জমে উঠেছে আন্তর্জাতিক ইসলামী বইমেলা


১ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:৪৮

কিডস কর্নার ০ ফিমেল কর্নার ০ ফুড কর্নার

॥ সাইদুর রহমান রুমী ॥
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সা. ১৪৪৮ হিজরি উপলক্ষে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে চলছে মাসব্যাপী ইসলামী বইমেলা। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলা ইতোমধ্যে পাঠক ও বইপ্রেমীদের পদচারণায় জমে উঠেছে। প্রতিদিন বিকেলের পর মেলা প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বাড়ছে।
রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ পূর্ব ও দক্ষিণ প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে আন্তর্জাতিক এ ইসলামী বইমেলা-২০২৬। এবারের ব্যতিক্রমী এই বই মেলায় নতুন নতুন অনেক বিষয় সংযোজনের পাশাপাশি বর্ধিত করা হয়েছে পরিসর। সব মিলিয়ে এবারের আয়োজন দর্শনার্থীসহ সবার মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ভিন্ন মাত্রা যুক্ত করেছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এবং মুসান্নিফ গ্রুপের স্পন্সরে এবারের মেলাটি সর্বমহলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে। সুন্দর পরিবেশে এ মেলা বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও ইসলামী ভাবাপন্ন মানুষদের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে।
কতদিন চলবে মেলা
রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব ও দক্ষিণ চত্বরে চলছে মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক ইসলামী বইমেলা। কুরআন-হাদিস, তাফসির, সিরাত, ইসলামী দর্শন, ইতিহাস, গবেষণা, সাহিত্য থেকে শুরু করে শিশু-কিশোরদের উপযোগী বিভিন্ন বইয়ে সাজানো হয়েছে মেলার স্টলগুলো। দেশি-বিদেশি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে বইয়ের বৈচিত্র্যও তৈরি হয়েছে।
গত ১২ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এ মেলায় দেশি-বিদেশি মিলিয়ে ২০৬টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। রয়েছে ১৪৪টি স্টল। বাংলাদেশ ছাড়াও মিশর, লেবানন, পাকিস্তান ও ভারত থেকে সাতটি আন্তর্জাতিক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। মেলা চলবে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত।
সরকারি ছুটির দিনে মেলা শুরু হয় বেলা ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত, আর অন্যান্য দিনগুলোয় ফটক খোলা থাকে সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত। প্রতিদিন সন্ধ্যা নামতেই দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখর হয়ে ওঠছে পুরো প্রাঙ্গণ।
প্রতিদিনই নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, লেখক-পাঠক আড্ডা, ক্বিরাত ও হামদ-নাত পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
মহানবীর পবিত্র জীবনাদর্শ সকলের কাছে পৌঁছাতে এ মেলা সহায়ক হবে : ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ
পূর্ব চত্বরে ‘মাসব্যাপী ইসলামী বইমেলা-২০২৬’-এর শুভ উদ্বোধন করেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। তিনি বলেন, সব বয়সী মানুষ যেন ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক ও মানবিক গুণে গড়ে ওঠে এবং হযরত মুহাম্মদ সা.-এর পবিত্র জীবনাদর্শ ও ইসলামের প্রকৃত বার্তা সকলের কাছে পৌঁছে, সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে এই মেলা সহায়ক হবে। সাধারণ মানুষের মাঝে ইসলামী জ্ঞানচর্চা, পাঠাভ্যাস ও নৈতিক মূল্যবোধের প্রসারে মাসব্যাপী ইসলামী বইমেলা বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, অতীতের রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত করে এই প্রতিষ্ঠানকে পবিত্র কুরআন ও হাদিস প্রচারের প্রকৃত কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। বিগত ১৭ বছর ধরে ইসলামী ফাউন্ডেশনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আশ্বস্ত করেন, পবিত্র কুরআন-হাদিসের বই প্রকাশের কাজ কখনো বন্ধ হবে না।
