মিরপুরে অভিযানে সংঘর্ষ, শান্ত থাকার আহ্বান

ফুটপাত থেকে উচ্ছেদে সমন্বিত, সুপরিকল্পিত ও টেকসই পদক্ষেপ প্রয়োজন : ডা. শফিকুর রহমান


৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬:২১

ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযানের ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপ পরিহার করে সমন্বিত, সুপরিকল্পিত ও টেকসই পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা-১৫ আসনের সংসদ সদস্য ও বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।

বুধবার ২৯ সেপ্টেম্বর মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযানে ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের সাথে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষের ঘটনায় নিজের ফেসবুজ পেজে দেয়া এক পোস্টে তিনি এ আহ্বান জানান।

পোস্টে তিনি লেখেন- রাজধানীর মিরপুর এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে ঢাকা মহানগর পুলিশ ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। অভিযানকালে পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফুটপাতে বসা ভাসমান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর ১৩ নম্বর থেকে ১০ নম্বর এলাকার হোপ মার্কেট এলাকায় ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে সিটি করপোরেশনের কিছু সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি উচ্ছেদ অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও আক্রান্ত হন। একইভাবে পুলিশের সদস্যদের সঙ্গেও সাধারণ ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেইস‌ঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীরা সংবাদ সংগ্রহে গে‌লে তাদেরও বাধা দেওয়া হয়।

এই আসনটি রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন, যেখানে জনগণ তাঁদের মূল্যবান ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করেছেন। সুতরাং জনগণের সুবিধা-অসুবিধা-সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের সঙ্গে পরামর্শ করা হলে বিষয়টি হয়তো আরও সমন্বিত ও ভিন্নভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতো।

এ ক্ষেত্রে সংঘাতের পরিবর্তে বাস্তবতা উপলব্ধি করে এমন একটি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, যাতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অযথা ক্ষতিগ্রস্ত না হন এবং একই সঙ্গে সাধারণ জনগণের চলাচলের পথও নির্বিঘ্ন ও ব্যবহারোপযোগী থাকে। এ জন্য প্রয়োজন সমন্বিত ও বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ।

তবে দুর্ভাগ্যের বিষয়, মাসের পর মাস ধরে একদল অসাধু ও চাঁদাবাজ ব্যক্তি এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা নিয়ে তাদের এখানে ব্যবসা করার সুযোগ করে দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তারা দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক ও বার্ষিক ভিত্তিতে চাঁদা আদায় করে থাকে। এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় কর্মকাণ্ড। এর ফলে শেষ পর্যন্ত এর আর্থিক বোঝা গিয়ে পড়ে সাধারণ ক্রেতা ও জনগণের ওপর।

সুতরাং বিচ্ছিন্ন কোনো পদক্ষেপ নয়; বরং সমন্বিত, সুপরিকল্পিত ও টেকসই পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, যা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের জন্য কল্যাণকর হবে। এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়াই এখন সময়ের দাবি।

এ ক্ষেত্রে স্থানীয় সংসদ সদস্যকে অবহিত না করে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি আমাকে বিস্মিত করেছে। এ বিষয়ে আমারও দায়িত্ব রয়েছে এবং আমাকে সম্পৃক্ত করা যেত। পারস্পরিক পরামর্শের মাধ্যমে একটি উত্তম ও কার্যকর পথ বের করা সম্ভব ছিল। কিন্তু সেই পথ অনুসরণ করা হয়নি।

তবে এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে হলে আগে বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করে তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়েছে কি না, সেটিও ভেবে দেখা দরকার।

ভবিষ্যতে এ ধরনের যেকোনো পদক্ষেপ যেন সমন্বিতভাবে নেওয়া হয় এবং সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সম্পৃক্ত করা হয়, এটাই হতে পারে সমস্যার সমাধানের উত্তম পন্থা। আশা করি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন।

আমি সবাইকে আপাতত শান্ত থাকার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি। যেখানেই সমস্যা রয়েছে, সেখানেই সমাধানের পথও রয়েছে। তবে সেই সমাধান হতে হবে নিরপেক্ষ, বাস্তবভিত্তিক ও মানবিক-কাউকে অযথা ক্ষতিগ্রস্ত করে নয়। তবে ফ্যাসিবাদের দোসরদের কোনো জায়গা নেই।

রুশ বোমারু বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৬
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:০৩