ব্যাটারির রিকশায় রাজধানীর প্রধান সড়ক দখল-বিশৃঙ্খলা
৭ অক্টোবর ২০২৬ ২০:৫৩
সড়কগুলোর গতি, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা ফেরাতে নির্ধারিত অভ্যন্তরীণ সড়কে নিয়ন্ত্রিত চলাচলের সুযোগ থাকতে পারে
স্টাফ রিপোর্টার : ব্যাটারিচালিত রিকশা স্বল্প দূরত্বে সাশ্রয়ী যাতায়াতের সুযোগ তৈরি করলেও নিয়ন্ত্রণহীনভাবে প্রধান সড়কে চলাচল, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা, হঠাৎ মোড় নেওয়া এবং দ্রুতগতিতে চলার কারণে সড়কে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। রাজধানীর যানজট, সড়কশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষায় কর্তৃপক্ষের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে এসব রিকশার উৎপাতে। একইসঙ্গে রাজধানীর ব্যস্ত সড়কে যানবাহনের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত করছে। ফলে জনস্বার্থে প্রধান সড়ক থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশা সরিয়ে নির্ধারিত অভ্যন্তরীণ সড়কে সীমাবদ্ধ করার দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
সম্প্রতি সরকারও এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, রাজধানীর প্রধান সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলতে দেওয়া হবে না। এ-সংক্রান্ত একটি নীতিমালাও প্রস্তুত করছে সরকার। প্রস্তাবিত নীতিমালায় নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ, চালকের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্সের পাশাপাশি নির্ধারিত রুটে চলাচলের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। ঢাকাকে আটটি জোনে ভাগ করে এক এলাকার রিকশা অন্য এলাকায় চলাচল ঠেকাতে জিও-ফেন্সিং ব্যবহারের পরিকল্পনাও থাকছে নতুন নীতিমালায়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, প্রধান সড়কে অননুমোদিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ইতোমধ্যে নিষিদ্ধ এবং ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ অভিযান চালাচ্ছে। অনুমোদিত যানকে নম্বরপ্লেট ও কিউআর কোডের মাধ্যমে শনাক্ত করা এবং চালকদের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্সের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। একইসঙ্গে অবৈধ চার্জিং স্টেশন বন্ধেও অভিযান চলছে।
এর মধ্যেই নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগের প্রতিবাদে রিকশাচালকরা আন্দোলন করছে। গত ৫ অক্টোবর সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে কয়েকশ’ চালক জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধ করেন। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে পুলিশি হয়রানি বন্ধ, জব্দ করা রিকশা ফেরত, চার্জিং পয়েন্টের বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করা, রোড পারমিট, চালকদের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স এবং নির্ধারিত সড়কে চলাচলের সুযোগ। একইসঙ্গে সব সড়কে রিকশা চালানোর দাবিও তোলা হয়েছে তাদের পক্ষ থেকে।
আন্দোলনকারীরা দাবি পূরণ না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। গত ৫ অক্টোবরের কর্মসূচিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়ার খবর এসেছে; অন্যদিকে গত ৬ অক্টোবর মালিক-শ্রমিক নেতারা রিকশা বন্ধ বা নির্বিচারে ডাম্পিং করা হলে ঢাকা অবরোধ এবং চার্জিং পয়েন্টের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা হলে বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, একটি মহানগরের প্রধান সড়ক দ্রুতগতির গণপরিবহন ও জরুরি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত থাকা জরুরি। ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য নির্ধারিত অভ্যন্তরীণ রুট, নিবন্ধন, চালকের প্রশিক্ষণ, নির্ধারিত গতি ও ভাড়া এবং কঠোর নজরদারি চালু করা যেতে পারে। একইসঙ্গে বিকল্প কর্মসংস্থান বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও বিবেচনায় নেওয়া দরকার।
রাজধানীর যানজট কমাতে হলে তাই নীতির কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত— প্রধান সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা নয়, নির্ধারিত অভ্যন্তরীণ সড়কে নিয়ন্ত্রিত চলাচল। এতে একদিকে নিম্নআয়ের মানুষের যাতায়াতের সুযোগ বজায় থাকবে; অন্যদিকে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোয় যান চলাচলের গতি, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।