অনুষ্ঠানে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ. এইচ. এম. কামরুজ্জামান ইসলামী জ্ঞানচর্চাকে গবেষণাভিত্তিক ও সময়োপযোগী করার আহ্বান জানান। ডিজিটাল যুগে বিভ্রান্তি রোধে নির্ভরযোগ্য প্রকাশনা, ই-বুক ও ডিজিটাল আর্কাইভের মাধ্যমে বিশুদ্ধ জ্ঞান সহজলভ্য করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি শিশু-কিশোরদের উপযোগী নৈতিক মূল্যবোধভিত্তিক বই প্রকাশের জন্য লেখক ও প্রকাশকদের প্রতি আহ্বান জানান। উল্লেখ, অনুষ্ঠানে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী স্বাগত বক্তব্য দেন।
ধর্মমন্ত্রী আরো বলেন, এ ধরনের বইমেলা মুসলিম সমাজকে আলোকিত করতে অসামান্য ভূমিকা পালন করে। এরূপ বইমেলা শুধু বই কেনাবেচার আয়োজন নয়, এটি জ্ঞানচর্চা, নৈতিকতার প্রসার, সুস্থ সংস্কৃতি বিকাশ ও দাওয়াতি কাজের এক অনন্য ক্ষেত্রও বটে। এর মাধ্যমে সমাজে আলোকিত, নীতিবান ও দায়িত্বশীল মানুষ তৈরি করা সম্ভব। এ জাতীয় আয়োজন আরো বেশি হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন প্রকাশনীতে সর্বোচ্চ ডিসকাউন্ট
মেলা উপলক্ষ্যে মাসজুড়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের স্টল, জেলা ও বিভাগীয় কার্যালয়ে ইফা প্রকাশিত বই সর্বনিম্ন ৪০ শতাংশ হতে বিভিন্ন কমিশনে বিক্রয় করা হচ্ছে। মেলার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের স্টলে কথা হয় বিক্রেতা নিজাম উদ্দিনের সাথে। তিনি জানান, ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত পুরোনো বইগুলোয় সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ এবং নতুন বইগুলোয় ৪০ শতাংশ ডিসকাউন্ট দেয়া হচ্ছে।
মেলায় আসছে নতুন নতুন বই
কুরআন-হাদিসের গ্রন্থ, ইসলামী গবেষণা, সমকালীন চিন্তাধারা, শিশুদের ইসলামী বই, সাহিত্য ও ইতিহাস— সব মিলিয়ে বৈচিত্র্যময় সংগ্রহের পসরা সেজেছে এ মেলায়। প্রতিদিনই নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, লেখক-পাঠক আড্ডা, ক্বিরাত ও হামদ-নাত পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বিন্দু পাবলিকেশন্সের স্টল ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন নতুন বইয়ের চাহিদা রয়েছে। তারা জানায়, মেলায় লে. কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমানের আয়নাঘর, তুমি ও আমি এবং আলী আহমদ মাবরুরের অনুবাদকৃত মুহাম্মদ দ্য ম্যান এন্ড দ্য প্রফেট বইগুলোর চাহিদা বেশি।
আধুনিক প্রকাশনীর বিক্রেতা আবুল কালাম আজাদ জানান, তাদের প্রকাশিত পুরোনো নানা বইয়ের পাশাপাশি নতুন বইয়েরও চাহিদা বাড়ছে। সাম্প্রতিক প্রকাশিত মুহাম্মদ সা. দ্য গ্রেটেস্ট লিডার বইটির বেশ চাহিদা, খুররম মুরাদ রচিত রাহনুমা-ই জীবন সমস্যার বিবিধ প্রশ্নোত্তর, প্রফেসর ড. আছম তরীকুল ইসলাম লিখিত নান্দনিকতার চির ভাস্বর ইসলাম আমাদের গৌরব বইটিরও বেশ চাহিদা লক্ষ্যনীয়।
মেলায় বাংলা ভাষার বইয়ের পাশাপাশি আরবি, উর্দু ও ইংরেজি ভাষার বইও পাওয়া যাচ্ছে। তাফসির, হাদিস, ফিকহ ও সিরাতের পাশাপাশি ইসলামি ইতিহাস, গবেষণা, সাহিত্য ও চিন্তাচর্চার বিভিন্ন বই রয়েছে। শিশু-কিশোরদের জন্যও রাখা হয়েছে নৈতিক ও ইসলামী শিক্ষামূলক বই।
