বিশ্ব সংবাদ


১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ১২:০৩

মুর্শিদাবাদে বা’বরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে মানুষের ঢল

বাবরি মসজিদের ভিত্তি স্থাপনে মানুষের ঢল
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বেলডাঙ্গা-রেজিনগর এলাকায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাবরি মসজিদের আদলে নতুন মসজিদ নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানে অংশ নেয় লাখো মানুষ। নতুন মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন রাজ্যটির ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবির। সকাল ১০টায় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন সৌদি আরব থেকে আগত মুফতি সুফিয়ান এবং মদিনা থেকে আগত ধর্মীয় নেতা শেখ আবদুল্লাহ। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে হাজার হাজার মুসল্লি ইমারতি খয়রাত হিসেবে মাথায় ইট নিয়ে অনুষ্ঠানে অংশ নেন। মসজিদ নির্মাণে ৩০০ কোটি টাকার বাজেট ধরা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হুমায়ুন কবির। এ সময় দান হিসেবে কয়েক কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়; একজন ডাক্তার একাই দেন এক কোটি রুপি। এছাড়া একজন ব্যবসায়ী একাই ৮০ কোটি টাকা দেবেন বলে জানিয়েছেন হুমায়ুন কবির। তিনি দাবি করেন, ২৫ বিঘা এলাকা নিয়ে মসজিদ চত্বর গড়ে উঠবে, যেখানে কলেজ, হাসপাতাল, গেস্টহাউস ও সভাকক্ষও থাকবে। তবে প্রকল্পটির বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে মামলা হয়েছিল। কিন্তু আদালত জানিয়েছে, উপাসনালয় নির্মাণ সংবিধানসম্মত অধিকার; তাই তারা হস্তক্ষেপ করবে না। আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে এলাকাজুড়ে মোতায়েন করা হয় ৩ হাজারের বেশি বিএসএফ, কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনী, র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের সদস্যরা। হুমায়ুন কবির সমাবেশে বলেন, একটি ইটও সরানো যাবে না; এটি মুসলমানদের প্রতিশ্রুতি। ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর ভেঙে ফেলা হয়েছিল অযোধ্যার বাবরি মসজিদ, যাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোড়ন দেখা দেয়। সে কথা মাথায় রেখেই এ দিনকেই মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন বা শিলান্যাসের দিন হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। দলের ‘ভ্রুকুটি’ উপেক্ষা করেই অবশ্য বাবরি মসজিদের শিলান্যাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের বিধায়ক এবং তার এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকদিন ধরেই উত্তপ্ত ছিল রাজ্য রাজনীতি। এনডিটিভি।

জাকাত বিল অনুমোদন করলেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট
মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মুহাম্মদ মুইজ্জু জাকাত বিষয়ক একটি বিল স্বাক্ষর করেছেন। গত ৬ ডিসেম্বর মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি অফিস থেকে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে বিলটি ৩ ডিসেম্বর ২০২৫ সালের তৃতীয় অধিবেশনের ২৮তম বৈঠকে, ২০তম পিপলস মাজলিসে পাস হয়। এ আইনের উদ্দেশ্য হলো, মালদ্বীপে জাকাত ব্যবস্থাকে পরিচালনার জন্য একটি আইনগত কাঠামো তৈরি করা, যাতে ইসলামে নির্ধারিত উদ্দেশ্য পূরণের লক্ষ্যে জাকাতের প্রদান, গ্রহণ ও বণ্টন কার্যকরভাবে সংগঠিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়। এ আইন কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জাকাতের অর্থ সুরক্ষিত রাখা, যোগ্য প্রাপকদের মধ্যে বিতরণ করা এবং ইসলামী শরিয়া অনুযায়ী বিনিয়োগের জন্য একটি জাকাত ফান্ড প্রতিষ্ঠা করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত নিয়ম মেনে ফান্ডটি মালদ্বীপ মনেটারি অথরিটিতে একটি আলাদা অ্যাকাউন্টে সংরক্ষিত থাকবে, যা সরকারি ব্যাংক হিসাব থেকে পৃথক হবে। মালদ্বীপ মনেটারি অথরিটি এ ফান্ডের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। নতুন জাকাত ফান্ড প্রতিষ্ঠার ফলে পূর্বে পাবলিক ফাইন্যান্স অ্যাক্ট (আইন নং ৩/২০০৬) অনুযায়ী গঠিত জাকাত ফান্ডে থাকা সব অর্থ নতুন ফান্ডে স্থানান্তর করা হবে। আইন অনুযায়ী, ইসলামী বিষয়ক মন্ত্রীর পরামর্শের ভিত্তিতে জাকাত সম্পদ সংগ্রহ ও বিতরণসহ জাতীয় জাকাত নীতি রাষ্ট্রপতি নির্ধারণ করবেন। রাষ্ট্রপতি একটি জাকাত কাউন্সিলও গঠন করবেন, যা মন্ত্রী ও মালদ্বীপ জাকাত হাউজকে জাকাত ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পরামর্শ দেবে। এ আইন কার্যকর হলে, মালদ্বীপ জাকাত হাউজ মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি সরকারি সংস্থা হিসেবে পুনর্গঠিত হবে। এর পূর্ববর্তী সব দায়িত্ব, সম্পদ, সুবিধা, বাজেট এবং আইন বা চুক্তির অধীনে প্রাপ্ত সব অধিকার নতুন সংস্থায় হস্তান্তর করা হবে। এছাড়া রাষ্ট্রপতির নিয়োগকৃত একটি শরিয়াহ উপদেষ্টা কমিটি জাকাত ব্যবস্থার প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে শরিয়াভিত্তিক দিকনির্দেশনা ও তদারকি প্রদান করবে। বিলটি অনুমোদনের পর সরকারী গেজেটে প্রকাশ করা হয়েছে। আইনটি ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। প্রেসিডেন্সি ডটগভ ডটএমভি।

যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রস্তাবে সম্মত নন জেলেনস্কি : ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি করা শান্তি প্রস্তাবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এখনো সম্মতি দিতে প্রস্তুত নন। গত ৭ ডিসেম্বর রোববার রাতে ফ্লোরিডায় ওয়াশিংটন ও কিয়েভের মধ্যে তিন দিনের বৈঠক শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন। খবর দ্য গার্ডিয়ানের। ট্রাম্প বলেন, আমি একটু হতাশ যে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এখনো প্রস্তাবটি পড়েননি। কয়েক ঘণ্টা আগেও তিনি তা পড়েননি। তার লোকজন প্রস্তাবটি পছন্দ করেছে, কিন্তু তিনি এখনো করেননি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের মধ্যে কয়েকদিনের আলোচনা গত ৬ ডিসেম্বর শনিবার শেষ হলেও সুস্পষ্ট কোনো অগ্রগতি হয়নি। তবে জেলেনস্কি আলোচনাকে ‘গঠনমূলক, যদিও সহজ নয়” বলে মন্তব্য করেন। ট্রাম্প-সমর্থিত গাজা যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে একটি শান্তি চুক্তি সংগঠিত করতে কাজ করছে। মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করছেন, তারা একটি চূড়ান্ত সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন। তবে ইউক্রেন ও রাশিয়া কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত ট্রাম্পের আলোচক দলের তৈরি করা কাঠামোতে স্বাক্ষরের ব্যাপারে স্পষ্ট আগ্রহ দেখায়নি। গত ৭ ডিসেম্বর রোববারের বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, আমার মনে হয়, রাশিয়া এ চুক্তি নিয়ে ঠিক আছে। কিন্তু আমি নিশ্চিত নই যে জেলেনস্কি এতে রাজি আছেন। তার লোকজন এটি পছন্দ করেছে, কিন্তু তিনি এখনো প্রস্তুত নন। এদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন এখনো হোয়াইট হাউসের এ পরিকল্পনার প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানাননি। বরং গত সপ্তাহে তিনি বলেছেন, ট্রাম্পের প্রস্তাবের কিছু দিক বাস্তবায়নযোগ্য নয়। মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার গত সপ্তাহে ক্রেমলিনে পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করলেও কোনো স্পষ্ট অগ্রগতি অর্জিত হয়নি।

বৈশ্বিক শক্তিধর দেশ হিসেবে উদীত হচ্ছে সৌদি আরব
সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সাম্প্রতিক ওয়াশিংটন সফরটি ক্রমবর্ধমান বহু-মেরুকেন্দ্রিক বিশ্বে দেশটির ভূ-রাজনৈতিক ও ভূ-অর্থনৈতিক শক্তি হয়ে ওঠার লক্ষ্যকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনে ক্রাউন প্রিন্স ইঙ্গিত দিয়েছেন যে সৌদি আরব এখন বিশ্বের বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে একই টেবিলে নিজের স্থান দাবি করতে ইচ্ছুক। বিশ্লেষক হিশাম আলঘান্নাম বলেন, ক্রাউন প্রিন্সের বাণিজ্যিক পদক্ষেপগুলো কেবল অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য নয়; বরং বহুমেরুর বৈশ্বিক ব্যবস্থায় সৌদি আরবকে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের প্রায় সমপর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা। এ বছরের ‘ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’-এ সৌদি জ্বালানি মন্ত্রী আবদুলআজিজ বিন সালমান সম্মেলনে বলেছেন, “চীনাদের আমি বলতে চাই, সাবধান! আগামী বছর ব্যাটারি খাতে আমাদের প্রচুর প্রতিযোগিতা হবে।’ চীনা বিশ্লেষক চেং ওয়াং উল্লেখ করেন, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেল রপ্তানি থেকে শুরু করে চিপ, অস্ত্র, গাড়ি, ব্যাটারি এবং হাইড্রোজেন শক্তি উৎপাদনে রূপান্তরই এ আত্মবিশ্বাসকে শক্তিশালী করছে। সৌদি আরব ইতোমধ্যে চীনা পণ্যেও মূল্য নির্ধারণের বিরুদ্ধে চারটি তদন্ত শুরু করেছে, যার মধ্যে স্টেইনলেস স্টিল টিউব থেকে বৈদ্যুতিক পণ্যও রয়েছে। ওয়াশিংটন সফরের সময় ক্রাউন প্রিন্স পারমাণবিক শক্তি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং উন্নত প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপনের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করেন।
২০৩০ সালের মধ্যে সৌদি আরব বিশ্বের শীর্ষ সাতটি খনিজ প্রক্রিয়াজাতকারী দেশের একটি হওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ সৌদি বিরল খনিজ শোধনের জন্য একটি যৌথ চুক্তিতে ৪৯ শতাংশ অর্থায়ন নিশ্চিত করেছে। এছাড়া ক্রাউন প্রিন্স যুক্তরাষ্ট্রে তার বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি ৬০হাজার কোটি ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ কোটি ডলারে উন্নীত করেছেন। এ সময় ইলন মাস্ক সৌদি আরবে বৃহৎ ডেটা সেন্টার প্রকল্প ঘোষণা করেছেন এবং ইউরোপের ডি-এআই-এর সঙ্গে বড় এআই অবকাঠামো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বিশ্লেষক মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, বিশ্বব্যাপী চাহিদা যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যাওয়ায় সৌদি আরব আফ্রিকা, দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের জন্য কম্পিউটার প্রযুক্তি ক্ষেত্র হওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে। সৌদি আরব পাকিস্তানের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে তাদের কৌশলগত অবস্থান আরও জোরালো করেছে। ভারতীয় উদ্বেগ সত্ত্বেও চুক্তিতে বলা হয়েছে যে তাদের যেকোনো একটি দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসন উভয়ের বিরুদ্ধেই আগ্রাসন হিসেবে গণ্য হবে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের হানা জাল্লুল মুরো বলেন, ‘২১ শতাব্দী সৌদি আরবকে কেবল একটি জ্বালানি শক্তিধর দেশ হিসেবেই নয়, বরং বৈশ্বিক কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভারসাম্যের একটি কেন্দ্রীয় সেতুবন্ধন হিসেবেও দেখবে।’ হুহোয়াটহোয়াই।

