সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ


৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২০:৫১

নেতানিয়াহুর আমিরাতে গোপন সফর ফাঁস
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সংযুক্ত আরব আমিরাতে গোপন সফরের খবর প্রকাশ করায় দেশটির টেলিভিশন চ্যানেল ১২-এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা চেয়েছে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত। সফর শেষ হওয়ার আগেই খবর প্রকাশের কারণে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ও অভিযানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ঝুঁকিতে পড়ার অভিযোগে সামরিক সেন্সরের কাছে এ অভিযোগ করা হয়েছে। গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানায়, শিন বেত সামরিক সেন্সরের প্রধানের কাছে চ্যানেল ১২-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। সংস্থাটির দাবি, চ্যানেলটি নেতানিয়াহুর সফরের খবর প্রকাশ করে যখন তার বিমান তখনো ইসরাইলের বাইরে ছিল। প্রতিবেদনটি প্রচারের প্রায় এক ঘণ্টা পর বিমানটি ইসরাইলে অবতরণ করে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বলেছে, ওইসময় সফরের তথ্য প্রকাশ করায় নেতানিয়াহু, তার প্রতিনিধিদল এবং মাঠপর্যায়ের নিরাপত্তা কার্যক্রম ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। সফরসঙ্গীদের মধ্যে নেতানিয়াহুর স্ত্রী সারা, মোসাদের প্রধান রোমান গফম্যান, জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান শমুয়েল বেন-এজরা, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল গাই মার্কিজেনো এবং শিন বেতের নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান ছিলেন। এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর রোববার চ্যানেল ১২সহ কয়েকটি ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম জানায়, ব্যক্তিগত বিমানে করে আবুধাবি যান নেতানিয়াহু। সেখানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সফরটি আগে থেকে প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হয়নি। সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াম নেতানিয়াহুর সফর ও শেখ মোহাম্মদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে। রয়টার্স জানিয়েছে, বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং তা আরও জোরদার করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আঞ্চলিক পরিস্থিতিও আলোচনায় আসে। নেতানিয়াহুর এই সফর এমন সময়ে হলো, যখন ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট তাকে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন কি না, তা নিয়ে বিতর্ক চলছে। হারেৎজের এক প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়েছে। তবে নেতানিয়াহুর কার্যালয় ওই দাবি অস্বীকার করেছে। রয়টার্স, টাইমস অব ইসরাইল, আল-জাজিরা।

জাপানের নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পেল সিরিয়ার ১৬ প্রতিষ্ঠান
সিরিয়ার ১৬টি সরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাপান। তেল, ব্যাংকিং ও টেলিযোগাযোগ খাতের প্রতিষ্ঠানসহ এসব সংস্থার ওপর থাকা সম্পদ জব্দের ব্যবস্থাও প্রত্যাহার করা হবে। গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সিরিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আওতায় সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের তালিকায় সিরীয় পেট্রোলিয়াম কোম্পানি, সিরিয়া ট্রেডিং অয়েল কোম্পানি, সিরিয়ার বাণিজ্যিক ব্যাংক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান সিরিয়াটেলসহ বিভিন্ন সংস্থা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সম্পদ জব্দের ব্যবস্থাও তুলে নেওয়া হবে। এর আগে ২০২৫ সালে জাপান সিরিয়ার কয়েকটি ব্যাংকের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছিল। সেগুলোর মধ্যে ছিল ইন্ডাস্ট্রিয়াল ব্যাংক, পপুলার ক্রেডিট ব্যাংক, সেভিং ব্যাংক ও অ্যাগ্রিকালচারাল কো-অপারেটিভ ব্যাংক। তবে জাপানের নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হচ্ছে না। তাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫৯ ব্যক্তি ও ১৮টি সিরীয় প্রতিষ্ঠান এখনো জাপানের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। সিরিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের প্রক্রিয়া গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন দেশ ও জোটের মধ্যে এগিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রও ২০২৫ সালের জুলাই থেকে সিরিয়ার ওপর থাকা বিস্তৃত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে, যদিও বাশার আল-আসাদ ও কিছু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছে। তাস।