প্রচারের ঘাটতি নিয়ে আক্ষেপ
পাঠকের উপস্থিতি থাকলেও মেলার প্রচার নিয়ে প্রকাশকদের মধ্যে রয়েছে আক্ষেপ। তাদের বক্তব্য, এটি বড় পরিসরের ইসলামিক বইমেলা হলেও দেশের অনেক মানুষ এখনো এর আয়োজন সম্পর্কে জানেন না। প্রচার বাড়ানো গেলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আরও পাঠক আসতে পারেন।
প্রকাশকদের প্রত্যাশা, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেলার প্রচার আরও বাড়ানো হবে। এতে পাঠকের কাছে যেমন নতুন বইয়ের খবর পৌঁছাবে, তেমনি প্রকাশকরাও উপকৃত হবেন। স্টল মালিকরা জানান, স্টল পরিচালনার ব্যয়ও কম নয়। তারা জানান, প্রতিটি স্টলের ভাড়া ১০ হাজার টাকা। ডেকোরেশনে প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। একজন কর্মচারীর পেছনে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়। সব মিলিয়ে কোনো কোনো স্টলের মোট ব্যয় প্রায় ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাঁড়াতে পারে।
শিশুদের জন্য বিশেষ আয়োজন : বই, সিরিজ ও প্লে-জোন
আন্তর্জাতিক ইসলামী বইমেলা ২০২৬ এ শুধু বড়দের জন্য নয়, ছোটদের জন্যও থাকছে ভিন্নমাত্রার আয়োজন। মেলায় ঘুরে দেখা গেছে, শিশুদের জন্য বিশেষভাবে সাজানো স্টলগুলোয় পাঠক-অভিভাবকদের ভিড় বেড়েই চলেছে। শিশুদের বই, সিরিজ, ফ্ল্যাশকার্ড ও বিজ্ঞান বাক্স- এসবের সাথে রয়েছে আনন্দমুখর কিডস প্লে জোন। ফলে বই পড়ার পাশাপাশি বাচ্চারা পাচ্ছে খেলাধুলার পরিবেশও। এছাড়া আতফাল এনেছে বাংলা পাঁচটি ও ইংরেজি চারটি সিরিজ, বিজ্ঞানীদের নিয়ে বিশেষ সিরিজসহ আরও অনেক বই। ক্রেতারা জানিয়েছেন, বাজারে ইসলামী শিশুতোষ বইয়ের অভাব থাকলেও আতফালের বইগুলো সেই শূন্যতা পূরণ করছে।
অনেক ক্রেতার মতে, সিরিজ আকারে প্রকাশিত বইগুলো বিশেষভাবে আকর্ষণীয়। শিশুদের আগ্রহ বাড়াতে মেলায় রয়েছে বিভিন্ন বিজ্ঞান বাক্স। ক্রেতাদের মতে, বিভিন্ন সিরিজ বইগুলো শিশুদের জন্য মানসম্মত ও শিক্ষণীয়।
ফিমেল কর্নার : শিশুদের মতোই নারীদের জন্যও রাখা হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। মেলায় রয়েছে দুটি ফিমেল কর্নার, যেখানে মহিলাদের আরাম করে বসার ব্যবস্থা রয়েছে। এখানেই রাখা হয়েছে নামাজ ও অযুর সুব্যবস্থা, যাতে নারীরা স্বাচ্ছন্দ্যে ইবাদতের পাশাপাশি বইমেলার আনন্দ উপভোগ করতে পারেন। ইসলামী বইমেলা কেবল বইপ্রেমীদের জন্য নয়, বরং পুরো পরিবারকে নিয়ে আনন্দঘন সময় কাটানোর এক অনন্য উৎসব।
কি বলছেন দর্শনার্থীরা
নরসিংদী সদরের আইডিয়াল কলেজের প্রভাষক শিক্ষক বিএম শরিফুল ইসলাম এসেছেন মেলায়। তিনি জানান, তার কাছে মেলার বড় সুবিধা হলো এক জায়গায় বিভিন্ন প্রকাশনার বিপুলসংখ্যক ইসলামিক বই দেখার ও কেনার সুযোগ।
মো. আমজাদ হোসেন মিরপুর থেকে এসেছেন। পেশায় ব্যবসায়ী। গত ২৮ সেপ্টেম্বর সোমবার বিকেলে মেলা প্রাঙ্গণে কথা হয়। সাথে তার ৬ বছরের এক ছেলে এবং ৮ বছরের মেয়েকে নিয়ে এসেছেন। জানালেন, মেলার পরিবেশ এবং ব্যবস্থাপনা অনেক সুন্দর। মেট্রোতে মতিঝিল নেমে বায়তুল মোকাররম পূর্ব চত্বরে চলে এসেছেন। বাচ্চাদের জন্য তিনি কয়েকটি বই কিনেছেন।
জায়েদ মুন্সী ঢাকার সোনারগাঁ থাকেন। স্থানীয় একটি মাদরাসার শিক্ষক। বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেটে মেলায় কথা হয়, জানালেন গুলিস্তানে বাসে উঠার আগে মেলাটি ঘুরে কয়েকটি বই এবং ইসলামী সাহিত্য কিনেছেন। তিনি জানান, বইয়ের দাম এবার একটু বেশি। প্রকাশকগণ কোয়ালিটির কথা বলে দাম বেশি রাখছেন। কিন্তু আমাদের মতো মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষদের কথা বিবেচনা করেই দাম নির্ধারন করা উচিত। আর ইসলামী বইয়ের বেশি ক্রেতাও বলা চলে মধ্যবিত্ত শ্রেণিরই।
সোমবার বিকেলে মেলা পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবা হাকিম। সোমবার বাদ আসর তিনি মাদরাসাতুল মাদানিয়ার পরিচালকসহ হিফজের একঝাঁক ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখার পাশাপাশি শাপলা কর্নার পরিদর্শন করেন। বইমেলা পরিদর্শনকালে তিনি লিটলম্যাগ কর্নার ও সিরাত এক্সিবিশনসহ বিভিন্ন আয়োজন ঘুরে দেখেন। লিটলম্যাগ কর্নার থেকে তিনি তার শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন ম্যাগাজিন সংগ্রহ করেন। এছাড়া রমলার বিভিন্ন প্রকাশনী থেকে তিনি বই সংগ্রহ করেন।
পরিদর্শন শেষে ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবা হাকিম বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, আজ আন্তর্জাতিক ইসলামী বইমেলা ঘুরে দেখলাম। সত্যি বলতে, এখানে এসে খুব ভালো লাগছে। ছোটবেলা থেকেই বই পড়া আমার অন্যতম একটি শখ আর বইমেলা মানেই শুধু বই কেনাবেচা নয়। বইয়ের মাধ্যমে আমরা জ্ঞান অর্জন করি, আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে জানি এবং নতুন প্রজন্মকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলার সুযোগ পাই। তিনি বলেন, বিশেষ করে শাপলা কর্নারে আমাদের ইতিহাসের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। আমি মনে করি, আমাদের সন্তানদের এসব বিষয়ে জানার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। যাতে তারা বইয়ের মাধ্যমে মূল্যবোধকে ধারণ করতে পারে।
কী বলছেন প্রকাশকরা
বিভিন্ন স্টল করে কথা হয় বিক্রেতাদের সাথে। তারা জানান, শুরুতে বেচাকেনা কম হলেও বই বিক্রি বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্টলের ব্যবসায়ীরা। তারা জানান, প্রতিদিন বিকেলের পর মেলা প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বাড়ছে। বই বিক্রিও বেড়েছে। প্রথম সপ্তাহে বেচাকেনা নিয়ে হতাশ ছিলাম। বিক্রি বাড়ায় এখন আশাবাদী। মেলা ঘুরে দেখা গেছে, মেলার বিভিন্ন স্টলে বইয়ে ১০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হচ্ছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নিজস্ব স্টলে প্রকাশিত বইয়ে বিশেষ কমিশন দেওয়া হচ্ছে। ১ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত মুদ্রিত মূল্যের বইয়ে ৩৫ শতাংশ এবং ১০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি মূল্যের বইয়ে ৪০ শতাংশ ছাড় রয়েছে। ফাউন্ডেশনের স্টল বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ ও পূর্ব গেটে স্থাপন করা হয়েছে।
দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে মেলায় নারীদের জন্য পৃথক বসার ব্যবস্থা, শিশুদের জন্য ‘শিশু চত্বর’, তথ্যকেন্দ্র, ম্যাগাজিন ও লেখক কর্নার এবং গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য মিডিয়া কর্নার রয়েছে। মেলার অন্যতম আকর্ষণ ওয়াফা হিফজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল আয়োজিত ‘সীরাত এক্সিবিশন’। ১৩টি প্রজেক্টের মাধ্যমে মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা.-এর জীবন ও শিক্ষাকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।
বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেট দিয়ে মেলায় ঢুকতেই ডানপাশের স্টল আধুনিক প্রকাশনীর স্টল। বিক্রেতারা জানান, এবারের মোটামোটি আশানুরূপ বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে বিশ্বনন্দিত লেখক সাইয়েদ আবুল আলা মওদূদীর খেলাফত ও রাজত্ব, আল জিহাদ, পর্দা ও ইসলাম এবং ইসলামের বুনিয়াদি শিক্ষা বইগুলোও ব্যাপক চলছে।