গাজায় কোনো বাহিনীর কর্তৃত্ব মানবে না হামাস
গাজায় ইসরাইলের গণহত্যামূলক যুদ্ধের অবসানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পরিকল্পনার দ্বিতীয় পর্বের দিকে এগোতে প্রস্তুত হচ্ছে ইসরাইল ও হামাস। তবে অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনি উপত্যকায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর অনির্ধারিত ভূমিকা নিয়ে মতভেদ দেখা দিয়েছে দুই পক্ষের মধ্যে। হামাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বাসেম নাইম গত ৭ ডিসেম্বর রোববার বলেছেন, মার্কিন খসড়া প্রস্তাবটির জন্য অনেক ব্যাখ্যা প্রয়োজন। চলমান যুদ্ধবিরতির সময় অস্ত্র ব্যবহার বন্ধ রাখা নিয়ে আলোচনা করতে হামাস প্রস্তুত থাকলেও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর (স্টাবিলাইজেশন ফোর্স) নিরস্ত্রীকরণের দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়টি তারা মেনে নেবে না। বাসেম নাইম বলেন, আমরা সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় জাতিসংঘের বাহিনীকে স্বাগত জানাই, যারা যুদ্ধবিরতি চুক্তি তদারকি করবে, লঙ্ঘন সম্পর্কে রিপোর্ট করবে এবং যেকোনো ধরনের উত্তেজনা রোধ করবে। তবে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে এ বাহিনীর কোনো ধরনের কর্তৃত্ব থাকুক, তা হামাস মানবে না। তার এ মন্তব্যটি এসেছে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মন্তব্যের পর। নেতানিয়াহু বলেছেন, তিনি এ মাসের শেষে মার্কিন পরিকল্পনা অনুসারে শান্তি প্রক্রিয়ার নতুন পর্বে প্রবেশ নিয়ে আলোচনা করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তিনি বলেন, এ বৈঠকের মূল লক্ষ্য হবে গাজায় হামাসের শাসন শেষ করা এবং ছিটমহলটির নিরস্ত্রীকরণের জন্য প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় থাকা তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ নিশ্চিত করা। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু বলেন, শান্তি প্রক্রিয়ায় আমাদের দ্বিতীয় পর্ব রয়েছে, যা কোনো অংশে কম কঠিন নয়, আর তা হলো হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজার সামরিকীকরণ দূর করা। ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের অস্ত্র স্থগিত বা সংরক্ষণের বিষয়ে নাইমের মন্তব্য ইসরাইলের পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের দাবি পূরণ করবে কিনা, তা স্পষ্ট নয়। হামাসের ওই কর্মকর্তা বলেন, তার গোষ্ঠী ‘প্রতিরোধের অধিকার’ ধরে রেখেছে এবং ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে পরিচালিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে অস্ত্র সমর্পণ করা যেতে পারে, যেখানে সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি পাঁচ থেকে দশ বছর স্থায়ী হতে পারে।
গাজার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের খসড়া পরিকল্পনা ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতার পথ খোলা রাখলেও নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে তা প্রত্যাখ্যান করে আসছেন এ বলে যে, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র সৃষ্টি করা হামাসকে পুরস্কৃত করার শামিল হবে। ট্রাম্পের ২০-দফা পরিকল্পনাটি স্থিতিশীলতা বাহিনী প্রতিষ্ঠা এবং একটি আন্তর্জাতিক ‘শান্তি বোর্ড’ এর অধীনে ফিলিস্তিনি সরকার গঠনের মতো পরিকল্পনার জন্য সাধারণ পথ বাতলে দেয়, তবে এতে কোনো নির্দিষ্ট বিবরণ বা সময়সীমা দেওয়া হয়নি। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, তারা আগামী বছরের শুরুতে গাজায় সেনা মোতায়েনের বিষয়টি নিয়ে আশা করছেন, কিন্তু ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশ সেনা সরবরাহ করতে সম্মত হলেও এ বাহিনী গঠনের কোনো রূপরেখা নেই এবং এর সঠিক কাঠামো, কমান্ড ব্যবস্থা এবং দায়িত্বসমূহ এখনো সংজ্ঞায়িত করা হয়নি। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকেও পরিকল্পনার অস্পষ্টতা স্বীকার করতে দেখা যায়। তিনি গত ৭ ডিসেম্বর রোববার প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘সময়সীমা কী হবে? কোন বাহিনী আসছে? আমাদের কি আন্তর্জাতিক বাহিনী থাকবে? না থাকলে বিকল্প কী? এ সব বিষয় নিয়েই আলোচনা চলছে।’ ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ পরিকল্পনার দ্বিতীয় পর্ব, যা অক্টোবরের ৭ তারিখের হামলায় নিহত শেষ ইসরাইলি বন্দিকে (একজন পুলিশ কর্মকর্তা) হামাস ফিরিয়ে দিলে শুরু হবে, তা আরও কঠিন হবে। এ পরিকল্পনার প্রথম পর্ব ইতোমধ্যেই কঠিন প্রমাণ হয়েছে। কারণ যুদ্ধবিরতি চলাকালীন সময়েও ইসরাইল গাজায় বোমা হামলা অব্যাহত রেখেছে, যার ফলে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে ৩৭০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। অন্যদিকে ইসরাইল হামাসের বিরুদ্ধে বন্দি ফেরতের প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করার অভিযোগ এনেছে। এদিকে পরিকল্পনার প্রাথমিক পদক্ষেপে ইসরাইলি বাহিনী গাজায় তথাকথিত ‘হলুদ রেখা’র পিছনে নিজেদের অবস্থান থেকে সরে যায়, যদিও ইসরাইলি সামরিক বাহিনী এখনো এ অঞ্চলের ৫৩ শতাংশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী গত ৭ ডিসেম্বর রোববার বলেছে যে এ সীমারেখাটি এখন ‘নতুন সীমান্ত’। রয়টার্স, আল-জাজিরা।