ভারতে মসজিদ ভাঙা ঠেকাতে রাতেও পাহারা দিচ্ছেন মুসলিমরা
ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়নে ঐতিহাসিক শাহী মসজিদের একাংশ ভাঙার উদ্যোগ ঠেকাতে রাতেও মসজিদ ঘিরে অবস্থান নিচ্ছেন হাজার হাজার মুসলিম। মসজিদের ভেতরে ও বাইরে রাত কাটাচ্ছেন স্থানীয় মুসল্লিরা। মসজিদের একাংশ ভাঙার জন্য প্রশাসনের বুলডোজার বাইরে অবস্থান করলেও মানুষের ব্যাপক উপস্থিতির কারণে এখন পর্যন্ত উচ্ছেদ বা ধ্বংসের কার্যক্রম শুরু করা যায়নি বলে স্থানীয়দের বরাতে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম মাকতুব। স্থানীয়দের ভাষ্যানুযায়ী, গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতেও মসজিদ প্রাঙ্গণে মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকে। কয়েক সপ্তাহ ধরে এলাকার মুসলিমরা সম্ভাব্য উচ্ছেদ ও আংশিক ভাঙার আশঙ্কায় মসজিদের ভেতরে অবস্থান করছেন। তাদের বক্তব্য, মসজিদ রক্ষার জন্য শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করা ছাড়া আপাতত তাদের সামনে আর কোনো পথ নেই। ইন্দোরের বিশিষ্ট ইসলামী আলেম মুফতি জুনাইদ মাকতুবকে বলেন, প্রশাসন বিরোধ চলমান থাকা অবস্থায় মসজিদের একাংশ ভাঙার উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করলে মুসলিমরা সেখানে জড়ো হন। তার দাবি, একটি মসজিদ ভাঙা হলে উজ্জয়নের আরও বহু পুরোনো মসজিদ একই ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তিনি বলেন, ‘এই মসজিদ ভেঙে ফেলা হলে আরো ২৮টি মসজিদ একই তালিকায় চলে আসবে এবং লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। কোনো স্থাপনা কোনো প্রকল্পের পথে পড়েছে— শুধু এ কারণে একের পর এক মসজিদ ভেঙে ফেলা যায় না।’ মুফতি জুনাইদ আরো অভিযোগ করেন, একটি ধর্মীয় স্থাপনার উন্নয়ন বা সুবিধা নিশ্চিত করতে গিয়ে অন্য ধর্মের উপাসনালয়ের অস্তিত্ব মুছে ফেলার উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয়। তার দাবি, উজ্জয়নে বড় হিন্দু তীর্থযাত্রা আয়োজনকে সামনে রেখে শহরের অবকাঠামো পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বেশ কয়েকটি পুরোনো মসজিদ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। উজ্জয়নে ২০২৮ সালের সিংহস্থ কুম্ভ মেলা সামনে রেখে সড়ক সম্প্রসারণের একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির আওতায় খাজর ওয়ালি মসজিদ থেকে গণেশ চৌক পর্যন্ত প্রায় ৭৩০ মিটার সড়ক সম্প্রসারণ করে ১৫ মিটার প্রশস্ত পথ তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। মাকতুবের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রকল্পে মোট ২৭২টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা রয়েছে। মাকতূব মিডিয়া।

