ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত

আলোচনার মধ্যেই কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলা, বাড়ছে নতুন যুদ্ধের শঙ্কা


৪ নভেম্বর ২০২৬ ২১:২১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আট মাস ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হলেও পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। একদিকে কাতারের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলছে অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সামরিক উত্তেজনা, জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি এবং পাল্টাপাল্টি হুমকি অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যেই ইরানের কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের সীমিত সামরিক হামলার খবর নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে।
কোনো উত্তেজনা ছাড়াই ইরানের ওপর ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধের সূচনা হয়। প্রথম দফার হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দেশটির শীর্ষপর্যায়ের নিহত ও সামরিক অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে। জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন ও ইসরাইলি স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। সংঘাতের বিস্তার ঘটে উপসাগরীয় অঞ্চলে, হরমুজ প্রণালিতে বাধাগ্রস্ত হয় আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে তৈরি হয় অনিশ্চয়তা। পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি এবং জুনে একটি সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে বড় ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি। আগস্টে সেই সমঝোতা কার্যত ভেঙে পড়ে। এরপর থেকে দুই দেশের মধ্যে সীমিত সামরিক সংঘর্ষ, অবরোধ, পাল্টাপাল্টি হুমকি এবং কূটনৈতিক যোগাযোগ পাশাপাশি চলছে। নভেম্বরের শুরুতে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। গত ৩ নভেম্বর মঙ্গলবার ২০২৬ বাংলাদেশ সময় দুপুর পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হরমুজ প্রণালি, ইরানের বন্দরগুলোয় মার্কিন অবরোধ, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রশ্ন। কূটনৈতিক আলোচনায় কিছু অগ্রগতির ইঙ্গিত থাকলেও দুই পক্ষের শর্তের ব্যবধান এখনো বড়।
কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলা, নতুন করে উত্তেজনা
গত ৩ নভেম্বর মঙ্গলবার প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র সীমিত সামরিক হামলা চালিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা থেকে মার্কিন সামরিক সম্পদের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের হুমকি মোকাবিলায় এ হামলা চালানো হয়। মার্কিন কর্মকর্তারা হামলাটিকে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাদের দাবি, এটি বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর ইঙ্গিত নয়। এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ কেশম দ্বীপে একাধিক বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ করে। তবে হামলায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির পূর্বাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত, সমঝোতা এখনো দূরে
সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। কাতারের মধ্যস্থতায় গত কয়েকদিন ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি সম্ভাব্য সমঝোতার খসড়া নিয়ে আলোচনা চলছে। গত ২ নভেম্বর সোমবার কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা ইরানের সঙ্গে নতুন করে যোগাযোগ করেন। এর আগে ইরানি প্রতিনিধিরা দোহায় মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা শেষে ফিরে যান। আলোচনার খসড়া নিয়ে পরবর্তী বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে। তার ভাষ্য, দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে এবং ওয়াশিংটন একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর বিষয়ে আশাবাদী। তবে তিনি জানিয়েছেন, আলোচনার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে ইরান বলছে, সমঝোতার বল এখন যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের ভাষ্য, তেহরান ওয়াশিংটনকে শক্তিশালী ও যুক্তিসংগত জবাব দিয়েছে। ইরানের শর্ত মেনে নেওয়া হলেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব। গত ৩ নভেম্বর রয়টার্সকে দেওয়া বক্তব্যে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা বলেন, মধ্যস্থতাকারীরা দুই দেশের অবস্থানের ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করছেন। তবে সমঝোতায় পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এখনো বড় ধরনের দূরত্ব রয়েছে।
জাহাজে হামলা ও মাইন বিস্ফোরণের দাবি, ঝুঁকিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য
হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক জাহাজ চলাচলের ঘটনাগুলো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। গত ১ নভেম্বর ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌ শাখা দাবি করে, অনুমোদনহীন পথে চলাচলের সময় দুটি তেলবাহী জাহাজ সাগরে পুঁতে রাখা মাইনে আঘাত পেয়ে বিস্ফোরিত হয়েছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, জাহাজগুলো তাদের নির্ধারিত নিরাপদ পথের বাইরে দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করেছিল। তবে এ ঘটনার বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। উপসাগরীয় অঞ্চলে একাধিক জাহাজে অজ্ঞাত বস্তু আঘাত হানার খবরও পাওয়া গেছে। এসব ঘটনা আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে এ পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, এশিয়া, ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের জ্বালানি বাজারে প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। সরবরাহ কমে গেলে তেলের দাম, পরিবহন ব্যয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং শিল্পকারখানার উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। দীর্ঘদিন এ অবস্থা চললে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির চাপও বাড়তে পারে।