রাশিয়ায় পুনরায় ব্যবসা চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন
চীনা আন্তঃসীমান্ত ই-কমার্স উদ্যোক্তা অ্যান্ডি গুও মস্কোর উপকণ্ঠে মোট ৫,০০০ বর্গমিটার (৫৩,৮২০ বর্গফুট) জুড়ে দুটি গুদাম খুলেছেন। তিনি বলেছেন যে, এ পদক্ষেপটি লজিস্টিকাল বাধা মোকাবিলা করার বিষয়ে নয়, বরং সম্ভাব্য ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য তার ব্যবসাকে প্রস্তুত করার বিষয়ে যা রাশিয়া এবং ইউক্রেন একটি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছালে তার দ্রুততম বর্ধনশীল কিন্তু সবচেয়ে অনিশ্চিত বিদেশী বাজারকে পুনর্গঠন করতে পারে। অনেক চীনা রপ্তানিকারক আশা করেন যে রাশিয়ায় যুদ্ধ-পরবর্তী চাহিদার প্রথম ঢেউ অবকাঠামো থেকে আসবে, তারপরে নিষেধাজ্ঞার কারণে পেমেন্ট এবং ডেলিভারি বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ার পরে ভোক্তা ব্যয় দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। গুও-এর গুদামগুলো নির্মাণ হার্ডওয়্যার, গৃহস্থালীর পণ্য এবং অন্যান্য জিনিসপত্র এবং তিনি যাকে ‘পুনরুদ্ধার এবং পুনর্বাসন’ পণ্য বলে অভিহিত করেন তা সংরক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হবে। ‘রাশিয়া নবজাতক এবং শিশু যত্নের জন্য প্রচুর ভর্তুকি দিচ্ছে, তাই মাতৃ এবং শিশু খাত প্রথমে পুনরুদ্ধার করতে পারে,’ গুও বলেন, ‘যুদ্ধ-পরবর্তী আঘাত পুনরুদ্ধার এবং সুস্থতা, যেমন সহায়ক চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্যসেবা সরঞ্জাম, নতুন বৃদ্ধির ক্ষেত্র হিসাবে আবির্ভূত হতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ইউক্রেনীয় বাজারের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। অন্যান্য কোম্পানিগুলোও পুনর্গঠনের ওপর বাজি ধরছে। দক্ষিণ চীনের গুয়াংডং প্রদেশে হাই-টেক পানি এবং বিদ্যুৎ মিটার প্রস্তুতকারক উইলিয়াম হং সম্প্রতি কাজাখস্তানের একাধিক শহরে স্থানীয় অংশীদারদের সাথে কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি বলেছেন, তারা তাকে মধ্য এশিয়ায় একটি অবস্থান তৈরি করতে এবং ভবিষ্যতে রাশিয়ান এবং ইউক্রেনীয় বাজারে পুনরায় প্রবেশের জন্য একটি চ্যানেল দিয়েছে। ‘এটি একটি ফায়ারওয়াল হিসাবে কাজ করে, যা আমাদের পরিচয়কে ছোট করে দেখতে এবং স্থানীয় উদ্যোগ হিসেবে কাজ করতে সহায়তা করে,’ তিনি আরও যোগ করেন।
কেউ কেউ বলেন যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহার করলেও, রাশিয়ান বাজার পুনরায় চালু হওয়ার ফলে, পশ্চিমা কোম্পানিগুলো গত কয়েক বছর ধরে চীন যে সরবরাহ শৃঙ্খল নেটওয়ার্ক এবং সুবিধাগুলো তৈরি করেছে তা প্রতিস্থাপন করতে লড়াই করবে। ‘যে বিদেশি পুঁজি প্রত্যাহার করা হয়েছিল তা সহজে ফিরে আসবে নাÑ যুদ্ধ-পূর্ব স্তরে পৌঁছাতে বেশ কয়েক বছর সময় লাগবে,’ গুয়াংডংয়ের শেনজেনে অবস্থিত একজন অটো যন্ত্রাংশ রপ্তানিকারক লি কিং বলেছেন। ‘যদি পশ্চিমা গাড়ি নির্মাতারা ফিরে আসে, তাহলে কিছু ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার পরিবর্তন হতে পারে, তবে চীনা ব্র্যান্ডগুলোর জন্য চিকিৎসা সরবরাহ শৃঙ্খল স্থিতিশীল থাকবে অথবা প্রিমিয়াম ডিভাইস ছাড়া বৃদ্ধি পাবে,’ তিনি বলেন। ২০২২ সালের গোড়ার দিকে ইউক্রেনে পূর্ণ মাত্রায় আক্রমণ শুরু করার পর থেকে রাশিয়ার ওপর আরোপিত পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার ফলে রাশিয়ার বাজারে সরবরাহের ঘাটতি দেখা দিয়েছে যা চীনা রপ্তানিকারকদের ঢেউ দ্বারা পূরণ করা হয়েছে। কিন্তু সুযোগের জানালা এখনো তাদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতার দ্বারা সংকুচিত হচ্ছে। ১৪ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার সাথে, রাশিয়ার বাজার এখন চীনা বিক্রেতাদের দ্বারা পরিপূর্ণ এবং মূল্য যুদ্ধ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, গুও বলেন। ইতোমধ্যে সরবরাহ বিলম্ব, অর্থ প্রদানের ব্যাঘাত এবং বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে উচ্চতর বাধার মতো সমস্যাগুলো চীনা রপ্তানিকারকদের চ্যালেঞ্জ করে চলেছে। ইউক্রেনের পুনর্গঠন এবং এর ফলে চীনা সংস্থাগুলোর জন্য সুযোগগুলি নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। চীনের উত্তরতম হেইলংজিয়াং প্রদেশের একটি নতুন জ্বালানি অবকাঠামো সংস্থার প্রকল্প ব্যবস্থাপক পিটার ঝু বলেছেন, তার কোম্পানি এখনো ইউক্রেন বা আশপাশের অঞ্চলগুলোকে তার পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করেনি। ‘যদিও পুনর্গঠনের সুযোগগুলো বিশাল বলে মনে হচ্ছে, সুবিধার ক্রম এবং বণ্টন অত্যন্ত অনিশ্চিত,’ তিনি বলেন, ‘আমরা ঝুঁকিগুলো সম্পূর্ণরূপে পরিচালনা করতে পারছি না, তাই আমাদের মনোযোগ বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের সাথে জড়িত দেশগুলোর ওপর রয়ে গেছে।’ এসসিএমপি।