১০০ কোটি মানুষের মৃত্যু ঘটাতে পারে এআই: বিল গেটস
প্রযুক্তি বিষয়ক বিলিয়নিয়ার ও মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিকাশ নিয়ে ভয়াবহ সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এআইয়ের কারণে এক বিলিয়ন বা ১০০ কোটি মানুষের মৃত্যু ঘটতে পারে। এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে গেটস এই উদীয়মান প্রযুক্তির ওপর সরকারের আরও কঠোর নজরদারির আহ্বান জানান। মিট দ্য প্রেসের সঞ্চালক কার্স্টেন ওয়েলকারকে গেটস বলেন, এআই নিঃসন্দেহে এমন ঘটনা ঘটানোর জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী, যার ফলে এক বিলিয়ন মানুষের মৃত্যু হতে পারে। এরপর তিনি বলেন, সুতরাং মানবজাতির ১০০ শতাংশ মানুষকে হত্যা করা বেশ কঠিন হলেও, অসৎ উদ্দেশ্য সম্পন্ন মানুষের হাতে সর্বাধুনিক এআই সরঞ্জামের ব্যবহারের সমন্বয়ের মতো এত শক্তিশালী কোনো অস্ত্র আগে কখনো ছিল না। ওয়েলকার যখন গেটসের কাছে জানতে চান, বিশেষ করে এআইয়ের কারণে যাতে বিপর্যয় না ঘটে, তা ঠেকাতে কী করা যেতে পারে? তখন সম্ভাব্য কিছু সমাধানের কথাও তুলে ধরেন মাইক্রোসফটের এই সহপ্রতিষ্ঠাতা। তিনি সতর্ক করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, যেখানে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ তৈরিতে কাজ করা বিজ্ঞানীদের এবং জৈব অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করা ক্ষতিকর উদ্দেশ্য সম্পন্ন ব্যক্তিদের মধ্যে পার্থক্য করা বিপজ্জনকভাবে কঠিন হয়ে পড়বে। ওয়েলকারকে গেটস বলেন, আমি চাই, ভালো উদ্দেশ্য- যেমন কোনো রোগের জন্য নতুন ওষুধ তৈরি করতে চাই। আর নেতিবাচক উদ্দেশ্য হলো যেমন জৈবসন্ত্রাসের জন্য কোনো সরঞ্জাম তৈরি করতে চাই। এর মধ্যে পার্থক্য করা আরও কঠিন হবে। মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা আরও বলেন, উন্নত এআই ব্যবস্থার সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণে কঠোর নজরদারি অত্যন্ত জরুরি। একইসঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দেয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কারণ দুটি বিষয় এত কাছাকাছি, তাই আমাদের যেকোনো অত্যাধুনিক মডেলের ওপর নজরদারি করতে হবে এবং ঠিক কী করা হচ্ছে, তার পূর্ণাঙ্গ রেকর্ড রাখতে হবে। গেটস বলেন, চীনও একই ধরনের ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করবে বলে তিনি মনে করেন। তবে তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত এই শিল্পের জন্য স্পষ্ট মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা করা। তিনি বলেন, আপনারা শিল্পসংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে শুনবেন যে এটি খুব সহজেই করা সম্ভব। এতে তাদের কাজ নাটকীয়ভাবে ধীর হয়ে যাবে না। এআইয়ের নিরাপত্তা-ব্যবস্থা বাস্তবায়ন এবং সামগ্রিকভাবে এআইয়ের উন্নয়ন ধীর করা উচিত কি না- এই দুটি বিষয়কে আলাদা করে দেখার কথাও বলেন গেটস। তার ভাষায়, এই নিরাপত্তা-ব্যবস্থা ও এর নজরদারি- এগুলো এআইয়ের উন্নয়ন ধীর করলে আমরা আরও ভালো অবস্থায় থাকব কি না, সেই প্রশ্ন থেকে আলাদা। এনবিসি।

গাজায় ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকতে পারে ১০ হাজার মৃতদেহ
ধ্বংসস্তূপ সরানোর ফলে স্থানীয় মানুষের জীবনেও কিছুটা স্বস্তি ফিরছে। তেল আল-হাওয়া এলাকায় বসবাসকারী বাস্তুচ্যুত ইব্রাহিম দারাদোনা বলেন, সড়ক প্রশস্ত হয়েছে, ইঁদুর ও পোকামাকড়ের সমস্যা কমেছে এবং গাড়ি সহজে চলাচল করতে পারছে। শিশুদের জন্যও ধ্বংসস্তূপ বিপজ্জনক ছিল। গাজা উপত্যকায় যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ সরাতে অন্তত সাত থেকে ১০ বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। ধ্বংসস্তূপের পরিমাণ আনুমানিক ৬ কোটি ১০ লাখ টন। এর নিচে ৮-১০ হাজার মৃতদেহ চাপা পড়ে থাকতে পারে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। খবর দ্য গার্ডিয়ান। গাজার উত্তরাঞ্চলের তেল আল-হাওয়া এলাকায় একটি সড়কের অংশ পরিষ্কার করতে পুরো দিন কাজ করেছেন জাতিসংঘের প্রকৌশলী আহমেদ আলিয়ান। দিনের কাজ শেষে চারপাশের ধ্বংসস্তূপের স্তূপ দেখে তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে, আমরা যেন চামচ দিয়ে সমুদ্র খালি করার চেষ্টা করছি।’ বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)-র একটি দলের সদস্য আলিয়ান। তারা গাজা সিটির একসময় ব্যস্ত প্রধান সড়ক বৈরুত স্ট্রিটের ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ করছেন। যুদ্ধের আগে দোকান, কার্যালয় ও বসতবাড়িতে ভরা সড়কটি এখন প্রায় জনশূন্য। ধ্বংসস্তূপে সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ও বন্ধ হয়ে যাওয়া ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে কোথাও কোথাও রাস্তায় পয়োনিষ্কাশনের পানি জমে আছে। ইউএনডিপির ফিলিস্তিনবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি জ্যাকো সিলিয়ার্স বলেন, গাজায় ধ্বংসস্তূপের পরিমাণ ৬ কোটি ১০ লাখ টন। গত ১৮ বছরে বিশ্বের বিভিনড়ব যুদ্ধে যত ধ্বংসস্তূপ তৈরি হয়েছে, গাজার পরিমাণ তার প্রায় ২০ গুণ। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করে এখন পর্যন্ত প্রায় ৯ লাখ ৭ হাজার টন ধ্বংসস্তূপ সরানো হয়েছে। এর মধ্যে ৩ লাখ টনের বেশি পুনর্ব্যবহার করা হয়েছে। তবে মোট ধ্বংসস্তূপের তুলনায় তা মাত্র ১ দশমিক ৫ শতাংশ। প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম গাজায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার কারণে কাজটি আরো কঠিন হয়ে উঠেছে। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ খাদ্য ও ওষুধ ছাড়া প্রায় সব ধরনের সহায়তা সামগ্রীকে ‘দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য’ হিসেবে বিবেচনা করে এবং এসব সরঞ্জাম হামাসের কাজে লাগতে পারে বলে প্রবেশে বাধা দেয়। প্রথম দিকে ডব্লিউএফপির কাজ মূলত সড়ক থেকে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে পাশে রাখা এবং ত্রাণবাহী ট্রাক চলাচলের পথ তৈরি করার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু ধ্বংসস্তূপের বিপুল পরিমাণ এবং যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইসরাইলি হামলা অব্যাহত থাকায় অনেক সড়ক একাধিকবার পরিষ্কার করতে হয়েছে। ইউএনডিপি গাজার পাঁচটি ধ্বংসস্তূপ প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্রে কাজ করছে। সেখানে সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো থেকে সংগ্রহ করা ধ্বংসস্তূপ থেকে ধাতু ও লোহার রড আলাদা করে কংক্রিট ভেঙে ছোট টুকরো করা হচ্ছে। পরে এসব উপাদান সড়ক মেরামত, গর্ত ভরাট এবং তাঁবু ও আশ্রয়কেন্দ্রের নিচে ব্যবহৃত হচ্ছে, যাতে বৃষ্টির পানি ও পয়োনিষ্কাশনের পানি থেকে সেগুলো কিছুটা উঁচু রাখা যায়। রয়টার্স।

রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিমান হামলায় নিহত ৩৩
বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন মিয়ানমারের যুদ্ধকবলিত রাখাইন রাজ্যে একটি বাজারের কাছে সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ৩৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ৩৬ জন। গত ২৭ সেপ্টেম্বর সোমবার অঞ্চলটি নিয়ন্ত্রণকারী বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ) এবং স্থানীয় এক ত্রাণকর্মীর বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। আরাকান আর্মির দাবি, উত্তর রাখাইনের কিয়াকতাও শহরের একটি বাজার এলাকায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী বিমান হামলা চালায়। এতে অন্তত ৩৩ জন নিহত ও ৩৬ জন আহত হয়েছেন। কিয়াকতাওয়ের ওই এলাকায় কাজ করা একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও স্থানীয় ত্রাণকর্মী ওয়েই হুন অংও হতাহতের এই সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন। কিয়াকতাওয়ের পরিস্থিতি সম্পর্কে ওয়েই হুন অং বলেন, নদীর তীরবর্তী এই শহরটি মূল যুদ্ধক্ষেত্র থেকে অনেকটা দূরে। চলমান সংঘাতের সঙ্গেও এলাকাটির সরাসরি কোনো সম্পর্ক ছিল না বলে তিনি জানান। তবে বিমান হামলায় ৩৩ জন নিহত হওয়ার তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স। হামলার বিষয়ে জানতে মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে মিয়ানমার সরকার দাবি করে আসছে, বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সামরিক বাহিনী সর্বোচ্চ সংযমের সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করছে। আরাকান আর্মি ও ত্রাণকর্মী ওয়েই হুন অংয়ের তথ্যানুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বরে রাখাইনের পশ্চিমাঞ্চলের একটি হাসপাতালে চালানো বিমান হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছিলেন। তাদের দাবি, ওই ঘটনার পর কিয়াকতাওয়ের হামলাই রাখাইনে সবচেয়ে প্রাণঘাতী বিমান হামলার ঘটনা। রয়টার্স।