তেলের বাজারে অস্থিরতা, বাড়ছে অর্থনৈতিক চাপ
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় অপরিশোধিত তেলের দাম কয়েক দফা বেড়েছে। তবে গত ২ নভেম্বর কাতারের মধ্যস্থতায় আলোচনার অগ্রগতির খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে যায়। ওইদিন ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ দশমিক ৭৭ ডলারে দাঁড়ায়। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের দামও ৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ কমে ৯৬ দশমিক ৪৬ ডলারে নেমে আসে। কিন্তু ৩ নভেম্বর কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলার খবর প্রকাশের পর এশিয়ার বাজারে আবারও তেলের দাম বাড়তে শুরু করে। দিনের শুরুর দিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০৫ দশমিক ২৫ ডলারে এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৯৬ দশমিক ৯৩ ডলারে ওঠে। অর্থাৎ কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতির খবরে বাজারে স্বস্তি তৈরি হলেও সামরিক সংঘাতের নতুন খবর সেই স্বস্তি আবার কমিয়ে দিচ্ছে। জ্বালানি বাজারের এই ওঠানামা প্রমাণ করছে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি।
নতুন করে হামলার আশঙ্কা, সতর্ক মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো
যুক্তরাষ্ট্রে গত ৩ নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। এই নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানো হতে পারে, এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার ইরানের বিরুদ্ধে আবারও হামলা চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। বার্তা সংস্থা এপির গত ২৯ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ ও আঞ্চলিক মিত্রকে সম্ভাব্য মার্কিন হামলা এবং এর জবাবে ইরানের পাল্টা আক্রমণের বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। তবে ট্রাম্প এখনো নতুন বড় ধরনের সামরিক অভিযানের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। গত ৩ নভেম্বর রয়টার্সকে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প নতুন করে হামলা চালানোর বিষয়ে আগের অবস্থান থেকে কিছুটা দ্বিধা প্রকাশ করেন। তিনি মনে করেন, ইরান দ্রুত একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। তবে একইসঙ্গে সামরিক বিকল্পও যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে। এদিকে ইরানের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, দেশটির ওপর নতুন করে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যসহ ওই অঞ্চলের বাইরেও শক্তিশালী পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি ইরানের প্রতিক্রিয়া নিয়েও উদ্বিগ্ন আঞ্চলিক দেশগুলো।
চীন, পাকিস্তান ও কাতারের কূটনৈতিক তৎপরতা
সংঘাত বন্ধে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতাও বাড়ছে। কাতার দুই দেশের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানে মধ্যস্থতা করছে। পাকিস্তানও শুরু থেকেই যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখছে। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইরানের সাম্প্রতিক বৈঠকও আঞ্চলিক সমাধানের প্রচেষ্টার অংশ। অন্যদিকে চীনও কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করেছে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইরানের জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। একই সময়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিকের বৈঠকেও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি গুরুত্ব পেয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হচ্ছে, সংঘাত যাতে আবার বড় আকারের যুদ্ধে রূপ না নেয় এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোয় নিরাপদে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা, অবরোধ এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মতপার্থক্য থাকায় দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত।
যুদ্ধের ভবিষ্যৎ কোন দিকে?
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পরিস্থিতিতে দুটি বিপরীত প্রবণতা স্পষ্ট। একদিকে সামরিক হামলা, পাল্টা হামলার হুমকি এবং হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। অন্যদিকে কাতার, পাকিস্তান, চীন ও আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যস্থতায় আলোচনার পথও খোলা রয়েছে। এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে দুই দেশের শর্তের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য। ইরান প্রথমে যুদ্ধ বন্ধ, অবরোধ প্রত্যাহার ও নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার নিশ্চয়তা চায়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যাচাইযোগ্য সমঝোতা নিশ্চিত হোক। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। তাই সীমিত সামরিক হামলাকে এখনই পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর লক্ষণ বলা যাচ্ছে না। একইভাবে আলোচনায় অগ্রগতির বক্তব্য থেকেও দ্রুত যুদ্ধ শেষ হওয়ার নিশ্চয়তা মিলছে না।
গত ৩ নভেম্বর মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত সর্বশেষ পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণে বোঝা যাচ্ছে— ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত বন্ধের আলোচনা চলছে, কিন্তু মাঠপর্যায়ে সামরিক উত্তেজনা কমেনি। কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলা, ইরানের ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আগামী দিনগুলোয় দুই পক্ষের সিদ্ধান্ত এবং মধ্যস্থতাকারীদের উদ্যোগই নির্ধারণ করবে, মধ্যপ্রাচ্য নতুন করে বড় যুদ্ধের দিকে এগোবে, নাকি দীর্ঘ আট মাসের সংঘাতের অবসানে কার্যকর সমঝোতা হবে।