আন্তঃসীমান্ত সংঘর্ষে জড়িয়েছে থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া
থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া নতুন করে আন্তঃসীমান্ত সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে। সংঘর্ষ বাড়ার পর সীমান্ত এলাকার হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ স্থানত্যাগ করছে। থাই সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, বিরোধপূর্ণ সীমান্তে গোলাগুলির সময় এক থাই সেনা নিহত হওয়ার পর দেশটির বিমানবাহিনী কম্বোডিয়ার সামরিক অবস্থানগুলোয় বোমা হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে কম্বোডিয়া বলছে, তাদের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ প্রেহ ভিহিয়ার এবং ওডার মেইনচে থাই সেনাবাহিনীর গুলিতে চারজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বের সি সা কেট ও উবন রাচাথানি প্রদেশেও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। উভয় দেশই সহিংসতায় একে অপরকে দায়ী করেছে। জুলাইয়ে যুদ্ধবিরতির পর এটিই দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় ধরনের সংঘর্ষ। মধ্যস্থতার মাধ্যমে ওই সমঝোতা চুক্তি করতে সাহায্যকারী মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম সতর্ক করে বলেছেন, নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হলে ‘দশক ধরে দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখার জন্য নেয়া সূক্ষ্ম কৌশল ভেঙে পড়তে পারে।’ বিবিসি।

‘মাথা নত’ করতে নারাজ পিটিআই
সশস্ত্র বাহিনীর ‘অনুগত’ পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন দলের নেতারা গত রোববার (৭ ডিসেম্বর) সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে অপমান করার এবং অস্থিতিশীলতা বপন করার জন্য সমন্বিত প্রচারণা চালানোর অভিযোগ করেছেন। তবে দলটি তাদের অবস্থানে অটল ছিল এবং পেশোয়ারে শক্তি প্রদর্শন করে দাবি করেছে যে, তাদের দল বা দলের নেতাকে অসম্মান করার প্রচেষ্টা কেবল তাদের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করবে। একদিন আগে পিটিআই সেনাবাহিনীর মিডিয়া শাখার এক প্রেস ব্রিফিংকে ‘অনুপযুক্ত এবং দুর্ভাগ্যজনক’ বলে তীব্র সমালোচনা করে, যেখানে সেনার মুখপাত্র কারাবন্দী ইমরান খানকে ‘নার্সিসিস্ট’ এবং ‘মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তি’ বলে অভিযুক্ত করেন, যিনি তার ক্রমাগত সেনাবাহিনী বিরোধী বক্তব্যের মাধ্যমে ‘নিরাপত্তা হুমকি’র সৃষ্টি করছেন। এদিকে গত ৭ ডিসেম্বর রোববার পেশোয়ারে এক বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশে গৃহীত একটি প্রস্তাবের মাধ্যমে, পিটিআই তাদের পৃষ্ঠপোষক-প্রধান ইমরান খানের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত অবমাননাকর ভাষার জন্য ক্ষমা চাওয়ার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের বক্তব্য রোধ করার জন্য দায়ীদের জবাবদিহি করার দাবি জানিয়েছে। পিটিআই এবং তেহরিক-ই-তাহাফুজ আয়িন পাকিস্তান (টিটিএপি) নেতারা সমাবেশে বক্তব্য রেখে ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) এর মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরীর এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে ইমরান খান এবং খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী মুহাম্মদ সোহেল আফ্রিদি সম্পর্কে করা মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং প্রতিষ্ঠানটিকে ‘তার সাংবিধানিক সীমার মধ্যে থাকার’ আহ্বান জানিয়েছেন।
পেশোয়ারের স্পোর্টস কমপ্লেক্সে আয়োজিত সমাবেশে বেশিরভাগ বক্তা যুক্তি দিয়েছিলেন যে ইমরান খানের রাজনৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করার জন্য তাকে অপমান করার প্রচেষ্টা কেবল তার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে কাজ করেছে। দলটি সোশ্যাল মিডিয়ায়ও আইএসপিআর প্রেসারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে বিপুলসংখ্যক পিটিআই কর্মী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। পাখতুনখোয়া মিলি আওয়ামী পার্টির প্রধান এবং টিটিএপি নেতা মেহমুদ খান আছাকজাই, টিটিএপির আল্লামা রাজা নাসির আব্বাস, পিটিআইয়ের প্রাদেশিক সভাপতি এবং এমএনএ জুনায়েদ আকবর, মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি, প্রাদেশিক মন্ত্রী, এমএনএ এবং এমপিএরা সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। এমএনএ শের আলী আরবাব কর্তৃক উত্থাপিত একটি প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ‘আমরা, পাকিস্তানের জনগণ, ইমরান খানকে একজন জাতীয় বীর এবং পাকিস্তানের নির্বাচিত এবং প্রকৃত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিবেচনা করি, যিনি ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ তারিখে জনগণের দ্বারা নির্বাচিত হয়েছিলেন। আমরা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করি যে তিনি বা তার সহযোগীরা যে কোনোভাবেই জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি।’ প্রস্তাবে বলা হয়েছে যে একজন অনির্বাচিত সামরিক মুখপাত্র নির্বাচিত নেতৃত্বের প্রতি ‘অপমানজনক ভাষা’ ব্যবহার করেছেন এবং এ আচরণকে কায়েদ-ই-আজম কর্তৃক প্রদত্ত বেসামরিক শ্রেষ্ঠত্বের নীতির পরিপন্থী বলে অভিহিত করেছেন। দলটি কেপিতে গভর্নরের শাসন আরোপের যে কোনো আলোচনা প্রত্যাখ্যান করে বলেছে যে প্রদেশের জনগণ ‘সকল বাধা এবং কারচুপি সত্ত্বেও’ ইমরান খান এবং পিটিআইকে স্পষ্ট ম্যান্ডেট দিয়েছে। ‘গভর্নরের শাসনের ফলে গঠিত যেকোনো সরকার জনগণের দৃষ্টিতে অবৈধ এবং অসাংবিধানিক হবে,’ প্রস্তাবে বলা হয়েছে। পিটিআই নেতারা ১৪ ডিসেম্বর কোহাতে আরেকটি সমাবেশের ঘোষণাও দেন। ডন।

মার্কিন উন্নত জিবিইউ বোমার প্রযুক্তি ইরানের হাতে
লেবাননের গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অত্যন্ত উন্নত গাইডেড বোমার (জিবিইউ) প্রযুক্তি এখন ইরানের হাতে। ইতোমধ্যে মিত্র ইরানকে মার্কিন জিবিইউ-৩৯বি বোমার ছবি ও গুরুত্বপূর্ণ অংশবিশেষ সরবরাহ করেছে লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ। এ প্রযুক্তি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তিকে আরও উন্নত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসে ইসরায়েলি বাহিনীর আক্রমণে হিজবুল্লাহর একজন ঊর্ধ্বতন কমান্ডার হাইথাম আলী তাবাতাবাই নিহত হওয়ার পর একটি অত্যাধুনিক মার্কিন জিবিইউ-৩৯বি (স্মার্ট, ক্ষুদ্র-ব্যাসের বোমা) অবিস্ফোরিত রয়েছে। আর এতেই প্রযুক্তি শত্রুর হাতে চলে যাওয়ার দুশ্চিন্তায় ঘুম হারাম হয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্রের। তেহরান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, হিজবুল্লাহর নিরাপত্তা ইউনিট দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে বোমাটির ছবি তোলে, সেটিকে নিষ্ক্রিয় করে এবং তার অত্যাবশ্যকীয় ইলেকট্রনিক উপাদানগুলো রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের (বিপরীত প্রকৌশল) জন্য ইরানে পাঠায়। এদিকে এ ঘটনা ওয়াশিংটনকে উদ্বিগ্ন করেছে। যুক্তরাষ্ট্র এরপর লেবানন সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে বোমার ধ্বংসাবশেষ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। হিব্রু মিডিয়া অনুযায়ী, পেন্টাগন কর্মকর্তারা পরিস্থিতিটিকে ‘সংবেদন শীল’ হিসাবে দেখছেন, কারণ বোমার অভ্যন্তরীণ উপাদানগুলোর আংশিক প্রবেশাধিকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আধুনিক স্ট্রাইক আর্সেনালের নকশা পদ্ধতিগুলিকে ফাঁস করে দিতে পারে।
কেবল জিবিইউ-৩৯বি নয়, এর আগেও ইরান আরো একটি বিশাল আকারের মার্কিন বোমার প্রযুক্তি হাতে পেয়েছে। প্রতিবেদন মতে, ২০২৫ সালের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার সময় মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো ১৩ টন ওজনের বিশাল জিবিইউ-৫৭ বাঙ্কার বাস্টার বোমা ব্যবহার করেছিল। এগুলোর মধ্যে একটি বোমা অবিস্ফোরিত থেকে যায় এবং তা ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞদের হাতে আসে। ইরানের সূত্র নিশ্চিত করেছে, তেহরান সফলভাবে এ বিশাল আকারের যুদ্ধাস্ত্রের রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং (বিপরীত প্রকৌশল) সম্পন্ন করেছে। যদিও ১৩ টন ওজনের জিবিইউ-৫৭ বোমার ব্যাপক ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা রয়েছে, ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে, হিজবুল্লাহর মাধ্যমে প্রাপ্ত অপেক্ষাকৃত হালকা জিবিইউ-৩৯বি বোমার (যা প্রায় ১০০ কেজি ওজনের) প্রযুক্তি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র মতবাদের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ। ইরান জিবিইউ-৩৯বি বোমার ভেদন ক্ষমতা এবং পথনির্দেশক প্রযুক্তিকে তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ওয়ারহেডে যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে। ইরানের সামরিক প্রকৌশলীরা বর্তমানে জিবিইউ-৫৭-এর মতো একটি ওয়ারহেড তৈরি করতে সফল হয়েছেন, যা ১৪০০ কিলোমিটার পাল্লার ‘ফাত্তাহ’ হাইপারসনিক/ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এছাড়া ২০০০ কিলোমিটার পাল্লার ‘খোররামশহর-৪’ ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য আরও আধুনিক সংস্করণ তৈরি করা হচ্ছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, এ নতুন ইরানি ওয়ারহেডগুলো চাঙ্গা কংক্রিট এবং ভূগর্ভস্থ প্রতিরক্ষা প্রাচীর ভেদ করে ২০ মিটার পর্যন্ত গভীরে প্রবেশ করতে পারে। তবে মার্কিন সংস্করণে এ ক্ষমতা ৬০ মিটার পর্যন্ত বলে জানা যায়। তেহরান টাইমস।

দুর্নীতির অভিযোগে নেপালের পাঁচ মন্ত্রীসহ ৫৫ সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা
নেপালের দুর্নীতিবিরোধী কমিশন গত ৭ ডিসেম্বর রোববার দেশটির পাঁচজন মন্ত্রীসহ সাবেক সরকারের ৫৫ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে মামলা করেছে। দেশটির নতুন পোখারা বিমানবন্দর নির্মাণ প্রকল্পে প্রায় সাড়ে সাত কোটি মার্কিন ডলার অতিরিক্ত ব্যয় দেখানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। নেপালের সরকারি দুর্নীতির তদন্ত কমিশন প্রতিবেদনে জানিয়েছে, প্রকল্পে যুক্ত সরকারি কর্মকর্তারা ইচ্ছাকৃতভাবে ও অসৎ উদ্দেশ্যে চীনের সহায়তায় নির্মিত পোখারা বিমানবন্দর প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়েছেন। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন একজন সাবেক অর্থমন্ত্রী, বেসামরিক বিমান চলাচল তদারকির দায়িত্বে থাকা মন্ত্রণালয়ের চারজন সাবেক প্রধান এবং ১০ জন সাবেক সচিব। তিন মাস আগে নেপালে এক বিক্ষোভে আগের সরকারের পতন হয়। আগামী ৫ মার্চ দেশটি জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করতে যাচ্ছে। এপি।

মার্কিন বাহিনীর সমন্বয়কেন্দ্রে ইসরাইলের আড়িপাতা প্রযুক্তি স্থাপন
ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কিরিয়াত গাটে মার্কিন বাহিনীর সমন্বয়কেন্দ্রে নজরদারি প্রযুক্তি স্থাপন করেছে দখলদার বাহিনী। গত সোমবার (৮ ডিসেম্বর) কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিরিয়াত গাটে মার্কিন বাহিনীর সমন্বয়কেন্দ্রে নজরদারি প্রযুক্তি স্থাপন করেছে ইসরাইল। বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে মার্কিন কর্তৃপক্ষ সেখানের কর্মীদের সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার করতে নিষেধ করেছে। গার্ডিয়ান জানিয়েছে, সময়ন্বয় কেন্দ্রে যেসব সামরিক বা বেসামরিক বৈঠক হয়, সেগুলোর তথ্য নথিভুক্ত করে রাখছে ইসরাইল। গার্ডিয়ান, আল জাজিরা।

সিরিয়া পুনর্গঠনে ঐক্যের আহ্বান আল-শারার
দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রথম বর্ষপূর্তিতে গত সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সিরিয়ার জনগণকে দেশ পুনর্গঠনে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। গত বছরের নভেম্বরে শারার নেতৃত্বাধীন ইসলামপন্থী জোট হঠাৎ আন্দোলনে নামে। ব্যাপক সংঘাতের পর গত বছরের ৮ ডিসেম্বর দামেস্ক দখলে নিয়ে আসাদ পরিবারের পাঁচ দশকের শাসনের অবসান ঘটায় তারা। দেশটির প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানায়, সোমবার দামেস্কের ঐতিহাসিক উমাইয়া মসজিদে ফজরের নামাজ আদায়ের পর শারা দামেস্কে প্রবেশকারী যোদ্ধাদের ত্যাগ ও বীরত্বের কথা স্মরণ করেন। এক বছর আগের মতো আজও তিনি সামরিক পোশাক পরিধান করেছেন। তিনি বলেন, ‘সব নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শক্তিশালী সিরিয়া গড়ে তুলতে হবে। স্থিতিশীলতা দৃঢ় করতে হবে, সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হবে এবং যে ত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে ভবিষ্যৎ নির্মাণ হচ্ছে, তাকে সম্মান জানাতে হবে।’ গত নভেম্বরের শেষের দিক থেকে সিরিয়ার জনগণ বিজয় আন্দোলনের প্রথম বার্ষিকী পালন করছে। গত ৮ ডিসেম্বর সোমবার দামেস্কে সামরিক কুচকাওয়াজসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বর্ণাঢ্য এ উদযাপন করা হয়। শারা দিনটিতে নির্ধারিত ভাষণও দেন। অতীত থেকে বেরিয়ে আসা শারা দেশের আন্তর্জাতিক অবস্থান ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি নিষেধাজ্ঞারও শিথিলতা পেয়েছেন। তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ভেঙে পড়া প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, জনগণের আস্থা ফিরে পাওয়া এবং দেশকে ঐক্যবদ্ধ রাখা এখন তার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। এএফপি।

 

অভ্যুত্থানচেষ্টা ব্যর্থ, বেনিনে সেনা মোতায়েন নাইজেরিয়ার
নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবু একদল সৈন্যের অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা বানচাল করতে প্রতিবেশী বেনিনে যুদ্ধবিমান এবং স্থল সেনা মোতায়েন করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত ৭ ডিসেম্বর রোববার এক বিবৃতিতে, টিনুবুর কার্যালয় জানিয়েছে যে, প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিস তালোনের সরকার ‘তাৎক্ষণিক নাইজেরিয়ান বিমান সহায়তা’সহ সাহায্যের জন্য দুটি অনুরোধ জারি করার পরে নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনী বেনিনে হস্তক্ষেপ করেছে। টিনুবু প্রথমে নাইজেরিয়ান যুদ্ধবিমানগুলোকে বেনিনে প্রবেশ করতে এবং ‘জাতীয় টিভি এবং একটি সামরিক শিবির থেকে অভ্যুত্থান ষড়যন্ত্রকারীদের হটিয়ে দেওয়ার জন্য আকাশসীমা দখল করতে’ নির্দেশ দিয়েছিলেন, যেখানে তারা পুনরায় সংগঠিত হয়েছিল। বেনিনের সরকার ‘সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সুরক্ষা এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ন্ত্রণে’ তাদের সহায়তা চাওয়ার পর নাইজেরিয়ার সেনাবাহিনী পরে স্থল সেনা পাঠায়। টিনুবু তার সৈন্যদের প্রশংসা করেছেন এবং বলেছেন যে তারা ‘একটি প্রতিবেশী দেশকে স্থিতিশীল করতে’ সহায়তা করেছে। বেনিনের প্রেসিডেন্ট তালোন জাতীয় টেলিভিশনে উপস্থিত হয়ে বলেছিলেন যে, তার নিরাপত্তা বাহিনী তার সরকার উৎখাতের প্রচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করেছে, তার কিছুক্ষণ পরেই নাইজেরিয়ার এ বিবৃতি আসে। আল-জাজিরা।

পাকিস্তানের হামলায় ২৩ আফগান সেনা নিহত
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তে নতুন করে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বেলুচিস্তানের চামান সীমান্তে গত দুই দিনের সংঘর্ষে কমপক্ষে ২৩ আফগান তালেবান সেনা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য নিউজ। সংবাদমাধ্যমটি একটি বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে গত রোববার (৭ ডিসেম্বর) এ তথ্য প্রকাশ করে। সূত্রের দাবি, ৫ ডিসেম্বর (শুক্রবার) মধ্যরাতে চামানের জামান সেক্টরে প্রথমে আফগান তালেবান সেনারাই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ছোট অস্ত্র দিয়ে গুলি ছোড়েন। এর পরই পাকিস্তানের সেনারা পাল্টা জবাব দেয়। শুরুতে হালকা অস্ত্র ব্যবহার করা হলেও প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে টানা গোলাগুলির পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সংঘর্ষ তীব্র হলে পাকিস্তানি বাহিনী ভারী অস্ত্র মোতায়েন করে। রকেট লঞ্চার, কামান এবং অন্যান্য ভারী গোলাবারুদ ব্যবহার করে আফগান সীমান্ত চৌকিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এ হামলায় আফগান তালেবান বাহিনীর তিনটি সীমান্ত চৌকি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে বলে জানানো হয়েছে। একটি সূত্র আরও দাবি করেছে, সাধারণ আফগান নাগরিকদের ক্ষতি এড়াতে পাকিস্তানি বাহিনী ‘নির্ভুল অস্ত্র’ ব্যবহার করেছে। তবে প্রথম দফা হামলার পর আফগান সেনারা আশপাশের জনবহুল এলাকায় অবস্থান নেয় এবং সেখান থেকেই আবার গুলি ছোড়ে। সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, আফগান বাহিনীর ওই অবস্থান থেকে হামলার জবাবে পাকিস্তানও জনবহুল এলাকাগুলোর দিকে ভারী অস্ত্র ব্যবহার করে পাল্টা আঘাত হানে। এতে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দ্য নিউজ।

মিয়ানমারে জান্তা বাহিনীর বিমান হামলায় ১৮ বেসামরিক নাগরিক নিহত
মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলে একটি ব্যস্ত টি-শপে জান্তা বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছে। এ সময় আরো ২০ জন আহত হয়েছে। গত শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় সেগুইন অঞ্চলের তাবাইন এলাকায় এ হামলা হয়। স্থানীয় এক উদ্ধারকর্মী ও দুই বাসিন্দা বার্তাসংস্থা এএফপিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনে এক প্রশাসনিক কর্মকর্তার উদ্ধৃতিতে বলা হয়েছে, তাবাইন শহরের একটি ব্যস্ত টি-শপে ওই হামলা করা হয়। এতে ১৮ জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়। ওই কর্মকর্তা বলেন, সন্ধ্যার সময় টি-শপে অনেক ভিড় ছিল। সেজন্য হামলায় এত অধিক মানুষ নিহত হয়েছে। এক উদ্ধারকর্মী জানিয়েছেন, হামলার পর সাতজন ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। আর বাকি ১১ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। স্ট্রেইট টাইমস।

এক্স-কে মোটা অঙ্কের জরিমানায় ক্ষুব্ধ মাস্ক
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) সামাজিক মাধ্যম এক্স-কে বড় অঙ্কের জরিমানা করায় প্ল্যাটফর্মটির মালিক ইলন মাস্ক কড়া জবাবে বলেছেন, ইইউকে ‘বিলুপ্ত’ করা উচিত। ইইউ’র ডিজিটাল সার্ভিস অ্যাক্ট (ডিএসএ) লঙ্ঘনের অভিযোগে শুক্রবার এক্স-কে ১২ কোটি ইউরো (১৪ কোটি ডলার) জরিমানা করা হয়। জরিমানা ঘোষণার পর মাস্ক তার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় জানিয়ে এক্স-এ লেখেন, ‘ইইউ বিলুপ্ত হওয়া উচিত। ক্ষমতা ফিরে যাওয়া উচিত সদস্য রাষ্ট্রগুলোর হাতে, যাতে সরকারগুলো তাদের জনগণকে ভালোভাবে প্রতিনিধিত্ব করতে পারে।’ এক ব্যবহারকারী তার মন্তব্য পুনরায় পোস্ট করলে মাস্ক জবাব দেন, ‘আমি সিরিয়াস। মজা করছি না।’ আরেক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমি ইউরোপকে ভালোবাসি। কিন্তু ইইউর মতো আমলাতান্ত্রিক দানবকে নয়।’ ডিএসএ-এর আওতায় এক্স-এর বিরুদ্ধে এটি ইউরোপীয় কমিশনের প্রথম জরিমানা। কমিশন জানায়, প্ল্যাটফর্মটি স্বচ্ছতার শর্ত ভঙ্গ করেছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ভুয়া নকশায় ‘ব্লু চেকমার্ক’ ব্যবহার, গবেষকদের জন্য উন্মুক্ত ডেটায় প্রবেশাধিকার না দেওয়া এবং বিজ্ঞাপন বিষয়ে যথেষ্ট স্বচ্ছতা না রাখা। এএফপি।

সৌদি আরবে ব্যাপক বৃষ্টিপাত ও ভূমিধস
সৌদি আরবের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় তাবুক প্রদেশে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের পর ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে তাৎক্ষণিক হতাহতের কোনোও তথ্য পাওয়া যায়নি। ভূমিধসে গর্ত হয়ে যাওয়া সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। সৌদি জিওলজিক্যাল সার্ভের তথ্যানুযায়ী, ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে মাটি আলগা হয়ে যাওয়ায় ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে নতুন করে ভূমিধসের কোনো ঝুঁকি নেই। বিশেষজ্ঞ উদ্ধার ও জরুরি সেবাদানকারী সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। ঘটনাস্থলের আশপাশের বাসিন্দাদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওই এলাকা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জনসাধারণকে বৈরী আবহাওয়ার সময় সতর্কতা অবলম্বন এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বৈরী আবহাওয়ায় দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় মক্কা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ সময় তুমুল বৃষ্টিপাতের কারণে আকস্মিক বন্যা, শিলাবৃষ্টি ও ধূলিঝড়ের সৃষ্টি হতে পারে। দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তর জনসাধারণকে সতর্ক থাকার ও সরকারি নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। এদিকে গত ৬ ডিসেম্বর শনিবার তাবুকের হাকল গভর্নরেটে বজ্রঝড় আঘাত হেনেছে। এতে আল দুররা সীমান্তচৌকি, ওয়াদি মাবরাক, আল যায়তাহ, রাস আল যায়তাহ, আল খার্জ, আল ওয়াদি আল আব্যাদ, আল মুজাইফিল ও শরিফ মুতিয়াহসহ বেশ কয়েকটি শহর ও গ্রামে ব্যাপক ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। উলু আল কুসাইর ও আলকান এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে ওই এলাকার নিম্নাঞ্চল ও উপত্যকায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। গালফ নিউজ।

 

 

বাবরি মসজিদের ভিত্তি স্থাপনে মানুষের ঢল