পাকিস্তানের সেনা অভিযানে ভারতীয় মদদপুষ্ট ৭১ সন্ত্রাসী নিহত
পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে গত তিন দিনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ৭১ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। পাকিস্তানের দাবি, নিহত ব্যক্তিরা ভারত ও আফগানিস্তানের ‘মদদপুষ্ট’ সন্ত্রাসী। অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরকও উদ্ধার করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের বরাত দিয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনী এসব তথ্য জানিয়েছে। তবে ইসলামাবাদের এই অভিযোগ নিয়ে এখন পর্যন্ত ভারত ও আফগানিস্তানের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে আফগানিস্তান জানিয়েছে, পাকিস্তান থেকে কথিত দায়েশ সদস্যরা সীমান্ত পেরিয়ে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় নুরিস্তান প্রদেশে ঢোকার পর তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে আফগান বাহিনী। ওই অভিযানে ২৮ জন নিহত ও আরো ৩২ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে কাবুল। তবে আফগানিস্তানের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ একে ‘হাস্যকর, ভিত্তিহীন ও সম্পূর্ণ অসত্য’ বলে মন্তব্য করেছে। পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, নুরিস্তান বা আফগানিস্তানের অন্য কোথাও অভ্যন্তরীণ সংঘাতে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী বা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জড়িত থাকার দাবি তারা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। সাবেক আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের নিয়োগ বা প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং আফগানিস্তানে সক্রিয় দায়েশ বা অন্য কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সহায়তা করার অভিযোগও ‘সম্পূর্ণ বানোয়াট’ বলে উল্লেখ করেছে তারা। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় পাকিস্তানে ধারাবাহিক সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলার পেছনে ভারত ও আফগানিস্তান সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা করছে বলে অভিযোগ করে আসছে পাকিস্তান। তবে ভারত ও আফগানিস্তান এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। পাকিস্তান বারবার আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তী তালেবান সরকারকে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সদস্যদের দমন করার আহ্বান জানিয়েছে। টিটিপি বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত একটি জোট। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগানিস্তানের তালেবান সরকার দেশটির মাটি ব্যবহার করে টিটিপির সদস্যদের কার্যক্রম চালানোর সুযোগ দিচ্ছে। তবে কাবুল এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। আফগান ভূখণ্ড থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনো হামলা চালানোর অনুমতি দেওয়া হয় না বলেও জানিয়ে আসছে তারা। টিআরটি ওয়ার্ল্ড।

তিগ্রেতে ফের তীব্র লড়াই, নতুন গৃহযুদ্ধের শঙ্কা ইথিওপিয়ায়
ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় তিগ্রে অঞ্চলে সরকারি বাহিনী ও তিগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টের (টিপিএলএফ) মধ্যে নতুন করে তীব্র লড়াই শুরু হওয়ায় দেশটিতে আবারও বড় ধরনের গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ২০২০-২২ সালের ভয়াবহ সংঘাতের পর ২০২২ সালের ‘প্রিটোরিয়া শান্তিচুক্তি’ কার্যত সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। গত কয়েক দিনে তিগ্রে বাহিনী একাধিক বিমানবন্দর দখল করে প্রতিবেশী আফার ও আমহারা অঞ্চলেও হামলা চালিয়েছে। সরকারি বাহিনী পাল্টা অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছে। তিগ্রের নেতারা এটিকে নিজেদের ‘প্রতিরক্ষামূলক যুদ্ধ’ বলে দাবি করলেও সরকার তাদের কর্মকাণ্ডকে পরিকল্পিত হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছে। পরিস্থিতি আরো জটিল হয়েছে সাতটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর নতুন জোট গঠনের কারণে। টিপিএলএফসহ এসব গোষ্ঠী প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্য ঘোষণা করেছে। জোটে এমন গোষ্ঠীও রয়েছে, যারা ২০২০-২২ সালের যুদ্ধে পরস্পরের বিপক্ষে লড়েছিল। তিগ্রের নতুন সংঘাত শুধু ওই অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকার আশঙ্কা নেই। প্রতিবেশী ইরিত্রিয়ার সঙ্গে ইথিওপিয়ার সম্পর্কের অবনতি, সুদানের চলমান গৃহযুদ্ধ এবং লোহিত সাগরকে ঘিরে উত্তেজনার কারণে পরিস্থিতি আরও বিস্তৃত আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে বিশ্লেষকেরা সতর্ক করছেন। ইথিওপিয়ার সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল বেরহানু জুলা গত ২৭ সেপ্টেম্বর রোববার বলেছেন, তিগ্রে ফ্রন্টের ‘উসকানি’ মোকাবিলায় সেনাবাহিনী সংযম ও বিচক্ষণতার সঙ্গে কাজ করছে। তিনি ইরিত্রিয়ার বিরুদ্ধে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থনের অভিযোগও করেছেন; তবে ইরিত্রিয়া এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। লড়াই ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় তিগ্রের বাসিন্দারা খাবার, নগদ অর্থ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য মজুদ করছেন। সংঘাতের কারণে ঐতিহাসিক শহর লালিবেলায় বিমান চলাচলও স্থগিত করা হয়েছে। সেখানে বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং মানুষের ব্যাংক থেকে অর্থ তুলে নেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ২০২০ থেকে ২০২২ সালের আগের তিগ্রে যুদ্ধে ছয় লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল বলে আফ্রিকান ইউনিয়নের হিসাব উল্লেখ করা হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার কারণে নতুন সংঘাত নিয়ে স্থানীয় জনগণের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন উভয় পক্ষকে সংযত থাকার এবং আফ্রিকান ইউনিয়নের মধ্যস্থতায় হওয়া শান্তি প্রক্রিয়ায় ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলেছে, মতপার্থক্য সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করা প্রয়োজন। ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইথিওপিয়ার সেনাবাহিনী সংঘাত নিয়ন্ত্রণে ‘সংযম’ দেখানোর কথা বলছে, কিন্তু তিগ্রে ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ফলে এটি আবার পূর্ণমাত্রার গৃহযুদ্ধে রূপ নেবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়; তবে ২০২২ সালের শান্তিচুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আল-জাজিরা।

আল আকসায় প্রায় ১৫০০ ইহুদির অনুপ্রবেশ
জেরুসালেমের আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে দেড় হাজার ইসরাইল দখলদার ঢুকে পড়েছে। ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব সুক্কোতের দ্বিতীয় দিনে এ ঘটনা ঘটেছে। এরপর ইসরাইল দখলদার কর্তৃপক্ষ আল-মাগারিবা ফটক বন্ধ করে দিয়েছে। এই ফটক ডাং গেট নামেও পরিচিত। জেরুসালেম গভর্নরেট জানিয়েছে, দখলদাররা দলে দলে মাগারিবা ফটক দিয়ে মসজিদ প্রাঙ্গণে ঢুকেছে। দখলদার পুলিশ তাদের কড়া পাহারা দিয়েছে। দখলদাররা মসজিদের প্রাঙ্গণে তালমুদীয় রীতি পালন করেছেন এবং প্রার্থনা করেছে। বিশেষ করে মসজিদের একটি প্রবেশপথ আল-কাত্তানিন ফটকের কাছে এসব হয়েছে। একই সময়ে তথাকথিত ‘উদ্ভিদ নৈবেদ্য’ প্রাঙ্গণে আনা হয়েছে। দখলদার বাহিনী আল-কাত্তানিন বাজারের কয়েকটি দোকানের মালিককে দোকান বন্ধ করতে বাধ্য করেছে। এই বাজার আল-আকসার দিকে গেছে। বাজারের ভেতরেও দখলদাররা তালমুদীয় রীতি পালন করেছে। তখন পুরোনো শহরে সাধারণ মানুষের চলাচলে কড়াকড়ি আরও বাড়ানো হয়েছিল। মসজিদের বাইরের একটি ফটক আল-হুত্তা ফটক। এর বাইরেও দখলদাররা প্রার্থনা করেছে। সুক্কোতের দ্বিতীয় দিনেও এই অনুপ্রবেশ ও ধর্মীয় আচার চলতে থাকে। আল-আকসা মসজিদ ও পুরোনো শহরের আশপাশে দখলদার কর্তৃপক্ষ সামরিক ব্যবস্থা জোরদার করেছে। মুসল্লিদের প্রবেশ ও চলাচলেও বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে। জেরুসালেম গভর্নরেটের মতে, এসব পদক্ষেপ নতুন বাস্তবতা তৈরির চেষ্টার অংশ। এর মাধ্যমে ঐতিহাসিক আইন বদলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। লক্ষ্য হলো ওই স্থানের নিয়ন্ত্রণ পাকাপোক্ত করা এবং সময় ও স্থান ভাগ করে দেওয়া। আল-আকসা ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান। রয়টার্স।

ইউক্রেনের একাধিক শহরে রুশ ড্রোন হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ একাধিক শহরে রাশিয়ার ব্যাপক ড্রোন হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৮০ জনের বেশি। কিয়েভের কেন্দ্রস্থলে ইউক্রেনের জাতীয় বিজ্ঞান একাডেমির একটি ঐতিহাসিক ভবনেও ড্রোন আঘাত হেনেছে। গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) চালানো এসব হামলাকে যুদ্ধ শুরুর পর কিয়েভে সবচেয়ে ধারাবাহিক ও তীব্র ড্রোন হামলাগুলোর একটি বলে জানিয়েছে রয়টার্স। রাজধানীতে একাধিক হামলায় ২৪ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো। বিজ্ঞান একাডেমির ভবনে হামলায় দুজন নিহত হন। কিয়েভের বিজ্ঞান একাডেমির ভবনে ড্রোন আঘাতের পর সেখানে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। জরুরি সেবাকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ করেন। রাজধানীতে একটি ওষুধ কোম্পানি, পেট্রল স্টেশন ও চিকিৎসাকেন্দ্রও হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়া এবার দ্রুতগতির ও বেশি উচ্চতায় উড়তে সক্ষম জেটচালিত ড্রোন ব্যবহার করেছে। তার দাবি, ইউক্রেনের দিকে ছোড়া ১২০টি ড্রোনের মধ্যে ৯০টি ছিল জেটচালিত। এসব ড্রোন প্রতিহত করতে ইউক্রেনের বর্তমান আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। জেলেনস্কির দেওয়া তথ্যানুযায়ী, হামলায় ব্যবহৃত ড্রোনের ৫৭ শতাংশ প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। কিয়েভের বাইরে দনিপ্রো শহরের একটি ব্যবসায়িক কেন্দ্রে ড্রোন হামলায় তিনজন নিহত ও ১৯ জন আহত হয়েছেন। সিনেলনিকোভে একটি সরবরাহ কার্যালয়ে হামলায় আরও একজন নিহত হয়েছেন। জাপোরিঝিয়ায় অবকাঠামোয় হামলায় ৩২ জন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা কর্মদিবসে বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানসহ বেসামরিক স্থাপনায় হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি ইউক্রেনের মিত্রদের আরও উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে জেলেনস্কি দাবি করেছেন, রাশিয়া সামরিক বাহিনীর জন্য নতুন করে সেনা নিয়োগ বাড়াচ্ছে। তার দাবি, রাশিয়ায় বর্তমানে ৮ হাজারের বেশি উত্তর কোরীয় সেনা রয়েছে এবং আরও ১০ হাজার সেনাকে প্রশিক্ষণের প্রস্তুতি চলছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে অস্বীকৃতি রয়েছে; প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন নতুন করে সেনা সমাবেশের ধারণাকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। রয়টার্স।

নাইজারে পৃথক দুই হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর ৫০ জনেরও বেশি সদস্য নিহত
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজারের পশ্চিমাঞ্চলে পৃথক দুটি হামলায় দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর ৫০ জনের বেশি সদস্য নিহত হয়েছেন। হামলা দুটির দায় ইসলামিক স্টেটের সাহেল শাখা বলে পরিচিত ইসলামিক স্টেট সাহেল প্রদেশ দাবি করেছে। গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রয়টার্স জানায়, গত বুধবার আবালা-ফিলিঙ্গুয়ে শহরের কাছে সামরিক পুলিশের একটি গাড়িবহরে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এর তিন দিন পর শনিবার বিরনি-এনকনি এলাকায় পৃথক হামলায় ৩০ জনের বেশি সেনা নিহত হন বলে দুটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে। নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, দুই হামলাই সন্ত্রাসীদের চালানো বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে হামলাকারীদের পরিচয় সম্পর্কে সূত্রগুলো বিস্তারিত জানায়নি। পরে ইসলামিক স্টেটের পশ্চিম আফ্রিকান শাখা ইসলামিক স্টেট সাহেল প্রদেশ হামলা দুটির দায় স্বীকার করে বিবৃতি দেয় বলে সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে। নাইজারে ২০২৩ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতায় থাকা সামরিক সরকার দেশটির জিহাদি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে পশ্চিমাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় ইসলামিক স্টেট ও আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলা অব্যাহত রয়েছে। গত আগস্টেও রাজধানী নিয়ামে বিমানবন্দর ও প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কাছে বিদ্রোহী সেনাদের হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সময় সরকারপন্থি বাহিনীকে রাশিয়ার ক্রেমলিন-নিয়ন্ত্রিত আধাসামরিক বাহিনী আফ্রিকা কোরের সদস্যরা সহায়তা করেছিল বলে রয়টার্স জানিয়েছিল। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিম নাইজারে বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়াইয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক ক্ষয়ক্ষতির কারণে সম্মুখসারির সেনাদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে বলে বিশ্লেষক ও নিরাপত্তা সূত্রগুলো মনে করছে। রয়টার্স।

মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রীর ইন্তেকাল
মালয়েশিয়ার সবচেয়ে দীর্ঘসময় দায়িত্ব পালন করা সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রী সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলি (১০০) ইন্তেকাল করেছেন। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এক বিবৃতিতে গভীর শোক জানিয়েছেন। দীর্ঘ সাত দশকের দাম্পত্য জীবনে স্বামীর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য ও বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগেও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলি। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বলছে, কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে মৃত্যু হয় তার। তাদের ছেলে মোকজানি মাহাথিরের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে মালয়েশিয়ার বার্তা সংস্থা বারনামা। ব্যক্তিজীবনে নিজের গুণেই জনপ্রিয় ও সম্মানিত ছিলেন সিতি হাসমাহ। সহজ-সরল জীবনযাপন, আন্তরিকতা ও হাস্যরসের জন্য তিনি ব্যাপকভাবে পরিচিত ছিলেন। ১৯৪০-এর দশকের শেষ দিকে সিঙ্গাপুরে মেডিকেল কলেজে পড়ার সময় প্রথম পরিচয় হয় মাহাথির ও সিতি হাসমাহর। চলতি বছরের আগস্টে তারা ৭০তম বিবাহবার্ষিকী উদযাপন করেন। এই দম্পতির সাত সন্তান রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ব্যবসায়ী মোকজানি মাহাথির, সমাজকর্মী মারিনা মাহাথির এবং প্রভাবশালী রাজনীতিক মুখরিজ মাহাথির। ১০১ বছর বয়সী মাহাথির প্রায়ই বলেন, তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও সাফল্যের পেছনে স্ত্রী সিতি হাসমাহর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি এমন একসময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে ডিগ্রি অর্জনের জন্য অটল ছিলেন, যখন মালয় নারীদের মধ্যে উচ্চশিক্ষা নেয়া ছিল খুবই বিরল। বারনামা।

