ্ঠানটি ইসলামি শিক্ষা, তাসাউফ (সুফিবাদ) এবং নৈতিক চরিত্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তিনি তার অনুসারীদের নফস নিয়ন্ত্রণ, গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা, কৃতজ্ঞতা চর্চা এবং আত্মসমালোচনার মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির পথে পরিচালিত করেন। জুলফিকার আহমদ নকশবন্দী সৌদি আরব, মিসর, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ভারতসহ বিশ্বের প্রায় ৭০টি দেশে দাওয়াতি সফর করেছেন। দারুল উলুম দেওবন্দসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ ইসলামি প্রতিষ্ঠানে তিনি বক্তব্য প্রদান করেন। তার বক্তব্য ও নসিহত ইউটিউবসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়। তার চিন্তাধারা, বয়ান, গ্রন্থ ও আধ্যাত্মিক সাধনা অসংখ্য মানুষের জীবনে হেদায়াত ও আলোর পথ দেখিয়েছে। তার ইন্তেকালে ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এক্সপ্রেস নিউজ।
অং সান সুচির অবস্থা নিয়ে ছেলে কিম আরিসের উদ্বেগ
মিয়ানমারের সাবেক নেত্রী ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অং সান সুচির স্বাস্থ্য ও বর্তমান অবস্থান নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তার ছেলে কিম আরিস। দীর্ঘদিন ধরে মায়ের সঙ্গে কোনো সরাসরি যোগাযোগ না থাকার কারণে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, মা আদৌ বেঁচে আছেন কি না, সেটিও তিনি নিশ্চিতভাবে জানেন না। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কিম আরিস জানান, ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সু চির সরকার উৎখাতের পর থেকে তিনি তার ৮০ বছর বয়সী মায়ের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে পারেননি। গত কয়েক বছরে মায়ের হৃদরোগ, হাড় ও মাড়ির বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে কেবল খণ্ডিত ও পরোক্ষ সূত্রে তথ্য পেয়েছেন তিনি। টোকিওতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কিম আরিস বলেন, তার মায়ের দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে এবং গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে কেউ তাকে দেখতে যায়নি। তিনি জানান, আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হয়নি, পরিবারের সঙ্গে তো নয়ই। ‘আমার জানা মতে, তিনি এরই মধ্যে মারা গেছেন, এমন সম্ভাবনাকেও উড়িয়ে দেওয়া যায় না,’ বলেছেন কিম আরিস। কিম আরিস মিয়ানমারের সামরিক জান্তার প্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের উদ্দেশ্য নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, আমার মাকে নিয়ে তার নিজস্ব রাজনৈতিক হিসাব আছে। যদি তিনি নির্বাচন সামনে রেখে বা পরে জনগণকে শান্ত করতে মাকে মুক্তি দেন কিংবা গৃহবন্দি রাখেন, তা অন্তত কিছুটা স্বস্তির বিষয় হবে।’ তবে এসব মন্তব্যের বিষয়ে মিয়ানমারের সামরিক জান্তার কোনো মুখপাত্র মন্তব্য করেননি। সামরিক বাহিনীর অতীত ইতিহাস উল্লেখ করে কিম আরিস বলেন, দেশটিতে বিভিন্ন জাতীয় দিবস বা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সময় বন্দিদের মুক্তি দেওয়ার নজির রয়েছে। তিনি স্মরণ করান, ২০১০ সালের নির্বাচনের কয়েক দিন পরই দীর্ঘ বন্দিজীবন শেষে সুচি মুক্তি পেয়েছিলেন। সেই সময় তিনি ইয়াঙ্গুনের ইন্যা লেকের পাশে নিজের পারিবারিক বাড়িতে গৃহবন্দি ছিলেন।
পরবর্তীতে ২০১৫ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে অং সান সুচি মিয়ানমারের কার্যত (ডি-ফ্যাক্টো) নেতা হন। তবে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ ওঠায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশজুড়ে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দেয়। সশস্ত্র বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে এবং বিদ্রোহীরা বিভিন্ন অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে সুচি উসকানি, দুর্নীতি ও নির্বাচনী জালিয়াতিসহ বিভিন্ন মামলায় ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন, যদিও তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। কিম আরিস জানান, তার ধারণা, সুচিকে রাজধানী নাইপিদোতে রাখা হয়েছে। দুই বছর আগে ছেলেকে পাঠানো শেষ চিঠিতে সুচি গ্রীষ্ম ও শীত, উভয় মৌসুমে কারাগারের চরম তাপমাত্রা নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন। কিম আরিস বিশ্বজুড়ে একের পর এক সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মিয়ানমারের পরিস্থিতি ভুলে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এ প্রেক্ষাপটে তিনি ডিসেম্বর ২৮ থেকে ধাপে ধাপে অনুষ্ঠিতব্য সামরিক জান্তার নির্বাচনের সময়টাকেই কাজে লাগাতে চান। তিনি বলেন, ‘সামরিক বাহিনী যে নির্বাচন আয়োজন করতে যাচ্ছে, তা সম্পূর্ণ অন্যায় ও প্রহসন- এটি সবাই জানে। তবু এ সময়টাকে আমি একটি ছোট সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করতে চাই, যেন জাপানের মতো দেশগুলো জান্তার ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং আমার মায়ের মুক্তির দাবি তোলে।’ একসময় আন্তর্জাতিক মহলে তার মায়ের অবস্থান শক্তিশালী থাকায় মিয়ানমারের পরিস্থিতি উপেক্ষা করা কঠিন ছিল। তবে রাখাইন সংকটের পর সুচির অবস্থান দুর্বল হয়ে যাওয়ায় এখন অনেকেই বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন, এটিও কিম আরিসের প্রধান উদ্বেগ। রয়টার্স।
‘আইএস’-এর স্লিপার সেলের বিরুদ্ধে অভিযান
সিরিয়ার হোমস প্রদেশে দায়েশ (আইএস) জঙ্গিগোষ্ঠীর সিøপার সেলের বিরুদ্ধে ব্যাপক নিরাপত্তা অভিযান শুরু করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। পালমিরার কাছে এক হামলায় তিন মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার পর গত ১৪ ডিসেম্বর রোববার এ অভিযান চালানো হয়। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আল-ইখবারিয়া জানায়, গত ১৩ ডিসেম্বর শনিবার পালমিরার কাছে একটি যৌথ সিরীয়-মার্কিন টহল দলের ওপর হামলার প্রতিক্রিয়ায় এ অভিযান শুরু হয়। ওই হামলায় দুজন মার্কিন সেনা ও একজন বেসামরিক দোভাষী নিহত হন। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, হামলাকারী একজন দায়েশ সদস্য ছিল এবং পরে তাকে হত্যা করা হয়েছে। অভিযানটি মূলত হোমস প্রদেশের ফুরক্লুস, আল-ক্বারিয়াতাইন এবং পার্শ্ববর্তী মরুভূমি এলাকায় পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে দায়েশের স্লিপার সেল সক্রিয় রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেন, হামলাকারী ব্যক্তি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ছিলেন এবং ‘চরমপন্থী মতাদর্শ’ ধারণ করার কারণে তাকে রোববারই বরখাস্ত করার কথা ছিল। একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনীর ১১ জন সাধারণ সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। হামলাকারী গত ১০ মাস ধরে নিরাপত্তা বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন এবং বিভিন্ন শহরে দায়িত্ব পালনের পর পালমিরায় স্থানান্তরিত হন। ইউনেস্কো ঘোষিত ঐতিহাসিক নগরী পালমিরা এক সময় দায়েশের দখলে ছিল। গত ডিসেম্বর বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর প্রথম বড় ধরনের হামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে সিরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সদ্য পুনঃস্থাপিত সম্পর্কেও একটি বড় ধাক্কা এলো। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার পর ‘কঠোর প্রতিশোধের’ হুঁশিয়ারি দেন।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা জানান, হামলার আগে মার্কিন বাহিনী দক্ষিণ-পূর্ব সিরিয়ার আল-তানফ সামরিক ঘাঁটি থেকে স্থলপথে পালমিরায় আসে। যৌথ সিরীয়-মার্কিন প্রতিনিধিদল প্রথমে পালমিরা শহর পরিদর্শন করে, এরপর টি-৪ বিমানঘাঁটিতে যায় এবং পরে আবার পালমিরার ঘাঁটিতে ফিরে আসে। পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা বলেন, হামলাটি এমন একটি এলাকায় ঘটেছে যা সিরিয়ার রাষ্ট্রপতির নিয়ন্ত্রণে নেই। মার্কিন দূত টম ব্যারাক বলেন, এ হামলা প্রমাণ করে যে, দায়েশের নেটওয়ার্ক ধ্বংসে সক্ষম সিরীয় অংশীদারদের সঙ্গে সীমিত মার্কিন সহায়তা অব্যাহত রাখা জরুরি। পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল জানান, নিহত সেনারা সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নিচ্ছিলেন। হামলায় আহত তিন মার্কিন সেনা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। উল্লেখ্য, দায়েশ ২০১৪ সালে সিরিয়া ও ইরাকের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করলেও ২০১৯ সালে তাদের তথাকথিত খেলাফত ভেঙে দেয়া হয়। তবে সিরিয়ার বিশাল মরুভূমি অঞ্চলে এখনো তাদের বিচ্ছিন্ন উপস্থিতি রয়েছে। গত মাসে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমাদ আল-শারার ওয়াশিংটন সফরের সময় দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন দায়েশবিরোধী আন্তর্জাতিক জোটে যোগ দেয়। ডেইলি সাবাহ।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান