সরকারি দলের আশ্রয় প্রশ্রয় ছাড়া বড় অপকর্ম করার সাহস কেউ করবে না : বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:৩১
রাজধানীর মিরপুরে দুর্বৃত্তদের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ৫০ লাখ টাকা অনুদান দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টায় ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পরিদর্শনকালে তিনি এ ঘোষণা দেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ভবিষ্যতে আর কোনো দুর্বৃত্ত যেন রাড্ডায় হাত দিতে না পারে সেজন্য যথাযথ ব্যবস্থা করা হয়। যে দুর্বৃত্তরা এ অপকর্ম করেছে তাদের দ্রুত খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে এমন শাস্তি দেয়া হয় যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন সামাজিক অপকর্ম করার সাহস না পায়।
তিনি বলেন, সরকার একদিকে বলে জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেবে। আবার যেখানে সেখানে গিয়ে ডাক্তার, নার্স, হাসপাতালের কর্মকর্তা কর্মচারীদের অপমান করে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারবে না।
তিনি আরও বলেন, আমাদের বিদ্যমান স্বাস্থ্যসেবা কাঠামোয় যে জনবল থাকার কথা তার অর্ধেকও নেই। অর্ধেক জনবল দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে আমাদের স্বাস্থ্যসেবা। সুতরাং সব জায়গায় সরকারকে মানবিক ও যৌক্তিক আচরণ করতে হবে। সমস্ত দুর্বৃত্তপনা বন্ধ করতে হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন। গত তিন-চারদিনে রাজধানীতে কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, একদল দুর্বৃত্ত মোহাম্মদপুরে বাড়ি দখলে হানা দিলেও তাদের এখনো ধরা হয়নি। সেই বাড়ির লোকেরা এখনো নিরাপত্তাহীনতায় বাইরে বের হতে পারছে না।
তিনি বলেন, ইসিবি চত্বরে একটি স্টুডিওতে হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনাকে ইনিয়ে বিনিয়ে বলা হচ্ছে চাঁদা চাওয়ার জন্য হামলা হয়নি, জমি-জমার বিরোধে হয়েছে। সরকার যে সংবিধান কসলায়, রাত ১-২টার দিকে হামলা চালানোর বৈধতা সেই সংবিধানের কোথায় আছে?
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যদি কোনো অপরাধ করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার যথাযথ পন্থা আছে। কিন্তু কারো সম্পদের উপর গুন্ডারা হাত দিবে এ ধরনের কোনো সুযোগ নেই। এখন একদলীয় কালার দেয়ার চেষ্টা করা হবে, কোনো রঙে বিরোধীদলকে হাজির করা যায় কিনা।
তিনি বলেন, আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে বলছি আমার দলের লোক তো দূরের কথা, আমি নিজেও যদি জড়িত থাকি আমাকেও যেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন ক্ষমা না করে, আইনের আওতায় নেয়। আমরা দেখতে চাই এ ধরনের অপকর্মের কবর রচনা হচ্ছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র সচল করতে আমরা যে সহায়তার ঘোষণা দিচ্ছি এটি সূচনা, এটি অব্যাহত থাকবে। এ এলাকার মানুষের চিকিৎসার জন্য আরও কিছু করার দরকার হলে তাও করা হবে। আমরা সরকারকে সতর্ক করে দিচ্ছি, নিশ্চয়ই সরকারি দলের আশ্রয় প্রশ্রয় ছাড়া এত বড় অপকর্ম করার সাহস কেউ করবে না। সরকার গাছের গোড়া কেটে মাথায় পানি দেবে তা জনগণ দেখতে চায় না। নাটক আমরা দেখতে চাই না। আমরা চাই অপরাধী যেই হোক তাকে যেন আইনের আওতায় আনা হয়। তিনি দুষ্কর্মের নিন্দা জানিয়ে অপরাধীদের কঠোর শাস্তি দাবি করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহি পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর সেক্রেটারি ড.মুহাম্মদ রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান,কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি ডা.ফখরুদ্দিন মানিক, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরীর প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য নাসির উদ্দীন,শাহ আলম তুহিন,ডা.মঈনুদ্দিন, জি এম হাফিজুর রহমান ও মনিরুল ইসলাম মৃধা প্রমুখ।