রাতে ঘুমন্ত ফিলিস্তিনিদের ঘরের ভেতরে জানালা দিয়ে ককটেল নিক্ষেপ
ফিলিস্তিন অধিকৃত পশ্চিমতীরের আল-মুগাইর গ্রামে রাতভর তাণ্ডব চালিয়েছে ইসরাইলের দখলদাররা। গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে সেটেলার সন্ত্রাসীরা ফিলিস্তিনিদের একটি ঘরে মোলোটভ ককটেলে আগুন ধরিয়ে ঘরের জানালা দিয়ে ভেতরে নিক্ষেপ করে। এ সময় ওই ঘরে থাকা ফিলিস্তিনিরা ঘুমিয়ে ছিল। মোলোটভ ককটেলটি নিক্ষেপ করার পর তাদের ঘরের ভেতর আগুন ধরে যায়। এরপর ঘরে থাকা ফিলিস্তিনিরা তাদের জীবন বাঁচাতে ওই আগুন নেভানোর চেষ্টা করতে থাকে। একই সময়ে বাড়ির বাইরে পার্ক করে রাখা গাড়িতে আগুন দেয় ইসরাইলি সন্ত্রাসীরা। ইহাব হাসান এক্স অ্যাকাউন্টে হামলার ব্যাপারে লিখেছেন, ফিলিস্তিনি একটি পরিবারকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করতে সন্ত্রাসীরা ঘরের ভেতরে মলোটভ ককটেল নিক্ষেপ করেছে। টাইমস অব ইসরাইল।

ভারতে নিজ ঘরে সাবেক মুসলিম সেনাসদস্য ও স্ত্রীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার
উত্তর প্রদেশের হাথরস জেলায় নিজ বসতঘর থেকে ৫৮ বছর বয়সী এক সাবেক সেনাসদস্য ও তাঁর স্ত্রীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, ধারালো ছুরি দিয়ে কুপিয়ে ও গলা কেটে দম্পতিকে হত্যা করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন— সাবেক সেনাসদস্য শামসুদ্দিন ও তার স্ত্রী সাদ্দো বেগম। গত ২৭ সেপ্টেম্বর রোববার সকালের দিকে ঘরের মূল দরজা দীর্ঘসময় বন্ধ দেখে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হলে তাদের লাশ দেখতে পাওয়া যায়। এদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। ভেতর থেকে ঘরের দরজা বন্ধ দেখে স্থানীয় প্রতিবেশীরা উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন এবং ওই দম্পতির স্বজনদের খবর দেন। পরবর্তীতে স্বজনদের সহায়তায় দরজা খোলা হলে দেখা যায়, ঘরের ভেতর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে শামসুদ্দিন ও সাদ্দো বেগমের ক্ষতবিক্ষত নিথর দেহ। ঘটনার পরপরই পুলিশকে খবর দেওয়া হলে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ অপরাধস্থলটি ঘিরে ফেলে এবং তদন্তের স্বার্থে এলাকাটি সিলগালা করে দেয়। অপরাধস্থল থেকে প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহের জন্য একটি ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরে পুলিশ লাশ দুটি নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। হত্যাকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান ও অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশ নিহতদের পরিবার এবং প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসা বাদ করছে। পাশাপাশি ঘটনার সময়ে ওই এলাকায় কারা যাতায়াত করেছে সে বিষয়ে কোনো সূত্র বা প্রমাণ পেতে আশপাশের সিআইটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জোড়া এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল উদ্দেশ্য ঠিক কী, তা এখনো অস্পষ্ট। বাসা থেকে কোনো জিনিসপত্র চুরি হয়েছে কি না কিংবা কারও সঙ্গে ওই দম্পতির পূর্ববিরোধ ছিল কি না— সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। সিয়াসত ডেইলি।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান